২৫ অক্টোবর ২০১৮

তারাপীঠের সাথে জড়িয়ে আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা বাবার নাম

তারাপীঠের সাথে জড়িয়ে আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা বাবার নাম। তিঁনি তারা মায়ের আদুরে ছেলে। আবার তারাপীঠ ভৈরব তিঁনি। তিঁনি মহাসাধক শ্রীবামাক্ষ্যাপা বাবা। ওঁনার আবির্ভাব হয়েছিলো তারাপীঠের কাছেই আটলা গ্রামে এক দরিদ্র ন্যায়নিষ্ঠ মাতৃভক্তব্রাহ্মণ পরিবারে। যৌবনে তিঁনি সন্ন্যাস নেন। তেঁনার দুজন গুরুদেবের নাম পাওয়া যায়- সাধক মোক্ষদানন্দ ও বজ্রবাসী কৈলাসপতি। ক্ষ্যাপাবাবা নিত্য মা তারার দর্শন লাভ পেতেন। কখনো শ্মশানে, কখনো বা আশ্চর্যকুণ্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলে ডুবে কখনো মন্দিরে মা তারার মন্দিরে বিগ্রহে। মায়ের সাথে কথা বলতেন। কখনো মায়ের কাছে কাকুতি মিনতি কখনো আবার মায়ের ওপর রাগ। মাঝে মাঝে মা তারাও তাঁর ক্ষ্যাপা সন্তানকে শাসনও করতেন। একদিনের কথা , ক্ষ্যাপাবাবা কোনো কারণে অতিষ্ঠ হয়ে মা তারাকে সমানে গালি দিচ্ছেন। হঠাত সকলে দেখলো সশব্দে এক চড় কষানোর শব্দ- দেখলেন বাবার শরীরে স্পষ্ট আঙ্গুলের ছাপ- অদৃশ্য কেও যেনো ক্ষ্যাপাবাবাকে শাসন করেছে। ভক্তেরা দেখে অবাক। আবার ক্ষ্যাপাবাবা অভুক্ত থাকলে মা তারাও অভুক্ত থেকেছেন। একবার খ্যাপাবাবাকে মন্দিরের পাণ্ডারা পূজার পূর্বেই ভোগ খাওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রহার করে। তারপর তিন রাত ক্ষ্যাপাবাবা মুখে অন্ন তোলেন নি। মা তারাও অভুক্ত থেকে নাটোরের রানীকে স্বপ্ন দিলেন। নাটোরের রানী এসে মা তারার ভোগের পূর্বে ক্ষ্যাপাবাবার ভোগের বিধান দিলেন। আজোও সেই নিয়ম পালিত হয় ।


যাঁরা ঈশ্বর দর্শন পেয়েছেন- তাঁদের অবস্থা হয় বালকের মত, পিশাচের মত বা উন্মাদের মতো। ক্ষ্যাপাবাবার মধ্যে এই তিন লক্ষণই প্রকাশিত হয়েছিল। কখনো বালকবত মা তারার কাছে এসে আবদার বায়না, কখনো উন্মাদের মত শ্মশানে বিচরণ অট্টহাস্য, কখনো ক্রোধে এমন ‘জয় তারা’ রব তুলতেন যে গোটা শ্মশানভূমি কেঁপে উঠতো। সেই সময় ভক্তেরাও বাবার সেই রুদ্র রূপে কম্পিত হতেন। বাবার কৃপা পেয়ে বহু মুমূর্ষু রোগী একেবারে সুস্থ হয়েছেন। এমনকি মৃত ব্যক্তিও পুনর্জীবিত হয়েছেন। বাবা কাওকে তাবিজ কবজ জলপোড়া তেলপোড়া দিতেন না। রেগে কাওকে পদাঘাত বা কাওকে থুথু ছিটিয়ে দিতেই সেই রোগী একেবারে যমের দুয়ার থেকে ফিরে আসতো। বিরক্ত হয়ে কাওকে মায়ের প্রসাদী ফুল বা শ্মশানের মাটি তুলে দিতেন, তাতেই সমস্যা মিটে যেতো। এমনই ছিল বামদেবের লীলা।

বামদেবের আর একটি লীলা বড় অদ্ভুত। একবার তিঁনি মায়ের শিলামূর্তিতেই মূত্র ত্যাগ করে দিয়েছিলেন। সকলে বাবাকে বকাঝকা করলে বাবা বলেন- “শালা আমি আমার মায়ের কোলে হাগবো মুতবো- তাতে তোদের কি?” একবার কোনো কারণে ক্ষ্যাপাবাবা খুবুই অভিমান করেছিলেন মায়ের উপরে । প্রতিজ্ঞা করলেন মায়ের মন্দিরে বজ্রপাত ঘটাবেন। সেদিন নিশি রাত্রে সত্যই মায়ের মন্দিরে বাজ পড়ে মন্দিরের চূড়ার অংশ ভেঙ্গে পড়েছিলো। তারাপীঠ মা তারার মন্দির । তন্ত্র সাধনার স্থান। এই স্থানে যেনো আকাশে বাতাসে মিশে আছে ক্ষ্যাপাবাবার লীলার কথা। জয় বাম। জয় মা তারা।
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।