• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

০১ এপ্রিল ২০১৪

দেবীর নব দুর্গা

আদ্যাশক্তি পরমা প্রকৃতি দেবী দুর্গা তাঁর অসংখ্য সহস্রকোটি রূপ, সেই রূপের মধ্যে কিছু রূপ প্রকট ও কিছু প্রচ্ছন্ন, আমরা সবাই দেবী দশমহাবিদ্যার কথা জানি মায়ের দশটি রূপ। আজ জানব দেবীর নব দুর্গার রূপের আখ্যান , নব দুর্গা, দুর্গার নয় অংশ বা রূপ প্রতিটি রূপের একএকটি মাহাত্ম্য আছে। মা দুর্গা এই নব দুর্গা রূপ সৃষ্টি করেছিলেন সৃষ্টির রক্ষা তথা পালনের ও মঙ্গলের জন্য। শাস্ত্রে আছে মা দুর্গার এই নয় রূপের পুজা যারা ন'দিন ধরে পালন করে পূজা করেন অর্থাৎ নবদুর্গা ব্রত পালন করেন তারা সর্বদিক দিয়ে জয়ী হন সর্ব রোগ শোক বাঁধা অপসারিত হয় , এমনকি নবগ্রহের কু প্রভাব পীড়নের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। নবগ্রহকে এই দেবীরাই নিয়ন্ত্রন করেন।

শরৎকালে যেমন দুর্গা পুজার সাথে সাথে নব দুর্গার পূজার্চনা করা হয় তেমন এই বসন্তকালেও বাসন্তী পুজার সাথে নয়দিন ধরে চলে নবদুর্গার পূজা। শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত এই পূজার নিয়ম। প্রতি দিন এক এক দুর্গার পূজা। প্রথম দিন শৈল্যপুত্রি পূজা দিয়ে আরম্ভ হয় সমাপ্তি ঘটে সিদ্ধিদাত্রির পূজা দিয়ে।

প্রথমম্‌ শৈল্যপুত্রিতি দ্বিতিয়ম্‌ ব্রক্ষচারিণী তৃতীয়ম্‌ চন্দ্রঘণ্টেতি কুষ্মাণ্ডেতি চতুরথাকম্‌ পঞ্চমম্‌ স্কন্দমাতেতি ষষ্ঠমাম্‌ কাত্যায়নী তথা সপ্তমম্‌ কালরাত্রিতি মহাগৌরী চিতাষ্টমাম্‌ নবমাম সিদ্ধিদ্ধাত্রিতি নবদুর্গা প্রকীর্তিতা।।

অর্থাৎ প্রথম রূপ বা অংশ হলেন শৈল্যপুত্রি দ্বিতীয় হলেন ব্রক্ষচারিনী তৃতীয় চন্দ্রঘণ্টা ও কুষ্মাণ্ডা হলেন চতুর্থ , পঞ্চম জন হলেন স্কন্দমাতা ষষ্ঠ হলেন কাত্যায়নী তথা সপ্তমজন কালরাত্রি মহাগৌরী অষ্টম ও সর্বশেষ নবম অংশ সিদ্ধিদাত্রী ।। এই ভাবে নব দুর্গার কীর্তন সম্পূর্ণ হয়।

আজ প্রথম দুর্গা শৈল্যপুত্রির কথা বলব।।

ওঁ বন্দেবঞ্চিত লাভায়্‌ চন্দ্রারধকৃতশেখরাম্‌।
বৃষরূঢ়াম শূলধরানাম্‌ শৈল্যপুত্রিম যশস্বিনীম্‌।।

যার মাথায় অর্ধচন্দ্র শোভা পায় বৃষের ওপর আরোহন করে তিনি দক্ষিন হস্তে ত্রিশূল ও বাম হস্তে পদ্ম ধারন করে দেবী ভক্তদের অভয় প্রদান করছেন সমস্ত বিপদ মারন থেকে রক্ষা করেন তিনি শৈল্যপুত্রি।

দক্ষালয়ে মা সতী শিবের নিন্দা শুনে দেহ ত্যাগ করলেন, মহাদেব দেবীকে নিয়ে তাণ্ডব করতে লাগলেন সেই তাণ্ডব নিবারনের জন্য নারায়ণ সুদর্শনচক্র দিয়ে দেবীর দেহ খণ্ডিত করলেন ও মহাদেব শান্ত হয়ে গিরি শিখরে গিয়ে মহাসমাধিতে মগ্ন হলেন। এদিকে দৈত্যরাজ তারকাসুরের অত্যাচারে দেবগন অসহায় হয়ে পড়লেন ও সবাই একত্রিত হয়ে মা ভগবতীর শরণাপন্ন হলেন। মা দেবতাদের পার্থনায় তুষ্ট হলেন ও অভয় দিয়ে বলেন তিনি পুনরায় গিরিরাজ হিমালয়ের ঘরে জন্মগ্রহন করবেন ও দেবাদিদেব শঙ্করকে পতি রূপে বরন করে তাদের বিপদ হতে উদ্ধার করবেন।
পরবর্তী কালে জগতজননী মহামায়া গিরিরাজ হিমালয় এবং তাঁর স্ত্রী মেনকা দেবীর তপস্যায় সন্তুষ্টা হন ও তাদের ঘরে কন্যা রূপে অবতীর্ণা হন।। এই হিমালয় অর্থাৎ শৈল শিখরে জন্ম গ্রহন করেন বলেন তিনি শৈল্যপুত্রি নামে খ্যাত হন। অর্থাৎ মা পার্বতী নবদুর্গার প্রথম বিদ্যা শৈল্যপুত্রি রূপে প্রকাশিত হন।

শুক্লপক্ষের প্রতিপদে মায়ের পূজা হয়। বেলপত্র জবা ও বিভিন্ন উপাচারে মায়ের পূজা করতে হয় মায়ের পায়ে অর্পণ করতে হয় , মিষ্টান্ন ফল নৈবিদ্য মাকে অর্পণ করতে হয়। মা সন্তুষ্টা হলে সমস্ত বিপদ ভয় থেকে সর্বদা রক্ষা করেন।



Written by : joy ghoshal
Share:

দেবী ব্রক্ষচারিনী


দধামা করপদ্মভ্যাম্‌ অক্ষমালা কমণ্ডলু।
দেবী প্রসিদেতু ময়ী ব্রক্ষচারিন্যেনুত্তমা।।

নবরাত্রি দ্বিতীয়দিন পূজিতা হন দেবী ব্রক্ষচারিনীর, তিনি জ্ঞানদাত্রী ব্রক্ষজ্ঞানসরূপিণী, নবদুর্গার দ্বিতীয় দুর্গা রূপে প্রকাশিতা এই দেবী। ব্রক্ষার দ্বারা প্রকাশিত চার বেদ ও জ্ঞান এই জন্মাতার দ্বারাই তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন। দেবী দ্বিভুজা তাঁর দক্ষিন হস্তে অক্ষমালা অর্থাৎ রুদ্রাক্ষের মালা বাম হস্তে কমণ্ডলু ধারন করে আছেন, তিনি পদ্ম দারা সুসজ্জিতা।

দেবী ত্যাগ, বৈরাগ্য তথা জপ ও মহাসিদ্ধির প্রতীক। মায়ের কান্তি দিয়ে নির্গত হয় মহাবৈরাগ্যের তেজ... ব্রক্ষচারিণী হল দেবী পার্বতীর এক অন্যতম প্রকাশ, দেবী যখন পার্বতী রূপে অবতীর্ণা তখন মহাদেবকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য কঠিন তপ্যায় রত হন গভীর সমাধিতে মগ্ন হন এবং তাঁর এই কষ্ট দেখে তাঁর মা উঃ মা ! বলে ওঠেন তাই তাঁর আরেক নাম উমা রূপে প্রসিদ্ধা হয়। দেবীর কঠোর তপে মহাদেব ও তথা সমগ্র বিশ্ব দেবাদিগন স্তম্ভিত হয়। মায়ের তপস্যার প্রভাবে ত্রিভুবন আড়োলিত হয় তাঁর তেজ জগত ব্যাপ্ত হয়। জগন্মাতা এই রূপটি ব্রক্ষচারিণী রূপে ত্রিভুবনে খ্যাত।

জগন্মাতা আদিশক্তির এই রূপটি বৈরাগ্যরূপিণী ইনি সন্তুষ্ট হলে সমস্ত মোহ পাপ লোভ হিংসা ইত্যাদি আসুরিক প্রবৃত্তি থেকে আমাদের মুক্ত করেন মনকে বৈরাগ্য প্রদান করেন আমরা সঠিক পথে জীবনে চালিত হই। মায়ের এই রূপটি আমাদের জগতশিক্ষার জন্য পরিব্যাপ্ত তিনি স্বয়ং আদিশক্তি তিনি চাইলে কোন তপস্যা ছারাই দেবাদিদেবকে পতিরূপে বরন করতে পারতেন কিন্তু তবুও তিনি কঠোর তপের মাধ্যমেই শিবকে তুষ্ট করেছিলেন।তিনি জগত সংসার কে দেখিয়ে দিয়েছেন জীবনে কোন কিছু সহজে লভ্য হয় না তার জন্য চাই কঠিন পরিশ্রম ও লক্ষ পূরণের জন্য অসীম ধৈর্য। লক্ষ্য পূরণের জন্য চাই বাসনা ত্যাগ করে ধৈর্যের সাথে কঠোর পরিশ্রম তবেই কোন ব্যক্তি তাঁর জীবনের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হবেন। মায়ের এই রূপ সেই ধৈর্য ,ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রতীক।

ব্রক্ষচারিনীর পূজা শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে হয় , বিশুদ্ধ কাঠের আসনে মায়ের স্থাপনা করতে হয়। মাকে রক্ত জবা রক্ত চন্দন ও নানারকম গন্ধ পুস্প দিয়ে অর্চনা করে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি মাকে নৈবিদ্য রূপে নিবেদন করতে হয়...
দেবীর আশীর্বাদে সংসারে ও জীবনে শান্তি আসে। জীবনে জ্ঞান বিদ্যার প্রকাশ ঘটে উন্নতি হয়।

ওঁ সিদ্ধি বুদ্ধি প্রদে দেবী ত্যাগ বৈরাগ্য দায়িনী
ব্রক্ষচারিনী মাতা ত্বং নমাম্‌ আত্মা বিভুতয়ে...।।

Written by: Joy Ghoshal
Share:

আদ্যাশক্তির তৃতীয় রূপের প্রকাশ দেবী চন্দ্রঘণ্টা


পিণ্ডজাপ্রবরারূঢ়া চন্দ্রকৌপাস্ত্রকৈরুতাম্‌
প্রসাদাং তনুতে মহা চন্দ্রঘণ্টেতি বিস্রুতাম্‌।।

নবরাত্রির তৃতীয় দিনে পূজা হয় মা চন্দ্রঘণ্টার। আদ্যাশক্তির তৃতীয় রূপের প্রকাশ দেবী চন্দ্রঘণ্টা। মায়ের মস্তকে ঘণ্টার আকারে চন্দ্র শোভা পায় এই জন্যই ইনি চন্দ্রঘণ্টা। দেবীর গাত্রবর্ণ স্বর্ণপ্রভ উজ্জ্বল দেবী দশবাহু সমন্বিতা হয়ে দশদিক আলো করে রয়েছেন। হস্তে যথাক্রমে খড়গ, গদা, ধনুর্বাণ, শক্তি, চক্র, ত্রিশূল , কমণ্ডল ও রুদ্রাক্ষ ইত্যাদি ধারন করে আছেন। দেবী বাঘ্রের উপর আসীনা। দেবীর কণ্ঠে শ্বেত পুস্পের মালা , জগত জননী ত্রিনয়না।

পুরানে বর্ণিত আছে অসুরাধিপতি মহিষাসুরের অত্যচারে যখন ত্রিভুবন কম্পিত তখন দেবতারা ভগবতীর শরণাপন্ন হলে দেবী দশবাহু সমন্বিত হয়ে চন্দ্রঘণ্টা রূপে প্রকাশিত হন। দেবীর ঘণ্টাধ্বনিতে অত্যাচারী দানব দল ভয়ে ত্রাসে পলায়ন করে। দেবী সর্বদাই রণসাজে সুসজ্জিতা ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ইনি যুদ্ধপ্রিয়া ও শত্রুবিনাশকারিণী। মা ভগবতী যেমন একাধারে যুদ্ধপ্রিয়া তেমনি তাকে জ্ঞান প্রদায়িনীও বলা হয়, তাঁর হাতের অক্ষমালা ও কমণ্ডলু সেই জ্ঞানের প্রতীক। তিনি পরমশান্তিময়ী কল্যাণকারিণী।

দেবীর এই রূপ জগতে বার্তা বহন করে যে অকিঞ্চন দুষ্ট ব্যাক্তিদের যেমন শাস্তি প্রদান করা উচিত তেমনই নিজের জ্ঞান ও আত্মউদ্দেশ্য থেকেও বিস্মৃত হওয়া উচিত নয় সর্বদা শান্তি রক্ষা করাও প্রয়োজন। দেবীর বাহন বাঘ হল শৌর্যবীর্য ও পরাক্রমের প্রতীক। মানব জীবনে উন্নতির জন্য কারজ সিদ্ধির জন্য পরাক্রম ও শৌর্যবীর্যের প্রয়োজন। দেবীর বাহন যেমন রনক্ষেত্রে শত্রুদের উপর তার পরাক্রম দেখায় সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তেমনই আমাদের সমস্ত কাজে সমাজের প্রতিকূলতায় সমস্ত শক্তিদিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ও অন্যায় কে প্রতিরোধ করা উচিৎ দেবীর বাহন সেই বার্তাই বহন করে।

মা চন্দ্রঘণ্টার উপাসনা করলে ভক্তগন পরমপদ প্রাপ্ত হন ইহলোক ও পরলোকে সদগতি প্রাপ্ত হন। দেবীর আশীর্বাদে ভক্তগণ দীর্ঘজীবী, আরোগ্য সুখী জীবন যাপন লাভ করে। মা ভগবতীর অভয়ে জীবনের সমস্ত দুঃখ যন্ত্রণা দূর হয়ে পরমআনন্দ ও শান্তি লাভ হয়।

নবরাত্রির তৃতীয় দিন মায়ের উপাসনা হয় বিশুদ্ধ চিত্তে মাকে স্মরন করে কুলকুণ্ডলিনীর মনিপুর চক্রে মনো নিবেশ করতে হয়।দেবীকে জবার মালা অর্পণ করে রক্ত চন্দন বিল্বপত্র লাল পুস্প দিয়ে দেবীর অর্চনা করা হয়। নৈবিদ্য হিসেবে দেবীকে দুধ, মিষ্টি ও ক্ষীর অর্পণ করলে দেবী সন্তুষ্টা হন।



=joy ghoshal=
Share:

দেবী ভগবতীর পঞ্চম রূপ দেবী স্কন্দমাতা

সিংহাসনগতা নিত্যং পদ্মাশ্রিতকরদ্বয়া
শুভাদাস্তু সদা দেবী স্কন্দমাতা যশস্বিনী।।

দেবী ভগবতীর পঞ্চম রূপ দেবী স্কন্দমাতা। নবরাত্রির পঞ্চম দিনে পুজিতা হন দেবী । স্কন্দমাতা অর্থাৎ স্কন্দের মা , স্কন্দ হলেন দেব সেনাপতি কার্ত্তিক। আর তিনি কার্ত্তিকের জননী রূপেই পূজিতা । তাই তিনি পরিচিতা স্কন্দমাতা নামে।

কার্ত্তিক জননী বেশে জগদম্বার রূপের বিশেষত্ব রয়েছে, তিনি চতুর্ভুজা উপরের দুই হস্তে ধারন করেছেন পদ্ম ফুল ...নীচের দুই হাত এক হস্তে তিনি স্কন্দকে রক্ষা করছেন অ ওপর হস্তে বরমুদ্রা। দেবী পদ্মাসনা সিংহের উপর বিরাজিতা। দেবীর কোলে যে স্কন্দ বা কার্ত্তিক বিরাজিত তিনি আমাদের বাংলায় পূজিত কার্তিকের থেকে আলাদা এইরূপটি কার্তিকের ষড়ানন মূর্তি। শিশু ষড়ানন কার্ত্তিক দেবী মায়ের কোলে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে বসে আছেন।

দেবীর কথা আমরা পাই স্কন্দ পুরাণে । দেবী সতীর দেহত্যাগের পর জকহ্ন দেবী আদিশক্তি পার্বতী রূপে পুনরায় জন্মগ্রহন করেন তখন প্রথমে শৈল্যপুত্রি রূপে প্রকাশিত হয় পরবর্তী সময়ে ব্রক্ষচারিনী রূপে প্রকাশিত হয়ে শিবকে তুষ্ট করেন ও পতিরূপে প্রাপ্ত করেন । দেবী পার্বতী ও শিবের অংশ স্কন্দ ষড়ানন কুমার কার্ত্তিক জন্মগ্রহন করেন তারকাসুরের বধের জন্য। পৌরাণিক গল্পে পাওয়া যায় কার্ত্তিকের শৈশব কালে যখন তিনি ক্রীড়া মগ্ন ছিলেন তখন অকস্মাৎ তারকাসুর তার সৈন্যদের নিয়ে কুমারকে বধের জন্য উদ্ধত হয় । ভগবতী পার্বতী কার্ত্তিকে রক্ষার্থে এই বিশাল প্রচণ্ড রূপ ধারন করেন ও সমস্ত অসুর সৈন্য বধ করেন ।দেবীর আশীর্বাদে কার্ত্তিক তারকাসুর বধ করেন।

দেবীর এই রূপ দেখলে যেমন বোঝা যায় তিনি ভীষণা অসুর বিনাশে উদ্দত ঠিক তেমনই তাঁর করুণাময়ী মমতাময়ী রূপটি প্রকাশিত হয়। তিনি জগত সংসারকে বার্তা দিচ্ছেন যেমন স্কন্দকে তিনি রক্ষা করছেন ঠিক তেমন ভাবেই সৃষ্টির প্রতিটি জীব মায়ের সন্তান তিনি তাদেরকেও সমান ভাবে রক্ষা করছেন ও অশুভ শক্তি নাশ করছেন। এই রূপটি থেকে আরও একটি কথা প্রকাশিত সন্তান যেমন সবচেয়ে বেশী নিরাপদ তাঁর মায়ের কোলে বা ক্রোড়ে মা যেমন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের মানুষ করেন রক্ষা করেন দেবী ভগবতী জগত জননী মাও ঠিক তেমন ভাবেই আমাদের রক্ষা করে চলেছেন ও অভয় দান করছেন। তিনি অভয় দিচ্ছেন সকল বিপদ থেকে তিনি আমাদের সর্বদা রক্ষা করবেন , তিনি যে রক্ষাকত্রি। এই রূপটি তারই প্রকাশ। তাঁর শরণাপন্ন হলেই আমরা সবথেকে বেশী নিরাপদ।

দেবী স্কন্দমাতা কুলকুণ্ডলিনীর " বিশুদ্ধ চক্রে" অবস্থান করেন ।। শুদ্ধচিত্তে তাকে স্মরন করে দেবীকে বিশুদ্ধ চক্রে আবহন করতে হয়। জবা, অপরাজিতা, বিল্বপত্রে দেবীর পূজা করে মিষ্টান্ন ও নানা রকমের ফল দেবীকে নিবেদন করতে হয় তার কলা অত্যন্ত প্রিয় দেবীর, তাই তাঁর ভোগে কলা নিবেদন অবশ্যই করতে হয়।

দেবী প্রসন্না হলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি দৈহিক আরোগ্য লাভ ও শত্রু নাশ হয়। দেবীর পূজায় হলে সাথে সাথে কার্তিকেরও পূজা হয়ে যায়। অর্থাৎ মাতা ও পুত্রের উভয়ের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হন।

" যা দেবী সর্বভুতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা"
 ( joy ghoshal )
Share:

২১ মার্চ ২০১৪

"গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরো নিকটবর্তী হইবে"- স্বামী বিবেকানন্দ

 'গীতাপাঠ এবং ফুটবল খেলা' নিয়ে স্বামীজির এই বহুল আলোচিত বাণীটি অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা করে স্বামীজিকে হেয় করার দুঃসাহস করে এই পোষ্টটি  তাদের জন্য উৎসর্গ করা হল। 

স্বামী বিবেকানন্দ ('ভারতীয় জীবনে বেদান্তের কার্যকারিতা' শীর্ষক মাদ্রাজে প্রদত্ত বক্তৃতা)

 "আমাদের উপনিষদ যতই বড় হউক, অন্যান্য জাতির সহিত তুলনায় আমাদের পূর্বপুরুষ ঋষিগণ যতই বড় হউন, আমি তোমাদিগকে স্পষ্ট ভাষায় বলিতেছি - আমরা দুর্বল, অতি দুর্বল। প্রথমত আমাদের শারীরিক দৌর্বল্য- এই শারীরিক দৌর্বল্য আমাদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ দুঃখের কারণ। আমরা অলস, আমরা কাজ করিতে পারিনা; আমরা এক সঙ্গে মিলিতে পারিনা; আমরা পরস্পরকে ভালোবাসি না; আমরা ঘোর স্বার্থপর; আমরা তিনজন একসঙ্গে মিলিলেই পরস্পরকে ঘৃণা করিয়া থাকি, ঈর্ষা করিয়া থাকি। আমাদের এখন এই অবস্থা- আমরা অতিশয় বিশৃঙ্খল ভাবাপন্ন, ঘোর স্বার্থপর হইয়া পড়িয়াছি- শত শত শতাব্দী যাবত্ এই লইয়া বিবাদ করিতেছি- তিলক ধারণ এইভাবে করিতে হইবে, কি ঐভাবে। কোন মানুষের দৃষ্টিতে আমার খাওয়া নষ্ট হইবে কিনা - এই ধরনের গুরুতর সমস্যার উপর বড় বড় বই লিখিতেছি। যে জাতির মস্তিষ্কের সমুদয় শক্তি এইরূপ অপূর্ব সুন্দর সুন্দর সমস্যার গবেষণায় নিযুক্ত, সে জাতির নিকট হইতে বড় রকমের একটা কিছু আশা করা যায়না, এরূপ আচরণে আমাদের লজ্জাও হয়না! হাঁ, কখন কখনও লজ্জা হয় বটে, কিন্তু আমরা যাহা ভাবি, তাহা করিতে পারিনা। আমরা ভাবি অনেক কিছু, কিন্তু কার্যে পরিনত করিনা। এইরূপে তোতোপাখির মত কথা বলা আমাদের অভ্যাস হইয়া গিয়াছে- আচরণে আমরা পশ্চাত্পদ। ইহার কারণ কি? শারীরিক দুর্বলতাই ইহার কারণ। দুর্বল মস্তিষ্ক কিছু করিতে পারেনা; আমাদিগকে সবল মস্তিষ্ক হইতে হইবে- আমাদের যুবকগণকে প্রথমত সবল হইতে হইবে, ধর্ম পরে আসিবে। 



হে আমার যুবক বন্ধুগণ, তোমরা সবল হও - তোমাদের নিকট ইহাই আমার বক্তব্য। গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরো নিকটবর্তী হইবে। আমাকে অতি সাহসপূর্বক এই কথাগুলি বলিতে হইতেছে; কিন্তু না বলিলেই নয়। আমি তোমাদিগকে ভালোবাসি।





আমি জানি, সমস্যা কি- কাঁটা কোথায় বিঁধিতেছে। আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। তোমাদের বলি, তোমাদের শরীর একটু শক্ত হইলে তোমরা গীতা আরো ভাল বুঝিবে। তোমাদের রক্ত একটু তাজা হইলে তোমরা শ্রীকৃষ্ণের মহতী প্রতিভা ও মহাণ বীর্য ভাল করিয়া বুঝিতে পারিবে। যখন তোমাদের শরীর তোমাদের পায়ের উপর দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান হইবে, যখন তোমরা নিজেদের মানুষ বলিয়া অনুভব করিবে, তখনই তোমরা উপনিষদ ও আত্মার মহিমা ভাল করিয়া বুঝিবে। এইরূপে বেদান্ত আমাদের কাজে লাগাইতে হইবে। অনেক সময় লোকে আমার অদ্বৈত মত প্রচারে বিরক্ত হইয়া থাকে। অদ্বৈতবাদ বা অন্য কোন বাদ প্রচার করা আমার উদ্দেশ্য নহে। আমাদের এখন কেবল আবশ্যক : আত্মার এই অপূর্ব তত্ত্ব - অনন্ত শক্তি, অনন্ত বীর্ষ, অনন্ত শুদ্ধতা ও অনন্ত পূর্ণতার তত্ত্ব অবগত হওয়া।"

('ভারতীয় জীবনে বেদান্তের কার্যকারিতা' শীর্ষক মাদ্রাজে প্রদত্ত বক্তৃতা)
" We speak of many things parrot-like, but never do them; speaking and not doing has become a habit with us. What is the cause of that? Physical weakness. This sort of weak brain is not able to do anything; we must strengthen it. First of all, our young men must be strong. Religion will come afterwards. Be strong, my young friends; that is my advice to you. YOU WILL BE NEARER TO HEAVEN THROUGH FOOTBALL THAN THROUGH THE STUDY OF THE GITA. These are bold words; but I have to say them, for I love you. I know where the shoe pinches. I have gained a little experience. You will understand the Gita better with your biceps, your muscles, a little stronger. You will understand the mighty genius and the mighty strength of Krishna better with a little of strong blood in you. You will understand the Upanishads better and the glory of the Atman when your body stands firm upon your feet, and you feel yourselves as men. Thus we have to apply these to our needs." .............
(CW, Vol-3, page-242.)


কৃতজ্ঞতাঃ "স্বামী বিবেকানন্দের বানী ও রচনা"
Post By: JOY RAY



Share:

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

রাজা রামমোহন রায় কে আমরা সবাই চিনি


রাজা রামমোহন রায় কে আমরা সবাই চিনি। নতুন করে তাঁর পরিচয় দেওয়ার হয়তো প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর একটি মহৎ কর্মকে আজ আমি সবার সামনে তুলে ধরছি।

আমাদের হিন্দু দর্শন যেসব গ্রন্থাবলীর উপর নির্ভর করে এত ব্যাপক ও গভীরতা লাভ করেছে, উপনিষদ তাদের মধ্য একটি। বলা হয়ে থাকে, বেদের উত্তর ভাগই হল উপনিষদ। কিন্তু সংস্কৃত ভাষার জটিলতা ও এর দুষ্প্রাপ্যতার জন্য আজ আমরা অধিকাংশ হিন্দুরাই আমাদের মূল দর্শন জানা থেকে বঞ্চিত।

আর এই উপলব্ধি থেকেই বঙ্গদেশে সর্বপ্রথম উপনিষদ চর্চা শুরু করেন - রাজা রামমোহন রায়। উনবিংশ শতাব্দীতে খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে পরিচয় হওয়া এবং নতুন ইংরেজি শেখার ফলে অনেক হিন্দুই সনাতন ধর্মের প্রতি আকর্ষণ হারাতে শুরু করে। তাদের ধারণা ছিল ইংরেজি শিখে আধুনিক হতে গেলে এই প্রাচীন ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। এই দৃশ্য রাজা রামমোহন রায়কে ব্যাথিত করে তুলে। তিনি বিকল্প পথের কথা ভাবতে থাকেন। আর এই ভাবনা থেকেই তিনি আকৃষ্ট হন – “ব্রহ্মসূত্র ” এবং উপনিষদের প্রতি। এই উপনিষদীয় দর্শন নিয়েই তিনি রচনা করেন “বেদান্ত গ্রন্থ”। আর এই বেদান্ত গ্রন্থের দর্শনকে কেন্দ্র করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “ব্রাহ্ম সমাজ” এবং নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা। সংস্কৃত না জানা বাঙ্গালীকে উপনিষদের বানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি নিজে পাঁচটি উপনিষদ যথা ঈশ, কেন, কঠ, মুণ্ডক ও মাণ্ডুক্য উপনিষদ বাংলায় অনুবাদ করেন।

✔ ✔ ✔ লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে- আমাদের বাংলাদেশের নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তকে যেটা হাইলাটস করা হয় সেটা হল, "রাজা রামমোহন রায় একেশ্বরবাদী ছিলেন। তিনি 'মূর্তিপূজা'সহ বিভিন্ন "অর্থহীন" ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর করার চেষ্টা করেন। আর এই জন্যই রামমোহন রায় ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সব থেকে দুঃখ যে, তারা ব্রাহ্মধর্ম বা ব্রাহ্ম সমাজ গড়ে তোলার পিছনে প্রকৃত কারন টা আমাদের সামনে তুলে ধরছে না। আর এই জন্য ছোটবেলা থেকেই আমাদের হিন্দু সন্তানদের মনে রাজা রামমোহন রায় ও সনাতন ধর্মের প্রতিমাপূজার প্রতি একটা ভুল ধারণা বা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সত্যিই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা করুন!!!

জয় রায়
Share:

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

পৌরাণিক তন্ত্রোক্ত একান্নটি মহাপীঠের অন্যতম গ্রীবা মহাপীঠ

পুরাণে বর্ণিত আছে পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে স্বীয় পিতা দক্ষ আয়োজিত যজ্ঞের অগ্নিকুণ্ডে শিবপত্নী সতী আত্মাহুতি দিলে সতীর মৃতদেহ স্কন্দে স্থাপন করতঃ মহাদেব উদ্ভ্রান্ত চিত্তে নানা দিগদেশে ভ্রাম্যমান ছিলেন। দেবাদিদেব মহাদেবের এরূপ অবস্থা দর্শনে ব্রহ্মাদি দেবগণ অতিশয় চিন্তান্বিত হয়ে সৃষ্টি রক্ষার্থে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে তিনি তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর শবদেহ খণ্ড খণ্ড করে ছেদন করেন। সতীদেহের খণ্ডিত মোট একান্নটি অংশ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পতিত হয়।

প্রতিটি স্থানই মহাপীঠ রূপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্থান ও শ্রীলংকায় উক্ত একান্নটি পীঠস্থান অবস্থিত। তন্মধ্যে বাংলাদেশে ছয়টির মধ্যে দুইটি সিলেটে।

পৌরাণিক তন্ত্রোক্ত একান্নটি মহাপীঠের অন্যতম গ্রীবা মহাপীঠটি সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দুই মাইল দক্ষিণে জৈনপুর গ্রামে অবস্থিত। পীঠাধিষ্ঠাত্রী দেবী মহালক্ষ্মী এবং পীঠরক্ষী ভৈরব সর্ব্বানন্দ ভৈরব মন্দিরটি তৎসংলগ্ন ঈশান কোণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পার্শ্বে গোটাটিকর গ্রামের প্রকাশিত শিববাড়িতে সুউচ্চ টিলার উপর অবস্থিত।

বর্তমানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দূল মুহিত এর প্রচেষ্টায় সরকারী খরচে নূতন মন্দির নির্মানের কাজ শেষ পর্যায়ে আছে।

Collected from : Sree Sree Gurudeb Shyamsundor Goswami
Share:

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

"ধর্ম, সত্যি একটি অমৃতের স্বাদ দেয়।...ধর্ম ব্যর্থ হয় নি বলেই আজো টিকে আছে"- Asit Ray


ধর্ম, সত্যি একটি অমৃতের স্বাদ দেয়। চিরকাল বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মত, ধর্মকে যার যার ইচ্ছেমত গালি, নিন্দা, যত অভিমান সহ যা কিছু আছে, সব ঢেলে দিলেই, কেউ কেউ শান্তি পায়। ধর্মের প্রেমী-ও রয়েছে। কিন্তু এই আধুনিক যুগে, বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষ, যতই চালাক হোক না কেন, যতই নিজেদের বুদ্ধি-সম্পন্ন ভাবুক না কেন, এখনও ঐ দলের ৯৯% ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য নির্ণয় জানে না। যত কিছু মন্দ হয়, সব কিছুই যেন ধর্মের জন্যই হয়ে থাকে। আধুনিক মানুষ বা বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষের এই একটি ডাস্টবিন, ১২ মাস ব্যবহারের যোগ্য। কোথাও অশান্তি হয়েছে, ওরা খুঁজে কোনোভাবে যদি ঐ অশান্তির কারণের জন্য, ধর্মকে দায়ী করা যায়, একদিকে যেমন শান্তি বা তৃপ্তি, অপরদিকে সমাজে আঁতেল বলেও কিছু মানুষের নিকট মর্যাদা লাভ করা যায়।


ধর্ম, মানে কি? ধারণ করা অর্থে যা কিছু, তাই ধর্ম? ঐসব বিশ্লেষণ স্কুলের শিশুদের জন্য। তোমার বয়সের সাথে সাথে, আর কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রেখেছ? চুল পাকলেই তো মস্তিষ্ক পাকে না। মস্তিষ্ক পাকানো সে ভিন্ন বিষয়। কে তুমি, ধর্ম নিয়ে এত সংশয় রাখো? তুমি কি তাঁর ব্যাখ্যান উপলব্ধি করতে বা ধারণ করতে নিজেকে প্রস্তুত করেছ? এ বিষয়ে কথা বলতে হলেই, নিজের নিকট নিজে পরীক্ষা দিয়ে দেখো, সে পরীক্ষাতে কি ফল আসে। তোমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আজ থেকে আগামী ১০০ বা ২০০ বা ৫০০ বছরের পৃথিবীর অগ্রীম ইতিহাস লেখার জন্য, কতটুকু তোমার চিন্তাশক্তি কাজ করবে? তোমার কলমই বা কতদূর চলতে পারবে? তুমি কি সত্যি সত্যি দেখতে পাচ্ছো, আগামীর দিনগুলোকে? বা আরও পরে এ জগতে কি হবে? তখনের মানুষের আকৃতি কি একই রকম থাকবে, মানুষের খাবার পোষাক পরিচ্ছদ, মানুষের সার্বিক চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আসবে কি না? মানবতার সংজ্ঞা কি একই রকম থাকবে না পালটে যাবে? মানুষের পরিবার বলতে কিছু কি থাকবে, যদি থাকে তা হলে কি, আজকের মতই থাকবে না কি সবকিছুই পালটে যাবে?


যদি তুমি ভবিষ্যতের ঐ অল্প ক'টি দিনের চিত্র আঁকতে না পারো, যদি ওই সময়টিকে মানসপটে দেখতে না পাও, তা হলে তুমিই বলো, এই যে হাজার হাজার বছর আগের ধর্মকে কিছু না বুঝেই গালমন্দ করো, তা কি সুন্দর দেখায়? তা কি কোনো অর্থ বহন করে? না কি তোমার অগোচরেই নিজের মূর্খতা জগতকে জানাচ্ছো? ** তোমার জানা উচিত, সেই পরম ব্রহ্মের প্রেমে মাতোহারা হওয়া ব্যতীত, রাব্বুল আল-আমীনের আশিক হওয়া ব্যতীত, সেই সর্বজ্ঞ বা সর্বশক্তিমানের সাথে সখ্য-ভাব প্রতিষ্ঠা ব্যতীত, বাকী সব কিছুই ধর্মের অতি নগণ্য অংশ মাত্র। বাকী সবকিছু স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তা নিয়ে তর্ক বা যুক্তি আসতে পারে, মারামারি হতেই পারে, ধর্মের দোহাই দিয়ে, কালে কালে যা **অধর্মে পর্যবসিত হয় এবং হয়েছে। যে আধ্যাত্মিক-প্রেম প্রচার পাওয়ার কথা, তাই রয়ে গেল অন্ধকারে, আর আনুষ্ঠানিকতা এবং পৌরাণিকতার উপর লাগল আলোর রোশনি, এই নিয়ে প্রচারযন্ত্রে বেশী বেশী শব্দ হয়!! যা অধর্মের নামান্তর, তাই হয়ে আছে ধর্ম। এভাবেই পবিত্র মানব সন্তান ভয়ংকর দানব হয়ে ওঠে।


ঈশ্বর-প্রেমের শুরু হয়, ইন্দ্রিয়-জ্ঞানে। যেখানে কেবল বর্ণমালার অতিরিক্ত কিছু লাভ করা যায় না। কিন্তু রাব্বুল আল-আমীনের আশিক হওয়ার জন্য, পরম ব্রহ্মের প্রেমী হওয়ার জন্য, যে জ্ঞান দরকার, তা থাকে ইন্দ্রিয়-জ্ঞানের ওপারে। যাকে বলা হয় অতীন্দ্রিয় জ্ঞান। অতীন্দ্রিয় জ্ঞান লাভের পূর্বে, প্রেমীর নিকট রিপুগণের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। মন আর চাইলেই, নীচতার দিকে যেতে পারে না। অর্থাৎ মনকে কুমন্ত্র দিয়ে বা সস্তা আনন্দের লোভ দেখিয়ে, পথচ্যুত করার জন্য যে রিপুরা সর্বদা তৎপর থাকত, তারা হয়ে যায় নিষ্ক্রিয়। তাই অতীতের আনন্দের সকল উপকরণকে অর্থহীন মনে হয়। তখনই যে জ্ঞান জেগে ওঠে, যে নব-জ্যোতিতে চোখ দেখতে পায়, তাতে মনে হয়, ব্রহ্মাণ্ডের একটি 'সত্যকে' একেকজন একেক মঞ্চ থেকে দেখেছে, ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখেছে, দর্শনার্থীরা নিজেদের মতো করে মত প্রকাশ করেছে- - -এই যা। প্রকৃতপক্ষে যা ছিল, একটি সত্য, যা চিরকালের সত্য।


তোমার যতই সংশয় থাকুক ধর্মগ্রন্থে, তোমাকেই সেই সংশয় দূর করতে হবে। তোমাকে রাজহংসের গুণাবলী অর্জন করতে হবে, দুধ মিশ্রিত জল থেকে, দুধটুকু পান করা শিখতে হবে। পিঁপড়ে হয়ে 'বালি-মিশ্রিত চিনি' থেকে, চিনিটুকু আলাদা করার গুণাবলী অর্জন করা চাই। পরম-ব্রহ্ম ব্যতীত আর শতভাগ শুদ্ধতা কোথাও নেই। ধর্ম-গ্রন্থের হাজার হাজার বছর পূর্বের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা, কালের আবর্তনে কিছু নতুনত্ব দাবী করতেই পারে তার অর্থ এই নয় যে ঐগুলো ভ্রান্ত ছিল। হয়ত তুমি দু-হাজার বা পাঁচ-হাজার বছর অতীতে, নিজের চিন্তাশক্তিকে প্রেরণ করতে পারো নি। ব্যর্থতা তোমারই। ধর্ম ব্যর্থ হয় নি বলেই আজো টিকে আছে। তোমার চিন্তার উন্নতি চাই। যখনই ঈশ্বর-প্রেমে, নিজেকে সমর্পণ করবে, তখনই দেখা যাবে, সেখানে একটিই নিয়ম। সকলেই কৃত্রিমতা ধুয়ে মুছে এসেছে। তা যেমন, যত রকমের বিষাক্ত সর্পই থাকুক জগতে, যত বিচিত্র রঙের সর্পই থাকুক না কেন, গর্তে ঢুকার পূর্বে সকলেই সোজা হতে জানে এবং হতে হয়।



লিখেছেনঃ Asit Ray
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।