• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

২৩ এপ্রিল ২০১৭

সনাতন ধর্মের ভয়ংকর দিক হল .... অনেক গুরু

No automatic alt text available.
শুধু বসে বসে মালা চাপলেই সনাতন ধর্মকে রক্ষা করা যাবে না। বসে বসে মালা চাপার জায়গাত্ত তো (মন্দিরগুলো) অন্যরা বেদখল করে নিচ্ছে। কাজেই আমাদেরকে যে করেই হোক মান্দির গুলো রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া সনাতন ধর্মের প্রধান ভিত্তি হল ... সনাতন ধর্মের অনুসারী সকল ভক্তবৃন্দ। দিন দিন আমাদের এ ভিত্তিত্ত দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে।

দিন দিন সবাই আমরা বিভিন্ন মত ত্ত পথে বিভক্ত হতে চলেছি। প্রতিদিন ব্যাঙ-এর ছাতার মত নতুন নতুন গুরু'র আবির্ভাব ঘটছে। সবাই আমাদেরকে বিভিন্ন গ্রুপ সাব-গ্রুপ-এ বিভক্ত করে চলেছেন। শিষ্যের দেয়া টাকা-পয়সা খেয়ে গুরুরা পেট মোটা করে খুব আরামেই দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু মন্দির রক্ষা, একতা, ধর্মান্তর প্রতিরোধ ..... এগুলোর জন্য কোন গুরু-ই কাজ করেন না। অথচ এক কাজগুলো তাদেরই করার কথা !!

আরেকটি ভয়ংকর দিক হল .... অনেক গুরু আমাদের গীতা, বেদ ..... এগুলো প্রচার না করে নিজের তৈরি মনগড়া ছন্দ প্রচারে ব্যস্ত। এতে করে সনাতন ধর্মের বিকৃতি ঘটছে .... একতা নষ্ট হচ্ছে।

Pritilata Waddedar
Share:

হিন্দু আমার মন, বল জয় হিন্দু জয়।

No automatic alt text available.হিন্দু আমার মন, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার পণ, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার ধর্ম, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার কর্ম, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার অস্তিত্ব, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার বীরত্ব, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার প্রশ্বাস, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার নিঃশ্বাস, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার প্রাণ, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার ঘ্রাণ, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার দৃষ্টি, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু আমার কৃষ্টি, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার সংস্কৃতি, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু চায় সম্প্রীতি, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার পরিচয়, বল জয় হিন্দু জয়।
হিন্দু তোমার নেই ভয়, বল জয় হিন্দু জয়।।
হিন্দু আমার নীড়, বল জয় হিন্দু জয়।
আমি হিন্দুবীর, বল জয় হিন্দু জয়।।

courtesy : hindu veer
Share:

জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদাপি গরিয়েসী

No automatic alt text available.আমরা পাবনার ইলা মিত্রের ন্যায় তেভাগা আন্দোলন করে কৃষকের দাবি আদায়ে সংগ্রাম করেছি , চট্রগ্রামের মাষ্টার দা সূর্যসেন প্রীতিলতা পোদ্দার মত ব্রিটিশ -বিরোধী আন্দোলন করে জীবন দিয়ে বাংলাকে করেছি মুক্ত , ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মত পাক পালামেন্টে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য প্রস্তাব তুলেছি.

স্বাধীন বাংলাকেন্দ্র থেকে রাখাল চন্দ্র বণিক রঙলাল দেব চৌধুরীর ন্যায় স্বাধীনতার সব খবরাখবর ও দেশাত্মবোধক গান প্রচার করেছি, চিত্ত রন্জন দত্তের মত জীবন বাজি রেথে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, ঠাকুর তা গুহের মত জীবন দান করেছি অর্জন করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ,শিবনারায়ন দাশের দ্বায়া রচনা করেছি মানচিত্র খচিত প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, মনোরঞ্জন ধরের মত উত্থাপন করেছি গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান.

আমৃত্যু লড়েছি সমাধিকার লড়াই এ বর্তমানে আওয়ামী(রমেশ চন্দ্র সুরন্জিতের ন্যায়) -বিএনপি(গয়েশ্বয়র-নিতাই -গৌতমের ন্যায়) জাতীয় পার্টি(মনোরন্জন শীল-সুনীল শুভের ন্যায়) -জাসদ-বাসদ সব দলে অংশগ্রহণ করে অবদান রাখছি রাজনীতিতে[বিগত+ বর্তমান উভয় সরকারে একাধিক মন্রীও রয়েছে -বর্তমানে 12জন Mp ], ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ন্যায় অবদান রাখছি অর্থনীতিতে সুজিত রায় সামন্তলাল সেনের ন্যায় চিকিত্‍সায় প্রাণ গোপাল দত্তের ন্যায় শিক্ষায়(হাজার হাজার জন primary-high-college-universityএমনকি মাদ্রাসা লেভেলেও)শুভ রায় সমেরন্দ্র কর্মকারের ন্যায় বিজ্ঞানে নির্মেলেন্দু গুণ মহাদেব সাহার ন্যায় সাহিত্যে.

সুবীর নন্দী রথীন্দ্র রায় কুমার বিশ্বজিত্‍ এর মত সঙ্গীতে অমলবোস বিদ্যা সিনহার ন্যায় বিনোদন জগতে ব্রজেন দাস অলোক কাপালী তাপসবৈশ্য এর ন্যায় ক্রীড়াঙ্গনে এমনকি সামরিক বাহিনীতে(মেজর জেনা:সহ) জেলা প্রশাসনে (কমপক্ষে ১0 Dc) সচিবালয়ে,বিচার ব্যবস্থায়(গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ন্যায়) পুলিশ সুপার(>১০) ওসি(>৩০) উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিযদ লেভেলে ও দিচ্ছে নেতৃত্ব .

তারপরেও যারা দেশ ছাড়ার কথা তোলে তাদের বলছি দূর্বল হৃদয়ে ভক্তির স্থান নেই ,যোগ্যতা বলতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন আর সর্বদা মনে রাখবেন "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদাপি গরিয়েসী".
shubho chowdhury
Share:

হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অন্যতম ধর্মীয় উৎসবের মূল্যবান ধামরাইয়ের কাঠের ‘রথ


Image may contain: outdoorস্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ০৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ইতিহাসের ধারক ও এদেশের ঐতিহ্যময় ঐতিহাসিক হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসবের মূল্যবান ধামরাইয়ের কাঠের ‘রথ’ টি বর্বর পাক হানাদার বাহিনী ও দেশীয় দালাল, রাজাকার মিলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তখন গোটা দেশেই চলছিল হত্যাযঞ্জ, নির্যাতন, লুটপাট, পাশাপাশি চলছিল যুক্তিযুদ্ধ। ৪০ ফুট প্রস্থে ৭৫ ফুট উচ্চতা ৩ তলা বিশিষ্ঠ ও ৯ টি প্রকোষ্ঠ এবং ৯ টি মাথা বিশিষ্ঠ সৌন্দর্য শৈলীর নানা কারু কার্জ্য খঁচিত সেই রথটির ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো।

বাংলাদেশই নয় পৃথিবীতে এত বড় রথ আর কোথাও নেই। এর খ্যাতি বিশ্ব জুড়ে। এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এ উৎসব ধর্মীয় স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠিত হলেও , বর্তমানে এ উৎসব পুরোপুরি সার্বজনীনতা লাভ করেছে। লাখো মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়ে উঠে এ উৎসব। প্রতি বছরই সরকারের মন্ত্রী বা উচ্চ পর্যায়ের কোন না কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা আসেন এই রথ ও তার মাসব্যাপী মেলা উদ্ধোধন করতে।

ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে সেতু বন্ধন অটুট রাখতে ২০১০ সালে ধামরাইয়ে পুরোনো রথটির আদলে নির্মানে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে দেয়। বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের তত্বাবধানে ২০০৯ সালে ধমরাই রথের টেন্ডার হয়। টেন্ডার পেয়ে উই.ডি.সি.কেল.বিন টেকনো. টাচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালের জানুয়ারী থেকে রথ নিমার্ন কাজ শুরু করে। নির্মান কাজ ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে। ২০১০ সালের রথ উৎসব নতুন রথেই অনূষ্ঠিত হয়।

ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী এই রথ ১০৭৯ সালে প্রথম জনৈক রাম জীবন বায় মৌলিকের প্রতিষ্ঠিত ও বাঁশের তৈরীরথে মূর্তি চড়িয়ে রথ যাত্রার শুরু হয়। তবে এর আগে কবে কখন রথ উৎসব শুরু হয়েছে তা অজানা। পরবর্তীতে বাংলা ১২০৪ সালে তৎকালীন ঢাকা জেলার অর্ন্তগত মানিকগঞ্জের বালিয়াটির জমিদারগন ঐতিহাসিক রথের নির্মান ব্যয়ভার বহন করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে এই রথ না থাকায় উৎসব বন্ধ ছিল এক বছর।

১৯৭৩ সালে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোক জন ছোট আকারে একটি বাশঁ ও কাঠের রথ নির্মান করে উৎসব পালন করে। ১৯৭৪ সালে বৃহৎ রথের আদলে ছোট পরিসরে কাঠের রথ নির্মান করে শুরু করে পুণরায় রথ উৎসবের নবযাত্রা। এ ব্যাপারে ধামরাই রথ কমিটির অন্যতম সদস্য ও শিল্পী সুকান্ত বনিক বলেন, বিগত ২০০৬ সালে ধামরাইয়ের রথ উৎসবে তৎকালীন মাধব মন্দির কমিটির সাধরন সম্পাদক ধামরাইয়ের বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক প্রয়াত ঠাকুর গোপাল বনিকের আমন্ত্রনে রথ উৎসবে বিশেষ অতিথি হয়ে আসেন ঐ সময়ের বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের দূত শ্রীমতি বিনা সিক্রী। ধামরাই বাসীর আন্তরিক দাবীর প্রেক্ষিতে শ্রীমতি বিনা সিক্রী তার ভাষণে পূর্বের আদলে ধামরাইয়ের রথটি নির্মান করে দেবার আশ্বাস দেন।

এরপর রথ ও মাধব মন্দির কমিটির দুই জন কর্মকর্তা বর্তমান প্রয়াত ঠাকুর গোপাল বণিক ও ধামরাইয়ের বিশ্ব কর্মা বলে খ্যাত শিল্পী সুকান্ত বণিক নিজে ধামরাই থেকে ভারতের পুরিতে যান। সেখানেই রথ নির্মান খরচ বিষয়ক ও তত্বাবধায়ক বিষয়ে আলোচনা হয়। ভারত সরকার বাংলাদেশের সেতু বন্ধন অটুট রাখতে ধামরাইয়ে বর্তমান এই রথটির নির্মানে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়করে নির্মানের প্রদক্ষেপ গ্রহন করেন। । লক্ষী রানী জানালেন, রথযাত্রা আসলে তাদের আনন্দের অন্ত থাকে না। ধামরাইয়ের বাসিন্দা শিশু মোঃ জাহিদ ও বিশ্বনাথ জানালেন, শুনেছি আগে যে রথটি ছিলো সেটি ১৯৭১ এর মুক্তিযদ্ধের সময় পাক বর্বর বাহিনীরা পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন ছোট রথেই রথ মেলা দেখবো বলেন। তারা আরো বলেন, এই ধামরাইয়ে রথমেলা হিন্দুদের হলেও সকল ধর্মের মানুষ উপভোগ করে থাকে এখানে কোন ভেদাভেদ নেই.

courtesy : bangali hindu post

Share:

অতি সংক্ষেপে গায়ত্রী মন্ত্রের বর্ননা

No automatic alt text available.ওঁ ভূভবঃ স্বঃ
তত্ সবিতুর্বরেন্যং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি ।
ধিয়ো যো নং প্রচোদয়াত্ ।।ওঁ।।

অনুবাদ :যিনি ত্রিলোকের স্রষ্টা অথ্যাৎ সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রসবিতা, সে সচ্চিদানন্দঘন নিরাকার পরমব্রহ্মের বরনীয় জ্যোতি কে আমরা ধ্যান করি ।তিনি আমাদের মন ও বুদ্ধিকে শুভ কার্যে প্রেরনা দান করুন।

তাত্পর্যেঃ বলা যায় ভূ ভুবঃ স্বঃ অথ্যাৎ পৃথিবী ,অন্তরীক্ষ ,বিশ্বব্রহ্মন্ডে ,এবং সর্বত্র সেই পরমপুরুষ নিরাকার পরমেশ্বরের প্রভাব বা জ্যোতি বিদ্যমান। তাকে ঘিরেই আমাদের জন্ম ,মৃত্যু ,জীবন সব ।তাই তার কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের জীবনকে সাত্ত্বিক ভাবে অতিবাহিত করার জন্যে কৃপা করেন ।


ঋক ,সাম ,যজুঃ এই তিন বেদেই আমারা মন্ত্রটি পাই যথাক্রমে ঋকবেদ ৩/৬২/১০ যজুঃবেদ ৩/৩৫,৩০/২সামবেদ উত্তর আর্চিক ৬/৩/১০। এই মন্ত্রের দেবতা সবিতা ।
দ্রষ্ট্রা ঋষি বিশ্বামিত্র ,ছন্দ গায়ত্রী এবং এটাই বেদের সর্ব শ্রেষ্ঠ মন্ত্র এবং ছন্দ ।ভগবান
শ্রী কৃষ্ন গীতার বিভূতিযোগে ৩৫নং শ্লোকে বলেছেন ছন্দ সমূহের
মধ্যে আমি গায়ত্রী । এই হল অতি সংক্ষেপে গায়ত্রী মন্ত্রের বর্ননা ।

সূর্যের বিভিন্ন নাম আমরা পাই যেমন :সূর্য ,পুষা ,মিত্র ,সবিতা ,অর্য্যমা ,বিষ্ণু ইত্যাদি এরা সবাই আদিত্য । আমরা দেখছি যে সূর্যের সমার্থক শব্দ সবিতা । সূর্যকে বৈদিক ঋষিরা এই বিশ্বচরাচরের সকল শক্তির উত্স হিসাবে চিন্তা করতেন ।বাস্তবেও অবশ্য তাই ,আমরা সূর্য শক্তিতেই বলিয়ান ।কিন্তু এই মন্ত্র সবিতা সরাসরি সূর্যের সমার্থক শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয় নি ।বেদভাষ্যকার সায়নাচার্য এখানে সূর্য ও সবিতার দুই রকম অর্থ করেছেন ।এই মন্ত্রে সবিতা হল ,সকল কারনের কারন সেই সচ্চিদানন্দ নিরাকার পরম ব্রহ্ম ।তাই সবিতা অর্থ জগত স্রষ্টা ।"সু" ধাতু থেকে সবিতৃ নিষ্পন্ন হয়েছে ।যায় জন্যে সবিতা মানে প্রসবিতা । নিরুক্তিকার যস্ক অর্থ করেছেন "সর্ব্বস্য প্রসবিতা ।"বেদ ভাষ্যে সায়ন ব্যাক্ষা করেছেন তত্সবিতুঃ =জগত্প্রসবিতুঃ = বাংলা হচ্ছে নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকারী ।তাই এই মন্ত্রে আমরা সেই পরমেশ্বরের বরনীয় জ্যোতিকে ধ্যান করছি । যাকে এখানে সবিতা বলা হয়েছে বা নাম দেওয়া হয়েছে ।ঋকবেদের ২য় মন্ডলের ৩৮ সূক্তের ৭থেকে ১১ নং মন্ত্রে সবিতাকে সকল শক্তির উত্স বলে তার স্তুতি করা হয়েছে।
বলা হয়েছে :হে সবিতা ,তুমি সকল কিছু সৃষ্টি করেছ অন্তরীক্ষ ,জল ,স্থল ।তুমি সকল ভূত ,পশুপাখী ,স্থাবর জঙ্গম ইত্যাদিকে স্ব স্ব স্থানে রেখেছ । ইন্দ্র ,বরুন ,মিত্র ,অর্য্যমা ,বা রুদ্র সবাই তোমার শক্তিতে বলিয়ান ।কেউ তোমাকে হিংসা করে না ।হে সবিতা (পরমেশ্বর) তোমার দুতিমান জ্যোতিকে (অথ্যাৎ, সকল প্রকাশ যুক্ত শক্তি এবং অপ্রকাশিত অতিন্দ্রিয় শক্তিকে) আমরা নমষ্কার করি ।তুমি সকলের কল্যান কর । আমাদের জন্যে যেন সকল কিছু শুভ হয় ।এটাই এই গায়ত্রী মন্ত্রের দেবতা সবিতার তাত্পর্য।

বৈদিক ভাব বুঝানো শক্ত কাজ অনেক ক্ষেত্রে নিজে বুঝলেও বোঝানো যায় না অপর কে ,যা হোক চেষ্টা করেছি মাত্র সহজ ভাবে বুঝানোর। নমস্কার।


কৃতজ্ঞতাঃ
অগ্নি সম্পদ (agni sampad)
Share:

ব্রহ্মজ্ঞান

No automatic alt text available.
ওঁ মনোবুদ্ধ্যহঙ্কারচিত্তানি নাহং ন চ শ্রোত্রজিহ্বে ন চ ঘ্রাণনেত্রে।

ন চ ব্যোম ভূমির্ন তেজো ন বায়ুশ্চিদানন্দরূপঃ শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।। 

ন চ প্রাণসংজ্ঞো ন বৈ পঞ্চবায়ুর্ন বা সপ্তধাতুর্ন বা পঞ্চকোষাঃ।

না বাক্‌পাণিপাদং ন চোপস্থপায়ুশ্চিদানন্দরূপঃ শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।।

ন মে দ্বেষরাগৌ ন মে লাভমোহৌ মদো নৈব মে নৈব মাৎসর্যভাবঃ।

ন ধর্মো ন চার্থো ন কামো ন মোক্ষশ্চিদানন্দরূপঃ শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।।

ন পুণ্যং ন পাপং ন সৌখ্যং ন দুঃখং ন মন্ত্রো ন তীর্থং ন বেদা ন যজ্ঞাঃ।

অহং ভোজনং নৈব ভোজ্যং ন ভোক্তা চিদানন্দরূপং শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।।

ন মৃত্যুর্ন শঙ্কা ন মে জাতিভেদঃ পিতা নৈব মে নৈব মাতা ন জন্ম।

ন বন্ধুর্নমিত্রং গুরুর্নৈব শিষ্যশ্চিদানন্দরূপঃ শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।।

অহং নির্বিকল্পো নিরাকাররূপো বিভুত্বা সর্বত্র সর্বেন্দ্রিয়াণাম্‌।

ন চাসঙ্গতং নৈব মুক্তির্নমেয়শ্চিদানন্দরূপং শিবোঽহং শিবোঽহম্‌।।

বেদান্ত বলেন, এই জগৎটা মিথ্যা , একমাত্র ব্রহ্মই সত্য । সত্য বলতে যা চিরন্তন তাকেই বোঝানো হয় , যা ভবিষ্যতে থাকবেনা , যাকে শুধুমাত্র এখন আছে বলে মনে হচ্ছে , এরকম বিষয়কে সত্য বলা যায়না ; কারণ যার প্রকৃত অস্তিত্ব থাকে , সে কখনও 'নেই ' হয়ে যেতেপারেনা ।
এখানে 'সমুদ্রের জল' আর 'ঢেউ' এর উপমা দিয়ে বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে । একটি তরঙ্গায়িত রূপ এবং ' ঢেউ ' - এই নাম, ঢেউকে সমুদ্র থেকে পৃথক করেছে , কিন্তু ওই ঢেউ যখন সমুদ্রে মিলিয়ে যায় তখন নাম - রূপও চলে যায় অর্থাৎ নাম - রূপ মিথ্যা হয়ে যায় । শুধু অবশিষ্ট থাকে ওর আসল স্বরূপ অর্থাৎ জল । ঠিক এই রকম ভাবে এক সত্তাই আছেন । তিনিই সত্য বা সৎ-স্বরূপ । অসংখ্য নাম - রূপের বিন্দুতে তিনি নিজেকে projected করেছেন । এই projection ই জগৎ ।
বেদান্ত বলে , ব্রহ্ম আসলে জগতে পরিণত হননি , এটা seeming projection ; অর্থাৎ আপাত প্রতীয়মান । আকাশ যেমন বাটির মতো নয় , সূর্য যেমন পূর্বে উঠে পশ্চিমে অস্তগামী হয়না , রেল লাইন যেমন দূরে গিয়ে পরস্পর মিশে যায়না , তেমন সৃষ্টিটাও আসলে হয়নি , রজ্জুতে সর্প ভ্রম হয়েছে । অন্ধকারে একগাছা দড়ি দেখে কেউ ভয় পেল , তারপর আলো এনে দেখা গেল ওটা একগাছা দড়ি , সাপ নয় , তখন সর্প ভীতিও চলে গেল । ঠিক তেমনই মায়া বশতঃ ব্রহ্ম জগত হিসাবে কল্পিত হচ্ছেন । নাম রূপের প্রহেলিকা ভেদ করতে পারলে সাধকের এই জগৎ বোধ চলে যায় , তখন আর জন্ম - মৃত্যুর প্রসঙ্গে কোনও প্রশ্নই ওঠেনা । যা নেই তার আবার ব্যাখ্যা কি ?
বেদান্ত বলেন ঈশ্বর কেন জগৎ সৃষ্টি করলেন এই প্রশ্নই সঠিক নয় । ' কার্য-কারণ সম্বন্ধ ' মায়াধিকৃত জগতের বৈশিষ্ট্য । তাই ' কেন ' ও ' কিভাবে ' -- এই প্রশ্নগুলি মায়ার জগতের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়না । ঈশ্বর কেন সৃষ্টি করলেন এই প্রশ্নের দ্বারা আমরা মায়ার বাইরে ' কার্য-কারণ ' খুঁজতে চাইছি ।
আমরা স্বরূপতঃ ব্রহ্ম , সুতরাং ''আমরা বদ্ধ'', - এটা ভুল । যেহেতু বদ্ধতার ধারণাই ভুল , তাই - ''সাধনা দ্বারা আমাদেরকে মুক্ত ( স্ব - স্বরূপে স্থিত ) হতে হবে'' , - এটা আরেকটা ভুল । এই দুই ভুল একত্রিত হয়ে পরস্পরকে প্রশমিত করবে । বিষে - বিষে বিষক্ষয় হয়ে যাবে । আমরা যা ছিলাম তাই থাকব , ব্রহ্ম ছিলাম ব্রহ্মই থাকব ।

জগতের মুল কারণ স্বরূপ সেই অনন্ত অদ্বৈত সত্তা কেই সনাতন ধর্মে '' ব্রহ্ম '' বলা হয়েছে । ভক্ত সেই অখণ্ড সত্তাকে 'তিনি' বলেন । আর জ্ঞানী বলেন 'আমি' । যেমন স্বামীজী বলেছেন -- '' আমি করি খেলা , শক্তি-রূপা মম মায়া সনে ...... '' । আবার অন্যত্র স্বামীজী ভক্তের ভাবে নিজের সম্বন্ধে বলছেন , --- '' দাস তব জনমে জনমে দয়ানিধে ! ...... '' বস্তুতঃ জ্ঞানীর 'আমি ' আর ভক্তের 'তিনি' একই । হয় বল সবই তিনি , অথবা বল সবই আমি ।


- তাপস ঘোষ
Share:

রামেস্বর মন্দির

No automatic alt text available.২০০৮ সালে হিন্দুর চার প্রধান তীর্থের ১ টি--- রামেশ্বরম-এ যাবার সুযোগ ঘটে। যুগে যুগে কত মহাপুরুষ এই তীর্থে এসেছেন ভাবতেই শিহরণ সৃষ্টি হচ্ছিল। একালে শঙ্কর আচার্য ,শ্রী চৈতন্য , বিবেকানন্দ --- প্রমুখ মনিষী এস্থানে এসেছেন। ভারতের চেন্নাই (মাদ্রাজ) থেকে ট্রেন-এ এই সমুদ্র দ্বীপে ঢুকে আশ্চর্য হলাম একটা জিনিস দেখে-- ভয়ানক সুনামি দ্বীপের নানা স্থানে আঁচড় কাটলেও রামেস্বর মন্দিরের কোন ক্ষতি হয় নি। পৃথিবীর বৃহত্তম বারান্দা এই মন্দিরেই দেখতে পাওয়া যায়। প্রবাদ এই যে, শ্রী রাম উপাসিত রামেশ্বর শিবলিঙ্গে গঙ্গোত্রী থেকে আনা গঙ্গা জল ঢাললে কোন কোন ভক্ত দিব্যানুভুতি লাভ করেন।
দুঃখের বিষয়-- এই পবিত্র রামসেতু টি জাহাজ চলাচলের সুবিধার জন্য ভারত ও শ্রীলংকা সরকার ভেঙ্গে ফেলতে শুরু করেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ হওয়ায় ওই অঞ্ছলে প্রবেশে তখন নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাই দর্শন হয় নি। কিন্তু লক্ষ্মণ তীর্থ নামক মন্দিরে জল মধ্যে ভাসমান রামসেতুর ভাঙা টুকরো দেখতে পাই। ওই টুকরোর কিছুটা আমার ঠাকুর ঘরে নিত্য পূজিত হচ্ছেন। এর শাস্ত্রীয় নাম ---রামশিলা।
হিন্দু সংগঠনগুলির চাপে সেতু পুরোটা ভাংতে পারে নি তৎকালীন সরকার। তবে গোপনে কিছুটা ভেঙে ফেলা হয়। নিজ ধর্ম ও কৃষ্টির প্রতি এই অশ্রদ্ধা হিন্দুকে সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কবে শেষ হবে এই আত্মঘাতী খেলা? জয় শ্রী রাম,জয় রামেস্বর মহাদেব, জয় সনাতন হিন্দু ধর্ম !

দেবাশিস সিংহা
Share:

শবাসন (Shavasana)


Image may contain: one or more people and indoor য়োগচর্চাকারীমাত্রই জানেন যে, যোগাসনের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও দুর্বোধ্য আসন হচ্ছে শবাসন। অথচ মজার বিষয় হলো, এই শবাসনকেই অনেকে অত্যন্ত সহজ একটি আসনাবস্থা হিসেবে ধারণা করে নিতে কেন যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা বোধগম্য নয়।

যোগ-কুশলীদের মতে আসন অভ্যাসের প্রতি পর্যায়ে একবার করে ২০সেঃ থেকে ৩০সেঃ শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।ইয়োগার কোন একটি আসন বার কয়েক সম্পূর্ণ অভ্যাসের পর পরই শবাসনের মাধ্যমে দেহমনের বিশ্রাম দেয়া যোগব্যায়ামের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এভাবে একটি যোগাসন অভ্যাসের পর প্রয়োজনমতো একবার ৩০সেঃ থেকে ৪৫সেঃ শবাসনে বিশ্রাম নিলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। বরং অন্য কোন আসনের প্রকৃতি অনুযায়ী দেহের বিশেষ কোন অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গে রক্তসঞ্চালন সাময়িক রুদ্ধ বা প্রচুর রক্ত চালিত করার ফলে যে ভিন্নতা প্রয়োগ করা হয়, তাকে পূর্বাবস্থার উন্নততর স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া হিসেবে শবাসনের চর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শব অর্থ মৃতদেহ। মৃত ব্যক্তির যেমন তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর কোন কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তেমনি শবাসন অবস্থায় অভ্যাসকারীর দেহের কোন অংশে তার কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। মৃত ব্যক্তির মতো আসনচর্চাকারীকেও কিছুক্ষণের জন্য বাস্তব জগৎ থেকে দূরে সরে যেতে হবে। ব্যক্তি আর ব্যক্তিতে থাকবে না। সমস্ত চিন্তা-ভাবনা থেকে মনকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে রাখতে হয়।

প্দ্ধতি:
দু’হাত শরীরের দু’পাশে মেলে রেখে সটান চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালু উপর দিকে এবং পায়ের পাতা দু’পাশে একটু হেলে থাকবে। অথবা যেভাবে ভালো লাগে সে ভাবেই রাখুন। এবার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিথিল করে দিন। দেহের প্রতিটি জোড়া ও মাংসপেশী আলগা করে দিন। শরীরের কোন অংশে কোনরকম জোর থাকবে না। মন শান্ত, ধীর, চিন্তাশূন্য করে মৃতের মতো কিছুক্ষণ পড়ে থাকুন। শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ সরল ও মন্থর থাকবে। মনে রাখতে হবে, বাস্তব জগৎ থেকে আপনি এখন দূরে আছেন। মনটাকে শিথিল করে অনুভব করুন, আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো এখন আর আপনার নেই, কোথায় আছে তাও জানেন না আপনি। এ আসন অবস্থায় যদি ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে বুঝতে হবে আসনটি ঠিকমতো অভ্যাস হচ্ছে।

অনেকের মতে পা থেকে শুরু করে এক এক করে শরীরের এক একটি অংশ শিথিল করে এনে তারপর মাথা শিথিল করতে হবে। প্রক্রিয়াটি আসলেই কঠিন এবং দুর্বোধ্যও। তবে যার কাছে যেভাবে সহজ ও স্বাভাবিক মনে হবে সেইভাবেই করা উচিৎ। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে মনকে চিন্তাশূন্য করে দেহকে শিথিল করে দেহ ও মনকে কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেয়া, তা সে যেভাবেই হোক।

উপকারিতা:
শবাসন অসম্ভব উপকারী একটি আসন। দীর্ঘ সময় বা শ্রমসাধ্য কাজের পর অথবা অনিদ্রার পর কিছু সময় এই আসনটি করলে দেহ ও মনের সমস্ত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়ে যায়। নতুন জীবনীশক্তি, উদ্যম ও কর্মপ্রেরণা ফিরে আসে। যাদের অত্যধিক শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করতে হয়, তাদের আসনটি অবশ্যই করা উচিৎ। মন ও স্নায়ুতন্ত্র প্রয়োজনমতো বিশ্রাম না পেলে স্নায়বিক দুর্বলতা, বধিরতা, দৃষ্টিহীনতা প্রভৃতি নানা কঠিন রোগ হতে পারে। এমনকি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলাও অস্বাভাবিক নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের এ আসনটি ‘মৃত সঞ্জীবনী’র মতো কাজ করে বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় অত্যধিক পড়াশুনার পর এই আসনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে অবসাদ, ক্লান্তি দূর হয়ে শুধু যে নতুন উদ্যম ফিরে আসে তাই নয়, স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়। প্রায় সব আসন অভ্যাসের পর কিছুক্ষণ শবাসনে বিশ্রাম নিতে হয়। কারণ, অন্যান্য আসন অবস্থায় শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে প্রচুর রক্ত চলাচল করে। তারপর শবাসনে বিশ্রাম নিলে রক্ত চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং হৃদরোগীদের জন্য আসনটি অবশ্য করণীয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের দু’মাস আগে থেকে এবং প্রসবের পর অন্ততঃ দু’মাস দিনে কিছু সময় শবাসনে বিশ্রাম নেয়া উচিৎ।

অতএব যুগপৎ অত্যন্ত সহজ এবং কঠিন এ আসনের যথাযথ অনুশীলন যে কারোর নিজের জন্যেই নিয়মিত ও অবশ্যচর্চিত হওয়া উচিৎ নয় কি !

Share:

স্বামী বিবেকানন্দের নির্দেশ

Image may contain: people standing, plant, sky, tree, cloud, flower, outdoor and natureভারত দীর্ঘদিন যন্ত্রণা সয়েছে , সনাতন ধর্মের ওপর বহুকাল ধরে অত্যাচার হয়েছে । কিন্তু প্রভু দয়াময় , তিনি আবার তাঁর সন্তানদের পরিত্রাণের জন্য এসেছেন । পতিত ভারতবর্ষ আবার জেগে ওঠার সুযোগ পেয়েছে । শ্রী রামকৃষ্ণের পদতলে বসে শিক্ষা গ্রহণ করলেই কেবল ভারতবর্ষ উঠতে পারবে । তাঁর জীবন , তাঁর উপদেশ চারদিকে প্রচার করতে হবে , যেন হিন্দু সমাজের সর্বাংশে -- প্রতি অণু পরমাণুতে এই উপদেশ ওতপ্রোত ভাবে ব্যাপ্ত হয়ে যায় । 

 হে বীর হৃদয় বালক গণ , কাজে এগিয়ে যাও । টাকা থাক আর না থাক , মানুষের সহায়তা পাও আর নাই পাও , তোমার তো প্রেম আছে ? ভগবান তো তোমার সহায় আছেন ? অগ্রসর হও , তোমার গতি কেউ রোধ করতে পারবেনা ।  নিজের ভিতর উৎসাহাগ্নি প্রজ্বলিত কর , আর চারিদিকে বিস্তার করতে থাকো ।  তুমি যদি পবিত্র ও অকপট হও , সবই ঠিক হয়ে যাবে । তোমার মতো শত শত যুবক চাই , যারা সমাজের উপর গিয়ে মহা বেগে পড়বে এবং যেখানেই যাবে সেখানেই নবজীবন ও আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চার করবে ।

.আমাদের এখন প্রয়োজন --- শক্তি সঞ্চার । তোমাদের স্নায়ু সতেজ কর । আমাদের আবশ্যক লৌহের মতো পেশী ও বজ্র দৃঢ় স্নায়ু । আমরা অনেক দিন ধরে কেঁদেছি ; এখন আর কাঁদবার প্রয়োজন নেই , এখন নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষ হও । তোমাদের উপনিষদ  সেই বল প্রদ আলোক প্রদ দিব্য দর্শন শাস্ত্র আবার অবলম্বন কর , তোমাদের সম্মুখে উপনিষদের এই সত্য সমূহ আছে । ঐ সত্য সমূহ অবলোকন কর , ঐগুলি উপলব্ধি করে কার্যে পরিণত কর ।

এই বীর্য লাভের প্রথম উপায়  উপনিষদে বিশ্বাসী হওয়া এবং বিশ্বাস করা যে ' আমি আত্মা , তরবারি আমাকে ছেদন করতে পারেনা , কোন যন্ত্র আমাকে ভেদ করতে পারেনা , অগ্নি আমাকে দগ্ধ করতে পারেনা , বায়ু শুষ্ক করতে পারেনা , আমি সর্বশক্তিমান , আমি সর্বজ্ঞ । ' 

হে বঙ্গীয় যুবক বৃন্দ , তোমাদের দেশের জন্যে এটা প্রয়োজন , সমুদয় জগতের জন্যে এটা প্রয়োজন । তোমাদের অন্তর্নিহিত ব্রহ্ম শক্তি জাগিয়ে তোল ; সেই শক্তি তোমাদেরকে ক্ষুধা - তৃষ্ণা শীত - উষ্ণতা - সব কিছু সহ্য করতে সমর্থ করবে ।  মহৎ হও । স্বার্থ ত্যাগ ছাড়া কোন মহৎ কার্যই সাধিত হতে পারেনা । অন্যে যাই ভাবুক আর করুক তুমি কখনও তোমার পবিত্রতা , নৈতিকতা আর ভগবৎ প্রেমের আদর্শকে নীচু করোনা । যে ভগবান কে ভালবাসে তার পক্ষে চালাকিতে ভীত হবার কিছু নেই । স্বর্গে ও মর্তে পবিত্রতাই সবচেয়ে মহৎ ও দিব্য শক্তি ।

 প্রার্থনা করি আমার ভিতরে যে আগুন জ্বলছে , তা তোমাদের ভিতর জ্বলে উঠুক , তোমাদের মন - মুখ এক হোক , ভাবের ঘরে চুরি যেন একদম না থাকে । জগতের যুদ্ধ ক্ষেত্রে তোমরা যেন বীরের মতো মরতে পারো । এই সব সময় বিবেকানন্দের প্রার্থনা ।


Share:

হিন্দু ধর্মের ' অ-আ-ক-খ'


হিন্দু ধর্মের প্রকৃত নাম সনাতন ধর্ম । অর্থাৎ যা চিরন্তন , শাশ্বত । স্বামী বিবেকানন্দ একে সকল ধর্মের প্রসূতি স্বরূপ বলে নির্দেশ করেছেন । কারণ এই বিশ্বে প্রচলিত ধর্ম মত গুলির প্রায় সব গুলির মূল ভাব হিন্দু ধর্মে দেখা যায় । সভ্য মানব জাতির বিভিন্ন ধর্ম মত গুলির মধ্যে হিন্দু ধর্মই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ।হিন্দু ধর্মের প্রকৃত নামসনাতন ধর্ম । অর্থাৎ যা চিরন্তন , শাশ্বত । স্বামী বিবেকানন্দ একে সকল ধর্মের প্রসূতি স্বরূপ বলে নির্দেশ করেছেন । কারণ এই বিশ্বে প্রচলিত ধর্ম মত গুলির প্রায় সব গুলির মূল ভাব হিন্দু ধর্মে দেখা যায় । সভ্য মানব জাতির বিভিন্ন ধর্ম মত গুলির মধ্যে হিন্দু ধর্মই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ।হিন্দু ধর্মের আকর হল বেদ , যার মুখ্যতঃ দুটি অংশ - ' জ্ঞান কাণ্ড' ও 'কর্ম কাণ্ড' । 

'কর্ম কাণ্ড' যুগ ভেদে পরিবর্তন শীল । ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ যখন বললেন - '' কলি যুগে বেদ মত চলে না '' তখন তিনি এই 'কর্ম কাণ্ড' কেই নির্দেশ করেছেন ।' জ্ঞান কাণ্ড' যুগ ভেদে অপরিবর্তনীয় । অরণ্যচারী ঋষি দের সাধনার দ্বারা আবিষ্কৃত পারমার্থিক সত্য এই ' জ্ঞান কাণ্ড' । এটি কোনও সাম্প্রদায়িক মত নয় । হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলে যেমন জল হয় , এটা যেমন যে কোনও মানুষের দ্বারা পরীক্ষায় সত্য প্রমাণিত হবে , ঠিক তেমনি ' জ্ঞান কাণ্ড ' নির্দেশিত অনুভূতি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্যে প্রযোজ্য । এখানেই হিন্দু ধর্ম সকল ধর্ম মত কে নিজের মধ্যে গ্রহণ করেছে । অথবা ঐতিহাসিক বিচারে বলতে হয় হিন্দু ধর্ম সকল ধর্ম মতের জন্ম দিয়েছে ।হিন্দু ঋষিগণ ধর্মপথ নির্দেশের সময় মানুষের রুচি ও ক্ষমতার ভিন্নতার কথা চিন্তা করেছেন , তাই মূর্তি পূজা থেকে শুরু করে নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনা পর্যন্ত সবই হিন্দু ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে । বিভিন্ন মাপের মানুষের জন্য একই মাপের পোশাক এই ধর্ম দেয়না ।

 হিন্দুরা নিজ নিজ রুচি ও ক্ষমতার স্তর অনুযায়ী নিজের উপযুক্ত সাধন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন । উদ্দেশ্য সবারই এক , এবং তা হল - আত্ম জ্ঞান , অর্থাৎ স্ব-স্বরূপ কে জানা ।হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সাধন পথ গুলিকে মুখ্যতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এগুলি হল জ্ঞান যোগ , কর্ম যোগ , ভক্তি যোগ ও রাজ যোগ ।জ্ঞান যোগে আত্ম বিশ্লেষণ এবং ' শ্রবণ , মনন ও নিদিধ্যাসনের ' দ্বারা ' নেতি নেতি ' বিচারের মাধ্যমে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । আচার্য শঙ্কর এই সাধনা প্রচার করেছেন ।কর্ম যোগে নিষ্কাম কর্ম দ্বারা সকাম কর্ম বন্ধন কেটে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন । ভগবান শ্রী কৃষ্ণ অর্জুন কে কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে কর্মযোগে উদ্দীপ্ত করেছেন ।ভক্তিযোগে প্রেমের বন্ধনে ভক্ত সাধক ঈশ্বরকে ধরার চেষ্টা করেন । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য ( মহাপ্রভু ) এই ভাবের প্রচার করেছেন ।রাজযোগে ধ্যান , প্রাণায়াম প্রভৃতি শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়ার দ্বারা সাধক স্ব-স্বরূপ লাভ করেন ।
 মহর্ষি পতঞ্জলি এই সাধন পদ্ধতি প্রচার করেছেন । পৃথক পৃথক ভাবে এই চারটি পথের সাধক অনেক ক্ষেত্রে বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন , যেমন জ্ঞান যোগ মানুষকে শুষ্ক বিচার প্রবণ করতে পারে । কর্ম যোগে কর্ম সকাম হয়ে সাধকের অবনতি ঘটাতে পারে । ভক্তি যোগে গোঁড়ামি আসতে পারে । রাজ যোগে সিদ্ধাই বা অলৌকিক ক্ষমতা লাভের দিকে মন চলে যেতে পারে । ভগবান শ্রী রামকৃষ্ণ এই নবযুগের জন্য তাই নির্দেশ করেছেন যোগ - চতুষ্টয়ের সমন্বয় । স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন - জ্ঞান - কর্ম - ভক্তি অথবা রাজ যোগ এই চারটি পথের যে কোনও একটি অবলম্বন করে সাধক সিদ্ধ হতে পারেন , কিন্তু ' শ্রী রামকৃষ্ণ - রূপ মুষায় ( ছাঁচে) জীবন উৎকীর্ণ করিতে হইলে ( জীবন ঢেলে গঠন করতে গেলে ) সেই জীবনে থাকিবে - চতুর্বিধ যোগের সমন্বয় ' সমন্বয়ের PRACTICAL প্রয়োগ হিসাবে স্বামীজী তুলে ধরেছেন শিব - জ্ঞানে জীব সেবার আদর্শ । এই হল স্বামী বিবেকানন্দ নির্দেশিত 'PRACTICAL বেদান্ত' । বনের বেদান্ত এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সমাজে ও সংসারের সর্বত্র ।

লেখক-তাপস ঘোষ
Share:

প্রহসনঃ দেশের শত্রু তাঁরা ! - আপেল মাহমুদ


Image may contain: one or more people, eyeglasses and textতাঁদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন দেশের জন্য, কেউ কেউ আজীবন লড়াই করে গেছেন দেশ ও মানুষের স্বার্থে, কেউবা মেধা দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। অথচ তাঁদের সহায়-সম্পত্তি আজও চিহ্নিত হয়ে আছে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে, যা শত্রু সম্পত্তিরই নামান্তর। দেশের মানুষ যাঁদের নিয়ে গর্ব বোধ করে, তাঁদের জমিজমা রেকর্ড করা হয় শত্রু সম্পত্তি হিসেবে। পাকিস্তান আমলে যে আইনের বলে এ কাজ করা হয়েছিল, পরে সেই আইনের নাম বদল করে অর্পিত সম্পত্তি আইন রাখা হলেও বিষয়বস্তু একই থেকে যায়। বিভিন্ন সময়ে শত্রু সম্পত্তি কিংবা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে যাঁদের জমিজমা রেকর্ড করা হয়, তাঁদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেন, দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, বিপ্লবী রবি নিয়োগী, কবি নবীন চন্দ্র সেন, দার্শনিক ড. গোবিন্দ চন্দ্র (জি সি) দেব, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শহীদ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য গোবিন্দ সিংহ মজুমদারসহ আরো অনেক বিশিষ্টজন।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে জীবন উৎসর্গ করেছেন মাস্টারদা সূর্য সেন (১৮৯৪-১৯৩৪)। চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক হিসেবে মাস্টারদার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপমহাদেশের সব স্তরের মানুষ। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে ব্রিটিশদের অস্ত্রাগার লুট করে তিনি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন।
অথচ রাষ্ট্রীয় নথিতে তিনি দেশের শত্রু। চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে সেই মহান বিপ্লবীর বাড়ি-ঘর চিহ্নিত করা হয়েছে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে। কারণ তিনি 'শত্রু রাষ্ট্র' ভারতের বাসিন্দা! নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রাধা রানী দেবী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ব্রিটিশদের চোখে মাস্টারদা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হওয়া স্বাভাবিক। পাকিস্তানি শাসকদের কাছেও তিনি শত্রু বলে গণ্য হতে পারেন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি কেন শত্রু হিসেবে গণ্য হবেন?'
নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাস্টারদা সূর্য সেনের বাড়ি ১৯৭৬ সালের ৮ নভেম্বর শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরকার, যার নথি নম্বর-২৩৯। সে নথিতে সূর্য সেনের হাল সাকিন দেখানো হয়েছে ভারত। অথচ ১৯৩৪ সালে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। রাউজান থানার নোয়াপাড়া মৌজার প্রত্যর্পণযোগ্য সম্পত্তির তালিকা থেকে জানা যায়, নোয়াপাড়া মৌজায় সূর্য সেনের জমির বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) দাগ নম্বর-১৮৫৪৭, ১৮৫৪৮, ২০২১২, ১৮১৪৮, ১৮২৪০, ১৮১৪৫, ১৮১৪৬, ১৮৫৪৫ ও ১৮৪৮৭। সেখানে জমির পরিমাণ মোট ৮৩ শতাংশ।
তা ছাড়া একই মৌজার বিএস ১৮৫৪১, ১৮৫৪৪, ২০১০৯, ১৮৫৩৯, ১৮৫৪৩, ১৮৬৩৮, ২০১০৮, ১৮৬৩৮ ও ২০১০৭ নম্বর দাগে সূর্য সেনের পরিবারের আরো দুই একর সোয়া আট শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির শ্রেণী উল্লেখ করা হয়েছে বসতভিটি, পুকুর, পথ, নাল ও খাই (ছোট জলাধার) হিসেবে। ওই জমি ১৯৬৭ সালের ৩০ জানুয়ারি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়, যার নথি নম্বর-৩৫৯। নোয়াপাড়ার পথেরহাট বাজারে ইউনিয়ন তহসিল অফিসে গিয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার পালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে সূর্য সেন ও তাঁর পরিবারের সব সম্পত্তি মাস্টারদা সূর্য সেন স্মৃতি সংসদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। সম্পত্তির ওপর সূর্য সেনের স্মৃতিস্তম্ভ ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। তবে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত এসব সম্পত্তি শত্রু বা অর্পিত হিসেবেই তালিকাভুক্ত থাকবে বলে তহসিলদার রঞ্জিত কুমার পাল জানান।
বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান গণপরিষদে ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট প্রথম দাবি তুলেছিলেন কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১)। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৯ মার্চ তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক-হানাদার বাহিনী। তাঁর লাশের হদিস পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইলে তাঁর বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সরকার। 'যাঁর রক্তে দেশ স্বাধীন হলো, তাঁর বাড়ি কিভাবে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো' সে প্রশ্ন কুমিল্লার সংস্কৃতি কর্মী জাবেদ আখতারের।
জানা যায়, কুমিল্লা শহরে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বসতবাড়ি জাল দলিলপত্রের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হয়। এ ব্যাপারে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত বলেন, 'অনেক চেষ্টা-তদবির করেও দাদুর বাড়ি শত্রু সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়নি। এত বড় দেশপ্রেমিকের বাড়ি-ঘর শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার মতো লজ্জা আর কী হতে পারে?'
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, রবি নিয়োগী ও কবি নবীন চন্দ্র সেনের জমিজমাও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, 'আসলে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার জন্যই তাঁদের শত্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।' তিনি বলেন, 'যত বড় দেশপ্রেমিক কিংবা বিপ্লবী হোক না কেন, তাঁদের একমাত্র অপরাধ তাঁরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। এ একটি মাত্র কারণেই এ দেশের অসংখ্য মানুষকে শত্রুর তালিকায় ফেলে তাঁদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।' সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন বলেন, 'রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অবিচার করেছে জে এম সেন অর্থাৎ যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের প্রতি। তিনি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন সেনের প্রধান অনুসারী এবং ব্যারিস্টার। ১৯২১ সালে স্বাধীনতার জন্য তিনি অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে নিজের আইন পেশা পরিত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী নেলী সেনগুপ্ত ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। এমন সম্মান দেশের খুব কম মহিলার ভাগ্যেই জুটেছে। অথচ তিনি জীবিত থাকাকালে রহমতগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করে সে বাড়ি দখল করে নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সেখানে তিনি শিশুবাগ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এখনো সে বাড়িটি দখল করে রেখেছেন। ১৯৩৩ সালে রাঁচী জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় দেশপ্রিয় মারা গেলেও তাঁকে দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ১৯৬৫ সালের আইনে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।'
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজ করা দোতলা বাড়ির ফটকে 'শিশুবাগ' লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম আছে সামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইসহাকের।
সিলেটের চৌহাট্টার 'সিংহবাড়ী' দেশবাসীর কাছে রবীন্দ্র ও নজরুল স্মৃতিধন্য হিসেবে পরিচিত হলেও সে বাড়ি বর্তমানে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। সিংহবাড়ীর অন্যতম উত্তরসূরি সুজেয় সিংহ মজুমদার জানান, তাঁর দাদু গোবিন্দ সিংহ মজুমদারের আমন্ত্রণে কবিগুরু ও বিদ্রোহী কবি সিলেটে এসে সিংহবাড়ীতে অবস্থান করেন। সে বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। তিনি জানান, ৯৫.৬০ শতাংশ জমির ওপর সিংহবাড়ী গড়ে উঠেছে। এ সম্পত্তির ওয়ারিশসূত্রে মালিক উপেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদার, সুধীরেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদার, শুভব্রত সিংহ মজুমদার ও সত্যব্রত সিংহ মজুমদার। তাঁদের মধ্যে সুধীরেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার ও শুভব্রত সিংহ মজুমদার ভারতে চলে গেলে তাদের জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। উপেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদারের চার ছেলে সঞ্জয় সিংহ মজুমদার, সুজেয় সিংহ মজুমদার, জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার ও সুধাময় সিংহ মজুমদার নিজবাড়িতে থেকে রেকর্ড ও খারিজ করে বসবাস করছেন। কিন্তু অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১-এর তালিকায় পুরো জমিই রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ জরিপে (বিএস) সিংহবাড়ীর ৯৫.৬০ শতাংশ জমিই শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে তাঁরা বাড়ির খাজনা দিতে পারছেন না। ৩০ ধারায় রেকর্ড সংশোধনী মামলা করা হলেও সেটলমেন্ট কোর্ট তা আমলে আনছেন না। ২০০৩ সালে এ সিংহবাড়ী সিলেটের মাকসুদ বখতের কাছে লিজ দেওয়া হলে তা নিয়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন সে লিজ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
শেরপুরে বিপ্লবী রবি নিয়োগীর দুই একর ৩২ শতাংশ জমি ১৯৬৫ সালে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। রবি নিয়োগীর ছেলে রঞ্জিত নিয়োগী ১৯৭৭ সালে আদালতে মামলা করলে ১৯৭৭ সালে রায়ে ওই সম্পত্তি রবি নিয়োগীর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আদালতের রায়ের পরও ১৯৮২ সালে নারায়ণপুর মৌজার বিএস ২৪৬৩, ২৪৬৫ ও ২৪৭৭ নম্বর দাগের সে জমি ফের শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৯৯৩ সালে মামলা করা হলে আদালত ওই জমি শত্রু সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) জরিপে দুই একর ৩২ শতাংশ জমির পরিবর্তে দুই একর ৭৫ শতাংশ জমি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে রবি নিয়োগীর ছেলে রঞ্জিত নিয়োগী বলেন, 'জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে আমাদের বারবার রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। অথচ আমার বাবা দেশের জন্য ৩৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন। তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। জন্মস্থান শেরপুরেই তিনি ২০০২ সালের ১০ মে মৃত্যুবরণ করেন।'
কবি নবীন চন্দ্র সেন লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন। ১৮৭৫ সালে তিনি 'পলাশীর যুদ্ধ' নামে মহাকাব্য লিখে ব্রিটিশদের রোষানলে পড়েছিলেন। অথচ তিনি তখন ব্রিটিশ শাসকদের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি করতেন। ওই মহাকাব্য লেখার জন্য তিনি তৎকালীন প্রশাসনের নজরবন্দি ছিলেন। মৃত্যুর ৭৩ বছর পর ১৯৮২ সালের দিকে চট্টগ্রাম শহরের জামাল খান রোডে (চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে) তাঁর বাড়ি শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এক সময় তাঁর বাড়িটি জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা দখল করে নিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই বাড়ির প্রায় এক বিঘা জমি বিভিন্ন জন দখল করে আছে বলে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কবি নবীন চন্দ্র সেনের জ্ঞাতী ভাগ্নে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, 'নবীন চন্দ্র সেনের মতো এত বড় কবির বাড়ি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? রাষ্ট্রের উচিত অচিরেই এ গ্লানি থেকে কবিকে মুক্ত করা।'
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর বারদী মৌজার ৬৮৩ নম্বর সিএস দাগের ৫৩ শতাংশ জমি (বাড়ি) শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাদির নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে বসবাস করছেন। তবে জ্যোতি বসুর নানা শরৎ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে পাওয়া একই মৌজার ৯০৬ নম্বর দাগের ৬১ শতাংশ জমি এখনো জ্যোতি বসু ও তাঁর বড় ভাই সৌরিন্দ্র কিরণ বসুর নামে রেকর্ডভুক্ত আছে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার জমিও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে। গোবিন্দ চন্দ্র দেবের জমি সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতায় এবং জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়। দুটি বাড়িই বর্তমানে অবৈধভাবে দখলে আছে। 
Share:

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে ?

Image may contain: cloud, sky, ocean, outdoor, nature and waterভূপৃষ্ঠের ৭০.৯ শতাংশই হল জল। পৃথিবীতে যাবতীয় জীবনের লক্ষণ প্রকাশের জন্যে জল অপরিহার্য। পৃথিবীতে পাওয়া বেশিরভাগ জলই সাগর বা মহাসাগরের। এছাড়াও ভূপৃষ্ঠের নীচের ভৌমজল (প্রায় ১.৬ শতাংশ) এবং খুবই নগন্য পরিমাণে (০.০০১ শতাংশ) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প, মেঘ ও অধঃক্ষেপ পৃথিবীতে জলের অন্যতম উৎস। সমুদ্রের জলই ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের মূল উৎস (প্রায় ৯৭ শতাংশ); এছাড়া হিমবাহ ও মেরুদেশীয় বরফ (প্রায় ২.৪ শতাংশ) এবং নদী, হ্রদ ও জলাশয় ভূপৃষ্ঠের জলের অন্যতম উৎস (প্রায় ০.৬ শতাংশ)। ভূপৃষ্ঠে পাওয়া জলের খুব সামান্য অংশ বিভিন্ন জীবদেহ এবং তা থেকে উৎপন্ন পদার্থগুলিতে থাকে। 

বেদে জল সম্পর্কে কি বলা হয়েছে তা দেখে নেইঃ 
(ঋগ্বেদ ১০।৯ এবং অথরববেদ ১।৫) 
১। শক্তির উৎসঃ 
आपो हि ष्ठा मयोभुवस्ता न ऊर्जे दधातन | महेरणाय चक्षसे || ऋ10.9.1, अथर्व 1.5.1 
এই জগতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার ক্ষমতা জলের আছে। 
২। খাদ্যগুণঃ 
यो वः शिवतमो रसस्तस्य भाजयतेह नः | उशतीरिवमातरः || ऋ10.9.2,अथर्व 1.5.2 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জল আমাদের পুষ্টি দেয় ঠিক যেমন নবজাতক মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি পায়। 
৩। জীবন গুনঃ 
तस्मा अरं गमाम वो यस्य क्षयाय जिन्वथ | आपोजनयथा च नः ||ऋ10.9.3, अथर्व 1.5.3 
জলের ভিতরের জীবন্ত জিনিষ মানুষের জীবনশক্তি বাড়ায়। 
৪। জলের পবিত্র গুণঃ 
शं नो देवीरभिष्टय आपो भवन्तु पीतये | शं योरभि सरवन्तु नः || ऋ10.9.4, अथर्व 1.6.1 
জলের পবিত্র গুণ যেন আমাদের শান্তি ও উন্নতি দান করে। আমাদের রোগশোক থেকে মুক্তি ও সুরক্ষা করুক।
৫। জলের চিকিৎসা গুণঃ 
ईशाना वार्याणां कषयन्तीश्चर्षणीनाम | अपोयाचामि भेषजम || ऋ10.9.5, अथर्व 1.5.4 
জলের রোগমুক্তি ক্ষমতা আছে। আমরা যেন তা জানতে পারি। 
৬। अप्सु मे सोमो अब्रवीदन्तर्विश्वानि भेषजा | अग्निं चविश्वशम्भुवम ||ऋ10.9.6 अथर्व 1.6.2 
জলের রোগমুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য দানের ক্ষমতা আছে। 
৭। आपः पृणीत भेषजं वरूथं तन्वे मम | ज्योक चसूर्यं दृशे || ऋ10.9.7, अथर्व 1.6.3 
জলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দিরায়ু দানের ক্ষমতা আছে। 
যজুর্বেদ হতেঃ 
श्वात्रा: पीता भवत यूयमापो अस्माकमान्तरुदरे सुशेवा: | ता अस्मभ्यमयक्ष्मा अनमीवा अनागस: स्वदन्तु देवीरमृता ऋतावृध: || यजु: 4.12 
যখন আমি জলপান করি,আমার পাকস্থলীতে, সাথে সাথে আমাকে অত্যন্ত দ্রুত ভালোলাগার অনুভূতি দেয়। আমি যা পান করি তা যেন আমার রোগমুক্তি ঘটায়, স্বসাদু হয় এবং আমাকে সতেজ করে যাতে আমার গুণাবলী বিকশিত হয়। 
इदमापः प्र वहत यत किं च दुरितं मयि | यद्वाहमभिदुद्रोह यद व शेप उतानृतम || ऋ10.9.8, AV 7.89.3 
এই প্রবাহমান জলধারা যেন আমার মনের সকল কালিমা ধুয়ে নিয়ে যায় আবর্জনার মত। 
आपो अद्यान्वचारिषं रसेन समगस्महि | पোধ स्वानग्ना गहि तं मा सं सृज वर्चसा ||ऋ10.9.9 
জলদূষণ রোধ কর জাতে রোগ না ছড়ায়।

http://bangalihindupost.blogspot.com/2012/04/blog-post_5338.html
Share:

চানক্য-পণ্ডিতের কৌটিল্য-তত্ত্ব ইতিহাসের টেরাকোটায়

Image may contain: one or more people‘মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।’
এই দুর্দান্ত উক্তিটির বয়স দু’হাজার বছরেরও বেশি, প্রায় আড়াই হাজার বছর। এটা চানক্য-শ্লোক বা বাণী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কথাটা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য ? যদি বলি এর বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য ? একযোগে হামলে পড়বেন অনেকেই। বিশ্বাসযোগ্যই যদি না হবে তো আড়াই হাজার বছর পেরিয়ে এসেও কথাটা এমন টনটনে থাকলো কী করে ! আসলেই তা-ই। কথাটায় একবিন্দুও ফাঁকি দেখি না। হয়তো আমরাই মানি না বলে। অথবা অক্ষরে অক্ষরে এতোটাই মেনে চলি যে, জানান দেবার আর বাকি থাকে না- আমাদের মনটাই ফাঁকি, ওখানে খাঁটি বলে কিছু নেই। আর এজন্যেই কি পবিত্র স্থানে গমনের জন্য হুমড়ি খেয়ে আমাদের মধ্যে এমন হুড়োহুড়ি লেগে যায় ? অসুস্থ হলে যেমন আমরা হন্যে হয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটি, এটাও সেরকম। খোশগল্প করার নিয়ত না হলে সুস্থাবস্থায় কেউ কি ডাক্তারের কাছে যান !

চানক্যের আরো কিছু বাণী-
"বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নিচ কারো থেকে ভালো এবং নিচু পরিবার থেকে শুভ-লক্ষণা স্ত্রী- এসব গ্রহণ করা সঙ্গত।”
"মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত।”
"যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্য কোনকিছু হাসিল করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্য কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই।”
"বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে।”

বাণী চিরন্তনী জাতীয় কোন গ্রন্থ না হলেও (kautilya) কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ চানক্যের (chanakya) এরকম অমর বাণী নিশ্চয়ই অপর্যাপ্ত নয়। তা হবার কথাও নয়। কেননা প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে তিনি তাঁর কালজয়ী সংস্কৃত গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্রে’ (Arthashastra) কিভাবে একজন শাসককে আরো ভূখণ্ড ও মূল্যবান সম্পদ নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করে তাঁর প্রজাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও জীবনমান উন্নত করার জন্য কাজ করতে হবে তা লিপিবদ্ধ করেন। নামে অর্থশাস্ত্র হলেও গ্রন্থটি মূলত শাসকের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি বিষয়ক কৌশলের পরামর্শ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাজ্য শাসনের এতোবড়ো গুরুদায়িত্ব পালনের ফাঁকে শাসক-সম্রাটরা কি আদৌ তা পড়তেন বা পড়ার সময় পেতেন ? নিশ্চয়ই পড়তেন। সাম্রাজ্য-শাসক হিসেবে অত্যন্ত পরাক্রমশালী হলেও তাঁদের হয়তো এই বোধটুকু অন্তত ছিলো যে জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান শাসকদের মতো এতো মহাপরাক্রমশালী তাঁরা ছিলেন না। রাজদরবারগুলোতে তাই তৎকালীন জ্ঞানীগুণী ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী পণ্ডিতদের আনাগোনা থাকতো বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।

উদাহরণ হিসেবে আমরা জানি যে, গুপ্ত বংশের বিখ্যাত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত যিনি বিক্রমাদিত্য নামেই সমধিক পরিচিত, তাঁর নবরত্ন সভার নয়জন রত্ন ছিলেন- (১) ধন্বন্তরি (২) ক্ষপণক (৩) অমরসিংহ (৪) শঙ্কু (৫) বেতালভট্ট (৬) ঘটকর্পর (৭) কালিদাস (৮) বরাহমিহির (৯) বররুচি। আর এ তথ্য পাই আমরা মহাকবি কালিদাসের (kalidasa) বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ ‘জ্যোতির্বিদ্যাভরণ’-এর একটি সংস্কৃত শ্লোকে-
"ধন্বন্তরি-ক্ষপণকামরসিংহ-শঙ্কু-বেতালভট্ট-ঘটকর্পর-কালিদাসাঃ খ্যাতোবরাহমিহিরোনৃপতেঃ সভায়ং রত্নানি বৈ বররুচির্ণব বিক্রমস্য।”

কিন্তু এযাবৎ যতজন পণ্ডিত-রত্নের কথা আমরা জানি, তাঁদের মধ্যে চানক্য-পণ্ডিতকেই সবচাইতে প্রতিভাবান ও বাস্তববাদী বলে মনে হয়। তাঁর অবস্থিতিকাল কালিদাস যুগেরও আগে। দার্শনিক প্রজ্ঞা আর কূটনৈতিক পরিকল্পনায় সিদ্ধহস্ত এই অসাধারণ প্রতিভাধর পণ্ডিত চানক্যের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিলো (vishnugupta) বিষ্ণুগুপ্ত (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০- খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৩)। কিন্তু জন্মগ্রাম ‘চানকা’ থেকে, মতান্তরে পিতার নাম 'চানক' থেকে, ‘চানক্য পণ্ডিত’ হিসেবেই তিনি ব্যাপক পরিচিত হয়ে ওঠেন সর্বত্র।

উপমহাদেশের উচ্চতর জ্ঞান আহরণের প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপিঠ যেখানে, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে বর্তমান পাকিস্তানের সেই তক্ষশীলায় তাঁর জন্ম এবং পরবর্তীতে তক্ষশীলা বিদ্যাপিঠেই একজন শিক্ষাগুরু হিসেবে ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে সেখানকার পরিবেশ তাঁর সহজাত প্রতিভাকে করে তুলেছে ক্ষুরধার প্রজ্ঞায় উজ্জ্বল। ‘কূটিলা গোত্র’ থেকে উদ্ভুত ছিলেন বলে পরবর্তীতে গোত্র নামটিকে টিকিয়ে রাখার সদিচ্ছা থেকে ‘কৌটিল্য’ ছদ্মনাম ধারণ করে লিপিবদ্ধ করেন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’। কিন্তু এই ‘অর্থশাস্ত্র’ তো আর এমনি এমনি লিখিত হয়নি। এর পেছনের যে ইতিহাস, সেখানেই রয়ে গেছে একজন চানক্য পণ্ডিত বিষ্ণুগুপ্তের কৌটিল্য হয়ে ওঠার ঘটনাবহুল পটভূমি।

কিংবদন্তী আছে, মগধ রাজ্যের পরাক্রমশালী নন্দ বংশের শেষ রাজা, যিনি তার অন্যায় শাসনের জন্য প্রজাসাধারণের কাছে ভীষণ অপ্রিয় ছিলেন, একবার চানক্যকে অপমান করেন। চানক্য এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। এদিকে নন্দ রাজার পদস্থ ও উচ্চাভিলাষী তরুণ সামরিক কর্মকর্তা চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করেন। কিন্তু ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে প্রাণ বাঁচাতে তাকে বিন্ধালের জঙ্গলে পলাতক ও নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। ঘটনাচক্রে চানক্যের সাথে চন্দ্রগুপ্তের সাক্ষাৎ ঘটে। এই সাক্ষাতের ক্ষণলগ্নই যে একটা বিশাল জাতিগোষ্ঠির ভাগ্যচাকার মোড় ঘুরিয়ে চিরকালের নতুন বাঁক তৈরি করে দেবে তা কে জানতো। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চানক্যকে গুরু, উপদেষ্টা ও মন্ত্রণাদাতা হিসেবে মেনে নেন। অতঃপর চানক্যের সক্রিয় সহযোগিতায় চন্দ্রগুপ্ত একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং গুরুর সুনিপুণ পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে শেষপর্যন্ত নন্দরাজাকে সিংহাসনচ্যুত করতে সক্ষম হন। মগধের সিংহাসনে আরোহণ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য়েরই দ্বিতীয় পুরুষ হচ্ছেন বিন্দুসারা এবং তৃতীয় প্রজন্ম আরেক প্রতাপশালী শাসক সম্রাট অশোক।

শক্তিশালী নন্দ বংশের শাসন উৎখাতের পেছনে চানক্যের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কুশলী কর্মকাণ্ড অসাধারণ কৃতিত্ব হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আছে। এবং তাঁর অবদানেই সম্রাট অশোকের পিতামহ (chandragupta) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পঞ্চম শতাব্দিতে রচিত প্রাচীন নাট্যকার বিশাখা দত্তের শতশত বছর জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাজনৈতিক নাটক ‘মুদ্রারাক্ষস’-এ নন্দবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করে চন্দ্রগুপ্তের বিশাল মৌর্যসাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

তবে এতৎবিষয়ক তথ্যসূত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে যেটিকে বিবেচনা করা হয়, তা হলো গ্রীক দূত মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ (Indica)। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মেগাস্থিনিস (Megasthenes) চন্দ্রগুপ্তের দরবারে অবস্থান করে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেন বলে জানা যায়। এখান থেকেই জানা যায় চন্দ্রগুপ্ত মগধের সিংহাসনে আরোহন করেই পাটালিপুত্রকে তার রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত করেন। বিহারের আধুনিক শহর পাটনার কাছেই ছিলো পাটালিপুত্রের অবস্থান। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৯৮ সাল পর্যন্ত চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে সমগ্র রাজ্য জুড়ে শান্তি বিরাজমান ছিলো। প্রজাদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ রাজা হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিলো এবং রাজ্য বিকশিত হয়েছিলো সমৃদ্ধিতে। আর এগুলো সম্ভব হয়েছিলো চন্দ্রগুপ্তের জীবনে স্বর্গীয় দূতের মতো অভিভাবক হয়ে আসা সত্যিকারের বন্ধু, দার্শনিক ও গুরু চানক্যের কারণে।

জানা যায়, এর আগে মহামতি আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রিক শাসনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়, গুরু চানক্যের পরামর্শে এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে পরাজিত করেন এবং পাঞ্জাবকে নিজ শাসনাধীনে আনেন। পরবর্তীতে পশ্চিম ভারতের সকল রাজ্য একে একে জয় করে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত। এই বিশাল সাম্রাজ্য দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য তিনি একটি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করে চানক্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।

চন্দ্রগুপ্তের অতি-নির্ভরযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবন যাপনের অবারিত সুযোগ থাকার পরও, কথিত আছে যে, চানক্য এক শ্মশানবর্তী খুব সাধারণ একটি কুঁড়েঘরে নির্মোহ সন্ন্যাস জীবন-যাপন করতেন। ওখানে থেকেই বিশ্বস্ততার সাথে রাজপ্রদত্ত দায়িত্বপালনের পাশাপাশি শিষ্যবর্গকে রাজ্যশাসন কৌশল শিক্ষাসহ নৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান দান করতেন। এসব বিষয়ের কিছু কিছু তাঁর অন্যান্য বিবরণীতে সংগৃহিত হয়েছে। এ ধরনের একটি সংকলন- ‘চানক্য নীতি দর্পণ’। দু’হাজারেরও অধিক বছরের কাল পরিক্রমায় এসেও চানক্য নীতি শ্লোকগুলো এখনো যে গুরুত্বহীন হয়ে যায়নি, এখানেই ধর্ম, দর্শন, নীতিশাস্ত্র, সামাজিক আচরণ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে চানক্যের অভূতপূর্ব দার্শনিক প্রাজ্ঞতা প্রমাণীত। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে অসাধারণ দক্ষ পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চানক্যের খ্যাতি অপরিমেয়। সিদ্ধান্তে অটলস্বভাবী তাঁর কাছে অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিলো না। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর।

কালজয়ী গ্রন্থ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ শাসকের প্রতি পরামর্শ হিসেবে চানক্যের কিছু বাণীকে দু’হাজার বছরের এতো দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসে এখনো অসম্ভব সমকালীন মনে হয়-
"যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।”

"সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরূপ বা অর্থ আত্মসাতের চব্বিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারির পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। জলের নিচে মাছের গতিবিধি যেমন জল পান করে বা পান না করেও বোঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারির তহবিল তসরূপও দেখা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব; কিন্তু রাজকর্মচারির গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভব।”

যুগে যুগে প্রজাবৎসল শাসককূলের উত্তম শাসনকার্যের সবচাইতে প্রাচীন ও অসাধারণ সহায়িকা হিসেবে রচিত ধর্ম-দর্শন-ন্যায়পরায়ণতা-কূটনীতি-অর্থনীতি-রাষ্ট্রনীতির আকর-গ্রন্থ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’-কে তৎকালীন প্রজাহিতৈষী মৌর্য শাসকরা যে হেলাফেলা করেননি তা বুঝা যায় চানক্য-সহায়তায় মৌর্যশাসন প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের চব্বিশ বছরের শাসনকালের পরও দ্বিতীয় প্রজন্ম বিন্দুসারা'র জনপ্রিয়তা যাচাই করলে। তারও পরে এই মৌর্য বংশের তৃতীয় শাসক সম্রাট অশোকের শাসনকাল তো প্রতীকী স্থায়িত্ব পেয়ে আছে বর্তমান ভারতের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে প্রাচীন ও গভীর ঐতিহ্যবাহী অশোক-স্তম্ভের দৃশ্যমান অবস্থিতিতে। এমনকি আরো বহু পরে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্যের সমৃদ্ধিময় শাসনকালের কিংবদন্তীয় উপকথাগুলোর জনপ্রিয় লোকভাষ্য থেকেও তা ধারণা করা যায় হয়তো।

(০২)
এই উপমহাদেশীয় প্রাচীন মাটির সন্তান আমাদেরই পূর্বপুরুষ চানক্য-পণ্ডিত বিষ্ণুগুপ্তের দার্শনিক কৌটিল্য হয়ে ওঠা বা যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ রচনার কিংবদন্তীয় কাহিনী বর্ণনা করা যতোটা ইন্দ্রীয়সুখের ব্যাপার, একজন কৌটিল্যের উন্মেষের কার্য-কারণ সূত্র খোঁজাটা বোধ করি ততটাই জটিলতার বিষয়। তৎকালীন প্রাচীন ভারতোপমহাদেশীয় আর্থ-সামাজিক পটভূমিতে অনিবার্যভাবে একজন কৌটিল্যের উন্মেষ না ঘটলে সেসময়কার পরিবর্তন বা অপরিবর্তনহেতু শাসক-মানসের জ্ঞান-বিজ্ঞান স্পৃহা কতোটা ফলবতী হতো বা পরবর্তীকালের শাসকানুকুল্যে সমৃদ্ধ ভারতীয় সভ্যতা আদৌ কোন বাস্তবরূপ পেতো কিনা এবং অন্যান্য উন্নত সভ্যতার সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিনিময় সম্ভাব্যতা কেমন হতো সেসব হয়তো এখন কেবলি কুটতর্ক। তবে কৌটিল্যের কৌটিল্য হয়ে ওঠার পেছনে তৎকালীন ইউরোপীয় বা সুনির্দিষ্টভাবে গ্রিক সভ্যতার সাথে ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিনিময় ব্যবস্থার যথেষ্ট অবদান থাকার সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। কেননা যে সময়টাতে কৌটিল্য ‘অর্থশাস্ত্র’ লিপিবদ্ধ করেন, এর খুব কাছাকাছি সময় পূর্বেই প্লেটোর আলোড়িত গ্রিক রাষ্ট্রদর্শনের জন্ম হয়েছে কেবল। এবং কৌটিল্যের সময়কালে এই দর্শনের বাণী বা প্রভাব গ্রিসের বাইরে ছড়াতে শুরু করেছে এমন ধারণাও করতে পারি আমরা।

গ্রিক দার্শনিক (Plato) প্লেটো (খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৭-খিষ্টপূর্ব ৩৪৭) আশি বছর বয়সে যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন চানক্যের (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০-খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৩) বয়স তথ্যানুযায়ী তিন বছর। তাছাড়া চানক্যের সময়কালে পাঞ্জাব যে গ্রিক আধিপত্যে ছিলো এবং গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যুতে পাঞ্জাবে গ্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে গ্রিকদের জন্য সেই অস্থির সময়ে চানক্য মৌর্য শাসক চন্দ্রগুপ্তকে পাঞ্জাবে গ্রিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন। এছাড়াও খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্তের দরবারে অবস্থান করে তাঁর ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের মাল-মশলা সংগ্রহের ঘটনা চানক্যের সময়কালেই হয়েছিলো বলে ধারণা। ফলে গ্রিক সংস্কৃতির এতোটা স্পর্শে এসেও চানক্যের মতো অসাধারণ প্রতিভাবান পণ্ডিত-দার্শনিক যে গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে একটুও প্রভাবিত হননি সে কথা বলাটা বোধ করি খুবই অযৌক্তিক হবে। তবে এটাও আমাদের ধারণায় রাখতে হবে যে, জ্ঞান হচ্ছে বাতাসের মতো; চিন্তা-চেতনাকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা দেয় শুধু, চিন্তার শরীর পুষ্ট হতে প্রয়োজন অন্যকিছু।

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস নিরক্ষর ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কেননা তিনি নিজে কখনোই কিছু লিখে যাননি। তাঁর দার্শনিক শিষ্য প্লেটোর মাধ্যমেই আমরা রূপায়িত সক্রেটিসকে চিনি এবং জানি। ইউরোপীয় রাষ্ট্রদর্শনের উৎস বলে চিহ্ণিত প্লেটোর দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ক জগৎবিখ্যাত গ্রন্থ (Republic) ‘রিপাবলিক’-এ প্রধান চরিত্র সক্রেটিসের অদ্ভুত ও চমৎকার যুক্তিবিস্তারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের দর্শনসূত্র এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কাল্পনিক রূপরেখা তৈরির যে চমৎকারিত্ব দেখানো হয়েছে তা অভূতপূর্ব। তবে গোটা দর্শনের মূল লক্ষ্যটাই ছিলো সত্য ও ন্যায়ের সন্ধান এবং এর মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলসূত্র ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের স্বরূপ কী হবে তা উপস্থাপন।

সৈয়দ মকসুদ আলী অনুদিত বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত নভেম্বর ১৯৭৩-এ প্রকাশিত ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ গ্রন্থটির ‘প্লেটোর রাষ্ট্রদর্শন’ আলোচনায় অনুবাদকের বক্তব্যটি এরকম-
‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রধানত ন্যায়ধর্ম (justice) বিষয়ে আলোচনা স্থান পেয়েছে। গ্রন্থের মূল চরিত্র সক্রেটিস যে সত্যটি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন তা হলো : অবিচার, অনাচার ও দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে দু’টি শক্তি, একটি সত্যাশ্রয়ী জ্ঞানী মানুষ এবং অপরটি ন্যায়ধর্ম। সত্য ও ন্যায়ের সন্ধান লাভ করতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে-সে পথ শিক্ষার, যার মাধ্যমে আত্মোৎকর্ষ লাভ করা যায়।

মজার বিষয় হচ্ছে, চানক্য-পণ্ডিত কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রের’ মূল সংস্কৃত গ্রন্থটির নামের অর্থও নাকি দাঁড়ায় ‘পৃথিবীতে সাধারণ কল্যাণ বিষয়ক বিবরণী’। আর কল্যাণের সাথে খুব স্বাভাবিকভাবে ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টিই জড়িত থাকে। যেহেতু শাসকদের উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের পরামর্শ হিসেবে গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ হয়েছে, অতএব শাসকের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টিই বিবেচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। ‘অর্থশাস্ত্রে’র উপস্থাপনভঙ্গি যদিও ‘রিপাবলিকে’র মতো নয়, তবু প্লেটো ও কৌটিল্য উভয়েই ভিন্ন ভিন্নভাবে তাঁদের নিজেদের মতো করে মানব-চরিত্রের প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণে ব্রতী হয়েছেন। এবং এটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রচিন্তায় আসলে মানুষই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অনুঘটক। তবে দেশ কাল রাষ্ট্র পরিবেশ বিচারে মানুষের প্রকৃতি যেহেতু ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময়, তাই তাঁদের বিশ্লেষণধর্মিতাও ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পূর্বোক্ত ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ গ্রন্থের অনুবাদকের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য-
‘গ্রিক দার্শনিকগণ, বিশেষত প্লেটো, মানবচরিত্রের বৈচিত্র্য তাঁর রিপাবলিক-এ যেরূপ সূক্ষ্মভাবে উন্মোচিত করেন তার তুলনা বিরল। প্রাচীন ভারতবর্ষে এ কাজটি আংশিকভাবে করেছেন ‘অর্থশাস্ত্রের’ রচয়িতা কৌটিল্য, এবং মহাচীনে কনফুসিয়াস, মেনসিয়াস।’

আরেকটা বিষয় বেশ কৌতুহলের দাবি রাখে। প্লেটোর ‘রিপাবলিকে’ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের অধিকর্তা হিসেবে কেন দার্শনিকগণকেই মনোনীত করা উচিত, এর সপক্ষে যুক্তি বিস্তার করতে গিয়ে এক জায়গায় সক্রেটিস বলছেন-
‘আমার মতে দার্শনিকগণই রাষ্ট্রের অধিপতি হবার যোগ্য। কেবল তাই নয়, আমরা যাদের রাজা বা শাসক বলি তাদেরও প্রজ্ঞাশক্তিতে যথেষ্টভাবে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। বস্তুত রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে এবং যেসব সাধারণ স্বভাববিশিষ্ট লোকসমষ্টি যথেচ্ছাচারে লিপ্ত থাকে তাদের কঠোরভাবে সংযত করা না হলে রাষ্ট্র ত দূরের কথা, গোটা মানবজাতিও বিপদ-মুক্ত হতে পারবে না। এমন কি প্রিয় গ্লাউকন, আমরা যে আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা দিয়েছি তাও এরূপ অস্বাভাবিক অবস্থায় অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। অনেকের কাছেই কথাটা হয়ত কূটাভাসের মতো শোনাবে; কেননা, আমি জানতাম তোমাদের মধ্যে অনেকেই আমার রাষ্ট্রকল্পনায় বিশ্বাসী নও এবং এজন্যেই হয়ত বিশ্বাস করতে পারছ না যে, রাষ্ট্রের বা ব্যক্তির কল্যাণ কেবল আমার প্রস্তাবিত পথেই আসতে পারে।’

বিষয়টা কাকতালিয় কিনা জানি না, চানক্যের উপরোল্লিখিত কিংবদন্তীয় জীবনেতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে, উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তার বিশাল সাম্রাজ্য দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে গুরু চানক্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। আমরা এও জানতে পারি, এই সাম্রাজ্য পরিচালনায় গুরু চানক্যের পরামর্শ ও অবদানই মূখ্য ছিলো। আর অতি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এতো বড়ো ক্ষমতা পরিচালনা করেও ব্যক্তিগতভাবে চানক্য ছিলেন জাগতিক সমস্ত বিয়য়ের প্রতি একেবারেই নির্মোহ ও সন্ন্যাস জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। এমনকি সবসময় কৌপিন-বস্ত্র পরিধান ও শ্মশানবর্তী এক সাধারণ কুড়েঘরে অবস্থান করে শিষ্যদেরকে ন্যায় ও দর্শনশাস্ত্রে জ্ঞানশিক্ষা দান করতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন তিনি। প্লেটোর ‘রিপাবলিকে’ সক্রেটিস কথিত রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দর্শনের মধ্যে এমন অদ্ভুত সমন্বয়ক ভূমিকার উদাহরণ চানক্য ছাড়া আর রয়েছে কিনা জানা নেই।

বক্তব্যের স্পষ্টতার জন্য বলে রাখা জরুরি যে বক্ষ্যমান আলোচনার অর্থ এই নয় যে, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’কে গ্রিক রাষ্ট্রদর্শন বা ‘রিপাবলিক’ এর অনুসৃতি হিসেবে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। এ দুটোতে বরং ভিন্নতাই বেশি পরিলতি হয়। সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিবেশ পরিস্থিতি ও জনরুচি সাপেক্ষে এই ভিন্নতাটাই অধিকতর যৌক্তিক। ‘রিপাবলিকে’ মূলত একটি কাল্পনিক নগররাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা তৈরি যতটুকু প্রাধান্য পেয়েছে, অন্যদিকে ‘অর্থশাস্ত্রে’ প্রাধান্য পেয়েছে শাসকের কূটনীতি ও রাজ্যশাসন কৌশলের উৎকর্ষ অর্জন। তবে উভয়ক্ষেত্রে সাযুজ্য হলো শেষবিচারে একজন শাসকের ন্যায়পরায়ণ হয়ে ওঠা বা সর্বক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা। আর এখানেই বুঝি সেই কথাটাই প্রযোজ্য হয়ে ওঠে যা এ লেখায় বলার চেষ্টা করা হয়েছে- ‘গ্রেট ম্যান থিংক এলাইক’।

(০৩)
প্রায় সমসাময়িক রাষ্ট্রচিন্তক বা দার্শনিক হিসেবে প্লেটো ও চানক্য তথা কৌটিল্য, দু’জনের মেধা-মননে গুণগত মিল থাকলেও তাঁদের নিজ নিজ যাপিত জীবন অনুযায়ী অবস্থানগত অমিলটাই লক্ষ্য করা যায় বেশি।

প্লেটো রাষ্ট্রীয় মতাবলয়ের বাইরে ও দূরবর্তী নিরীহ অবস্থানে থেকে রাষ্ট্রচিন্তায় ভাবিত একজন দার্শনিক। ধারণা, কল্পনা ও যুক্তিই হচ্ছে তাঁর দর্শন-সূত্র তৈরির মূল হাতিয়ার। অন্যদিকে ক্ষমতাবলয়ের প্রায় কেন্দ্রে অবস্থান ছিলো বলে চানক্য একেবারে নির্মোহ ও ঋষিস্বভাবী পণ্ডিত হলেও শাসক-মানসকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে একজন বাস্তববাদী রাষ্ট্রচিন্তক ও দক্ষ পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চিন্তাকে বাস্তবায়নের সুযোগই তার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার ছিলো।

আবার সক্রেটিসের জবানিতে প্লেটো বিশ্বাস করতেন- ‘দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য।’ অর্থাৎ কল্পনার বিমূর্ত চেহারায় তুষ্ট তিনি। অন্যদিকে সিদ্ধান্তে অটলস্বভাবী অসাধারণ দক্ষ পরিকল্পনাবিদ চানক্যের কাছে অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিলো না। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে ছিলেন কঠোর। অর্থাৎ প্রয়োগযোগ্যতা ও মূর্ততাই তাঁর আরাধ্য।

তবে ভিন্ন প্রেক্ষিত থেকে যে ভিন্নতাটা সবচাইতে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেয় আমাদের কাছে, তা হলো- প্রায় আড়াই হাজার বছরের ব্যবধানে এসেও বাস্তবতার মাটি না পাওয়া প্লেটোর ইউরোপকেন্দ্রিক একটা কাল্পনিক দর্শনকে খুব ভালোভাবে মনে রেখে এর অসম্ভব পরিচর্যা করে যেতে আমরা সক্ষম হলেও নিজস্ব রাষ্ট্রচিন্তা ও অসাধারণ পরিকল্পনাকে বাস্তবতায় রূপদানকারী আমাদের অত্যন্ত আপন একজন চানক্য পণ্ডিত কৌটিল্যকে ‘অর্থশাস্ত্রের’ দুষ্প্রাপ্রাপ্যতার মতোই আমরা ভুলতে বসেছি প্রায়। আর এখানেই বুঝি কৌটিল্য পুনঃবিশ্লেষণের দাবি রাখে।

(০৪)
দর্শনের ক্ষেত্রে যেকোনো তত্ত্বের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে এর প্রয়োগযোগ্যতা ও জনমানুষের চিন্তাবিশ্বের ধারাবাহিক বিবর্তনকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা। এ নিরিখে প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ কেবল একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কাল্পনিক স্বরূপ অন্বেষণই ছিলো না, তারচে’ও বহু বহু গুণে বেশি ছিলো মানবজাতির চিন্তাজগতে যুক্তির শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দর্শনসূত্র খোঁজার এক যুগান্তকারী পদ্ধতির উদ্ভাবন। এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমী’র প্রাক্তন মহাপরিচালক মযহারুল ইসলামের বক্তব্যকে প্রতিধ্বনিত করে বলা যায়-

‘বলা হয়ে থাকে যে সমস্ত ইউরোপের আধুনিক দর্শন প্লেটোর ফুটনোট মাত্র। কথাটিতে হয়তো কিছু অতিরঞ্জন দোষ আছে; কিন্তু প্লেটোকে বাদ দিয়ে আধুনিক সভ্যতার মর্মার্থ, বিশেষভাবে ইউরোপীয় দার্শনিক চিন্তাধারাকে যথাযথভাবে অনুধাবন করা যায় না। প্লেটোর পটভূমিকাতেই পরবর্তী দর্শন ও দর্শনসংশ্লিষ্ট মানবজ্ঞান প্রসার লাভ করেছে। প্লেটোর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ রিপাবলিক।… প্লেটো তাঁর রিপাবলিকের এক জায়গায় মন্তব্য করেছেন, আদর্শ রাষ্ট্রে কবিদের স্থান হতে পারে না। কারণ, কবিরা কল্পনাবিলাসী। কিন্তু প্লেটোর নিজের লেখাও কাব্যধর্মী। কাব্যধর্মী বলেই তার আবেদন হৃদয় স্পর্শ করে। রিপাবলিক শুধু দার্শনিক জ্ঞানের বিচিত্র চর্চায় সমৃদ্ধ নয়- এর উপস্থাপনরীতি উৎকৃষ্ট সাহিত্যের সূর্যালোকে সঞ্জীবিত।
দর্শন ও সাহিত্য, উভয়দিক থেকেই প্লেটোর অবদান বিস্ময়কর এবং অবিনশ্বর। প্লেটো সর্বকালের এক মহান প্রতিভা।’

অন্যদিকে কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ একধরনের সাহিত্যগুণসম্পন্ন দর্শন হলেও তাকে মূলত সাধারণজনস্পর্শ-বিচ্ছিন্ন প্রাচীন ভারতীয় রাজন্যবর্গের ন্যায়ানুগ রাজ্যশাসনের নিমিত্তে লিপিবদ্ধ অসাধারণ নীতিশাস্ত্র বা গাইডলাইন বলা চলে। সভ্যতার অনিবার্য গতিময়তায় সেই প্রতাপ বিকিরণকারী রাজন্যপ্রথার গতি-সঙ্কোচনের ফলে এটিকে হয়তো একটি জনবিচ্ছিন্ন সম্ভ্রান্ত রাজ-দর্শন হিসেবেই ইতিহাসের টেরাকোটায় অতিমহার্ঘ উপকরণের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। এতে করে সমকালীন রাষ্ট্র ও কূটনীতি দর্শনে দক্ষ পরিকল্পনাবিদ কৌটিল্যের অসাধারণ পাণ্ডিত্য, মেধা, ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার স্বীকৃতি হয়তো এতটুকু ক্ষুণ্ন হয় নি বা হবে না, কিন্তু ইউরোপীয় চিন্তাদর্শনে নির্মিত আমাদের সর্বব্যাপী রাষ্ট্র-ভাবনা ও দর্শনে কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ যদি শেষপর্যন্ত ‘চানক্য-পণ্ডিতের কৌটিল্য-পুরাণ’ হিসেবেই এনটিক-মর্যাদায় স্থির হয়ে যায়, তাতেও বোধ করি আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।
তবুও কৌটিল্য এবং ‘অর্থশাস্ত্র‘ একান্ত আমাদেরই এক ঐতিহ্য-সম্পদ।

কৃতজ্ঞতা ও তথ্যঋণ-সূত্র:
১) প্লেটোর রিপাবলিক/ অনুবাদ: সৈয়দ মকসুদ আলী/ বাংলা একাডেমী, ঢাকা, নভেম্বর ১৯৭৩।
২) রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য (ramkrishnabh.blogspot)
তথ্য উৎস: রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কর্তৃক উল্লেখিত-
[Philosophy of Chanakya• Kautilya's Arthashastra (full 1915 Shamasastry text, divided into 15 books)• Kautilya: the Arthshastra - Chanakya's revered work• Philosophy and Biography]

লিখেছেনঃ রণদীপম বসু
Share:

একি অপরূপ মায়া তব

সবেমাত্র আধ্যাত্মজগতের সন্ধান পাওয়া একজন মানুষের প্রলাপঃ
হে মা,অপার করুনাময়ী মা, একি অপরূপ মায়া তব হে মা। তুমি নিজেই সব সৃষ্টি কর আবার নিজেই ধ্বংসও কর। তাহলে বানাও কেন? যদি বানালেই তবে ঘোচাও কেন? হরিণ বানালে কত সুন্দর। বাঘ কেন বানালে মা। যে সেই সুন্দরকে গ্রাস করে? দেবতা থাকলেই শুধু কি ক্ষতি ছিল অসুরের কিবা প্রয়োজন? আবার অসুরই যদি বানালে তখন তাদের হাত থেকে দেবতা ও মনুষ্যকুলকে রক্ষা করতে তুমিই আবার দায়িত্ব নাও। আহা, কি অপরুপ মায়া তব। মানুষগুলোর কাজ দেখেও যে আমি পাগল না হয়ে পারিনা। তোমার বানান নাকি সব থেকে বুদ্ধিমান প্রানী এই আমরা মানুষ। কিন্তু সামান্য এই বুদ্ধিটাও নেই যে আজ যা পাওয়ার জন্যে এত মারামারি করছি, এত খুনোখুনি রাহাজানি করছি তা পেয়েই বা কি লাভ হবে?

সেই তো চিতাতেই যেতে হবে। হ্যাঁগো মা, এই বুদ্ধিটুকু কেন হয়েনা গো মানুষের? বল যে সে সবথেকে বুদ্ধিমান? সকলে তো জানে যে এ বিশ্বের সবথেকে বড় ও চরম সত্য হল মৃত্যু। আর তার হাত থেকে কারোরই নিস্তার নেই। তবে কেন এত লোভ? এত হিংসা? যেখানে সকলে সকলের সাথে ভালোবেসে মিলেমিশে একসাথে যে কদিন এ পৃথিবীতে থাকার সুযোগ পাচ্ছে সেকদিন কাটাতে পারত তা নয়। কি করে বেরাচ্ছে দেখেছো একবার? কিছু মনে করনা মা, এই যদি বুদ্ধিমানের লক্ষন হয় তাহলে আমায় পরের জন্মে পাঁঠা কোরো। অন্তত জানব যে আমার এই বুদ্ধি নেই। তার ওপর আমি কারও ক্ষতিও করব না। চিরনিরামিশাষী হতে পারব পুরো জীবন কালে।

ছাই পাঁশ কেয়ে জীবন ও শরীরকে অপবিত্র করবনা। আর শেষে যদি তোমার কৃপা হয়, তোমার কাছেই সমর্পীত হওয়ার সুযোগটাও পেতে পারি। এইভাবে হিংসাপূর্ণ লোভি মানুষ হওয়ার চেয়ে তা ঢের ভালো। তুমি নিজেই হয়েতো আজ ভাবছ কি ভেবে মানুষ বানিয়েছিলে আর কি হল। এদের শিক্ষার অভাব দেখে যুগে যুগে নিজের অংশ, নিজের কৃপাধন্য পুত্রদেরও পাঠালে। কিছু মানুষ তাতে কিন্তু প্রকৃত মানুষও হল। কিন্তু বাকিরা? কজন এনাদের কথা মানে? মানা দুরের কথা কজন তাঁদের বলা নিতিকথা জানে? ভাবতে পার?যাদের তুমি বানালে, যাদের তুমি খাওয়ার জোটালে, নিশ্বাসের প্রয়োজনীয় বাতাস যোগালে, থাকার যায়গা দিলে, তারা আজ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত (?) হয়ে তোমাকেই মানেনা। হাহা। ভাবলেও পাগল হয়ে যাই। মনীষীগন সকলের ভালোর জন্যে, যাতে নিজের ভালো হয় এবং সমাজেরও কল্যান হয় তেমন কত পথই বাতলালেন। কিন্তু শুনল কজন?

তোমায় নিয়ে এখন ব্যাবসাও হচ্ছে। দেখতে পাওনাগো? তোমায় একবার চোখের দেখা দেখব বলে মন্দিরে ঢুকেছিলাম। কাছে পয়েসা ছিলোনা। মাগো, আমায় দেখতে দেওয়া হয়েনি। কারনটা জানলাম, কমকরে ৫০ টাকা না দিলে তোমায় নাকি দেখা যায় না। হাহা। আবার পাগল হয়েছি গো। মাগো, তুমি যে সর্বত্র তাই যারা জানেনা তারা তোমার মন্দিরের সেবক। আবার সর্বত্র থাকলেও তোমায় যে দেখা যায়না তাও এরা জানে না, আবার পরম ভক্তি থাকলে চর্মচক্ষু বিনাও যে তোমার দর্শন লাভ সম্ভব তাও জানে না গো।

এসব ভেবে রাগও হয়। আবার পরক্ষনেই কিন্তু নিজেকেই বোঝায়, এতে রাগের তো কারন নেই, কারন? এ সকলই যে তোমার মায়া মা। তাই তো বললাম, কি অপরূপ মায়া তব।
তবে আমার একটা আবদার আছে। আমাকে এই মায়ায় বেঁধোনা। আমার ভালো লাগেনা। আমি সত্যিকারের জ্ঞানী হতে চাই। মানুষ হয়ে জন্মেও কুকুরের মত আচরন করতে চাইনা। আমি চাই তোমার সবথেকে বড় সৃষ্টির মান রাখতে। যেমন রেখেছেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা, স্বামী বিবেকানন্দ। আমি অতি সামান্য, নির্বোধ। এনাদের মত হওয়াতো নিতান্ত কল্পনা মাত্র। আমায় শুধু এই মতি দাও যাতে এনাদের দেখানো পথে হাঁটতে পারি মা। তবেই যে তোমায় পেতে পারার সুযোগ পাব। আমি পাগলই হতে চাই। বাবার মত পাগল হলে মা যে তোমার চরন পাব। জয় মা। জয় মা। জয় মা।

লেখকঃ দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য
Share:

হিন্দু ধর্ম একটি নদীর মত যা এক বড় নদীর মত আপনধারায় প্রবাহমান - ড. এপিজে আবদুল কালাম।

২০১১ সালের ১ জুলাই। দিল্লীর স্বামীনারায়ণ অক্ষরধামে ‘Hinduism, An Introduction’ নামে বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবদুল কালাম।

Swaminarayan Aksharpith থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে হিন্দু ধর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ভাষণ দিতে গিয়ে ড. আবদুল কালাম বলেন, “ হিন্দু ধর্ম যথার্থ অর্থেই একটি স্বাভাবিক ধর্ম। এর সহনশীলতা এবং নৈতিকতার জন্য আজ এক সভ্য সমাজ হিন্দু ধর্ম গড়তে পেরেছে। বইটি যখন আমি পড়লাম তখন আমি দেখলাম হিন্দু ধর্ম একটি নদীর মত যা এক বড় নদীর মত আপনধারায় প্রবাহমান।”

উল্লেখ্য ড. আবদুল কালাম একজন নিরামিষভোজী তামিল এবং তিনি গীতাপাঠ করেন।
Share:

কেনিয়াতে ২৫ লক্ষ হিন্দু বাস করে

কেনিয়াতে ২৫ লক্ষ হিন্দু বাস করে।কেনিয়াতে হিন্দু সম্প্রদায় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। নাইরোবিতেই রয়েছে ৬ টি স্বমিনারায়ন মন্দির, ৫ টি শিব মন্দির, ২ টি রাম মন্দির, ২ টি মাতা আম্বা/ দুর্গা মন্দির, ১ টি গায়াত্রি মন্দির, ৩ টি সনাতন ধর্ম মন্দির, ১ টি কার্তিক মন্দির, ১ টি হরে কৃষ্ণ মন্দির এবং আরও কিছু মন্দির। 
Share:

এক রহস্যময় দরজা, পাহারায় নাগরাজ

এক রহস্যময় দরজা। পাহারা দিচ্ছে দুই নাগ। তাঁদের মূর্তি খোদাই করা আছে দরজার গায়ে। পিছনে গোপন প্রকোষ্ঠে রাখা আছে অতুল ঐশ্বর্য।
যুগ যুগ ধরে এই রহস্যময়তার সাক্ষী পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে। কেরালার তিরুবনন্তপুরমে এই তীর্থস্থান ৫০০০ হাজার বছরের প্রাচীন। কলিযুগ শুরুর দিনে নাকি তৈরির কাজ আরম্ভ হয়েছিল।
তারপর বিভিন্ন সময়ে সংস্কার সাধন করেছেন নানা শাসক। সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলেন ষোড়শ শতকের চের বংশীয় রাজারা। এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাধক কুলশেখর আলওয়ার। বর্তমানে ত্রাভাঙ্কোরের রাজবংশই এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। রাজাদের উপাধি হল ‘পদ্মনাভদাস‘। অর্থাৎ বিষ্ণুর সেবক।
বিষ্ণুর ১০৮ টি দিব্য দেশমের মধ্যে অন্যতম এই মন্দির। ভগবান বিষ্ণু এখানে অনন্তশয়ানে। নাগরাজ অনন্তর উপরে তিনি যোগনিদ্রায় নিদ্রিত। শ্রী বিষ্ণুর নাভিমূল থেকে উদ্ভূত পদ্ম। তাই তিনি পদ্মনাভন। তাঁর ডান হাত শায়িত শিবলিঙ্গের উপরে। বিষ্ণুর পাশে আছেন দুই দেবী‚ শ্রীদেবী ও ভূদেবী।  
হিন্দু ধর্মের মানুষই প্রবেশ করতে পারেন। অনুসরণ করতে হয় কড়া পোশাকবিধি। বৈদিক ও দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্যে নির্মিত এই মন্দির নাকি অতুল ঐশ্বর্যের ভাণ্ডার। তার সামান্যই সামনে এসেছে। গুপ্তধন হয়ে রক্ষিত আছে অকল্পনীয় রাজঐশ্বর্য। বিশ্বের মধ্যে ধনীতম মন্দির এটি।
মন্দিরে আছে মোট ছটি গুপ্ত প্রকোষ্ঠ। ধনরত্নে পরিপূর্ণ। কথিত‚ চের রাজারা অভাবনীয় সম্পত্তি মন্দিরে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
ছটি প্রকোষ্ঠের মধ্যে পাঁচটি খোলা হয়েছে। একটি বাদে। রহস্যময় দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠ। দেবমূর্তির সবথেকে কাছে আছে সেটি। এবং টেম্পল ট্রেজারির মালিকানাও নেই ওর উপরে।
কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট সাত সদস্যের কমিটি তৈরি করে। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সামনে সেই কমিটি উদ্যোগ নেয় প্রকোষ্ঠ খোলার। উন্মুক্ত করা হয় পাঁচটি প্রকোষ্ঠ। কিন্তু বহু চেষ্টাতেও খোলা যায়নি দ্বিতীয়টি।
কিন্তু বাকি পাঁচটিতে কী ছিল ?
ছিল রাশি রাশি হিরের গয়না‚ সোনা-রুপোর বাসন‚ সোনার অস্ত্র‚ সোনার মূর্তি‚ ৫০০ কেজি ওজনের হিরের নেকলেস‚ নানা দেশের অগণিত স্বর্ণমুদ্রা‚ ৯ ফিট লম্বা ২.৫ কেজি ওজনের সোনার হার‚ সোনার দণ্ড‚ সোনার রশি‚ সেইসঙ্গে ফেলে ছড়িয়ে রাখা চুনী পান্নার মতো অমূল্য রত্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন‚ সুন্দর করে রাখা নয়। যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু বাক্সে‚ কিছু মাটির বাসনে‚ কিছু তামার পাত্রে…উপচে পড়ছে গুপ্তধনের ভাণ্ডার। স্বর্ণমুদ্রার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির আমলের ৭ কেজি মুদ্রা‚ নেপোলিয়নের সমসাময়িক ১৮ টি মুদ্রা।  
পাঁচটি প্রকোষ্ঠে শুধু সোনাই পাওয়া গেছে ১ লাখ কোটি টাকার। প্রচলিত বিশ্বাস‚ না খুলতে পারা দ্বিতীয় ঘরে আছে এর থেকেও বেশি ঐশ্বর্য। বহু প্রয়াসেও খোলেনি সেই দরজা। সেরা কর্মকারও ব্যর্থ হয়েছে মরচে ধরা প্রচীন তালা খুলতে।  
প্রাচীন জনশ্রুতি হল‚ কোনও প্রযুক্তি এই দরজা খুলবে না। একমাত্র প্রকৃত জ্ঞানী সাধু বা তান্ত্রিকই দ্বারোদ্ঘাটন করতে পারবেন। নাগবন্ধনম মন্ত্র এবং গরুড় মন্ত্র দ্বারা। কারণ স্বয়ং অনন্তনাগ পাহারা দিচ্ছেন এই প্রকোষ্ঠ। প্রক্রিয়ায় কোনওরকম বিচ্যুতি হলে নাকি অশুভ প্রভাব অনিবার্য।
যদিও প্রাক্তন Comptroller and Auditor General বা CAG বিনোদ রাই এই রহস্য মানতে নারাজ। তাঁর দাবি‚ ১৯৯০ থেকে অন্তত সাত বার এই প্রকোষ্ঠ খোলা হয়েছে। কিন্তু ভিতরে কী রাখা আছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
এটা মানতে বাধা নেই‚ ভারতে যদি কোথাও এল ডোরাডো থাকে তা নিঃসন্দেহে কেরলের পদ্মনাভস্বামী মন্দির।  
- ইন্টারনেট
Share:

১৩ মার্চ ২০১৭

এই হিন্দুদেবীর মাহাত্ম্য এতোই শক্তিশালী! মুসলিমরাও পুজো করেন

সারা বিশ্বে এমন দেবী মাহাত্ম্য আর দ্বিতীয় খুঁজে পাওয়া ‌যায় না। ‌যেখানে হিন্দুরাতো বটেই ভক্তিভরে পুজো করছেন মুসলিমরাও। না বলপ্রয়োগ করে অন্য ধর্মের মানুষদের পুজো করতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন গল্প নয়। দেবী খাঁটি প্রচীন ভারতীয় হলেও, অধুনা কট্টর ইসলামধর্মী একটি দেশেই সগৌরবে পূজিতা হন তিনি। তাঁকে রক্ষা করার জন্য হিন্দু বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে না। বরং সর্বজাতির তিনি রক্ষা করে চলেছেন তিনি নিজ হাতে। তাঁর শরণাপন্ন হলে জীবনবোধটাই বদলে ‌যায়। কোনও অনিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ভারতে এমন বহু জায়গা রয়েছে ‌যেখানে দেব দেবীর মাহাত্ম্য বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। তার মধ্যে বেশ কিছু জায়গা দুর্গম হলেও জনপদ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের তরফে সাজানো হয়েছে, ‌যাতে বেশি করে প‌র্যটকেরা আসেন। কিন্তু হিঙ্গোল মাতার মন্দির তার থেকে অনেকটাই আলাদা। আলাদা ঐশ্ব‌র্যে বা বৈভবে নয়। তিনি স্বয়ং এবং তাঁর মহিমায়।
পাকিস্তান, বালুচিস্তান। আপামর বাঙালি মরুতীর্থ হিংলাজ ছবিটি দেখেননি, এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ‌যাবে না। কিন্তু এই হিঙ্গোলমাতা বা হিংলাজ মাতা সম্পর্কে কে কতটা জানেন?
করাচি থেকে প্রায় ৩২৮ কিলোমিটার পথ। মাকরান উপকূল রাজপথ ধরে গেলে ঘণ্টা চারেকের রাস্তা। রাস্তা ভালো হলেও, দুর্গম, চারপাশে শুধু শুকনো পাহাড় আর পাহাড়। জনশূন্য পথ। দিনের বেলাতেও গা ছমছমে ব্যপার থাকবেই।

একবার ভেবে দেখুন। একটা সময় এই পথটাই অতিক্রম করতে হত পায়ে হেঁটে।বালিয়াড়ি, মরুভূমি পথ। বেশ কয়েকটা দিন ‌যেত পুণ্যর্থীদের ‌যেতে। বহু মানুষ রাস্তাতেই মারা পড়তেন এ ছাড়া দস্যুদের হানাতো ছিলই। রাস্তার মধ্যে কেউ মারা গেলে তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করা ‌যেত না। প্রিয়জনকে ছেড়ে ‌যেতে হত ধু ধু মরুপ্রান্তরেই।
বর্তমানে সেই কষ্ট আর নেই, তবু চলার পথে অনুভব করা ‌যায় কতটা কঠিন এ পথ। ভারতের ইতিহাস বলছে, নানা সময়ে বহু প্রচীন মন্দির নষ্ট হয়েছে মোগল, আফগানদের হাতে। কিন্তু এক এবং অদ্বিতীয় হিংলাজ মাতার মন্দিরকে স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও হয়নি।
পুরাণ বলছে, এই মরুক্ষেত্রে সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র পড়েছিল। তাই একান্ন পীঠের মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠ বলে ধরা হয়। সতীর ‌যত পীঠ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম পথ এটাই। এবং মানা হয় সেই কারণেই এখানকার পবিত্রতা এখনও অক্ষুণ্ণ।
এখানে দেবীর কোনও প্রথাগত মূর্তি নেই। পাহাড়ের গুহার মধ্যে অধিষ্ঠান করছেন দেবী। এই দেবীকে নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তী রয়েছে। বলা হয় সর্বমনস্কামনাপূর্ণকারী দেবী। অর্থাৎ এই দেবীর কাছে ‌যা চাওয়া হয় তাই মেলে।
এখানে একটা কথা বলা ভালো, সতীর পীট নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক রয়েছে। কারণ ‌যত প্রাচীন সাহিত্য ঘাঁটা হয় তত দেবীর পীঠের সংখ্যা কমতে থাকে। কুলার্নভ তন্ত্রে সতীর ১৮টি পীঠের উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে হিংলাজ মাতা তৃতীয় স্থানে। আবার কুব্জিকা তন্ত্রে ৪২টি পীঠের কথা রয়েছে, ‌যেখানে হিংলাজ মাতা পঞ্চম স্থানে। তন্ত্রচূড়ামণিতে ৪৩টি পীঠের নাম আছে, পরে অবশ্য মোট ৫১টি পীঠের সং‌যোজন হয়।
হিংলাজ মাতা এখানে আরও বেশ কিছু নামে পরিচিত, ‌যেমন কোট্টারি, কোট্টাভি, কোট্টারিশা, ভৈরবী, ভীমলোচনা। এই দেবীকে নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তি রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ তাৎপ‌র্যপূর্ণ ব্রহ্মক্ষত্রিয়ের কাহিনী। একবার পরশুরাম ক্ষত্রিয় নিধনে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। সেই সময় তিনি একবার আসেন এই মরুতে, তখন স্থানীয় ক্ষত্রিয়রা এই দেবীর শরণাপন্ন হন। দেবীই তখন ক্ষত্রিয়দের ব্রাহ্মণ রূপ দান করে পরশুরামের হাত থেকে বাঁচান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন জয়সেনা। ‌যিনি সিন্ধ প্রদেশের রাজত্ব করেন। কথিত আছে ক্ষত্রিয়দের শুধু বাঁচানোই নয়, পরশুরামকে এই হত্যালীলা থেকে অস্ত্র ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন স্বয়ং হিংলাজ মাতা। পরশুরামকে বলেছিলেন, প্রত্যেক মানব ব্রহ্মার সন্তান। আর ব্রহ্মত্ব আসে সুকর্মের মধ্যে দিয়ে। জাতি দাঙ্গায় ব্রহ্মত্ব প্রমাণ হয় না। পরশুরাম বুঝেছিলেন তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান তাই তিনি ক্ষত্রিয় নিধনে নেমে আদপে ব্রহ্মহত্যাই করছেন। অগত্যা ক্ষত্রিয়হত্যা থেকে সরে আসেন তিনি।
সিন্ধ প্রদেশের প্রত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে দেবীর বাস, অথচ তাৎপ‌র্যপূর্ণ ভাবে দেখা ‌যায় এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ, পুজাচারে মুসলিমদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। পাকিস্তানের মুসলিমরা এই দেবীকে বড়ি নানি বলে সম্বোধন করে। আর এই গুহা মন্দিরকে নানি কি হজ বলেন।
মন্দিরের কাছে আছে একটি কুণ্ড। এটিও বেশ রহস্যময়। কুণ্ডের মধ্যে অবিরাম কাদা মাটি ফুটতে থাকে। কিংবদন্তি রয়েছে, এই ফুটন্ত কুণ্ডের কাছে এসে অন্তর থেকে নিজের জ্ঞানত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করলে পাপ স্খলন হয়। বৈজ্ঞানিকদের অবশ্য ‌যুক্তি, ওই কুণ্ডের তলা থেকে কিছু রাসায়নিক গ্যাস নির্গত হয় বলেই এমন চিত্র ধরা পড়ে। স্থানীয়দের অবশ্য প্রশ্ন, এই কুণ্ড ছাড়া আশে পাশের কয়েকশো কিলোমিটার ব্যসে কেন এমন কুণ্ড দ্বিতীয় দেখা ‌যায় না? মন্দিরের কাছেই কেন? আর এই কুণ্ডের মহিমা সেতো ‌যুক্তি দিয়ে বিচার করা ‌যায় না। কিছু শিক্ষা লাভ করা ‌যায় অনুভূতি দিয়ে।
অনেকে বলেন, দেব দেবীতো সর্বত্র বিরাজ করছে, তাহলে এতো কষ্ট করে এতো দুর্গম পথ পেরিয়ে দেবীর দর্শন করতে ‌যাওয়া কেন? উত্তর একটাই, এই ‌যাত্রা জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। তুমি কি জীবনের কষ্টকর, দুর্গম পথকে অতিক্রম করতে চাও? তুমি কি সত্যি সত্যি মানব কল্যাণ পছন্দ করো? তুমি কি সত্যি সত্যি সত্যকে উপলব্ধী করতে চাও মানবজাতির স্বার্থে? তাহলে তোমাকে কষ্ট করতে হবে। সুখ স্বচ্ছন্দ্য তোমার অধিকার, কিন্তু অন্যকে কষ্ট দিয়ে নয়। হত্যা করে নয়। হ্যাঁ বধ করতে হয়েছে প্রয়োজন হলে, তবে সেটা নিজের অন্তরে থাকা অসুর এবং রাক্ষসদের। কারণ কারও ছত্রছায়ায় থেকে ‌যেমন জীবনের মূল্য বোঝা সম্ভব নয়। তেমন জীবনের ‌যাত্রাটাও অনুভব করা সম্ভব নয়। তথাকথিক ধর্ম, জাতির ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন একাংশ মানুষ, তাই তারাও ভিন জাতির হয়েও উপাসনা করেন বড়ি নানির।
কী অবিশ্বাস্য লাগছে? বিশ্বাস করুন, এটাই সত্যি।

Collected from: http://travelweekbazar.com/hindu-muslim-pilgrim-784759/

Share:

শ্রীকৃষ্ণের প্রচীন নগরীর হদিশ মিলল জলের তলায়! স্বীকৃতি পুরাতত্ত্ব বিভাগের

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বাসুদেবের অস্তিত্বের কথা বিশ্বাস করেন না? কিন্তু এবার থেকে বিশ্বাস করতে হবে। শুধু তাই নয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসটাও নতুন করে লেখার হয়তো সময় এসেছে। পুরাণকে কল্পলোকের গল্পকথা ‌যাঁরা মানেন আসলে ‌যে তা ইতিহাসেরই প্রতিচ্ছবি এ কথা বলাই ‌যায়। অনেকে ধন্ধে রয়েছেন জলের তলায় থাকা প্রাচীন দ্বরকা নগরী কি আসলে বিষ্ণুলোক?
বহু গবেষক মনে করেন, ভারতের অন্যতম মহাকাব্য মহাভারত সত্যি ঘটনা, তার চরিত্র, কাহিনি বিন্যাস রাজনীতি আসলে সমাজ থেকেই নেওয়া, ‌তার জন্যই এই মহাকাব্য অনেকটাই সমকালীন হয়ে রয়েছে সহস্রাব্দ ধরে।
মহাভারত বা পুরাণের সূত্র মতে, পাণ্ডবদের হস্তিনাপুর জয়ের পর, শ্রীকৃষ্ণ বাসুদেব মথুরার পরিবর্তে দ্বারকা শহরে থাকতে শুরু করেন। ‌যা অধুনা গুজরাটে অবস্থিত। কিন্তু এই দ্বারকা নগরী আসলে প্রাচীন দ্বারকা নয়। এটা একটা ক্ষুদ্র অংশ বিশেষ। শ্রীকৃষ্ণের নগরী দ্বারকা বর্তমানে রয়েছে জলের তলায়। আর তার হদিশ মিলেছে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের কাছে। গুজরাটের আরব সাগরের পশ্চিমে লম্বায় ১৫ কিলোমিটার এবং চওড়ায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে ছিল প্রাচীন দ্বারকা নগরীর অস্তিত্ব। ‌যার ঐতিহাসিক প্রমাণ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে হালে।




প্রচীন নগরীর ‌পুরো কাঠামো ইমারৎ, অট্টালিকার স্তম্ভ, গ‌ৃহস্থের ব্যবহা‌র্য যে সমস্ত জিনিস জলের তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার C14 কার্বন ডেটিং প্র‌যুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই সমস্ত জিনিসই প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার বছরের পুরনো। অর্থাৎ এতদিন সাড়ে চার হাজার বছরের সিন্ধু সভ্যতাকে ধরে ইতিহাস তার পথ চলা শুরু করেছিল। কিন্তু এই নয়া তথ্য সেই ইতিহাসকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। মহাভারতকে ‌যদি ২৫০০ বছর আগেকার ঘটনা ধরা হয়, তার মানে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী তার থেকেও কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন।
কী ভাবে মিলল এই নগরীর খোঁজ? ভারতের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ওসেন টেকনোলজি সমুদ্র দূষণ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। অত্যাধুনিক স্ক্যানার ‌যন্ত্র সোনার, ‌যা জলের তলায় বহু নীচ প‌র্যন্ত শব্দ তরঙ্গের বিম পাঠাতে পারে। সেই ‌যন্ত্র মারফৎ জানতে পারে, জলের প্রায় ১২০ ফুট নীচে একটি প্রকাণ্ড জ্যামিতিক কাঠামো রয়েছে। তারই খোঁজ চালাতে গিয়ে গবেষকদের চোখ কপালে ওঠে। উঠে আসে বিশাল এক প্রচীন নগরীর তথ্য। সময়কাল পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু জিনিস, ‌যার থেকে ‌জানা ‌যায়, এই কাঠামো তৈরি হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার বছরেরও আগে।আন্তর্জাতিক ইতিহাস গবেষকদের দাবি, মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে পুরনো ব‌ৃহৎ নগর বলে বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। কিন্তু এই আবিষ্কার বিশ্ব ইতিহাসের পাতাকেই ঘেঁটে দিয়েছে। নতুন করে ইতিহাস লেখার প্রয়োজন রয়েছে।
ঐতিহাসিকদের মত, সময়ের সঙ্গে প্রকৃতি তার রূপ পরিবর্তন করেছে। ঠিক ‌যে ভাবে টেথিস সাগর সরে গিয়ে হিমালয়ের জন্ম নিয়েছে, ঠিক তেমনই আরব সাগর স্থান পরিবর্তন করায় একটা ব‌ৃহৎ প্রাচীন নগরী জলের তলায় চলে গিয়েছে। ‌যা বহু বছর ধরে মানুষের কাছে অধরা ছিল। তবে এখন ‌যা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার উপর ভর করে আরও গবেষণা চালাতে হবে। ‌যে ইতিহাস মিলেছে তাকেই মাইল ফলক ধরে চললে ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখানে একটা কথা উল্লেখ্য, একাংশ পৌরাণিক গবেষকদের মত, পুরাণে বলছে, ক্ষীরপাই সমুদ্রের গর্ভে শেষনাগের উপর অনাদি অনন্তকাল ধরে অধিষ্ঠান করছেন ভগবান শ্রীবিষ্ণু সঙ্গে নারায়ণী। তাহলে কি এই আরবসাগরই পুরাণের ক্ষীরপাই? ‌যেখানে সলিল সমাধিতে রয়েছে বিষ্ণুর অন্যতম অবতার শ্রীকৃষ্ণের প্রাচীন বাসভূমি। তাহলে কি এই প্রাচীন দ্বারকা নগরী আসলে বিষ্ণুলোক? মানুন বা মানুন পুরাণ শুধু কল্পনার গল্প বলে না, হয়তো তার রহস্য উন্মোচন হয়, বহু বছর বাদে। ঈশ্বর ‌যে আছেন তার প্রমাণ দেন প্রকৃতিক গর্ভে লুকিয়ে থাকা অস্তিত্বে। তাইতো কখনও কখনও বিজ্ঞানও নিজের কাছে হেরে ‌যায়। আজ বিজ্ঞানের কাছে ‌যা সত্যি আগামিকাল তা মিথ্যে হয়ে দাঁড়ায়।

Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।