• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

০৮ মে ২০১৭

দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য

Image may contain: 1 person

ভগবানের সাকার স্বরূপের উপাসনা করা সর্বোত্তম বা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু সাকার স্বরূপের যারা উপাসনা করেন তাদের মধ্যে ভগবান সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বিভ্রান্তি-
সাধারণত হিন্দু সমাজে কিছু মানুষ দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য জানে না। ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ, শিব, দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবতাদের সঙ্গে বিষ্ণু, নারায়ণ, রাম, নৃ্সিংহ, বামন প্রভৃতি ভগবানের সম পর্যায়ভুক্ত বলে মনে করে থাকেন। এটি আমাদের জানা উচিত যে ভগবান ও দেবতাদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। যেমন- দেবতারা হচ্ছেন ভগবানের দ্বারা নিযুক্ত এ জড়জগতের বিভিন্ন কার্য সম্পাদনের নিয়ন্ত্রণ কর্তা। যে ভাবে অগ্নি দেবতা অগ্নি নিয়ন্ত্রণ করেন; বরুণদেব জলের নিয়ন্ত্রণ করেন; বায়ু দেবতা বায়ু নিয়ন্ত্রণ করেন ইত্যাদি। শাস্ত্র অনুসারে দেবতারা জীবতত্ত্ব। যে কোন জীব ভগবান থেকে বিশেষ শক্তি প্রাপ্ত হয়ে দেবতাদের আসন গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ভগবান জীবতত্ত্ব নন, তিনি হচ্ছেন বিষ্ণু তত্ত্ব। দেবতাদের আধিপত্য এই জড়জগতে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভগবানের আধিপত্য বা ঐশ্বরত্বের প্রভাব জড় ও চিন্ময় জগত সর্বত্র ব্যাপ্ত। দেবতারা মানুষকে একমাত্র ভৌতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করতে পারেন, কিন্তু মুক্তি দিতে পারেন না। ভগবান জীবকে মুক্তি প্রদান করতে পারেন। দেবতারা মায়াধীন, কিন্তু ভগবান হচ্ছেন মায়াধীশ। সৃষ্টি ও প্রলয়কালে দেবতাদেরও প্রভাবিত হতে হয়, কিন্তু ভগবান নিত্য বর্তমান এবং তার ধামও নিত্য বর্তমান। এইভাবে ইন্দ্রলোক, চন্দ্রলোক প্রলয়ের সময়ে সব ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। কিন্তু ভগবানের ধাম- বৈকুণ্ঠ, অযোধ্যা, গোলক বৃন্দাবন ইত্যাদি ধ্বংস প্রাপ্ত হবে না। ইন্দ্র, চন্দ্র প্রভৃতি দেবতাগণ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, রাম, নারায়ণ প্রভৃতি গুণাতীত। তাদের কার্যকলাপ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। সাধারণ মানুষ এই সমস্ত পার্থক্য বুঝতে পারে না। দেবতা ও ভগবানকে এক বা সমপর্যায় বলে মনে করে থাকে। এটি অবশ্য জেনে রাখা উচিত আমাদের বৈদিক সাহিত্যে তেত্রিশ কোটি দেবতাদের বর্ণনা করা হয়েছে। শাস্ত্রানুসারে যারা বিভিন্ন জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিভিন্ন ফল অতি সত্ত্বর লাভ করতে চান, তারা ভিন্ন ভিন্ন দেবতাদের উপাসনা করতে পারেন। কিন্তু সেটি বুদ্ধিমান মানুষের কাজ নয়, কেননা জাগতিক ফল অনিত্য। যারা বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা ভগবানের শরণাগত হন। এভাবে সমস্ত দেবতাদেরকে ভগবান বলে উপাসনা করা ঠিক নয়। তার সঙ্গে সঙ্গে এটুকুও জানতে হবে যে দেবতাদের ভগবানের সমান না হলেও তাঁরা ভগবানের অতি নিজজন, তাঁরা পূজ্য, তাই দেবতাদের শ্রদ্ধা করা মানুষের কর্তব্য। দেবতাদের পূজা করা যেতে পারে, শ্রদ্ধা করা যেতে পারে, কিন্তু ভগবানকে ভক্তি করতে হয়। এভাবে মানুষের ভগবান ও দেবতাদের মধ্যে পার্থক্য জেনে শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে ভগবানের ভক্ত হওয়া কর্তব্য। তা না হলে দুর্লভ মনুষ্য জীবনের আসল লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে না। ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা হয়েছে-
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি মদ্যাজিনোহপি মাম্।।
(ভঃগী ৯/২৫)
দেবতাদের উপাসনা করলে দেবলোক যাবে, পিতৃপুরুষদের উপাসনা করলে পিতৃলোক যাবে, ভূত-প্রেতের পূজা করলে ভূতলোক যাবে। কৃষ্ণের উপাসনা করলে কৃষ্ণের ধামে যাবে। দেবতাদের পূজা করে দেবলোক যাবে এবং কৃষ্ণের পূজা করে কৃষ্ণ লোক যাবে- এটার মধ্যে পার্থক্য হল- দেবলোক যাওয়ার পর পুণ্য শেষ বা ক্ষয় হলে আবার মর্ত্যলোকে ফিরে আসতে হবে। ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-“আব্রহ্মভূবনাল্লোকাঃপুনরাবর্তিনোহর্জুন” কিন্তু ভগবদ্ধামে গিয়ে ভগবানকে প্রাপ্ত হলে আর এ জড়জগতে ফিরে আসতে হবে না। “ মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”।“যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম”। এভাবে দেখানো হয়েছে জীবনের আবর্ত থেকে অর্থাৎ বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
গ্রন্থ; ভগবান কে?
শ্রীমদ্ ভক্তিপুরুষোত্তম স্বামী
প্রাপ্তিস্থান: নিকটস্থ ইসকন মন্দির


Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

পাপমোচনী একাদশী মাহাত্ম্য

Image may contain: 2 people, people standing
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে জনার্দন! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমাকে বলুন।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। এই একাদশী সকল পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথি ‘পাপমোচনী’ নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিচিত্র উপাখ্যানটি আপনার কাছে বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন।
প্রাচীনকালে অতি মনোরম ‘চৈত্ররথ’ পুষ্প উদ্যানে মুনিগণ বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন। একসময় মেধাবী নামে এক ঋষিকুমার সেখানে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অপ্সরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইল দূরে অবস্থান করতে লাগল। বীণা বাজিয়ে মধুর স্বরে সে গান করত। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে। এদিকে ঋষি মেধাবীও অপ্সরার অনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তখন সেই অপ্সরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত কর। ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে বিস্মৃত হন। এইভাবে অপ্সরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হল।
মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অপ্সরা দেবলোকে ফিরে যেতে মনস্থ করল। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবী মুনিকে বলতে লাগল- হে প্রভু, এখন আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছ, প্রাত:কাল পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। মুনির কথা শুনে অভিশাপের ভয়ে সেই অপ্সরা আরও কয়েক বছর তার সাথে বাস করল। এইভাবে বহুবছর (৫৫ বছর ৯ মাস ৭ দিন) অতিবাহিত হল। দীর্ঘকাল অপ্সরার সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল। মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজস্থানে গমনের প্রার্থনা জানালে মুনি বললেন- এখন প্রাত:কাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।
মুনির কথা শুনে ঈষৎ হেসে মঞ্জুঘোষা তাকে বলল- হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার যে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করে দেখুন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
মুনি তখন মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন- রে পাপীষ্ঠে, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারীনি, তোমাকে ধিক্। তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর শাপে অপ্সরার শরীর বিরূপ প্রাপ্ত হল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করল।
মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে পিতা! এক অপ্সরার সঙ্গদোষে আমি মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তা কৃপা করে আমায় বলুন।
উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন- চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে। পিতার উপদেশ শুনে মেধাবী সেই ব্রত ভক্তিভরে পালন করল। তার সমস্ত পাপ দূর হল। পুনরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের ফলে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করল।
হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।


Courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

প্রকৃত প্রায়শচিত্তের জন্য দরকার প্রকৃত জ্ঞান

Image may contain: 1 personপ্রকৃত জ্ঞান অর্জনের কিছু পন্থা আছে।
কেউ যখন বিশুদ্ধ উপায় অবলম্বন করে তখন তাঁর কোন রোগ হয় না এবং সে কখনও অসুস্থ হয় না।
একজন মানুষের অন্তর্নিহিত জ্ঞান বিকশিত করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাঁকে বলা হয়
তপস্যা।
একজন মানুষ তপশ্চর্যা অথবা কৌমার্য ( ব্রহ্মচারী) অবলম্বনের মাধ্যমে, যোগাসন অবলম্বনের মাধ্যমে, ইন্দ্রিয়কে দমন করার মাধ্যমে, নিজের ধনদৌলত দান করার মাধ্যমে, সত্যবাদী থাকার মাধ্যমে, পরিস্কার-পরিছন্ন থাকার মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে পারে।
কিন্তু কেউ যদি যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণভাবনামৃত অর্জন করতে চায় তাহলে তাঁর এই সব যোগাভ্যাস না করা সত্ত্বেও সে কৃষ্ণচেতনা অর্জন করতে পারবে।
কিন্তু যথার্থ গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করতে গেলে কতগুলো নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে, যেমন- অবৈধ যৌনাচার, মাংস ভক্ষণ, জুয়া খেলা, নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা এবং যথার্থ বা প্রকৃত গুরুর অধীনে কৃষ্ণ চেতনা অর্জন করা।
এই সহজ পন্থাটি শ্রীরূপ গোস্বামী কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছে।
আমাদের সকলের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, আমরা যখনই সুযোগ পাই তখনই কথা বলতে চাই।
কিন্তু বেশির ভাগ সময় আমরা কৃষ্ণ সম্পর্কিত কথা না বলে যতসব আজগুবি বিষয় নিয়ে কথা বলি।
এটাকে ব্যাঙের ডাকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
ব্যাঙ সব সময় কর্কশ স্বরে ডাকে এবং সাপকে আহবান করে তাঁকে খাওয়ার জন্য।
যদিও সে বুঝতে পারে যে সে ডাকলে সাপ সেই ডাক
শূনে তাঁকে খেতে আসবে তবুও সে ডাকে।
তেমনি জড়জাগতিক বিষয়াসক্ত মানুষ এবং মায়াবাদী দার্শনিকেরা সব সময় এই ব্যাঙের মত ডেকে চলেছে।
এবং এই ভাবে তারা তাদের মৃত্যু ডেকে আনছে।
নিজের বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করা মানে মৌনতা নয়
যেটা মায়াবাদীদের ভাষ্য।
মৌনতা মাঝে মাঝে উপকার করে কিন্তু বেশির ভাগ সময় ব্যর্থ প্রতীয়মান হয়।
শ্রীরূপ গোস্বামী বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে বুঝিয়েছেন
জড়জাগতিক আলোচনা কম করে বেশির ভাগ সময়
কৃষ্ণনাম জপ করতে হবে।
মনের অস্থিরতা তখনই দূরীভূত হবে যখন মন কৃষ্ণভাবনায় নিয়োজিত হবে।

শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে ( মধ্যলীলা ২২।৩১)
বলা হয়েছে...... "কৃষ্ণ হল সূর্যের মত, আর
মায়া হল অন্ধকার।
যেখানে সূর্য থাকবে সেখানে অন্ধকারের কোন অস্তিত্ব
থাকতে পারে না।"
তেমনি মনে যদি কৃষ্ণ চেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আর মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়বে না।
জড়জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার সমস্ত যোগীক
প্রচেষ্টা সাধারণত খুব বেশী ফলপ্রসূ হয় না।
মনে একটি শূন্যস্থান তৈরি হলে সেই শূন্যস্থান বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়না।
মনে যদি কৃষ্ণচেতনা জাগ্রত হয় তাহলে মন আপনা থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়।


Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

ভগবান কে?

Image may contain: 2 people, indoor
ভগবানের অনন্ত ভগবৎ স্বরূপ রয়েছে
"অনাদি অন্তরূপম আদ্যং পুরান পুরুষং...।"
ভগবানের রাম,নরসিংহ,বামন,কূর্ম ইত্যাদি অনন্ত রূপের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ রূপটি হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ।

শ্রুতি,স্মৃতি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমব্রহ্ম,স্বয়ং ভগবান। ভক্ত প্রবর অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিভূতির কথা শ্রবণ করে নিজে স্বয়ং এটি স্বীকার করেছেন,

পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান ।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভূম ।।
(গীতা-১০/১২)

আহুসত্বআমৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা ।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ।।
(গীতা ১০/১৩)

অর্থাৎ "অর্জুন বললেন,-তুমি পরমব্রহ্ম,পরমধাম,পরম পবিত্র,পরম পুরুষ ,নিত্য,আদিদেব,অজ ও বিভু। দেবর্ষি নারদ,অসিত,দেবল,ব্যাস প্রভৃতি ঋষিরা সেই ভাবে তোমাকে বর্ণনা করেছেন এবং তুমি নিজেও এখন আমাকে তা বলছ।"

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি স্থিতি ও প্রলয়ের কর্তা। যদিও তিনি স্বয়ং এই সৃষ্টি,স্থিতি প্রলয় আদি করেন না। ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও মহেশ্বর জগতের সৃষ্টি,স্থিতি প্রলয় করেন,তবে তারা এই সব কর্ম শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা অনুসারে করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাতেই দৃশ্যমান জগতের সৃষ্টি,পালন ও প্রলয় হয়ে থাকে।

গ্রন্থঃ ভগবান কে?


প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

পণাতীর্থের উৎপত্তি কথা

No automatic alt text available.হরেকৃষ্ণ! শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর জননী শ্রীমতি নাভাদেবীর একবার গঙ্গাস্নানের বাসনা হয়। তিনি শেষরাতে স্বপ্নে দেখেন- তোঁর কোলের শিশুটি চতুর্ভূজ জ্যোতির্ময় সর্বমঙ্গলময় স্বয়ং মহাবিষ্ণু। এরূপ দিব্য দর্শনে শ্রীমতি নাভাদেবী তাঁর স্তবস্তুতি করেন। ঐশ্বর্য ভাবান্বিতা মাতৃদেবীকে তিনি সান্তনা প্রদান করে সমস্ত তীর্থ এনে তাতে তাঁকে স্নান করাবার কথা বলেন। শ্রীমতি নাভাদেবী নিদ্রা ভঙ্গে স্বপ্নের বিষয় স্মরণ করে চিন্তামগ্ন হন। তিনি স্বপ্নের বিষয় প্রথমে অঙ্গীকার করলেও পরে পুত্রের অনুরোধে তা প্রকাশ করে রোদন করতে থাকেন। আমি ‘পণ’ অর্থাৎ প্রতিজ্ঞঅ করে বলছি- তোমার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমি আজ রাতে সকল তীর্থকে আনয়ন করব তাতে তুমি স্নান করবে। অদ্বৈত প্রভু রাতেই যোগাবলম্বন পূর্বক তীর্থগণকে আকর্ষন করলে, সমস্ত তীর্থ শ্রীঅদ্বৈত প্রভূর কাছে উপস্থিত হয়ে তাদের আহ্বানের কারণ জিজ্ঞেস করেন। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু বলেন- কধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে (মহাবারুণি) তোমরা সকলে এখানে পর্বতোপরি বিহার করবে- সকলে আমার কাছে এই ‘পণ’ করো। গঙ্গা-যমুনাদি সকল তীর্থই শ্রীঅদ্বৈতাচার্য প্রভূর আজ্ঞা স্বীকার করে পর্বতে বিহার করতে থাকেন।
শ্রীদ্বৈতচন্দ্র প্রভাতকালে জননী নাভাদেবীকে বলেন- মা! পর্বতপরি সমস্ত তীর্থ এসেছে, তুমি সেখানে গিয়ে স্নান করো। শ্রীমতি নাভাদেবী কৌতুহলবশত পুত্রসহ সেখানে যান। শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র জননী নাভাদেবীর পাশে দাঁড়িয়ে শঙ্গ-ঘন্টা বাজিয়ে ঊচ্চেঃস্বরে হরিধ্বনি করতে থাকেন। হরিধ্বনি করামাত্রই অঝোরে জলের প্রবাহ পতিত হতে থাকে। শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র তখন বলেন, - দেখ মা তীর্থের জল পড়ছে। এখানে এখন সকল তীর্থ অবস্থান করছে। ঐদেখ মা, মেঘের মতো যমুনার জল তোমাকে ভিজিয়ে ফেলেছে, গঙ্গার পুণ্যসলিলবিন্দু তোমাকে সিক্ত করছে। এভাবে অন্যাণ্য সকল তীর্থরে পূণ্য সলিলরাশি পতিত হতে থাকে। অতি আশ্চর্য এ দৃশ্য দর্শন করে এবং পুত্রের বাক্য শ্রবণে শ্রীমতি নাভাদেবীর বিশ্বাস হয় যে, সত্য সত্যই এখানে তীর্থ সকল এসেছেন। তিনি অত্যন্ত ভক্তিভরে তীর্থসমূহকে প্রণাম করে সেই জলে স্নান করলেন। সেই থেকে এ স্থান ‘পণাতীর্থ’ নামে খ্যাত হয়। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু কর্তৃক স্বীয় জননী নাভাদেবীর অভিলাষ পূর্ণ করার জন্য এবং তীর্থগনের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে (মহাবারুণি) এখানে আবির্ভূত হওয়ার জন্য ‘পণ’ করার কারণেই পণাতীর্থের প্রসিদ্ধি। মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদর্শীতে এখানে মেলা বসে। ঐ পূণ্য স্নানের দিনে অদ্যাপিও লক্ষ-লক্ষ তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়।


 Courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়

Image may contain: 1 personআমি আমার জন্য করছি না। আমি নিঃস্বার্থপরভাবে জাতির সেবা করছি কিন্তু প্রভুপাদ বলছেন সেটা নিষ্কামকর্ম নয় সেটা নিঃস্বার্থপর নয়। ২ প্রকারের স্বার্থপরতা আছে। ১টা সংকুচিত স্বার্থপরতা আরেকটা প্রসারিত স্বার্থপরতা। আমি মনে মনে খুব খুশি আমি দেশের সেবা করছি নিঃস্বার্থভাবে কিন্তু তা নিঃস্বার্থপর নয়।এখানেও স্বার্থপরতা আছে। সংকুচিত স্বার্থপরতা।
বাড়িতে যদি কোন আত্মীয় স্বজন রসগোল্লা রাজভোগ নিয়ে এসেছেন তখন আমার ভাই আছে, বোন আছে, সবাই আছে কিন্তু আমি মনে করি আমি যেন বেশি খাই। ভাই বোনের সঙ্গে ঝগড়া করি আমরা। আমি বেশি খাব, এ সংকুচিত স্বার্থপরতা। আমি পাব আরকেউ পাবে না।
তারপর কি হবে? গ্রামে অনেক বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে তো কেউসাহায্য নিয়ে আসবে গ্রামে তখন চিন্তা হবে আমার বাড়ি যেন বেশি পায়। অন্য বাড়ি যেনকম পায়। একটু প্রসারিত হল আমার থেকে আমার বাড়ি।
বড় বন্যা এসেছে বহু গ্রাম ভেসে গিয়েছে। তখন আমার স্বার্থপরতা বাড়িতে সীমিত নয় আমার গ্রাম যেন বেশি পাবে। আমার গ্রামে রাস্তাঘাট হয়ে যাবে ইলেক্ট্রিসিটি হয়ে যাবে অন্য গ্রামগুলো ধুয়ে যাক। তারপর আরেকটু প্রসারিত হবে আমার দেশ যেন বেশি পাবে আমার জাতি যেন বেশি পাবে। এভাবে সঙ্কুচিত স্বার্থপরতা প্রসারিত হবে।
তাই আমরা মনে করছি নিষ্কামভাবে করছি। কিন্তু এটা নিষ্কামকর্ম নয়। নিঃস্বার্থপর নয়। আমি দেশের জন্যকরছি আমার দেশ, আমার জাতি।
খুব বেশি হলে আমরা কি চিন্তা করছি মানবিকতা। আমরা মানব সমাজের জন্য খাটব। আমি মানব সমাজের সেবার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি। সেটাও নিঃস্বার্থপর নয়। আমি মানব সমাজের জন্য করছি কিন্তু পশুদের মুরে মুরে খাচ্ছি। আমি জীবের দয়ার কথা বলছি। ভগবান যে কোথায় আছি আমি তা পাত্তা দিতে চাই না। কিন্তু মনে মনে ভাবছি জীবের সেবা করলে ভগবানের সেবা হয়। কিন্তু এদিকে মুরগি মুরে মুরে খাচ্ছিমাছ কেটে খাচ্ছি। ওঁরা জীব না জড়? মুরগি, ছাগল, পাঁঠা। যখন আমরা বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরি তারপর কি করি আছার মেরে পিটাই তখন কি করে চটপট করে না? তারা কি আনন্দে লাফায়,নাচে- কষ্ট হয় না নেই? যদি আপনার ছেলেকে নিয়ে কেউ মাটিতে আছার মারে আপনি কি আনন্দে লাফাবেন? কষ্ট পাবেন না? কিন্তু আমরা বলছি জীবে দয়া আর এদিকে আর কি কি আছে এইগুলা গ্রহণ করছি। মনে করব না এইগুলো নিঃস্বার্থ কিছুই নয়। এইগুলোও স্বার্থপর। এসবে স্বার্থপরতা রয়েছে।
সে জন্য যেকোনো কর্মের ফল যদি ভগবানকে নিবেদন করা না হয় সেটা নিষ্কাম কর্ম নয় নিঃস্বার্থপর নয়।

Courtesy by:   প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর

Share:

শ্রীকৃষ্ণের দিব্য গুনাবলী

Image may contain: 3 peopleশ্রীল রূপ-গোস্বামী নানা শাস্ত্র বিচার করে শ্রীকৃষ্ণের নিম্নোক্ত গুণাবলী উল্লেখ করেন  –
১) তাঁর সমস্ত শরীর অপূর্ব মাধুর্য মণ্ডিত ২)সমস্ত শুভ লক্ষন যুক্ত ৩)অত্যন্ত মনোরম ৪) জ্যোতির্ময় ৫)বলবান ৬) নিত্য নব-যৌবন সম্পন্ন ৭) সমস্ত-ভাষায় পারদর্শী ৮) সত্যবাদি 
৯) প্রিয়ভাষী ১০) বাকপটুঁ ১১) পরম পণ্ডিত ১২) পরম বুদ্ধিমান ১৩) অপূর্ব প্রতিভাশালী 
১৪) বিদগ্ধ শিল্পকলায় পারদর্শী ১৫)অত্যন্ত চতুর ১৬) পরম দক্ষ ১৭) কৃতজ্ঞ ১৮) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ১৯) স্থান ,কাল ও পাত্র সম্পর্কে বিচার করতে অত্যন্ত সুদক্ষ ২০)বৈদিক তত্ত্বজ্ঞান এর পরিপ্রেক্ষিতে দর্শন করতে আর উপদেশ দিতে অত্যন্ত পারদর্শী ২১)পবিত্র ২২ ) সংযত ২৩) অবিচলিত ২৪) জিতেন্দ্রিয় ২৫) ক্ষমাশীল ২৬) গম্ভীর ২৭)আত্ম-তৃপ্ত ২৮) সমদৃষ্টি সম্পন্ন ২৯) উদার ৩০) ধার্মিক ৩১) বীর ৩২) কৃপাময়  ৩৩ )শ্রদ্ধাবান ৩৪) বিনীত ৩৫) বদান্য ৩৬) লজ্জাশীল ৩৭) শরণাগত জীব-এর রক্ষক ৩৮) সুখী ৩৯) ভক্তদের হিতৈষী ৪০) প্রেমের বশীভূত ৪১) সর্বমঙ্গলময় ৪২) সর্বশক্তিমান ৪৩) পরম যশস্বী ৪৪) ভক্তবৎসল ৪৫) সমস্ত স্ত্রীলোকদের কাছে অতান্ত আকর্ষনীয় ৪৬) সকলের আরাধ্য ৪৭) জনপ্রিয় ৪৮) সমস্ত ঐশ্বর্য-এর অধিকারী ৪৯) সকলের মাননীয় ৫০) পরম নিয়ন্তা 

উল্লেখিত ৫০ টি গুন ছাড়া ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি অতিরিক্ত গুন আছে যা কিছুটা ব্রহ্মা ও শিব এর মাঝেও আছে ঃ ৫১)অপরিবতনশীল ৫২) সর্বজ্ঞ ৫৩) চির নবীন ৫৪) সৎ ,চিৎ ও আনন্দময় ৫৫) সব রকম যোগ সিদ্ধি এর অধিকারী 
শ্রীকৃষ্ণের আরও ৫ টি গুন আছে যা নারায়ণ বিগ্রহে প্রকাশিত হয়ঃ
৫৬) অচিন্ত্য শক্তিসম্পন্ন ৫৭) তার দেহ থেকে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড প্রকাশিত হয় ৫৮) তিনি সমস্ত অবতারের আদি উৎস ৫৯) তাঁর দ্বারা হত শত্রুদের তিনি মুক্তিদান করেন ৬০) মুক্ত আত্মাদের তিনি আকর্ষন করেন 

এই গুন গুলো ছাড়া কৃষ্ণের আরও ৪ টি গুণ আছে যা আর কারো নেই এমন কি নারায়ণ এরও নেই সেগুলা হল ঃ ৬১) তিনি নানা রকম অদ্ভুদ লীলা বিলাস করেন, বিশেষ করে তাঁর বাল্য লীলা ৬২) তিনি অপূর্ব ভগবৎ প্রেম মণ্ডিত ভক্ত পরিবৃত ৬৩) তিনি তাঁর বাঁশি বাজিয়ে সমস্ত জীবকে আকর্ষণ করতে পারেন ৬৪) তিনি অতুলনীয় সৌন্দয মণ্ডিত


Courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

বৈদিক সৃষ্টিতত্ত্ব

Image may contain: 2 people


১। সৃষ্টির শুরুতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জড়জগৎ সৃষ্টির সমস্ত উপাদান সহ মহাবিষ্ণু হিসেবে প্রকট হন ।তখন তাঁর প্রতিটি প্রশ্বাস থেকে প্রতিমুহূর্তে কোটি কোটি নক্ষত্র সৃষ্টি হয়। 
২। মহা বিষ্ণু তাঁর মায়ার দ্বারা চিরন্তন জড়জগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং তাঁর অসংখ্য রূপের অন্যতম বিশেষ একটি রূপ স্বয়ম্ভু ( প্রভু শিব) হিসেবে জড়জগতের প্রতিটি প্রাণীর ভিতর আত্মা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সুতরাং জীবজগতের প্রতিটি প্রাণী চিরন্তন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অণু অংশ। 
৩। মহা বিষ্ণু গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু হিসেবে প্রকটিত হন এবং অনন্ত কোটি নক্ষত্রে প্রবেশ করেন। 
৪) গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু সমস্ত বেদ সৃষ্টি করেন এবং ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু রূপে প্রতিটি অণু পরমাণুর ভিতর প্রবেশ করেন ।ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু প্রতিটি জীবের ভিতর পরমাত্মা রূপে বিরাজ করেন। 
৫) গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুর নাভিকমল থেকে একটি পদ্মফুল বিকশিত হয় যার ভিতর থেকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রথম সৃষ্ট জীব ব্রহ্মার আবির্ভাব ঘটে। 
৬) ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু ব্রহ্মার হৃদয়ের অভ্যন্তরে পরমাত্মারূপে বিরাজ করেন এবং ব্রহ্মার হৃদয়ভ্যন্তর থেকে ব্রম্মাকে বেদের জ্ঞান দান করেন। ব্রহ্মা বেদের এই জ্ঞান পরে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু ( গ্রহ, ঋষি, প্রাণিজগৎ,দেবতা প্রভৃতি) সৃষ্টি করার কাজে ব্যাবহার করেন।
৭) ব্রহ্মার কপাল থেকে প্রভু শিবের আবির্ভাব ঘটে, যিনি সদাশিবের( প্রভু শিবের আধ্যাত্মিক প্রকাশ) একটি অংশ। প্রভু শিব প্রাণীজগতের সৃষ্টি এবং ধ্বংসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন, এবং প্রভু শিবের এই ভূমিকাকে রুদ্র নামে অভিহিত করা হয়। 
৮) ৩১১০৪০০০০০০০০০০ বছর পর প্রভু শিব এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু ধ্বংস করে দেবেন এবং সেই সময় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড মহাশূন্যে রুপান্তরিত হবে এবং সেই মহাশূন্য মহাবিষ্ণুর নিঃশ্বাসের সহিত মহাবিষ্ণুর দেহে বিলিন হয়ে যাবে। 
৯) শূন্য কোন বস্তু অথবা হঠাৎ কোন বিস্ফোরণ অথবা কোন অদৃশ্য শক্তি থেকে কোন কিছুর সৃষ্টি হতে পারে না। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অসীম শক্তি থেকে যিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু প্রতিপালন করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অসীম লীলা জড়জগতের মানুষের বোধগম্যতার বাইরে। 

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন " হে অর্জুন, অধিক আর কি বলব, এইমাত্র জেনে রাখ যে, আমি আমার এক অংশের দ্বারা সমগ্র জগতে ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছি।" শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১০।৪২ 

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন " এই জগত আমারই প্রকৃতির অধীন, তারা প্রকৃতির বশে অবশ হয়ে আমার দ্বারা পুনঃ পুনঃ সৃষ্ট হয় এবং আমারই ইচ্ছায় অন্তকালে বিনষ্ট হয়।" শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৯।৮ 

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন "আমিই এই জগতের পিতা, মাতা, সর্বপ্রাণীর কর্মফল প্রদাতা, এবং পিতামহ। আমিই ঋক, সাম এবং যজুঃ( বেদসমূহ) " শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৯।১৭

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন " আমি জড় এবং চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। সব কিছুই আমার থেকেই প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে যারা শুদ্ধভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন, তাঁরাই যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানী। " শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১০।৮


courtesy by: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর
Share:

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিরীহ বৈষ্ণব ছিলেন না

Image may contain: 7 peopleমহাপ্রভু যখন প্রবলভাবে হরিনাম আন্দোলন শুরু করেছেন তখন কিছু গোঁড়া ব্রাহ্মণ তাঁর এবং ভক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদ কাজীর কাছে অভিযোগ করে। নবদ্বীপের মুসলমান কাজী ব্রাহ্মণদের এই অভিযোগটিতে প্রভূত গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রথমে তিনি মহাপ্রভুর অনুগামীদের উচ্চস্বরে হরিনাম সংকীর্তন করতে নিষেধ করেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর অনুগামীদর কাজীর সেই নির্দেশ অমান্য করতে নির্দেশ দেন, এবং তাঁরা পূর্বের মতোই সংকীর্তন করে যেতে থাকেন। কাজী তখন সেই সংকীর্তন বন্ধ করার জন্য তাঁর পেয়াদা পাঠান এবং তারা সংকীর্তন কারীদের কয়েকটি মৃদঙ্গ ভেঙে দেয়। এই ঘটনার কথা শুনে মহাপ্রভু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তিনি এক বিরাট আইন-অমান্য আন্দোলন করেন। তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভারতবর্ষে প্রথম আইন-অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। হাজার হাজার মৃদঙ্গ এবং করতাল সহ লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রার আয়োজন করেন, এবং কাজীর আইন অমান্য করে এই শোভাযাত্রা নবদ্বীপের পথে পথে হরিনাম কীর্তন করতে করতে কাজীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।

অবশেষে যখন শোভাযাত্রাটি কাজীর বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন ভয়ে কাজী তাঁর বাড়ির উপরতলার একটি ঘরে লুকিয়ে থাকেন। সেই বিশাল জনসমাবেশ কাজীর বাড়ির সামনে সমবেত হয়ে প্রচণ্ড ক্রোধ প্রকাশ করতে থাকে, কিন্তু মহাপ্রভু তাদের শান্ত হতে বলেন। মহাপ্রভুর আশ্বাস পেয়ে অবশেষে কাজী তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে কোরান ও হিন্দু-শাস্ত্র সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় তিনি গো-বধের ভয়াবহ পরিনাম তুলে ধরেন।

“তোমরা জীয়াইতে নার-বধমাত্র সার।
নরক হইতে তোমার নাহিক নিস্তার।।
গো-অঙ্গে যত লোম, তত সহস্র বৎসর।
গো-বধী রৌরব মধ্যে পচে নিরন্তর।।”

এভাবে মহাপ্রভু শাস্ত্র যুক্তির মাধ্যমে গো-বধ এবং সবধরণের যজ্ঞ নিষিদ্ধ করলেন। তিনি একমাত্র যজ্ঞ হিসেবে হরিনাম সংকীর্তনকে জগতমাঝে প্রতিষ্ঠা করলেন। তখন কাজী মহাপ্রভুর চরণাশ্রয় গ্রহণ করলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রবর্তিত সংকীর্তন যজ্ঞে কেউ যেন কখনও বাধা না দেয়, এবং তিনি তাঁর উইলে লিখে যান যে, তাঁর বংশের কেউ যদি সংকীর্তনে বাধা দেয়, তাহলে সে তৎক্ষণাৎ বংশচ্যুত হবে। নবদ্বীপে মায়াপুরের সন্নিকটে এখনও শ্রীচাঁদ কাজীর সমাধী আছে।
এই ঘটনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিরীহ বৈষ্ণব ছিলেন না। বৈষ্ণব হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবানের ভক্ত এবং প্রয়োজন হলে তিনি সিংহবিক্রমে যথার্থ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।


courtesy by:  প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর

Share:

মহাপ্রভুর লীলা: গদাধর নিত্যানন্দ প্রভুর জন্য রান্না করলেন

No automatic alt text available.গদাধর পণ্ডিত জগন্নাথপুরীতে ক্ষেত্র সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি টোটা গোপীনাথের সেবা করতেন। এই বিগ্রহটি খুবই সুন্দর ছিল, ঠিক যেন বৃন্দাবনের কৃষ্ণ। মহাপ্রভু এ বিগ্রহকে আলিঙ্গন করতেন। একদিন নিত্যান্দন প্রভু বঙ্গদেশ থেকে শালি ধানের চাল নিয়ে এলেন। গদাধর বললেন, ‘তুমি কি এগুলো বৈকুণ্ঠ থেকে আমার গোপীনাথের জন্য নিয়ে এসেছ? তোমাকে এখানে থাকতেই হবে, গোপীনাথের প্রসাদ না পেয়ে যেতে পারবে না। গদাধর গোপীনাথের জন্য অন্ন, ডাল, কচি শাক-পাতা আর কিছু তেঁতুল পাতা দিয়ে ভোগ প্রস্তুত করলেন। তেঁতুল পাতা রান্না করা খুব সহজ নয়, এর জন্য খুবই দক্ষ রাঁধুনি হওয়া চাই। গদাধরের রান্না ছিল অসাধারণ। গদাধর নিত্যানন্দের আলিঙ্গন করলেন। তিনি একটি ব্রত গ্রহণ করেছিলেন- যে নিত্যানন্দের নিন্দা করত, গদাধর তার মুখ দর্শন করতেন না। যে নিত্যানন্দের পছন্দ করত না, গদাধর তার সঙ্গ করতেন না। তিনি নিতাইকে খুবই ভালবাসতেন। 
আসলে গদাধর ছিলেন স্বয়ং রাধারানী। তিনি গৌরলীলায় গদাধররূপে এসেছেন। বৈদিক প্রথা অনুযায়ী, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বড় ভাইয়ের সঙ্গে মেশেন না। কিন্তু রাধারানী গদাধররূপে আসায় বলরামের সঙ্গে সেই সম্পর্ক এখানে ছিল না। সে সুযোগ গদাধর স্বাভাবিকভাবেই নিত্যানন্দের সঙ্গে মিশতেন। তাঁরা কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। এটি ছিল খুবই দুর্লভ মুহুর্ত। তখন হঠাৎ মহাপ্রভু সেখানে আবির্ভূত হলেন। তিনি বললেন, ‘এই মহাভোজে আমি নিমন্ত্রণ পেলাম না কেন? তোমার আমায় নিমন্ত্রণ না করলে কি হবে, আমি জোর করে হলেও প্রসাদ পাব। তোমার আমাকে এই কৃপা থেকে বঞ্চিত করতে পার না। প্রসাদটুকু সমান তিন ভাগে ভাগ কর। আমি তোমাদের সঙ্গে প্রসাদ গ্রহণ করতে চাই। তখন মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ আর গদাধর তিন জনে মিলে গোপীনাথের প্রসাদ গ্রহণ করলেন। এই লীলাটি খুবই অসাধারণ। শ্রীচৈতন্যদেব গদাধরের প্রশংসা করতে লাগলেন, ‘তোমার রান্নার তুলনা হয় না। তেঁতুল পাতা কে রান্না করতে পারে; আমি জানি না তুমি কে, কিন্তু তুমি যাই রান্না কর অমৃতের মতো লাগে। 
চৈতন্যলীলায় গদাধর স্বয়ং রাধারানী, তাই তিনি যে রান্নায় খুব পারদর্শী হবেন, তাতে আর সন্দেহ কী; কেউ যদি পরম কৃপাময় শ্রীচৈতন্য, নিত্যানন্দ ও গদাধরের একত্রে প্রসাদ গ্রহণ লীলা শ্রবণ করেন, যদি তাদের মধ্যে অন্তহীন কৃষ্ণপ্রেমের প্রীতি বিনিময় কথা শ্রবণ করেন, তাহলে তিনি নিঃসন্দেহে খুব শীঘ্রই গৌরাঙ্গের চরণপদ্ম লাভ করবেন। 

গ্রন্থ : গৌরাঙ্গ
শ্রীল জয়পতাকা স্বামী
প্রাপ্তিস্থান: নিকটস্থ ইসকন মন্দির
Share:

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী, শিক্ষা ও কিছু লীলা


যদি গৌর না হইত তবে কি হইত 
কেমনে ধরিতাম দে ।। 
রাধার মহিমা প্রেম রস সীমা 
জগতে জানাত কে ।।

সেই দুষ্ট বালকটির নাম নিমাই। নিম বৃক্ষের নিচে জন্মগ্রহন করায় তার এই নাম। ১৪০৭ শকাব্দ (ইং ১৪৮৬ সালের ফেব্রুয়ারী), তখন ফাল্গুনী পূর্ণিমার সন্ধ্যা। চন্দ্রগ্রহণ চলছিল। ভারতীয় বৈদিক রীতি অনুসারে, চন্দ্রগ্রহণের সময় দিনান্তে মানুষ সাধারণত গঙ্গা অথবা কোন পবিত্র নদীতে গিয়ে স্নান করেন এবং জড় কলুষ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করেন। সকলে তখন সর্বশ্রেষ্ঠ বৈদিক মহামন্ত্র “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে” জপ-কীর্তন করছিলেন। দিব্য হরিনামের মঙ্গল ধ্বনিতে চারিদিক মাতিয়ে পশ্চিম বাংলার নবদ্বীপের শ্রীধাম মায়াপুর নামক স্থানে আবির্ভূত হন কলিযুগের পাবনাবতার, সকলের সৌভাগ্যের উদয়কারী সেই মায়াপুরচন্দ্র শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু।
মাতার নাম শ্রী শচীদেবী, পিতা শ্রী জগন্নাথ মিশ্র। কয়েকটি কন্যা সন্তানের পাশাপাশি মহান এই ব্রাহ্মন দম্পতির দুটি পুত্র সন্তান-শ্রী বিশ্বরূপ ও শ্রী বিশ্বম্ভর। শ্রীবিশ্বরূপ সন্ন্যাস গ্রহনের পর শচী-জগন্নাথের একমাত্র অবলম্বন হল বিশ্বম্ভর (নিমাই)। যাঁকে ভক্তরা ভালোবেসে ‘মহাপ্রভু’ বলেও সম্বোধন করেন। মহপ্রভু ৪৮ বছর তাঁর অপ্রাকৃত লীলাবিলাস করেন। তাঁর জীবনের প্রথম ২৪ বছর তিনি নবদ্বীপে শৈশব ও গার্হস্থ্য লীলা ও পরবর্তী ২৪ বছর জগন্নাথ পুরী সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কলিযুগের একমাত্র যুগধর্ম হরিনাম প্রচার ও কৃষ্ণভক্তিবিজ্ঞান শ্রীমদ্ভাগবত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সন্ন্যাস লীলা সম্পাদন করেন। মহাপ্রভু কেবল শ্রীমদ্ভাগবতের বানীই প্রচার করেননি, তিনি ভগবদ্গীতার মূল তত্ত্বও অত্যন্ত ব্যবহারিকভাবে শিক্ষাদান করেছেন। শ্রীচেতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রীকৃষ্ণে সরাসরি নির্দেশ এবং ভগবদগীতার শিক্ষা সত্ত্বেও অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা ভ্রন্তিবশত তাঁকে একজন মহান ঐতিহাসিক ব্যক্তি বলে মনে করে, এবং তাঁকে পরমেশ্বর ভগবান বলে মেনে নিতে পারে না। এ সমস্ত নির্বোধ লোকেরা বিভিন্ন প্রবঞ্চক অভক্তদের দ্বারাও প্রতারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণের অপ্রকটের পর তথাকথিত অনেক বড় বড় পণ্ডিত ভগবদগীতার ভাষ্য প্রণয়ন করেছে, এবং তাদের প্রায় সকলেই স্বার্থসিদ্ধির ভাবনায় প্রভাবিত ছিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জনসাধারনকে ভগবদ্ভক্তি সম্বন্ধে শিক্ষাদান করার জন্য ভক্তরূপে অবতরণ করেন। তিনি এসেছেন সকলকে শিক্ষা দিতে যে, শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বকারণের পরম কারণ পরমেশ্বর ভগবান এবং ঐকান্তিক ভক্তি সহকারে তাঁর সেবা করাই হচ্ছে জীবনের পরম উদ্দেশ্য। এবারে আমি শ্রীচেতন্য মহাপ্রভুর কিছু অপ্রাকৃত লীলা তুলে ধরব যাতে তাঁর পরমেশ্বরত্ব ও করুণা প্রকাশ পেয়েছে।

লীলা ১: একবার একটি চোর নিমাইয়ের গায়ের গহনা চুরি করার জন্য তাঁকে চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ভগবান খুব মজা করে সেই হমভম্ব চোরের কাঁধে ঘুরে বেড়ালেন। সেই চোরটি তাঁর গহনা-অলঙ্কার খুলে নেওয়ার জন্য একটি নির্জন জায়গা খুজে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু ভগবানের মায়ার প্রভাবে সেই চোরটি ঘুরতে ঘরতে ঠিক জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ির সামনে একই স্থানে আবার উপস্থিত হল এবং ধরা পড়ার ভয়ে শিশুটিকে রেখে পালিয়ে গেল। উৎকণ্ঠিত পিতা মাতা ও আত্মীয়-স্বজনেরা হারিয়ে যাওয়া নিমাইকে ফিরে পেয়ে আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠলেন।
লীলা ২: এক সময়ে এক তীর্থযাত্রী ব্রাহ্মন জগন্নাথ মিশ্রের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন, এবং তিনি যখন ভগবানের ভোগ নিবেদন করছিলেন তখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে এসে সেই নৈবেদ্য খেতে শুরু করেন। একটি শিশু সেটি স্পর্শ করেছে বলে সেই নৈবেদ্য ফেলে দিয়ে ব্রাহ্মণ আবার ভোগ বানিয়ে তা ভগবানকে নিবেদন করলেন। এবারও মহাপ্রভু এসে সেই ভোগ খেতে শুরু করলেন। এইভাবে তিনবারই একই ঘটনা ঘটার পর শিশুটিকে ঘরের ভিতর বিছানায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেওয়া হল। রাত প্রায় বারোটার সময় যখন সকলে গভীর নিদ্রায় মগ্ন সেই ব্রাহ্মন তখন বিশেষভাবে রান্না করা ভোগ ভগবানকে নিবেদন করলেন এবং ঠিক আগেরই মতো শিশু মহাপ্রভু তাঁর নিবেদন নষ্ট করে দিলেন। ব্রাহ্মণ তখন কাঁদতে শুরু করলেন। কিন্তু সকলে যেহেতু গভীর নিদ্রায় মগ্ন ছিল তাই কেউ সেই কান্না শুনতে পেল না। তখন শিশু মহাপ্রভু সেই সৌভাগ্যশালী ব্রাহ্মণের কাছে তাঁর স্বরূপ উদঘাটন করলেন এবং ব্রাহ্মণ দেখলেন যে, সেই শিশুটি হচ্ছে ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। ব্রাহ্মনকে এই ঘটনাটি সম্বন্ধে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে দিয়ে শিশু মহাপ্রভু তাঁর মায়ের কোলে ফিরে গেলেন।

লীলা ৩: একবার মহপপ্রভু শ্রীনিবাস ঠাকুরেরর বাড়িতে এক অপূর্ব অলৌকিক লীলা প্রদর্শন করেন। তখন প্রবলভাবে সংকীর্তন হচ্ছিল। তিনি ভক্তদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁরা কি খেতে চান, এবং তাঁরা জানালেন যে, তাঁরা আম খেতে চান, তখন তিনি আমের আটিঁ চাইলেন। তখন আমের সময় ছিল না, আঁটিটি যখন তাঁর কাছে আনা হল, তখন তিনি সেটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনে পুঁতলেন এবং তৎক্ষণাৎ সেই আঁটিটি অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমন্বয়ে বর্ধিত হতে লাগল। অচিরেই সেটি একটি আম গাছে পরিণত হল এবং সেই গাছে এত সুপক্ব আম ধরল যে, ভক্তরা তা খেয়ে শেষ করতে পারলেন না। গাছটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনেই রইল এবং ভক্তরা সেটি থেকে তাঁদের যত ইচ্ছে আম নিয়ে খেল। ভক্তরা মহাপ্রভুর এই অপ্রাকৃত লীলা দেখে হরিধ্বনি দিতে লাগল। এখনও সেই গাছ শ্রীনিবাস অঙ্গনে বিদ্যমান।

লীলা ৪: মহাপ্রভু যখন প্রবলভাবে হরিনাম আন্দোলন শুরু করেছেন তখন কিছু গোঁড়া ব্রাহ্মণ তাঁর এবং ভক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদ কাজীর কাছে অভিযোগ করে। নবদ্বীপের মুসলমান কাজী ব্রাহ্মণদের এই অভিযোগটিতে প্রভূত গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রথমে তিনি মহাপ্রভুর অনুগামীদের উচ্চস্বরে হরিনাম সংকীর্তন করতে নিষেধ করেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর অনুগামীদর কাজীর সেই নির্দেশ অমান্য করতে নির্দেশ দেন, এবং তাঁরা পূর্বের মতোই সংকীর্তন করে যেতে থাকেন। কাজী তখন সেই সংকীর্তন বন্ধ করার জন্য তাঁর পেয়াদা পাঠান এবং তারা সংকীর্তন কারীদের কয়েকটি মৃদঙ্গ ভেঙে দেয়। এই ঘটনার কথা শুনে মহাপ্রভু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তিনি এক বিরাট আইন-অমান্য আন্দোলন করেন। তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভারতবর্ষে প্রথম আইন-অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। হাজার হাজার মৃদঙ্গ এবং করতাল সহ লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রার আয়োজন করেন, এবং কাজীর আইন অমান্য করে এই শোভাযাত্রা নবদ্বীপের পথে পথে হরিনাম কীর্তন করতে করতে কাজীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। অবশেষে যখন শোভাযাত্রাটি কাজীর বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন ভয়ে কাজী তাঁর বাড়ির উপরতলার একটি ঘরে লুকিয়ে থাকেন। সেই বিশাল জনসমাবেশ কাজীর বাড়ির সামনে সমবেত হয়ে প্রচণ্ড ক্রোধ প্রকাশ করতে থাকে, কিন্তু মহাপ্রভু তাদের শান্ত হতে বলেন। মহাপ্রভুর আশ্বাস পেয়ে অবশেষে কাজী তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং তাদের মধ্যে কোরান ও হিন্দু-শাস্ত্র সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় তিনি গো-বধের ভয়াবহ পরিনাম তুলে ধরেন। “তোমরা জীয়াইতে নার-বধমাত্র সার। নরক হইতে তোমার নাহিক নিস্তার।। গো-অঙ্গে যত লোম, তত সহস্র বৎসর। গো-বধী রৌরব মধ্যে পচে নিরন্তর।।” এভাবে মহাপ্রভু শাস্ত্র যুক্তির মাধ্যমে গোবধ এবং সবধরণের যজ্ঞ নিষিদ্ধ করলেন। তিনি একমাত্র যজ্ঞ হিসেবে হরিনাম সংকীর্তনকে জগতমাঝে প্রতিষ্ঠা করলেন। তখন কাজী মহাপ্রভুর চরণাশ্রয় গ্রহণ করলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রবর্তিত সংকীর্তন যজ্ঞে কেউ যেন কখনও বাধা না দেয়, এবং তিনি তাঁর উইলে লিখে যান যে, তাঁর বংশের কেউ যদি সংকীর্তনে বাধা দেয়, তাহলে সে তৎক্ষণাৎ বংশচ্যুত হবে। নবদ্বীপে মায়াপুরের সন্নিকটে এখনও শ্রীচাঁদ কাজীর সমাধী আছে। এই ঘটনা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিরীহ বৈষ্ণব ছিলেন না। বৈষ্ণব হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবানের ভক্ত এবং প্রয়োজন হলে তিনি সিংহবিক্রমে যথার্থ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

লীলা ৫: মহাপ্রভুর নির্দেশে শ্রীনিত্যানন্দ এবং হরিদাস ঠাকুর সর্বত্র হরিনাম প্রচার করেন। ঐ সময়ের সর্ব সবনিকৃষ্ট পতিত হচ্ছেন দুই ভাই-জগাই ও মাধাই। পৃথিবীতে এমন কোন পাপ নেই যা তারা করেনি; মাংসাহার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট-সবকিছু। সারাদিন মদের নেশার বিভোর হয়ে থাকত এই দুইজন। তাদের এই পতিত দশা দেখে নিত্যানন্দ প্রভু এবং হরিদাস ঠাকুর তাদেরকে হরিনাম করতে অনুরোধ করলেন। অনুরোধ শুনে মাতাল দুটি অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল এবং অশ্লীল গালাগালি দিতে দিতে তাদেঁরকে তাড়া করতে শুরু করল। পরের দিন আবার তাঁরা দুই মাতালের কাছে গিয়ে ভগবানের নাম কীর্তন করতে অনুরোধ করলেন। পুনরায় ক্রুদ্ধ হয়ে মাধাই একটি কলসির কানা দিয়ে নিত্যানন্দ প্রভুর মাথায় আঘাত করল, এবং সেই আঘাতের ফলে প্রভুর কপাল কেটে দরদর ধারায় রক্ত ঝরে পড়তে লাগল। কিন্তু নিত্যানন্দ প্রভু এতই করুনাময় যে, এই কাজের জন্য কোন রকম প্রতিবাদ না করে তিনি বললেন “তুমি যে আমাকে কলসির কানা ছুড়ে মেরেছ তাতে আমি কিছু মনে করিনি, কিন্তু আমার একমাত্র অনুরোধ যে তুমি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির নাম কীর্তন কর। ইতিমধ্যে নিত্যানন্দ প্রভুর আঘাতের সংবাদ পেয়ে মহাপ্রভু অত্যন্ত ক্রোধিত হয়ে সুদর্শন চক্রকে আহ্বান করলেন দুই পাপীকে সংহার করার জন্য। কিন্তু নিত্যানন্দ প্রভু তাদের হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন এবং মহাপ্রভুকে তাঁর অবতরনের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিলেন। মহাপ্রভু অবতরনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কলিযুগের সমস্ত অধপতিত মানুষকে কৃষ্ণপ্রেম প্রদানের মাধ্যমে উদ্ধার করা এবং এই দুই ভাই-জগাই মাধাই হচ্ছে সেই অধপতিত মানুষের আদর্শ দৃষ্টান্ত। প্রকৃতপক্ষে, বৈদিক সমাজের বিলুপ্তি ও বর্তমান যুগের প্রভাবে অধিকাংশ মানুষই একেকটি জগাই মাধাইয়ে পরিণত হয়েছে। তবুও আমাদের মতো জগাই মাধাইদের জন্য একমাত্র সৌভাগ্যের বিষয় হল হরিনাম মহামন্ত্রকে জীবনের সম্বলরূপে গ্রহন করা। জগাই মাধাই সমস্ত পাপকর্ম বর্জন করে পরম দয়ালু ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরণে আশ্রয় গ্রহন করল এবং কৃষ্ণপ্রেম লাভ করল। পাপী তাপী যত ছিল হরিনামে উদ্ধারিল তার সাক্ষী জগাই আর মাধাই।।
এভাবে মহাপ্রভু সবচেয়ে পতিত ব্যাক্তিদেরও কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করেছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন কলিযুগের অধপতিত জীবদের সৌভাগ্য আনয়নকারী সুহৃদ। যে দুর্লভ বস্তু-কৃষ্ণপ্রেম হাজার হাজার বছর তপস্যা করে লাভ করা যায় না, যা গোলোক বৃন্দাবনের সবচেয়ে গোপনীয় বস্তু, সেই কৃষ্ণপ্রেম আপামর মানুষকে অকাতরে তিনি বিতরণ করেছেন অত্যন্ত করুণার বশবর্তী হয়ে। শুধুমাত্র দিব্য হরিনাম উচ্চারণের মাধ্যমেই এই দুর্লভতম কৃষ্ণপ্রেম লাভ করা যায়।
আর, এই হরিনামকে বিশ্বপরিসরে ছড়িয়ে দিয়েছেন মহাপ্রভুরই এক অন্তরঙ্গ প্রেরিত দূত, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এর প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি অভয়চরনারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। মহাপ্রভু ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম, সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম।” তাঁর এই ভবিষ্যত বাণীকে সার্থক রূপদান করেছেন শ্রীল প্রভুপাদ। তাঁরই কৃপাতে সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদশূণ্য হয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করছে। তিনিই প্রকৃত জাতিসংঘ গঠন করেছেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অপার করুণায়। এই হরিনামের ফলেই সবাই লাভ করছে দিব্য আনন্দ ও সুখি জীবন। আসুন সবাই এখন আমরা এই মুহূর্ত থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই প্রতিদিন হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করতে এবং কৃষ্ণ সেবায় নিজেদেরকে নিযুক্ত রাখতে। “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।” শ্রীল প্রভুপাদ কী জয় !! শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কী জয় !!! নিতাই গৌর প্রেমানন্দে..হরি হরি বোল !!!


 


Courtesy: প্রশ্ন করুন, উত্তর পাবেন। সনাতন ধর্মের হাজারও প্রশ্ন এবং উত্তর

Share:

২৩ এপ্রিল ২০১৭

জানতে হবে জানাতে হবে :::: শঙ্খ কি এবং কেন ???


No automatic alt text available.
নিত্যপূজায়, পার্বণে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু উপাচার ব্যবহৃত হয়ে থাকে যার মধ্যে শঙ্খ অন্যতম। শঙ্খ হল এক ধরণের সামুদ্রিক শামুক। এর বৈজ্ঞানিক নাম “turbinella pyrum “। এটি হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন প্রভৃতি ধর্মে পূজার উপাচার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

হিন্দু ধর্মমতে শঙ্খঃ

পবিত্র সনাতন ধর্মে শঙ্খ ভগবান বিষ্ণুর প্রতীক। একে বিষ্ণুর অর্ধাঙ্গী হিসেবেও পূজো করা হয়। সৃষ্টির শুরুতে সমুদ্রগর্ভ হতে, পালনকর্তা ভগবান বিষ্ণু ও স্বর্গীয় দেবতাদের তৈরী ঘূর্ণাবর্তের মধ্য থেকে অস্ত্ররূপে শঙ্খকে হাতে ধরে আবির্ভাব হয় ভগবান বিষ্ণুর। অপরদিকে শঙ্খ ধন ও প্রতিপত্তির দেবী মা লক্ষীর আব্রু। “ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ” মতে, শঙ্খ ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর অধিষ্ঠানকারী মন্দির।

২.২ পূজো-অর্চনায় শঙ্খের ব্যবহারঃ

আরতিতে দুই ধরণের শঙ্খ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি পূজোর পূর্বে শঙ্খনাদ ধ্বনি উচ্চারনে আর অন্যটি পূজোর সামগ্রী হিসেবে প্রনিত্য পূজো, য়োজন হয়। কিন্তু কখনোই পূজোর আগে বাজানোর জন্যে ব্যবহৃত শঙ্খ পূজোর কাজে ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

“বরাহ পুরাণ” স্পষ্ট ভাবে বলেছে, কখনই মন্দিরের দ্বার শঙ্খ ধ্বনির উচ্চারণ ব্যতীত খোলা উচিৎ নয়। বামাবর্তী শঙ্খ বাজানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু শঙ্খনী জাতীয় শঙ্খ ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাই এগুলো কালো জাদু, যাকে বলা হয় “অঘোরী বিদ্যা” কিম্বা অপদেবতার আরাধনায় কাজে লাগানো হয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময় মনে রাখা উচিৎঃ

ক) যে শঙ্খ ব্যবহার করা হয়, সেটা কখনোই পূজোর শঙ্খ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
খ) শঙ্খ বাজাবার পর সেটা ধুয়ে রাখা জল কখনোই দেব-দেবীকে অঞ্জলী দেয়া চলবে না।
গ) কখনোই পূজোর কাজে দুক) বাজানোর কাজে টি শঙ্খ রাখা যাবে না।
ঘ) কোনোক্ষেত্রেই শিব পিন্ডিকে নিত্যপূজো চলাকালীন শঙ্খ দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না।
ঙ) দেবাদিদেব মহাদেব এবং সূর্যদেবের স্নানের কাজে কখনোই শঙ্খ ব্যবহার করা যাবে না।

শঙ্খের ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক উপকারিতাঃ

১) শঙ্খকে ওম ধ্বনির উৎপাদক বলা হয়।

২) শঙ্খ আনে সুনাম, দীর্ঘায়ু আর যশ; দূর করে সকল পাপ, ক্লেশ, উৎপন্ন করে পবিত্র জলের প্রস্রবণ।

৩) একবার শঙ্খ বাজালে যে ধ্বনি উৎপন্ন হয় তা থেকে তিন ধরণের শক্তি নির্গত হয়। একটি হল “চৈতন্য”। এই শক্তি বৃত্তাকারে শাঁখের খোলোসের মধ্যভাগ হতে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি হল “ধ্যান” যা তির্যক সরলরৈখিক পথে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আর সর্বশেষ শক্তিটি হল “আনন্দ” যেটা ক্রমান্বয়ে শঙ্খের মধ্যভাগ হতে ধীরে ধীরে সবার অন্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

৪) প্রকৃতিতে প্রধানত তিন ধরণের শক্তি তরঙ্গ থাকে। এই তরঙ্গগুলোই হল সমগ্র সৃষ্টি জগতের নির্মাণ তন্তু। এদের মধ্যে একটি হল “সত্যবাদ তরঙ্গ” আর বাকী দুটি “রাজসিক (অহঙ্কার অর্থে) তরঙ্গ” এবং “তমসিক (দুষ্প্রবৃত্তি) তরঙ্গ”। এই প্রতিটি তরঙ্গের মধ্যে পাঁচ ধরণের মহাজাগতিক উপাদান থাকে। এরা হল “ভূমি”, “জল”, “আগুন”, “বায়ু” এবং “ইথার”। সত্যবাদ, রাজসিক এবং তমসিক তরঙ্গের সংখ্যা এই পাঁচটি উপাদানের ভিত্তিতে যথাক্রমে ১৫০ টি, ২০০ টি এবং ১৫০ টি (সত্যবাদ তরঙ্গের বিপরীত অনুক্রমে বণ্টিত)। রাজসিক আর তামসিক তরঙ্গদ্বয় সত্যবাদ তরঙ্গকে মন্দিরের পরিবেশে প্রবেশে বাধা দেয়। শঙ্খনাদ রাজসিক এবং তামসিক তরঙ্গদ্বয়কে প্রতিহত করে মন্দিরের পরিবেশ, সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর মাঝে সত্যবাদ শক্তিকে প্রবেশ করায় যা মনের সব অহংবোধ, জড়তা, আঁধার কেটে সবকিছুকে পবিত্র করে। আবার শঙ্খনী জাতীয় শঙ্খে খাঁজগুলো অসম ভাবে বণ্টিত থাকে, যার দরুন এই শঙ্খ বাজালে সত্যবাদ তরঙ্গের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে রাজসিক আর তমসিক তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কমে গিয়ে কম্পাঙ্ক বেড়ে যায়, অর্থাৎ তীব্রতা বাড়ে।

৫) “যর্যুবেদ” এবং আধুনিক বিজ্ঞান এর ভাষ্যমতে শঙ্খ থেকে উৎপন্ন কম্পন যে তরঙ্গের সৃষ্টি করে তা বাতাসের সাথে মিশে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে।

৬) নিয়ম মাফিক শঙ্খ বাজালে, বাদকের মস্তিষ্কের গোড়ার সুষুম্না কাণ্ড সতেজ থাকে, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রাজসিক ও তমসিক তরঙ্গের অন্তর্গত তেজ ও বায়ুর উপাদানগুলো সাম্যাবস্থায় থাকে।
৭) আয়ূর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থায় শঙ্খচূর্ণ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শঙ্খ চূর্ণ ক্যালসিয়া, ম্যাগনেসিয়াম এবং লৌহ ধারণ করে যা পেটের পিড়া দূর করে পরিপাক ব্যবস্থাকে সচল রাখে।

৮) শঙ্খের সাথে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সমাহারে তৈরী বড়ি “শঙ্খবতী” যা “ডিসপেপসিয়া” নামক অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় ফলদায়ক। এটি বাত, পিত্ত দমন এবং সৌন্দর্য ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

৯) কিছু কিছু শঙ্খ মুক্তা তৈরী করে।
Share:

বিথঙ্গল আখড়া



হবিগন্জের বানিয়াচং সদর থেকে প্রায় ১১ কি.মি. দক্ষিণ পশ্চিমে বিথঙ্গল গ্রামে সগৌরবে টিকে আছে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের নান্দনিক আখড়া। ধারনা করা হচ্ছে খৃস্টিয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে রামকৃষ্ণ গোস্বামী সমগ্র উপমহাদেশ সফর করে বিথঙ্গলে এসে এ আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন।
Image may contain: outdoor



বিথঙ্গলের আখড়ার মতো এমন আখড়া বাংলাদেশে খুব সম্ভব দ্বিতীয়টি নেই। এর সৌন্দর্য, শৈল্পিক সুষমা খুব সহজেই পর্যটকদের বিমুগ্ধ করতে সক্ষম। আখড়াটি নির্মাণ করা হয়েছে পোড়া মাটির ইট এবং অসংখ্য চিত্র পলক দিয়ে। ২৪ হাত লম্বা, ১২০ টি কোঠা, ত্রিখিলান প্রবেশ পথ সম্বলিত আখড়ার নিকটে ৮০ ফুট উচ্চতার একটি মঠ রয়েছে।

মঠের সামনে আছে একটি নাট মন্দির। পূর্ব পার্শ্বে ভান্ডার ঘর, দক্ষিণে ভোগ মন্দির। জানা গেছে, আখড়ার ১২০টি কক্ষে এক একজন বৈষ্ণব বাস করতেন। এই আখড়াকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি উৎসব পালিত হয়। এখানকার দর্শণীয় বস্তুর মধ্যে রয়েছে ২৫ মন ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, পিতলের সিংহাসন, রৌপ্য নির্মিত পাখি, মুকুট, কষ্টি পাথরের মূর্তি।
Share:

এই পৃথিবী কি পূর্বে ভারতবর্ষ ছিল ??

No automatic alt text available.কখনো কি প্রশ্ন জাগে না যে, বিচিত্র রকমের স্থান বা দেশ কেন হল । কেনই বা প্রতিটি দেশ ইউরোপ আফ্রিকার মত প্রাচুর্যময় নয় । কোথাও সমৃদ্ধশালী কোথাও কোন প্রাচুর্যের ছোঁয়া নেই । এর পেছনে কিই বা কারণ থাকতে পারে । আরও একটা প্রশ্ন থাকতে পারে তা হল এসমস্ত বিচিত্র দেশের নামকরণ নিয়ে । 

তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বৈদিক শাস্ত্র থেকে এর সঠিক রহস্য গ্রুপের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল । বৈদিক শাস্ত্র মতে এক সময় সমগ্র পৃথিবীকেই ইলাবৃত বর্ষ বা ভারতবর্ষ নামে ডাকা হত । এই পৃথিবীর শাসনভারের দায়িত্ব ছিল ইতিহাস বিখ্যাত অনেক অনেক রাজাদের হাতে ।

এক সময় ধীরে ধীরে সেই ভারতবর্ষ ভেঙ্গে গড়ে সাতটি পৃথক মহাদেশ এবং বহু দেশ । মূলত, ককেশাস নামক স্থানকে বলা হয় শ্বেত মানবদের উৎপত্তি উৎস হিসেবে । বর্তমান বিশ্বের পশ্চিমা জগতের যেসব সাদা লোকদের দেখতে পাওয়া যায় তাদের উত্তরসূরীদের বসতি ছিল এই ককেশাস (coucasus) নামক স্থানে ।

জিউস, মোসলেম এবং খ্রিষ্টানদের মতে এ স্থানেই ছিল স্বর্গের উদ্যান এটি হল আব্রাহামের বসতভূমি । যেটিকে ইন্দো ইউরোপীয়ান ককেশিয়ানদের পিতৃভূমি হিসেবে মনে করা হয় । তৈত্তিরীয় (Aitareya) উপনিষদে এ বিষয়ে বলা হয়েছে । ব্রহ্মার পুত্র মরিচীর পুত্র ছিল কশ্যপ মুনি । ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে কশ্যপ মুনি ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের পিতা হয়েছিলেন ।

এসমস্ত ইন্দো-ইউরোপীয়ানদের কিছু পৃথিবীর পশ্চিমে গেল আর কিছু গেল পূর্বে । কশ্যপ মুনি স্বয়ং ক্যাসপিয়ান সাগরের নিকটে ধ্যান মগ্ন হয়ছিল । যার বর্তমান নামকরণ অর্থাৎ ক্যাসপিয়ান সাগর ঐ কশ্যপ মুনির নামেই নামকরণকৃত । সূর্যদেব বিবস্বান ছিলেন কশ্যপ মুনির পুত্র যার স্ত্রী ছিলেন অদিতি । সূর্যদেবের অস্থিত্ব যে পশ্চিমা দেশেও ছিল তার প্রমাণ এখন পৃথিবীর অনেক স্থানে সূর্যদেবতাকে পূজার প্রচলন ।

কশ্যপ মুনি এবং দিতি থেকে সৃষ্ট দৈত্যরা তখন ইউরোপ জুড়ে বিস্তার লাভ করেছিল । বর্তমানের টাইটানস (Titans) এবং টিউটনস (Teutons) ডাচ এবং ডিউটস্চল্যান্ড (Deutschland) এ নামগুলো দেয়া হয়েছে ‘দৈত্য’ শব্দ থেকে । এ থেকে দৈত্যদের অবস্থান যে একসময় ছিল তার প্রমাণ মেলে । ব্রহ্মার আরেক পুত্র অত্রি থেকে সোম বা চন্দ্র হয় । চন্দ্রের পুত্র বুদ্ধের পুত্র ছিল পুরুরভ ।

এভাবে বংশানুক্রমে আয়ু নহুম এবং পরে যথাতির জন্ম হয় । যথাতির পাঁচ সন্তান ছিল । ‘যদু’ থেকে বেড়ে উঠে যদুবংশ যেখানে কৃষ্ণ বলরাম আবির্ভূত হয় এবং পুরু থেকে বেড়ে উঠে পুরুবংশ (যে বংশে কৌরব এবং পান্ডবরা জন্মেছিল) যারা হল ভীষ্ম, ধৃতরাষ্ট্র, অর্জুন, যুদিষ্টির, ভীম, দূর্যোধন এবং মহারাজ পরিক্ষিত জন্ম নেয় । পুরু তখন বর্তমান মিশর স্থানটি পেয়েছিলেন তার রাজ্যের শাসনভার হিসেবে । পুরুর পুত্র ছিল প্রভির এবং প্রভিরের পুত্র ছিল মানুষ্য (Manasyu) যাকে মেনেস নামে ডাকা হত । যিনি পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের মতে মিশরের প্রথম বংশের প্রতিষ্ঠাতা । পুরুর বংশ এভাবে ফারাও রাজা পর্যন্ত অতিবাহিত হয়েছিল ।

মিশরকে অজপতি নামে নামকরন করা হয় । এই অজ জাতের পুত্র ছিল অজপতি । অপরদিকে অজ ছিল ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের পিতামহ রামচন্দ্র আবির্ভূত হয়ছিল সূর্যবংশে, সূর্যদেবের আরেক নাম রবি । ‘র’ তখন মিশরে সূর্য বংশের একটি শাখার অন্তর্গত ছিলেন । সেখানকার রাজা হলেন রামেস । যেটি রাম-ইস ভগবান শ্রী রামচন্দ্র থেকেই নামকরণকৃত । পান্ডব পরিবারবর্গও একসময় মিশর এবং ইউরোপে এসেছিল যা এখন সাগরে নিমজ্জিত হয় । এভাবে পিরামিডের গায়ে বৈদিক সংস্কৃতির ছোঁয়া এখনও দেখতে পাওয়া যায় তার বিবরণ আমি পরবর্তী পোষ্টে দিব ।

পরবর্তীতে তারা বর্তমানের ইসরাইলে গমন করে । যেটিকে বিশ্লেষন করলে দাঁড়ায় ইশ্বরাভলয় (ভূমি) তার অর্থ ইশ্বরের বাসস্থান । সুতরাং ইসরাইল ও তখন বৈদিক সংস্কৃতির সুরে নামকরণকৃত হয়েছিল ।

যযাতির তিনজন পুত্র বর্তমান ভারতের বাইরে যে দুটি রাজ্য পেয়েছিল সেগুলো হল তুর্কি এবং তুর্বাসা । যবনরা পেয়েছিল তুর্কি এবং তুর্বাসা পেয়েছিল ফার্সিয়া ইত্যাদি । মহাভারত অনুসারে (আদিপর্ব ৮৫.৩৪) তুর্বাসা দুর্যোধনের হয়ে কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছিল ।

অপরদিকে অনু পেয়েছিল গ্রীক এবং ইতালী । পরশুরামের বংশদূতরাও একসময় মিশরের রাজা ছিলেন । পরশুরাম ও যদু বংশজাত যাদের কিছু ইউরোপ এবং এশিয়াতেও এসেছিল । এর পরবর্তীতে বৈদিক সংস্কৃতির প্রধান নীতি বর্ণাশ্রম ধর্ম বিভিন্ন কারনে হারিয়ে যায় । মহাভারত (আদিপর্ব ১৭৪.৩৮) অনুসারে ভীম এবং সহদেব পুলিন্দ (গ্রীকদের) জয় করেছিল কেননা তার ধর্ম পরিত্যাগ করেছিল এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে বর্তমান ক্ষেত্রেও সংস্কৃতির ব্যবহারটাও অপরিসীম ।

বর্তমান ‘নরওয়ে’ দেশটির নাম সংস্কৃত শব্দ ‘নরক’ থেকে এসেছে । ‘সোভিয়াত’ এসেছে ‘শ্বেত’ থেকে । ‘রাশিয়া’ ‘ঋষি’ থেকে এসেছে, এভাবে সাইবেরিয়া শব্দটিও সংস্কৃত থেকে আগত । ‘স্ব্যান্দিনাভিয়া’ ‘স্কন্দ’ থেকে এসেছে । যিনি দেবতাদের প্রধান কমান্ডার হিসেবে ছিলেন ।

(Viking এবং king) শব্দ দুটি এসেছে সিংহ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে যে বৈদিক সংস্কৃতির বিদ্যমান ছিল তার প্রমাণ ইউরোপ জুড়ে আবিষ্কৃত কৃষ্ণ, শিব, সূর্যদেব সহ আরও বিভিন্ন মূর্তি । একসময় দেবতা এবং অসুরদের সঙ্গে প্রায় বার বার যুদ্ধ হয়েছিল । পরে ককেশাসের পূর্বদিক দেবতাদের এবং পশ্চিম দিক অসুরদের দেয় । কিছু অসুর সেখানে অবস্থান করেছিল ।

ময়দানব তখন অসুরদের রাজ ছিলেন । তার স্থায়ী বসতি ছিল আলাতল লোক (ভূমন্ডলের ১০,৮৮,০০০ কি.মি. দক্ষিনে) যেখানে ফ্লায়িং সসার নির্মিত হয় । ময়দানবের অনুসায়ী মগরা তাদের সেই বসতির স্থানকে ‘অমরক’ (Amaraka) নামে ডাকত । কেননা অসুরেরা প্রয়ই মনে করে মূত্যু তাদের কিছুই করতে পারবে না । তাই তারা তাদের মাতৃভূমিকে স্বর্গ মনে করত । আর এজন্যই এই নাম পরবর্তীতে আমেরিগো ভেসপুচ্চি (Amerigo vespucci) এটিকে বর্তমানে আমেরিকা নামে পুনস্থাপন করে ।

এভাবে বংশগত দিক বিবেচনা করলে আমরা সবাই শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত । কেননা ব্রহ্মা উৎপত্তির উৎস তাই বলে । আর এ সমগ্র পৃথিবী যে একদম পুরোটাই ভারতবর্ষ ছিল তারও প্রমান খুব সহজেই পাওয়া যায় শাস্ত্র থেকে । উপরোক্ত গবেষণামূলক প্রতিবেদন থেকে অনেক গবেষকগণ স্বীকার করতে এখন আর দ্বিমত করে না ।

কার্টেসীঃ Susanta banda



(বিঃ দ্রঃ- এই প্রতিবেদনটি ছাপা হয় টাইম ম্যাগাজিন ও হিন্দু নিউসে……… তার বঙ্গানুবাদটি এখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরা হল ।) http://www.gauranga.org/vedic.htm
Share:

চিন্ময় জগতের দূত


Image may contain: one or more people
পৃথিবী যখন দ্বন্দ্ব, সংঘাত, যুদ্ধ, সন্ত্রাসে বিক্ষুদ্ধ, তিমির রাত্রির অবসানে প্রভাতকিরণছটার প্রকাশের মতো অপ্রাকৃত জগতের বাণী বহন করে নিয়ে এলেন চিন্ময় জগতের দূত শ্রীল প্রভুপাদ । ভগদ্বিমুখ অন্ধ জড়বাদী মানবসমাজের সৃষ্টি করলেন এক পারমার্থিক নবজাগরণের ইতিহাস ।
গুরুদেবের আদেশ লাভ

শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৮৯৬ সালে কোলকাতায় আবির্ভূত হয়েছিলেন । ১৯২২ সালে কোলকাতায় তিনি তাঁর গুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদের সাক্ষাৎ লাভ করেন । শ্রীল ভক্তিসিধান্ত সরস্বতী ঠাকুর ছিলেন ভক্তিমার্গের বিদগ্ধ পন্ডিত এবং ৬৪ টি গৌড়ীয় মঠের (বৈদিক সংঘের) প্রতিষ্ঠাতা । তিনি এই বুদ্ধিদীপ্ত, তেজস্বী ও শিক্ষিত যুবকটি সারা বিশ্বে ইংরেজী ভাষায় বৈদিক জ্ঞান প্রচারের কাজে জীবন উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করেন । শ্রীল প্রভুপাদ এগার বছর ধরে তাঁর আনুগত্যে বৈদিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে ১৯৩৩ সালে এলাহবাদে তাঁর কাছে দীক্ষা পাপ্ত হন ।

১৯২২ সালে শ্রীল ভক্তিসিধান্ত সরস্বতী ঠাকুর শ্রীল প্রভুপাদকে ইংরেজী ভাষার মাধ্যমে বৈদিক জ্ঞান প্রচার করতে নির্দেশ দেন । পরবর্তীকালে শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদগীতার ভাষ্য লিখে গৌড়ীয় মঠের প্রচারের কাজে সহায়তা করেছিলেন । ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি এককভাবে একটি ইংরেজী পাক্ষিক পত্রিকা ‘Back To Godhead’ প্রকাশ করতে শুরু করেন । এমনকি তিনি নিজের হাতে পত্রিকাটি বিতরণও করতেন । পত্রিকাটি এখনও সারা পৃথিবীতে নানা ভাষায় তাঁর শিষ্যবৃন্দ কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত হচ্ছে ।
জীবনব্রত সাধনের প্রস্তুতি

১৯৪৭ সালে শ্রীল প্রভুপাদের দার্শনিক জ্ঞান ও ভক্তির উৎকর্ষতার স্বীকৃতিরূপে ‘গৌড়িয় বৈষ্ণব সমাজ’ তাঁকে “ভক্তিবেদান্ত” উপাধিতে ভূষিত করেন । ১৯৫০ সালে তাঁর ৫৪ বছর বয়সে শ্রীল প্রভুপাদ সংসার জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করে চার বছর পর ১৯৫৪ সালে বাণপ্রস্থ আশ্রম গ্রহণ করেন এবং শাস্ত্র অধ্যয়ন, প্রচার ও গ্রন্থ রচনার কাজে মনোনিবেশ করেন । তিনি বৃন্দাবনে শ্রীশ্রীরাধা-দামোদর মন্দিরে বসবাস করতে থাকেন এবং অতি সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে শুরু করেন । ১৯৫৯ সালে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন ।

তাঁর গুরুদেবের আদেশ পালন-----

শ্রীশ্রীরাধা-দামোদর মন্দিরেই শ্রীল প্রভুপাদের শ্রেষ্ঠ অবদানের সূত্রপাত হয় । এখানে বসেই তিনি অপ্রাকৃত মহাগ্রন্থ শ্রীমদভাগবতের অনুবাদ কর্মের সূচনা করেন । এখন সেটি ১৮ টি বিপুলায়তন খন্ডে প্রকাশিত হয়ে সারা পৃথিবীতে বিতরিত হচ্ছে ও কৃষ্ণ চেতনার উন্মেষ সাধন করছে ।

১৯৬০ সালে দিল্লীতে ‘পরলোকে সুগম যাত্রা’ নামক প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ ।
১৯৬২ সালে দিল্লীতে শ্রীমদভাগবতের ১ম স্কন্ধের ১ম খন্ড ইংরেজীতে প্রকাশ ।

১৯৬৫ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ কপর্দকহীন অবস্থায় আমেরিকায় নিউইয়র্ক শহরে পৌছান । প্রায় এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করার পর তিনি ১৯৬৬ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণাবনামৃত সংঘ বা ইসকন । তাঁর সযত্ন নির্দেশনায় এক দশকের মধ্যে গড়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী শতাধিক আশ্রম, বিদ্যালয়, মন্দির ও পল্লী-আশ্রম । বিশ্বের সমস্ত দেশের বুদ্ধিশীল মেধাবী তরুন তরুনীরা এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করতে থাকেন ।

১৯৬৬ সালের শেষে ইসকনের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা ।
১৯৬৭ সালে ৯ জুলাই পাশ্চাত্যে (সানফ্রান্সিসকো) প্রথম রথযাত্রা উৎসব পালন ।

১৯৬৮ সালে শ্রীল প্রভুপাদ পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পার্বত্য-ভূমিতে গড়ে তোলেন নব বৃন্দাবন, যা হল বৈদিক সমাজের প্রতীক । এই সফলতায় উদ্ধুব্ধ হয়ে তাঁর শিষ্যবৃন্দ পরবর্তীকালে ইউরোপ ও আমেরিকায় আরও অনেক পল্লী-আশ্রম গড়ে তোলেন ।

১৯৬৯ সালে ২৩ জুন লস এঞ্জেলেসে ১ম রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা, যা কয়েকটি টিভি চ্যান্যালে সরাসরি দেখানো হয় যার মধ্যে অন্যতম বি.বি.সি ।

১৯৬৯ সালে ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনে শ্রীশ্রী রাধা-লন্ডনেশ্বর বিগ্রহ স্থাপন ও মন্দির উদ্বোধন ।
১৯৭০ সালে সমগ্র বিশ্বের ইসকন পরিচালনার জন্য গভর্নিং বডি কমিশন (জিবিসি) গঠন ।
১৯৭১ সালে জুনে মস্কো পরিদর্শন এবং সেখানে কৃষ্ণভাবনার বীজ রোপন ।

শ্রীল প্রভুপাদের অনবদ্য অবদান হল তাঁর গ্রন্থাবলী । তাঁর রচনাশৈলী আধুনিক, কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ ও প্রাঞ্জল এবং শাস্ত্রানুমোদিত । সেই কারনে বিদগ্ধ সমাজের তাঁর রচনাবলী অত্যন্ত সমাদৃত এবং বহু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে আজ সেগুলি পাঠ্যরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে । বৈদিক দর্শনের এই গ্রন্থাবলী প্রকাশ করছেন তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশনী সংস্থা ‘ভক্তিবেদান্ত বুক ট্রাস্ট’ । শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের সপ্তদশ খন্ডের তাৎপর্যসহ ইংরেজী অনুবাদ আঠার মাসে সম্পূর্ণ করেছিলেন । বিশ্বের নানা ভাষায় তা অনূদিত হয়েছে ।

১৯৭২ সালে আমেরিকার ডালাসে গুরুকুল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বৈদিক শিক্ষা-ব্যবস্থায় প্রচলন করেন । ১৯৭২ সালে মাত্র তিনজন ছাত্র নিয়ে এই গুরুকুলের সূত্রপাত হয় এবং আজ সারা পৃথিবীর ১৫ টি গুরুকূল বিদ্যালয় ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ২০০০ জন ।

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শ্রীধাম মায়াপুরে শ্রীল প্রভুপাদ সংস্থার বিশ্ব-মুখ্য কেন্দ্রটি স্থাপন করেন ১৯৭২ সালে । এখানে ৫০ হাজার ভক্ত সমন্বিত এক বৈদিক নগরীর তিনি সূচনা করেন । এখানে বৈদিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি বর্ণাশ্রম কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও তিনি দিয়ে গেছেন । শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশে বৈদিক ভাবধারার উপর প্রতিষ্ঠিত এই রকম আর একটি আশ্রম গড়ে উঠেছে বৃন্দাবনের শ্রীশ্রীকৃষ্ণ-বলরাম মন্দিরে, যেখানে আজ দেশ-দেশান্তর থেকে আগত বহু পরমার্থী বৈদিক সংস্কৃতির অনুশীলন করেছেন । তাঁর সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিকল্পনা রূপায়িত হতে চলছে শ্রীমায়াপুরে । ৩৬ তলা সমান উঁচু বৈদিক গ্রহমন্ডল মন্দির (বিশ্বের সবচেয়ে বড় মন্দির) হবে পৃথিবীর এক আশ্চর্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন, (যা এখন কাজ চলছে শেষ হবে ২০১৫-১৬ সালে) এবং পৃথিবীর মানুষকে মহাপ্রভুর বাণী গ্রহনে আকৃষ্ট করবে ।


১৯৭৫ সালে ইসকনের বিজ্ঞান গবেষণামূলক শাখা ‘ভক্তিবেদান্ত ইনিস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন ।

১৯৭৭ সালে এই ধরাধাম থেকে অপ্রকট হওয়ার পূর্বে শ্রীল প্রভুপাদ সমগ্র জগতের কাছে ভগবানের বাণী পৌছে দেবার জন্য তাঁর বৃ্দ্ধাবস্থাতেও সমগ্র পৃথিবী ১৪ বার পরিক্রমা করেন । মানুষের মঙ্গলার্থে এই প্রচার-সূচীর পূর্ণতা সাধন করেও তিনি বৈদিক দর্শন, সাহিত্য ধর্ম ও সংস্কৃতি সমন্বিত ৮০ টি গ্রন্থাবলী রচনা করে গেছেন, যার মাধ্যমে এ জগতের মানুষ পূর্ণ আনন্দময় এক দিব্য জগতের সন্ধান লাভ করবে । তিনি এই জড়বাদী ইন্দ্রিয়তৃপ্তি কেন্দ্রিক সভ্যতায় এক নতুন জীবন-প্রণালী, এক পরিশুদ্ধ সুন্দর পবিত্র জীবনধারা সারা পৃথিবীতে প্রবর্তন করে গিয়েছেন, যা আধুনিক বিশ্বে এক নতুন পারমার্থিক রেনেসাঁ বা নবজাগরনের সূত্রপাত করেছে । এটি মহীরূহের আকার গ্রহণ করে পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত হবে, পৃথিবীর মানুষ হবে প্রকৃতই সুখী – শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ।

শ্রীল প্রভুপাদের অবিস্মরণীয় অবদানের কিছু দৃষ্টান্ত------

# সারা পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের প্রধান প্রধান শহর-সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০০ এর বেশি কেন্দ্র, মন্দির, কৃষি খামার ।

# পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন গ্রহণ করেছেন; কদাভ্যাস ত্যাগ করে ভক্তিযোগ অনুশীলন করছেন । (আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি তথ্য অনুসারে শুধু আমেরিকাতেই এই সংখ্যা কয়েক লক্ষ, আর এখন সবচেয়ে বেশি প্রচার ও ভক্ত হচ্ছে রাশিয়াতে) ।

# নিউইয়র্কের ‘ভক্তিবেদান্ত আর্কাইভ্স’-এ সংগ্রহীত হয়েছে শ্রীল প্রভুপাদের নানা সময় নানা দেশে প্রদত্ত ২৫০০ ঘন্টারও বেশি ইংরেজী অডিও ভাষণ, ৫০ ঘন্টা ভিডিও, ৩০ হাজারেরও বেশি নানা শিল্পীর অংকিত কৃষ্ণভাবনাময় চিত্রকর্ম ছবি ।

# শ্রীল প্রভুপাদের অনবদ্য ভাষা-সমন্বিত ইংরেজী ভগবদগীতা অ্যাজ ইট ইজ এখন ১০৫ টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে সারা পৃথিবীর প্রত্যেক অঞ্চলে পৌছাচ্ছে । ১৯৯৬ সালের পূর্বেই পাঁচ কোটিরও বেশি সংখ্যায় বিতরিত হয়ে ইতিমধ্যেই 'ভগবদগীতা অ্যাজ ইট ইজ' পৃথিবীর বেস্
ট সেলার হিসেবে গিনেস বুকে স্থান করে নিয়েছে । পৃথিবীর বহু নামী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বইটি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।

# শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী প্রকাশিত হয় ‘ভক্তি বেদান্ত বুক ট্রাস্ট’ বা বি. বি. টি থেকে, সেটি এখন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রকাশনা সংস্থা । যা প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭০ সালে ।

সারা পৃথিবীতে ইসকন মন্দির, কেন্দ্র, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের সাম্প্রতিকতম খবরাখবর, তথ্যাদি জানতে ইন্টারনেটে ইসকনের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটwww.krishna.com দেখুন । এর থেকে ইসকনের আরও অনেক আকর্ষণীয় ওয়েবসাইটর ঠিকানা পাওয়া যাবে ।

তাছাড়া ইসকন চট্টগ্রামের ওয়েবসাইটর ঠিকানাwww.iskconctg.org

ইসকন বাংলাদেশ www.iskconbd.org

ইসকন সিলেট www.iskconsylhet.com

আর এই প্রথম ই-পারমার্থিক পত্রিকা পড়তে পারেন সম্পূর্ণ বাংলায় www.caitanyasandesh.com

আর google এ iskcon দিয়ে সার্চ দিলে হাজার হাজার ওয়েবসাইটর ঠিকানা বের হবে ।


লিখেছেন সুশান্ত বন্দ
Share:

সতীদাহ প্রথা ও বিধবা বিবাহ


মধ্যযুগে যখন ধর্মব্যবসায়ী এবং বিদেশীদের চক্রান্তে সনাতন ধর্মালম্বীদের বেদজ্ঞান হয়ে পড়েছিল অতি দুষ্প্রাপ্য তখন সমাজে অনুপ্রবেশ করে সতীদাহ প্রথা নামক ঘৃন্য প্রথা।এছাড়াও বিধবা নারীদেরকেও পুনরায় বিয়ের সুযোগ না থাকায় অনেক নিপীড়িত হতে হয়,তারা যেন ছিল এক বোঝা।তবে রামমোহন রায় এবং বিদ্যাসাগর দের মত মহান ব্যক্তিত্বরা বেদ এর মাধ্যমে এসব প্রথাকে ভুল প্রমান করেন এবং হিন্দু... সমাজ রক্ষা পায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে।

অধুনা কিছু নাস্তিক ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের মধ্যে কিছু কুচক্রী লোক বেদএর কিছু মন্ত্র এর রেফারেন্স দেয় সতীদাহ প্রথা এর পক্ষে হিসেবে দাবীকরে।তারা অথর্ববেদ ১৮.১.১-২এর রেফারেন্স দেয়।মজার বিষয় হল রেফারেন্সটা দেখলেই বোঝা যায় যে তারা জীবনেও এই মন্ত্রগুলো পড়ে দেখেনি,কিছু নাস্তিকদের পেইজ থেকে কপি পেষ্ট করেছে মাত্র।কারন দেখা যায় যে ওই মন্ত্র দুইটি সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন তো দুরে থাক,বরং স্বামীর মৃত্যুর পরস্ত্রীর সুখী জীবন নিশ্চিত করতে বলেছে এবং প্রয়োজনে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে।দেখা যাক বেদ এর মন্ত্রগুলো-

অথর্ববেদ ১৮.১.৩

ইয়ং নারী পতি লোকং বৃণানা নিপদ্যত উপত্ব্য মর্ন্ত্য প্রেতম্।
ধর্মং পুরাণমনু পালয়ন্তী তস্ম্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি।।

মর্ত্য-হে মনুষ্য,ইয়ং নারী-এই স্ত্রী,পতিলোকম- পতিলোককে অর্থাত্‍ বৈবাহিক অবস্থাকে,বৃণনা- কামনা করিয়া,প্রেতম-মৃত পতির,অনু-পরে,উপ ত্বা-তোমার নিকট,নিপদ্যতে-আসিতেছে,পুরাণম-স নাতন,ধর্ম্মম- ধর্মকে,পালয়ন্তী-পালন করিয়া,তস্য-তাহা র জন্য,ইহ-এই লোকে,প্রজাম্- সন্তানকে,দ্রবিণং- এবং ধনকে,ধেহি-ধারন করাও

অর্থাত্‍,হে মনুষ্য!এই স্ত্রী পুনর্বিবাহের আকাঙ্খা করিয়া মৃত পতির পরেতোমার নিকট আসিয়াছে।সে সনাতন ধর্মকে পালন করিয়া যাতে সন্তানাদি এবং সুখভোগ করতে পারে।

এই বিষয়ে একই ভাবে তৈত্তিরীয় আরন্যক ৬.১.৩ এ বলা হয়েছে-

ইয়ং নারী পতিলোকং বৃণানা নিপদ্যত উপত্বা মর্ত্য প্রেতম।
বিশ্বং পুরাণ মনু পালয়ন্তী তস্যৈ প্রজাং দ্রবিণং চেহ ধেহি।।

অর্থাত্‍,হে মনুষ্য!মৃত পতির এই স্ত্রী তোমার ভার্যা।সে পতিগৃহ সুখের কামনা করিয়া মৃত পতির পরে তোমাকে প্রাপ্ত হইয়াছে।কিরুপ ভাবে?অনাদি কাল হইতে সম্পূর্ন স্ত্রী ধর্মকে পালন করিয়া।সেই পত্নীকে তুমি সন্তানাদি এবং ধনসম্পত্তি সহ সুখ নিশ্চিত কর।

পরের মন্ত্রটি দেখি,
অথর্ববেদ ১৮.৩.২(এই মন্ত্রটি ঋগবেদ ১০.১৮.৮ এ ও আছে)

উদীষর্ব নার্ষ্যভি জীবলোকংগতাসুমেতমুপশেষ এহি।
হস্তাগ্রাভস্য দিধিষোস্তবেদং পত্যুর্জনিত্বমভ সংবভূব।।
নারী-হে স্ত্রী!তুমি, এতত্‍ গতাসুম্-এই গতপ্রান পতির,উপশেষে-শয়ন করিয়া আছ(মায়া ধরে আছ),জীবলোকং অভি উদীর্থ-(মায়া ত্যগ করে) বাস্তবতায় ফিরে এস(জীবলোকে),তব- তোমার,হস্তগ্রাভস্য দিধিষোঃ- পাণিগ্রহনকারী,পত্যুঃ-
পতির সঙ্গে,ইদং জনিত্বম-আবার পত্নীত্ব,অভি সংবভুব-সৃষ্টি হল

অর্থাত্‍,হে নারী!মৃত পতির শোকে অচল হয়ে লাভ কি?বাস্তবজীবনে ফিরে এস।পুনরায় তোমার পাণিগ্রহনকারী পতির সাথে তোমার আবার পত্নীত্ব তৈরী হবে।

সায়নভাষ্যে এই মন্ত্রের অর্থ দেখা যায় এরকম-
"হে মৃতপতীর পত্নী!জীবিত পুত্রপৌত্রের লোক অর্থাত্‍গৃহের কামনা করে শোক ত্যগ কর।মৃত পতির মায়া ত্যগ কর।তোমার পাণিগ্রহনকারী পতির স্ত্রী হইবার ইচ্ছায় তুমি নিশ্চিতরুপে অনুসরন কর।

প্রায় একইভাবে তৈত্তিরীয় আরন্যক এ বলা হয়েছে ৬.১.১৪ তে,
"হে নারী!তুমি এই মৃতপতির মায়ায় আবদ্ধ হয়ে আছ।এই মায়াত্যগ কর।পুনরায় পতি কামনা কর এবং পাণিগ্রহনকারী বিবাহের অভিশাষী এই পতিকে জায়াত্বের সহিত প্রাপ্ত হও"

অর্থাত্‍ মন্ত্রদুটিতে সতীদাহ প্রথার কোন কথাই নেইবরং স্বামী মৃত্যুর পর স্ত্রীকে শোকে মুহ্যমান হয়ে না পড়ে শোকত্যগ করে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে পুনরায় বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছে। — with

courtsy:Bangali Hindu Post

Share:

শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান হওয়া সত্ত্বেও কেন একজন জরা নামক সাধারন মানুষ দ্বারা শরবিদ্ধ হলেন ?


ত্রেতাযুগে রাম অবতারের সময়ে জরা ব্যাধ ছিলেন বালিপুত্র অঙ্গদ । রামচন্দ্র বালি কে বধ করেছিলেন । অঙ্গদ পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন । পরবর্ত
ীতে ভগবান রামচন্দ্রের শরণাগত হয়ে পরম ভক্ততে পরিনত হন । ত্রেতাযুগে সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ না হওয়ায় দ্বাপর যুগে স্বয়ং ভগবান ভক্তের এই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেন ।

বিশ্রামরত অবস্থায় যখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার ডান চরণ কমল নাড়াচ্ছিলেন তখন ব্যধ হরিণ ভেবে তীর নিক্ষেপ করেন ।জরা যখন বুঝতে পারেন যে তিনি স্বয়ং ভগবানকে ভুলে তীর নিক্ষেপ করেন তত্‍ক্ষনাত্‍ তিনি ভগবানের চরনে দন্ডবতত্‍পূর্বক ক্ষমা প্রার্থনা করেন । এর পর জরা ভগবানের ডান পায়ের তীর অপসারন করেন এবং নিকটস্থ পুকুরে সেই চরণ ধৌত করলেন যা বর্তমানে প্রবাস তীর্থক্ষেত্র নামে পরিচিত ।এখনো সেই পুকুর রয়েছে যেখানের জল পবিত্ররূপে গণ্য করা হয় । এরপর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জরাকে দুঃখিত না হওয়ার জন্য বললেন এবং পূর্বজন্মের প্রতিজ্ঞার কথা জরাকে স্মরণ করিয়ে দেন । ঠিক যেন রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের মত ঘটনা ।এরপর ভগবান জরাকে কৃপা করেন এবং তত্‍ক্ষনাত্‍ জরার বৈকুন্ঠ গতিপ্রাপ্ত হয় । এবার শ্রীকৃষ্ণ চর্তভুজ রূপে পরিগ্রহ করে সেই স্থান থেকে কিছু দূর হেঁটে হিরণ নদীর তীরে গেলেন এবং স্বীয় দেহে বৈকুন্ঠে প্রত্যাবর্তন করলেন । অমল পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবতে এই লীলার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া রয়েছে ।

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারনা রয়েছে যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু হয়েছিল বা নশ্বর দেহ পোড়ানো হয়েছিল ইত্যাদি । কিন্তু এই তথ্য আদৌ সত্য নয় । শ্রীমদ্ভগবদগীতায় স্বয়ং ভগবান উল্লেখ করেছেন যে , "জন্ম কর্ম চ মে দিব্যম " -আমার জন্ম কর্ম দিব্য । এখানে স্পষ্টত ভগবানের সব লীলাই দিব্য এবং তার দেহ সচ্চিদানন্দময় যা কোন জড় নশ্বর দেহ নয় । ভগবানের জন্মকর্ম যেখানে বড় বড় সাধু যোগী এবং দেবতারাও বুঝতে সক্ষম নয় সেখানে সাধারন মানুষের আর কি কথা । তাই পরিপূর্ণ হ্বদয়াঙ্গম না করে ভগবানের লীলা বিষয় কোন মন্তব্য করা উচিত নয় ।


Courtesy- Rathyatra
Share:

পুঠিয়া শিব মন্দির, রাজশাহী

Image may contain: sky, outdoor, water and natureপুঠিয়া শিব মন্দির, রাজশাহী

Puthia shiv mandir, rajshahi

পুঠিয়া রাজবাড়ীর প্রবেশপথে পুকুর পাড়ে বড় আকৃতির এ মন্দিরটির নাম শিব মন্দির। পুঠিয়ার রাণী ভুবন মোহিনী দেবী ১৮২৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। 

পুরো মন্দিরের দেয়াল পৌরাণিক কাহিনি চিত্র খচিত। মূল্যবান এ স্থাপনাটি দীর্ঘ দিন পড়ে ছিল অযত্ন আর অবহেলায়। তবে সুখের কথা হলো বর্তমানে এটির সংস্কারের কাজ চলছে। এশিয়ার অন্যতম বড় শিব মন্দির বলা হয় পুঠিয়ার এ মন্দিরটিকে। এর লাগোয়া পূর্ব পাশে গোল গম্বুজ আকৃতির আরেকটি ছোট মন্দির আছে।
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।