• মহাভারতের শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান

    মহাভারতে যে সময়ের এবং শহরগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই শহরগুলোর বর্তমান অবস্থা কি, এবং ঠিক কোথায় এই শহরগুলো অবস্থিত সেটাই আমাদের আলোচনার বিষয়। আর এই আলোচনার তাগিদে আমরা যেমন অতীতের অনেক ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসবো, তেমনি বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে শহরগুলোর অবস্থা বিচার করবো। আশা করি পাঠকেরা জেনে সুখী হবেন যে, মহাভারতের শহরগুলো কোনো কল্পিত শহর ছিল না। প্রাচীনকালের সাক্ষ্য নিয়ে সেই শহরগুলো আজও টিকে আছে এবং নতুন ইতিহাস ও আঙ্গিকে এগিয়ে গেছে অনেকদূর।

  • মহাভারতেের উল্লেখিত প্রাচীন শহরগুলোর বর্তমান অবস্থান ও নিদর্শনসমুহ - পর্ব ০২ ( তক্ষশীলা )

    তক্ষশীলা প্রাচীন ভারতের একটি শিক্ষা-নগরী । পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তক্ষশীলার অবস্থান ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চল এবং পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে; যা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে খুব কাছে। তক্ষশীলা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৪৯ মিটার (১,৮০১ ফিট) উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতবিভাগ পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির আগ পর্যন্ত এটি ভারতবর্ষের অর্ন্তগত ছিল।

  • প্রাচীন মন্দির ও শহর পরিচিতি (পর্ব-০৩)ঃ কৈলাশনাথ মন্দির ও ইলোরা গুহা

    ১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ। প্রধানত এই মন্দিরটি সাদা আস্তর দেয়া যাতে এর সাদৃশ্য কৈলাশ পর্বতের সাথে বজায় থাকে। এর আশাপ্সহ এলাকায় তিনটি স্থাপনা দেখা যায়। সকল শিব মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে প্রধান মন্দিরের সম্মুখভাগে পবিত্র ষাঁড় “নন্দী” –র ছবি আছে।

  • কোণারক

    ১৯ বছর পর আজ সেই দিন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার দেবতার মূর্তির ‘আত্মা পরিবর্তন’ করা হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। ‘নব-কলেবর’ নামের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হবে। পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে, পূজারীদের বিশ্বাস। এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে, যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে এটা তাঁরা দেখতে না পান। পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রা পরিচালনা করেন পুরোহিতদের যে বংশ, নতুন বিগ্রহ তৈরী তাদেরই দায়িত্ব থাকে।

  • বৃন্দাবনের এই মন্দিরে আজও শোনা যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মোহন-বাঁশির সুর

    বৃন্দাবনের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিধিবন মন্দির। এই মন্দিরেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। যা আজও পর্যটকদের সমান ভাবে আকর্ষিত করে। নিধিবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য-ঘেরা সব গল্পের আদৌ কোনও সত্যভিত্তি আছে কিনা, তা জানা না গেলেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাভূমিতে এসে আপনি মুগ্ধ হবেনই। চোখ টানবে মন্দিরের ভেতর অদ্ভুত সুন্দর কারুকার্যে ভরা রাধা-কৃষ্ণের মুর্তি।

৩১ মে ২০১৮

শ্রীকৃষ্ণ না‌মের ম‌হিমা - ১ম পর্ব

দুই ভাই ছি‌লেন । বড়ভাই অ‌নেক পাপী , ভোগী , কামনা - বাসনায় লিপ্ত ছি‌লেন কিন্তু ছোটভাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছি‌লেন । ছোট ভাই‌য়ের ইচ্ছা ছিল যে , তার বড়ভাই যেন কৃষ্ণ নাম নেন , শ্রীকৃ‌ষ্ণের ভ‌ক্তি ক‌রেন । ছোটভাই অ‌নেক চেষ্টা কর‌লেন কিন্তু বড়ভাই কোনভাবেই কৃষ্ণ নাম ব‌লেন না ।

ছোটভাই প্রায় ম‌ন্দি‌রে যে‌তেন কৃষ্ণকথা শ্রবণ কর‌তেন । এক‌দিন ছোটভাই মন্দি‌র গে‌লেন এবং ম‌ন্দি‌রের কোন একজন সন্ত‌কে বল‌লেন , আপনারা আমা‌দের গৃ‌হে আ‌সবেন এবং প্রবচন ক‌রবেন , হ‌রিনাম কীর্তন কর‌বেন আর আমার বড় ভাই‌কে একটু বুঝা‌বেন যেন আমার ভাইও কৃষ্ণনাম জপ ক‌রেন ।

তখন সাধু বল‌লেন , আমরা তো আপনা‌দের ঘরে যে‌তে পা‌রি কিন্তু আপনার বড় ভাই আমা‌দের কে কি ঘ‌রে আস‌তে দে‌বে । প্রথ‌মে বড় ভ‌াই থেকে অনুম‌তি নি‌য়ে আ‌সেন ।তখন ছোটভাই ঘরে এ‌সে বড় ভাই‌কে বল‌লেন , ভাইয়া আ‌মি ক‌য়েকজন সাধু - সন্ত‌কে ঘ‌রে আন‌তে চাই প্রবচন , হ‌রিনাম করা জন্য আ‌প‌নি অনুম‌তি দিন ।

বড় ভাই বল‌লেন কখনোই না । আ‌মি জা‌নি সাধু কেমন হয় । আ‌মি সাধু‌দের মুখ দেখ‌তে চাই না । ছোট ভাই অ‌নেক বুঝা‌লেন ,ভাইয়া একবার সাধু‌দের আস‌তে দেন । অব‌শে‌ষে অ‌নেক বলার পর বড় ভাই মে‌নে নি‌লেন আর বল‌লেন , যখন সাধুরা আস‌বেন তখন আ‌মি অন্য ঘ‌রের ভেতর দরজা বন্ধ ক‌রে থাক‌ব । আ‌মি সাধু‌দের দর্শন করব না । তোমার যা করার ক‌রে ওনা‌দের বিদায় দিবে ।

যখন সাধুরা চ‌লে যাবেন তখন বল‌বে আ‌মি ঘর থেকে বের হবো । তখন ছোটভাই সাধু‌দের আসার জন্য আমন্ত্রণ জানা‌লেন । সাধুরা আস‌লেন , প্রবচন কর‌লেন , হ‌রিনাম কীর্তন কর‌লেন , প্রসাদ বিতরণ কর‌লেন । যখন সব‌কিছু শে‌ষ হ‌লো , তখন সাধুরা ছোটভাই‌কে বল‌লেন , আপ‌নি তো সবসময় আপনার বড় ভাই‌য়ের কথা ব‌লেন । কিন্তু আমরা তো তা‌কে দেখ‌লাম না ।

কোথায় তি‌নি ! ছোট ভাই‌য়ের মনে ভয় ঢুকল য‌দি বড় ভাই কিছু ক‌রে ব‌সেন । তখন ইশারা দি‌য়ে বল‌লেন , ভেত‌রের রু‌মে আ‌ছেন । তখন সাধুরা দরজা ঠোকা দি‌য়ে বল‌লেন , দরজা খো‌লো । বড়ভাই বল‌লো , আ‌মি দরজা খুল‌বো না । আ‌মি আপনা‌দের মুখ দর্শন করতে চাই না , চ‌লে যান ।

সাধুরা বল‌লেন , দরজা তো খু‌লো , যখন বারবার বলার পর দরজা খুল‌লো না , তখন সাধুরা বল‌লেন দে‌খো আমরা তোম‌ার জন্য কি নি‌য়ে এ‌সে‌ছি । যখন কোন জি‌নিসের কথা শুন‌লো তখন দরজা খু‌লে দিয়ে দেখ‌লে সাধুরা কিছু আনেন নি । তখন তো বড় ভাই‌য়ের কিছু করার ছিল না ।

সাধুর‌া ভেত‌রের রুমে গে‌লেন এবং তা‌কে বল‌লেন তোম‌াকে দেখার জন্য এসে‌ছি , আমরা চ‌লে যাচ্ছি কিন্তু একবার " হ‌রে কৃৃষ্ণ " ব‌লে‌া । তখন সে বল‌লো আ‌মি এসব বল‌বো না । সাধুরা বল‌লো শুধু একবার ব‌লো " হ‌রেকৃষ্ণ "। সে বল‌লো না । এমন করতে কর‌তে যখন কিছু‌তে রাজী হ‌লো না তখন সাধুরা তার হাত পিছ‌নে দি‌কে মো‌ড়ে ধর‌লো । সাধুরা হা‌তে চাপ দি‌য়ে বল‌লো " হ‌রেকৃষ্ণ" ব‌লো । ‌সে বল‌লো না । অব‌শে‌ষে ব্যাথা বে‌শি লাগার কার‌ণে সে ব‌লে‌ই দিলো " হ‌রেকৃষ্ণ " ।

ভক্তগণ জোর ক‌রে কাউকে কিছু করা‌নো যায় না । ত‌বে কৌশল দি‌য়ে কর‌তে হ‌বে । এখা‌নে আপনারা ম‌নে কর‌বেন না যে আবার অত্যাচার ক‌রে ভগবানের নাম ব‌লা‌নো হ‌চ্ছে । ভগবা‌নের নাম তো ভাবের মাধ্য‌মে নি‌তে হয় । তারপরও সাধুর অ‌নেক চেষ্ট‌া করার পর সে " হ‌রেকৃষ্ণ " বল‌লো ।

কিছুদিন পর বড়ভাই গাড়ী এক্সিডেন্টে দেহত্যাগ করলো । জীবনভর পাপ কর‌ছে ফলে নর‌কে তো যেতে হবে । তখন যতদূতরা এ‌সে তা‌কে নর‌কে নি‌য়ে গেল । যমরাজ বল‌লেন , চিত্রগুপ্ত দেখো এ জীব‌নে কি কি ক‌রে‌ছে । তখন চিত্রগুপ্ত হিসাবের খাতা খুল‌তে দেখ‌লো যে , সারাজীব‌নে শুধু পাপ আর পাপ । কিন্তু একবার কৃষ্ণ নাম নি‌য়ে‌ছে ।

চিত্রগুপ্ত যমরাজকে বল‌লেন , মহ‌রাজ এ শুধু জীবনভর পাপই ক‌রে‌ছে কিন্তু একবার কৃষ্ণনাম নি‌য়ে‌ছে এখন কি করা যায় । তখন যমরাজ বল‌লেন , এমন তো কখনো হয়নি । যাঁরা ভক্ত তাঁরা ভ‌ক্তি ক‌রেন , যারা পাপী তারা পাপ ক‌রে । এখন কি করা যায় এ‌কে নি‌য়ে ? ?

===============
জয় রা‌ধে । বাকীঅংশ আগামীকাল।

আমরাও আগামীকাল জানব যে পাপী‌কে নি‌য়ে কি কর‌ছেন যমরাজ চিত্তগুপ্ত ।

(C)  Joy Shree Radha Madhav
Share:

২৯ মে ২০১৮

কেন ক্লাবে বিয়ে নয়, আর কেনই বা মন্দির ভিত্তিক বিয়ে?

যে সমস্ত কারণে কমিউনিটি সেন্টার বা ক্লাবে বিয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্হান;-

1/ সকালে গরু কেটে যে পাত্রে রান্না হয় সেই পাত্র পরিষ্কার না করেই বিকেলে হিন্দু বিয়ের জন্য রান্না হয় ।

2/ সকালে গরুর রক্ত না শুকানোর পূর্বেই সেখানে নারায়ণ শিলা প্রতিষ্ঠিত করে বিয়ে করানো হয় ।

3/ একদিকে মাছ-মাংস খাওয়ার টেবিল সমূহ সাজানো হয়েছে, আরেকদিকে অগ্নি প্রজ্জলন করে অগ্নিকে সাক্ষী করে এবং সমগ্র দেবতাদের ডেকে এনে বিয়ের কাজ সমাধা করা হয় ।

4/ লগ্নের দিন বিয়ে করানোর কারণে ক্লাবের তুলনায় বিয়ের সংখ্যা বেশি থাকে এবং সেই কারণে বিশ হাজার টাকায় যে ক্লাব পাওয়া যায় তা এখন এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা দিতে হচ্ছে, এই টাকা তাদের হাতেই যাচ্ছে যারা আমাদেরকে ধ্বংস করছে ।

5/ একই মানুষকে সাত বার আমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে যা অর্থ ও সময়ের অপচয় ছাড়া অন্য কিছু নয় ।

6/ ক্লাবের বিয়েতে খাওয়ার সময় বাইরের লোক চলে আসে, যা কন্যা পক্ষকে বহন করতে হয় ।

7/ আর্শীবাদ অনুষ্ঠান শুধু মাত্র পাঁচ থেকে দশজন বয়োজ্যেষ্ঠকে নিয়ে মঙ্গলাচরণ

সম্পন্ন করা যায় । সেখানে পাঁচশত লোককে ডেকে খাইয়ে অর্থ শ্রাদ্ধ করানো হচ্ছে, এই অনুষ্ঠানও অনেক সময় ক্লাবে হচ্ছে, যার ফলে একটি মধ্যবিত্ত কন্যাপক্ষকে অতিরিক্ত ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা খরচ করতে হচ্ছে ।

8/ সমস্ত খরচ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কন্যা পক্ষের উপর ।

9/ পাত্রপক্ষ ইদানিং বৌভাত অনুষ্ঠান তুলে দিচ্ছে কারণ অর্থ নষ্ট হয়, কিন্তু কন্যাপক্ষের অর্থ নষ্ট করতে ক্ষতি নেই ।

এখন, আমাদের হিন্দু অভিভাবকরা টাকার অভাবে ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করার সাধ্য নেই, কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে আপত্তি নেই। তাহলে আমরা আর কবে বুঝবো যে বিয়েটা সাত্ত্বিক ভাবে মন্দিরে করতে হবে এবং অপব্যয়টাও রোধ করতে হবে । ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে সমাজকে শ্রেষ্ঠ করতে হবে । মন্দিরে বিয়ে করিয়ে পাত্র ও পাত্রী উভয় পক্ষ মিলে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান করলে আমাদের অপব্যয় কমবে, বিয়েটাও সাত্ত্বিক ভাবে হবে এবং মন্দিরগুলিও লাভবান হবে ।

যেমন এখন বর্তমানে ইসকনের ভক্তরা সেটা করছে।

দেখুন আমাদের সনাতন অবলম্বিদের ঘড়ে যখন একটা শিশুর জন্মের পর তার মুখে প্রথম ভাত দেওয়া হয় মন্দিরে ভগবানের বিগ্রহের সামনে।

কেন মন্দিরে ভগবানের বিগ্রহের সামনে প্রথম মুখে ভাত বা প্রসাদ দেওয়া হয়?

তার কারন শিশুটির যেন মঙ্গল হয় এবং শিশুটি যেন বড় হয়ে ভগবানের ভক্ত হয়।

আর ঠিক একই রখম বিয়েও হচ্ছে একটা মঙ্গল কাজ।

তাই আর নয় ক্লাবে বিয়ে

আসুন আমরা সবাই মিলে মন্দির ভিত্তিক বিয়ের প্রচলন করি। আর পৃথিবীর বহু দেশে যেমন ভারতে, নেপালে, পাকিস্তানে, জাপানে, মালয়েশিয়াতে, ইন্দোনেশিয়াতে এবং থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে হিন্দু বিয়েগুলি মন্দিরেই সম্পন্ন হচ্ছে । তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন? আমরা কি তাদের চেয়ে একটু আলাদা, অবশ্যই নয় ।


আর তাই আমাদের সমাজের শিক্ষিত জ্ঞানি হিন্দুদের কাছে প্রশ্ন রইল,এই কথা গুলি একটু ভেবে দেখবেন ?

Collected
Share:

সংস্কৃত কি ও কেন পড়বেন?

আমার আজকের পোস্টটাও সংস্কৃত সম্বন্ধে। অনেকটাই বড়, একটু ধৈর্য ধরে পড়তে হবে। আপনাদের ভাল লাগলে অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

                                                       সংস্কৃত কি ও কেন পড়বেন?
 
আপনি কি বাংলা বা ইংলিশ বা হিন্দি সাহিত্যের বা দর্শনের বা ইতিহাসের বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বা সমাজতত্ত্বের বা অর্থনীতির বা বিজ্ঞানের ছাত্র, শিক্ষক বা অধ্যাপক? স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়েন বা পড়ান?
আপনি কি নিজের সাব্জেক্ট ভালভাবে জানতে চান,বা নিজেকে পারফেক্ট্রূপে দেখতে চান (relative perfection), আপনার লেখালেখির মান উন্নত করতে চান?
অন্যদের কাছে বেশী গ্রহণযোগ্য হতে চান, তাহলে বন্ধু, সংস্কৃতভাষায় লেখা উক্ত সমস্ত বিষয়ে অনেক বই আছে। বইগুলো একটু পড়ে দেখুন। আশা করি আপনি হতাশ হবেন না।
(এটা সংস্কৃতের বিজ্ঞাপন নয়, প্রকৃত সত্য।)

                                                                                                         অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে
সংস্কৃত একটা ভাষা। কিন্তু না বন্ধু,
সংস্কৃত শুধুই একটা ভাষা নয়, এটা আমাদের culture, আমাদের Identity,
আমাদের পরিচয়, আমাদের উপমহাদেশীয় জাতিসত্তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃত আমাদের গর্ব, সংস্কৃত আমাদের অলংকার, সংস্কৃত আমাদের অহঙ্কার,
আমাদের জীবনের অমৃত রসায়ন । এর রস একটু পান করে দেখুন আনন্দে বুঁদ হয়ে যাবেন। আমাদের প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ যেমন বলেছিলেন—

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি পৃথিবীর মুখ খুঁজিতে চাই না আর
তেমনি আপনিও বলবেন—
সংস্কৃতের রস আমি পান করিয়াছি , অন্য রস খুঁজিতে চাই না আর।

অন্য সকল জাতির পূর্বপুরুষেরা যখন বনে-বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন,
তখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীর সর্বপ্রথম সাহিত্য ও দর্শনের উন্নত গ্রন্থ বেদ লিখে ফেলেছেন। গণিত,
জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র প্রভৃতির অনেক উন্নত চর্চা আমাদের মুনিঋষিরা করে গেছেন। পৃথিবীর সর্বপ্রথম ভাষাতত্ত্বের ও ব্যাকরণের গ্রন্থ আমাদের মনীষীদেরই রচনা। আচার্য পাণিনির ব্যাকরণ কতটা scientific তা আমরা জানি, কিন্তু আমাদের তো নিজেদের ভালটাকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবার স্বভাব আছে, যে পর্যন্ত বিদেশীরা স্বীকৃতি না দেবে, সেই পর্যন্ত আমরা তার দাম দিই না।
ঠিক আছে—আমি সেই সার্টিফিকটটাই (মূল্যায়ন) আপনাদের দেখাই---

the grammar of Panini—is one of the greatest monuments of human intelligence.’’ (Leonard Bloomfield)
—the earliest scientific work in any language any Indo-European language.’’
(Prof. R.H. Robins)

‘‘What is more, it seems that even Panini’s grammar can be interpreted as a fragment of such a ‘generative grammar’ in essentially the contemporary sense of this term.’’ (Noam Chomsky)

(সংস্কৃতে লেখা বইয়ের উপর বিদেশী স্কলারদের অসংখ্য এত ভাল ভাল সার্টিফিকেট (মূল্যায়ন) আছে যে, যারা সংস্কৃতকে অবজ্ঞা করেন,
তারা উপমহাদেশীয় হিসাবে লজ্জা পাবেন। )

আপনি কি নাস্তিক? তাহলে বেদ-উপনিষদগুলি একবার পড়ে দেখুন তো?
না না, আপনার ভয় নেই, আপনি নাস্তিকই থাকবেন, কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গী আরো স্বচ্ছ হবে।
আপনি যদি আস্তিক হন, তাহলে বেদ-উপনিষদ-গীতা, রামায়ণ, মহাভারত পড়া ছাড়া আপনার অন্য কোন বিকল্প নেই।
আপনি কি ডাক্তারি পড়েন বা করেন বা মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করেন বা কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়েন বা গবেষণা করেন? তাহলে কষ্ট করে একবার আমাদের চরকসংহিতা, সুশ্রুতসংহিতা এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থগুলি একবার পড়ে দেখুন । অঙ্ক নিয়ে যাদের কারবার তাঁরা ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্করাচার্য, শ্রীধরাচার্য প্রমুখের গ্রন্থ পড়ে দেখুন। আর যদি আর্কিটেক্চার নিয়ে কাজকর্ম করেন তাহলে আমদের প্রাচীন বাস্তুশাস্ত্রের বইগুলি পড়ে দেখুন। আশা করি আপনারা নিরাশ হবেন না। এই প্রসঙ্গে আপনাদের একটা তথ্য দিচ্ছি--
আপনারা নিশ্চয়ই বিখ্যাত বাঙ্গালী বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নাম জানেন, যাঁর অনেক বিখ্যাত গবেষণা এবং উদ্যোগ বাংলার অনেক উন্নতি সাধন করেছিল সেই প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি টানা ১৫ বছর নিবিষ্টচিত্তে সংস্কৃত পড়েছেন এবং প্রাচীন রসায়ন শাস্ত্রের অনেক গ্রন্থের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন। তিনি ২০০-এর বেশী রসায়ন শাস্ত্রের গ্রন্থের কথা বলেছেন।

যারা ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব নিয়ে পড়ছেন বা পড়াচ্ছেন বা গবেষণা করছেন তাঁরা মহাভারত, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, কামন্দকীয় নীতিসার, নীতিবাক্যামৃত, শুক্রনীতিসার, মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা, পরাশর সংহিতা, বৃহস্পতি সংহিতা, বিদূরনীতি ইত্যাদি গ্রন্থ থেকে অনেক তথ্য পেতে পারেন।

যারা রাজনীতি করেন, নেতা-মন্ত্রী হন, দেশ চালান, তাদের আমি অনুরোধ করব—আপনারা উক্ত বইগুলি পড়ে দেখুন,আপনারা যে পদ্গুলিতে আসীন আছেন সেই পদের গুরুত্ব, সেই পদলাভের যোগ্যতা, কাজের ধরণ, কি কি Moral code of conduct মেনে চলতে হয়, তা যদি আপনারা অনুসরণ করেন, তাহলে সাধারণ পাবলিক আপনাদের salute জানাবে।
যারা কাব্যতত্ত্ব ও নাট্যতত্ত্ব চর্চা করেন, তাদের তো সংস্কৃত কাব্যতত্ত্ব ও নাট্যতত্ত্ব আরো ভাল করে পড়তে হবে। দীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর ধরে সংস্কৃতে এর আলোচনা হয়েছে। আমি কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য করছি—
ভরতের নাট্যশাস্ত্র, ধনঞ্জয়ের দশরূপক, সাগরনন্দীর নাটকলক্ষণরত্নকোষ, আনন্দবর্ধনের ধ্বন্যালোক, দন্ডীর কাব্যাদর্শ, মম্মটের কাব্যপ্রকাশ, বিশ্বনাথের সাহিত্যদর্পণ, রাজশেখরের কাব্যমীমাংসা, কুন্তকের বক্রোক্তিজীবিত, জগন্নাথের রসগঙ্গাধর ইত্যাদি।
যারা দর্শন নিয়ে পড়াশুনা, গবেষণা বা শিক্ষকতা করেন, তাদের তো original সংস্কৃতে লেখা বই পড়তে হয়। যেমন—তর্কসংগ্রহ, ভাষাপরিচ্ছেদ, সাংখ্যতত্ত্ব কৌমুদী, সাংখ্যপ্রবচনভাষ্য, যোগসূত্র, বেদান্তসার, ব্রহ্মসূত্র-শাঙ্করভাষ্য প্রভৃতি। তাঁদের অনেকেরই কেবলমাত্র বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। ফলে মূলের রস তারা পান না।

আপনারা কি জানেন—যাকে এতদিন আমরা শুধুই ধর্মগ্রন্থরূপে মেনে এসেছি, সেই ‘গীতা’ নিয়ে এখন নতুন করে চিন্তা-ভাবনা চলছে—
কীভাবে আধুনিক ম্যানেজমেন্টে গীতার উপদেশ কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে?
যে কোন আকর গ্রন্থের বৈশিষ্টই তাই। যুগে যুগে মানুষের প্রয়োজনে তার নতুন করে মূল্যায়ন হয়, মানুষ তা থেকে বাঁচার রসদ খুঁজে পায়। সেইজন্য ক্লাসিক গ্রন্থ এবং প্রাচীন সংস্কৃতির নিত্য নতুন আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজন।
.
সংস্কৃত আমাদের জীবনে যে কতটা প্রয়োজনীয় সেই সম্বন্ধে আপনাদের কিছু তথ্য দিচ্ছি—
আপনি হয়তো কোন প্রিয়জনের শোকে মুহ্যমান, একটু থিতু হয়ে গীতার সাংখ্যযোগ, জ্ঞানযোগ অধ্যায় দুটি একটু মনোযোগ দিয়ে পাঠ করুন, দেখবেন আপনার এক অনির্বচনীয় অনুভূতি হবে। আপনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, আপনার ভিতরেও অনেক পরিবর্তন আসবে যেটা সারা জীবন আপনাকে হিতাকাঙ্ক্ষী অভিভাবকের মতো গাইড করবে। মনে যে কোন ধরণের অশান্তি এলে গীতা-উপ নিষদ একাগ্রচিত্তে পাঠ করলে মন শান্ত হয়। এটা শুধু আমার একার কথা নয়, এটা অনেক মনীষীর উপলব্ধি।

জ্ঞানের কোন জাত নেই, ধর্ম বা সম্প্রদায়ও নেই। জ্ঞানে সকলের সমান অধিকার। তাই যে কোন লোক এই বইগুলি পড়তে পারে। পড়ে দেখুন উপকার ছাড়া অপকার হবে না। original সংস্কৃতে এবং যথাযথ উচ্চারণ করে পাঠ করলে দেখবেন মনে কি নিবিড় প্রশান্তি! আপনি হয়তো ঝিমিয়ে পড়েছেন, কাজে উৎসাহ পাচ্ছেন না, এনার্জি লস, আপনি শ্রী শ্রী চন্ডী পড়ুন, বা ঋগ্বেদের বাক্ সূক্তের মন্ত্রগুলি জোরে জোরে পাঠ করুন, দেখবেন আপনার সমস্ত জড়তা কেটে গেছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে Music therapy, Counselling এর কার্যকারিতা এখন স্বীকার করা হয়। আমাদের বেদ,
উপনিষদ, গীতা এবং অন্যান্য অনেক গ্রন্থে যে সমস্ত মন্ত্র এবং শ্লোক আছে সেগুলির ছন্দ এবং ধ্বনিমাধুর্য অপূর্ব। এগুলির যথাযথ আবৃত্তির মাধ্যমে সেই therapy-র কাজ করা যেতে পারে।

ভাবছেন আমি কায়দা করেআপনাদের সংস্কৃত পড়ার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করছি? তা কিন্তু একেবারেই নয়। শব্দের যে অপরিমেয় শক্তি আছে তা আমাদের প্রত্যক্ষ-লব্ধ জ্ঞান। আপনি যদি সুন্দর করে কথা বলেন, প্রিয় কথা বলেন,
দেখবেন আপনি নিজেও অন্য সকলের প্রিয় হয়ে গেছেন।
এই শব্দশক্তির বা বাক্ শক্তির গূঢ় রহস্যের কথা আমাদের দার্শনিক এবং বৈয়াকরণরা সবিস্তারে বলে গেছেন। আমি কয়েকটি লাইন আপনাদের বলছি—

‘’ইদমন্ধংতমঃ কৃৎস্নং জায়েত ভুবনত্রয়ম্।
যদি শব্দাহ্বয়ং জ্যোতিরাসংসারং ন দীপ্যতে।।
(কাব্যাদর্শ/১ম পরিচ্ছেদ)

(এই ত্রিভুবন ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকত, যদি শব্দরূপ জ্যোতি সমগ্র সংসারকে আলোকিত না করত।)

গৌর্গৌঃ কামদুঘা সম্যক্ প্রযুক্তা স্মর্যতে বুধৈঃ।
দুষ্প্রযুক্তা পুনর্গোত্বং প্রযোক্তুঃ সৈব শংসতি।।
(কাব্যাদর্শ/১ম পরিচ্ছেদ)

(বুধগণ বা পন্ডিতগণ সম্যক্ভাবে প্রযুক্ত শব্দ বা বাক্ -কে কামধেনুর মত মনে করেন। অর্থাৎ শব্দ ঠিক ঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে তা থেকে অভীপ্সিত অর্থ লাভ করা যায়। আবার, এই শব্দই যদি ঠিকভাবে প্রয়োগ করা না হয়,
তাহলে বক্তার মূর্খতাই প্রতিপাদন করবে। )

আচার্য ভর্তৃহরি শব্দ নিয়ে অনেক গভীর দার্শনিক আলোচনা করেছেন। তাঁর বাক্যপদীয় গ্রন্থটি অনেক দার্শনিক, বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু। এখনও এই বই নিয়ে গবেষণা চলছে।
কেউ বলেন—সংস্কৃত dead language, কেউ বলেন— living language, আমি বলি সংস্কৃত নিয়ে তর্ক করো না। সংস্কৃত ভারতের আত্মা (Soul), সংস্কৃত ভারতের চেতনা (conciousness) । সংস্কৃত ছাড়া ভারতবর্ষ অস্তিত্বহীন। আপনারা অনেকেই জানেন ভারতবর্ষকে ভালবেসে কত বিদেশী মনীষী সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিসের জন্য?
ভারতবর্ষে কী ছিল যার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ? তাঁদের জীবনব্যাপী নিরলস সাধনা? কীসের জন্য? তা হল—
ভারতবর্ষের সংস্কৃতি যা সংস্কৃতে বিধৃত।

ভারতবর্ষের প্রাচীন মুনি-ঋষিরা সুদীর্ঘকাল যাবৎ কঠোর তপস্যায় জগৎ ও জীবনের যে সুগভীর সত্য উপলব্ধি করেছিলেন, তাই সংস্কৃত ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন। যুগে যুগে সেই জীবন সত্যের সন্ধান পেতে বিদেশী পর্যটকরা এসেছেন। নিজেদের দেশে নিয়ে গেছেন আমাদের পূর্বপুরুষদের সত্যসন্ধানী আলো। এর দ্বারা তাঁরা জীবন-পথের দিশা খুঁজে পেয়েছেন।

বিশ্বমানবতাবাদ- প্রতিষ্ঠা, মানুষে মানুষে মৈত্রীস্থাপন, সমগ্র জীবজগৎ ও জড়জগৎ-এর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কস্থাপন, এককথায় সমস্ত বিশ্ববাসীর কল্যাণসাধন ভারতবর্ষের চিরন্তন সাধনা। আমাদের উপনিষদে বার বার এই কথাই ধ্বনিত হয়েছে। আমরা আমাদের গৌরবময় অতীতকে ভুলেছি বলেই আজ আমাদের এই দুর্দশা। আমাদের নীতি-নৈতিকতা আজ তলানিতে ঠেকেছে। আমাদের সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আমরা মানবিক গুণগুলি হারিয়ে ফেলছি। সমাজের creamy layer বলে যারা সম্মানিত তাঁরাও আজ অবক্ষয়ের শিকার। এই চোরাবালিতে পড়ে আমরা যেন অসহায়ভাবে নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি।
এই অবস্থায় একমাত্র প্রতীকার হতে পারে যদি কালবিলম্ব না করে সংস্কৃতের ব্যাপক চর্চা শুরু করা যায়। আসুন না আমরা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি—
সংস্কৃত পড়ে জীবনে তার প্রয়োগ করে নিজেদের এবং সমাজকে একটু বদলাতে পারি কি না। সবশেষে প্রার্থনা করি—

‘’সমানী ব আকূতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ।
সমানমস্তু বো মনো যথা বঃ সুসহাসতি।।"
(ঋগবেদ—সংজ্ঞানসূক্ত)

(তোমাদের অভিপ্রায় এক হোক, অন্তঃকরণ এক হোক, মন এক হোক, তোমরা যেন সর্বাংশে সম্পূর্ণরূপে একমত হও।)

ধন্যবাদন্তে--
শ্রী লিটন দে
সংস্কৃত বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
Share:

১১ মে ২০১৮

শরভ_বা_শরভেশ্বর_অবতার

ভগবান বিষ্ণুর নৃসিংহ অবতার ধারন করে হিরণ্যকশিপু নামক অসুরকে দমন করেন,তা অনেকেরই জানা কিন্তু ভগবান নৃসিংহ দেব হিরণ্যকশিপুকে বধ করলেও কিছুতেই তাঁর ক্রোধ শান্ত হচ্ছিলো না। প্রহ্লাদ, মা লক্ষ্মীসহ আরো অনেক দেবতা ভগবানের ক্রোধ শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। সেই ক্রোধে বিশ্ব সংসারের ইতির আশঙ্কা করছিলেন দেবতা ও ঋষিগণ। এরপর পিতামহ ব্রহ্মা সহ সব দেবতা এবং ঋষিগণ ভগবান শিবের স্মরণে চলে যান।তাদের অনুরোধে ভগবান নৃসিংহদেবের ক্রোধ শান্ত করতে প্রথমে বীরভদ্র কে পাঠান। কিন্তু রজঃগুণ সম্পন্ন রক্ত পান করার কারনে কিছুতেই তাঁর ক্রোধ শান্ত হচ্ছিলো না। ব্যর্থ হয়ে বীরভদ্র মহাদেবের হস্তক্ষেপ প্রার্থণা করেন। এরপর দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর ওমকার স্বরুপের সবচেয়ে ভয়ংকর রুপ ধারন করেন।

এই রুপ শরভ অবতার বা শ্রী শরভেশ্বর নামে পরিচিত। এই ভয়ংকর রুপে শক্তি তথা সঙ্গী হিসেবে মা আদিশক্তির দুইটি রুপ তথা মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবী এবং মা শ্রী শুলিনী দেবী ছিলেন। মহাদেবের এই শরভ রুপ মানুষ, সিংহ এবং ঈগলের সমন্বয়। এই রুপের সহস্র মুখ এবং দুইটি বিশাল ডানা ( যা মা শ্রী শুলিনী এবং মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবীর প্রতীক), অষ্টপদ এবং নানা অস্ত্রধারী চার হস্তের কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। এইরুপে উড়ে এসে ভগবান নৃসিংহকে শান্ত করতে চাইলে এর বিপরীত হয়। প্রচণ্ড ক্রোধে ভগবান নৃসিংহদেব অষ্টমুখী "কাণ্ডাবেড়ুণ্ডা" নামক পক্ষীরুপ ধারন করেন এবং শ্রী শরভেশ্বর অবতারের সাথে যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধ ১৮দিন স্থায়ী ছিল। এরপর মহাদেব তাঁর এই দিব্য খেলার সমাপ্তি ঘোষনা করতে চাইলেন। শ্রী শরভেশ্বরের ডানা থেকে মা প্রাত্যাঙ্গীরা দেবী উদ্ভূত হলেন এবং বিরাট আকৃতির রুপ নিয়ে কাণ্ডাবেড়ুণ্ডা নামক পক্ষীরুপকে গ্রাস করে নিলেন। এরপর নৃসিংহদেবের ক্রোধ শান্ত হয় এবং শ্রী শরভেশ্বরের স্তুতি গাইলেন, যা বর্তমানে শ্রী শরভেশ্বরের ১০৮ নামাবলী হিসেবে পরিচিত। এভাবেই দেবাদিদেব মহাদেব ভগবান নৃসিংহদেব কে সমস্ত ভক্তদের জন্য উপলভ্য করেন।

বিভিন্ন বৈষ্ণব শাস্ত্রে ভগবান নৃসিংহদেবের হিরণ্যকশিপু বধ পরবর্তী ধ্বংসলীলার এবং দেবাদিদেব মহাদেবের শরভ অবতার গ্রহণের বর্ণনা বিস্তারিত দেওয়া নেই। কিন্তু ভারতবর্ষে অজস্র মন্দির এবং চিত্র অংকন খুঁজে পাওয়া যায় মহাদেবের এই রুপ নিয়ে। শ্রীমদ ভগবতম এর মত মহাপুরাণেও শরভ অবতারের বর্ননা পাওয়া যায় না। ভগবান নৃসিংহদেব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পূরাণ এবং উপনিষদেও উল্লেখ পাওয়া যায় না। বরং হিরণ্যকশিপু বধের পর ভক্ত প্রহ্লাদ ও মা লক্ষ্মী সহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রচেষ্টায় তাঁর ক্রোধ শান্ত হবার কথা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রধান চারটি বেদের একটি অথর্ববেদ এবং ৩১টি উপনিষদের এক শরভ উপনিষদে মহাদেব শিব শম্ভুর শ্রী শরভেশ্বর অবতারের বিভিন্ন স্তুতি এবং কিভাবে এই রুপে নৃসিংহ দেবের ক্রোধ শান্ত করেন তাঁর বর্ণনা পাওয়া যায়। শরভ উপনিষদের ৩ নং শ্লোকে অতি সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। ঋগবেদেও এই রুপের উল্লেখ পাওয়া যায় কিছু মন্ত্রের মধ্যে।

শিব মহাপুরাণ, লিঙ্গপূরাণ, স্কন্ধপূরাণ, ব্রহ্মাণ্ড পূরানে এর বিস্তারিত উল্লেখ আছে। শ্রী ললিতা সহস্রনামার উত্তরভাগে, শ্রী শরভেশ্বর অবতারের একটি বৈদিক মন্ত্র পাওয়া যায় যা অথর্ববেদে উল্লেখিত। মহাঋষি বেদব্যাস লিঙ্গপূরাণের ৯৬ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন শ্রী শরভেশ্বর অবতারের আরাধনা করলে সবরকমের বিপদ আপদ থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়। শ্রী নৃসিংহ সহস্র নামায় "শ্রী শরভ" নামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা পিতামহ ব্রহ্মা ভগবানের ক্রোধ শান্ত করতে পাঠ করেছিলেন। অজ্ঞাত কিছু উৎস থেকে পাওয়া যায়, ভগবান নৃসিংহের ক্রোধ শান্ত করার পর দেবাদিদেব মহাদেব বলেছিলেন "অসুরদের দমন করতে ভগবান নৃসিংহ অবতার ধারন করে এসেছিলেন, এবং তাঁর ক্রোধকে শান্ত করতে আমি শরভেশ্বরের রুপ ধারন করেছি।কিন্তু এই দুই রুপের কোন পার্থক্য নেই এবং এক হিসেবেই আরাধনা করতে হবে।" এজন্যেই শ্রী শরভেশ্বর রুপের আরাধনা করার পূর্বে ভগবান নৃসিংহদেবের আরাধনা করতে হয়।
দক্ষিন ভারতে মহাদেবের শরভ রুপের আরাধনা বেশি হয়, এই আরাধনা সূচনা করেছিলেন স্বয়ং পিতামহ ব্রহ্মা।।
জয় মা মঙ্গলা।
জয় ভগবান শরভেশ্বর।।
জয় ভগবান নৃসিংহ।।

(C) Apurba Halder
Share:

০৬ মে ২০১৮

কৃষ্ণ কে? গীতায়, ভাগবতে কৃষ্ণ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?

কৃষ্ণ হচ্ছে সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রেষ্ঠ, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র মালিক,একমাত্র উপাস্য,একমাত্র স্রষ্টা, পরম পুরুষোত্তম, পরমেশ্বর ভগবান।তিনিই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং সংহারকর্তা। গীতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী।
দেখা যাক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার নিজের সম্পর্কে গীতায় কি বলেছেন-

১/ যে ব্যক্তি কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত নয়,তার মন সংযত নয়। (২/৬৬)
২/ সকলেই সর্বতোভাবে আমার পথ অনুসরণ করে।(৪/১১)
৩/ আমি সর্বলোকের মহেশ্বর (মহ+ঈশ্বর)। (৫/২৯)
৪/ আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ। (৭/৬)
৫/ আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। (৭/৭)
৬/ পরমাত্মা রুপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। (৭/২১)
৭/ পরমেশ্বর ভগবান রুপে আমি অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূূর্ণরুপে অবগত। (৭/২৬)
৮/ আমাকে প্রাপ্ত হলে আর পূর্ণজন্ম হয় না। (৮/১৬)
৯/ সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর ভগবানকে অনন্যা ভক্তির মাধ্যমেই কেবল লাভ করা যায়। (৮/২২)
১০/ অব্যক্ত রুপে আমি সমস্ত জগতে ব্যাপ্ত আছি। (৯/৪)
১১/ আমি নিজেই সমস্ত সৃষ্টির উৎস। (৯/৫)
১২/ এই জগৎ আমারই প্রকৃতির অধীন। (৯/৮)
১৩/ আমিই এই জগতের পিতা। (৯/১৭)
১৪/ আমিই এই জগতের বিধাতা  (সৃষ্টিকর্তা) । (৯/১৭)
১৫/ আমি সকলের গতি। (৯/১৮)
১৬/ আমি তাপ প্রদান করি এবং আমি বৃষ্টি বর্ষণ করি ও আকর্ষণ করি। (৯/১৯)
১৭/ আমিই সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা ও প্রভু। (৯/২৪)
১৮/ আমি সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন। (৯/২৯)
১৯/ সব কিছু আমার থেকে প্রবর্তিত হয়। (১০/৮)
২০/ মনুষ্যদের মধ্যে আমি সম্রাট। (১০/২৭)
২১/ অব্যয় অমৃতের,শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের আমিই আশ্রয়। (১৪/২৭)
২২/ আমিই সমস্ত বেদের জ্ঞাতব্য এবং আমিই বেদান্তকর্তা ও বেদবিৎ। (১৫/১৫)
২৩/ বেদে আমি পুরুষোত্তম নামে বিখ্যাত। (১৫/১৮)
২৪/ সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরনাগত হও। (১৮/৬৬)

আর ভাগবতে বলা হয়েছে -
১/ ভগবান হচ্ছেন দ্রষ্টা। (৩/৫/২৫)
২/ ভগবান নিত্য আনন্দময় এবং জ্ঞানময়।(৩/৯/৩)
৩/ শ্রীকৃষ্ণ সর্ব মঙ্গলময়।(৩/৯/৭)
৪/ শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং। (১/৩/২৮)
৫/ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সর্বকারণের পরম কারণ।( ৩/১১/২৪)
৬/ পরমেশ্বর ভগবানের শক্তি অনন্ত। (৩/৯/২৫)
৭/ ভগবানের রুপ সর্বদাই তরুন।( ৪/৮/৪৬)
৮/ ভগবান একজন পুরুষ।(৪/৮/৪৭)
৯/ শ্রীকৃষ্ণ সর্বশক্তিমান। ( ৪/৯/৬)
১০/ শ্রীকৃষ্ণ সব কিছুর সংহারকর্তা। তার আদি নেই,যদিও তিনি সব কিছুর আদি।(৪/১১/১৯)

(C)  হিমাদ্রী পূর্বা স্তূতি
Share:

সনাতন ধর্ম অনুসারে একজন পুরুষ কিংবা একজন নারী কোন সম্পর্কের ব্যাক্তিকে বিবাহ করতে পারবেনা ?

প্রথম বলে দেওয়া ভালো সনাতন ধর্মের নিজ বংশের মধ্যে বিবাহ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। যদিও অনেকে বলে সনাতন ধর্মের এরকম কথা কোথাও বলা হয়নি কাকে বিবাহ করবে আর কাকে করবেনা?

দেখা যাক সনাতন শাস্ত্র কি বলেছে এই সম্পর্কে?

মনুসংহিতা ৩/৪:
গুরুণামতঃ স্নাত্বা সমাবেত্তো যথাবিধি।
উদ্বহেত দ্বিজো ভার্য্যাং সবর্ণাং লক্ষাণান্বিতাং।।

অনুবাদ:- “গুরু অনুমতি করিলে পর, সমাবর্ত্তনানস্তর বিধানানুসারে ব্রতাঙ্গ স্নান সমাপন করিয়া সেই ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয় সুলক্ষণাক্রান্তা সবর্ণা স্ত্রী বিবাহ করিবেন”

অর্থাৎ গুরু গৃহ থেকে বিদ্যা লাভ করে , গুরুদেবের অনুমতি নিয়ে বিবাহ করার কথা বলা হয়েছে।

মনুসংহিতা ৩/৫:-
অসপিন্ডা চ যা মাতুরসগোত্রা চ যা পিতুঃ।
সা প্রশস্তা দ্বিজাতীনাং দারকর্ম্মাণি মৈথুনো।।

অনুবাদ:-  “যে স্ত্রী মাতার সপিন্ডা না হয়, অর্থ্যাৎ সপ্তপুরুষ পর্য্যন্ত মাতামহাদি বংশজাত না হয় ও মাতামহের চতুর্দ্দশ পুরুষ পর্য্যন্ত সগোত্রা না হয় এবং পিতার সগোত্রা বা সপিন্ডা না হয় অর্থ্যাৎ পিতৃয়স্রাদি সন্ততি সম্ভূতা না হয়, এমন স্ত্রীই দ্বিজাতিদিগের বিবাহের যোগ্যা জানিবে”

স্বপিন্ড মানে হলো নিজ বংশ। আর এই শ্লোকে এটা স্পস্ট যে নিজ রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ করা যাবেনা।

মনুসংহিতা ৩/৬:-
মহান্ত্যপি সমৃদ্ধানি গোহজাবিধনধান্যতঃ।
স্ত্রী সম্বন্ধে দশৈতানি কুলানি পরিবর্জয়েৎ।।

অনুবাদ:-  “গো, মেষ, ছাগ ও ধন-ধান্য দ্বারা অতিসমৃদ্ধ মহাবংশ হইলেও বিবাহ বিষয়ে এই বক্ষ্যমাণ দশ কুল পরিত্যাগ করিতে হইবে”

এই শ্লোকের মূলকথা কোটিপতি কিংবা ধনাঢ্য ব্যক্তি হলেও স্বপিন্ডেরর মধ্যে বিবাহ করতে পারবেনা। অন্তত দশ পুরুষ পর্যন্ত।
লেখার মাধ্যমে যদি কোন ভূল হয় সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
 হরে কৃষ্ণ

(C) প্রিয়নত্রিলা দাশ সস্তিকা
Share:

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

১১৩৭ বঙ্গাব্দ বা ইংরেজী ১৭৩০ খ্রীষ্টাব্দের কথা, তৎকালীন যশোহর জেলা আর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমা- এর চৌরশী চাকলা নামক গ্রামে শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছিল রামনারায়ন এবং মায়ের নাম কমলা দেবী। বাবা ছিলেন একজন ধার্মীক ব্রাহ্মণ।


বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন লোকনাথ বাবা। সেই সময়কার মানুষের ধ্যান ধারণা ছিল কোন এক পুত্রকে যদি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো যায় তাহলে তার বংশ উদ্ধার হয়। সে জন্য রামনারায়ন তার প্রথম সন্তান থেকেই চেষ্টা করেছিলো প্রতিটি সন্তানকে সন্যাসী বানানোর জন্য। কিন্তু স্ত্রীর জন্য পারিনি। তবে চতুর্থ সন্তনের বেলায় আর সেটা হইনি। এ জন্য শ্রীরামনারায়ন লোকনাথকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করানো জন্য ১১ বছরে উপনয়নের কার্য সমাপ্ত করে পাশ্ববর্তী গ্রামের জ্যোর্তিময় দেহধারী ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে তুলে দেন। এ সময় লোকনাথের সঙ্গী হন তারই বাল্যবন্ধু বেনীমাধব। লোকনাথের নাম দিয়েছিলেন ভগবান গাঙ্গুলী নিজেই।


উপনয়ন শেষে লোকনাথ, বেনীমাধব ও ভগবান গাঙ্গুলী পদযাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম শহর নদ-নদী জঙ্গল অতিক্রম করে প্রথমে কালীঘাটে এসে যোগ সাধনা শুরু করেন। এই রূপে গুরুর আদেশে বিভিন্ন স্থানে যোগ সাধনা ও ব্রত করে শেষ পর্যন্ত লোকনাথ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন। তারপর শুরু হয় দেশ ভ্রমন। প্রথমে হিমালয় থেকে কাবুল দেশে আসেন। সেখানে মোল্লা সাদী নামে এক মুসলমানের সঙ্গে কোরান, বেদসহ বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করে ইসলামধর্মের তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেন। এবার গুরুকে বাদ দিয়ে তাঁরা দুজনে পদযাত্রায় আবার দেশ ভ্রমন শুরু করেন। প্রথমে আফগানিস্থান, পারস্য, আরব, মক্কা-মদিনা, মক্কেশ্বর তীর্থস্থান, তুরস্ক, ইতালী, গ্রীস, সুইজার- ল্যান্ড, ফ্রান্স, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করিয়া দেশে ফিরে আসেন এবং পরে দেশের ভিতর হরিদ্বার, হিমালয় তীর্থ, বদ্রীনাথ, সুমেরু পর্বত, কাশিধাম ও কাবুল পরিদর্শন করেন। দিনে দিনে গুরুর বয়স একশত বছর ও শিষ্যদের বয়স পঞ্চাশ বছর হলো। গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্য দুজনকে শ্রী তৈলঙ্গস্বামীর (হিতলাল নামে যিনি পরিচিত) হাতে তুলে দিয়ে পরলোক গমন করেন। এবার লোকনাথ ও বেনীমাধব সুমেরু থেকে চন্দ্রনাথ পর্বতে আসেন। সেখান থেকে লোকনাথ ও বেনীমাধব বিভক্ত হয়ে যান। বেনীমাধবের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে লোকনাথ একা একা চলে আসেন কামাখ্যা হয়ে ত্রিপুরা জেলার দাউদকান্দি গ্রামে। সেখানে কোন এক সুভক্ষণে দেখা হয় ডেঙ্গু কর্মকারের সঙ্গে। ডেঙ্গু কর্মকারের বাড়ি কিছু দিন অবস্থান করার পর তারই সঙ্গে নারায়নগঞ্জের বারদীতে আসেন।



বারদীর জমিদার নাগ মহাশয় বাবার কথা শুনে বাবার থাকার জন্য জমি দান করেন এবং বাবা নিজ পছন্দের জমিতে মহা ধুম-ধামের সাথে আশ্রম স্থাপন করেন। বাবার আশ্রমের কথা শুনে দেশ-দেশন্তার হতে বহু ভক্তগন এসে ভিড় জমাতে থাকেন। ভক্তগনের মনের অভিব্যাক্তি “তারা বাবার কাছে যাই চায় তাই পায়। এ ভাবে একটু সময়ের ব্যাবধানেই বাবার আশ্রম তীর্থভূমিতে পরিণত হয়। কোন এক সময় ভাওয়ালের মহারাজ বাবার অনুমতি নিয়ে বাবার ফটো তুলে রাখেন। যে ফটো বর্তমান ঘরে ঘরে পূজিত হয়। এ ভাবে ঘনিয়ে আসে বাবার মহাপ্রয়ানের দিন।


সে দিন ছিল ১৯শে জৈষ্ঠ, রবিবার বাবা নিজেই বললেন তার প্রয়ানের কথা। এ কথা শুনে বহু নর-নারী এলো বাবাকে শেষ দর্শন করার জন্য। বাবার শেষ বাল্যভোগ নিয়ে আসেন আশ্রম মাতা। বাল্যভোগ প্রসাদে পরিণত হওয়ার পর ভক্তগন মহাআনন্দের সথে তা ভক্ষণ করিল। প্রসাদ ভক্ষণ হওয়ার পর বাবা মহাযোগে বসেন। সবাই নির্বাক অবাক হয়ে অশ্র“ সজল চোখে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন বাবার দিকে কখন বাবার মহাযোগ ভাঙ্গবে। কিন্তু বাবার ঐ মহাযোগ আর কখনও ভাঙ্গেনি। শেষ পর্যন্ত ১১. ৪৫ মিনিটে দেহ স্পর্শ করা হলে দেহ মাটিতে পড়ে যায়। ভক্তগণ কাঁদতে থাকে উচ্চস্বরে এবং বাবার শরীর মন্দির থেকে তুলে এনে বিল্বতলে রাখা হয়। দেহ সৎকারের জন্য আনা হয় থরে থরে ঘৃত ও চন্দন। বাবার কথা মতে (পূর্বের) বাবার দেহ আশ্রমের পাশে চিতায় রেখে দাহকৃত সমাপ্ত হয়। এই ধরাধাম থেকে চলে গেলেন লোকনাথ বাবা। কিন্তু রেখে গেলেন বাবার পূর্ণ স্মৃতি। আর রেখে গেলেন বাবার অমর বাণী।
‘‘ রণে বনে জলে জঙ্গলে
যখনই বিপদে পড়িবে
আমাকে স্মরণ করিও
আমিই রক্ষা করিব ’’।
_______________________


পরম পুরুষ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাঁর ভক্তদের জন্য যেসব অমৃত বাণী দিয়ে গেছেন সেগুলো অমূল্য রত্ন বিশেষ। তাঁর এ অমৃত বাণী সংসারক্লিষ্ট মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি আনবে, এই আশা নিয়েই সকলের জন্য তাঁর অসংখ্য অমৃত বাণী থেকে কিছু বাণী এখানে সংকলিত হলোঃ
★ প্রত্যক্ষেই হোক্ আর পরোক্ষেই হোক্ বাক্য -মন-ইঙ্গিত দ্বারা কারও নিন্দা করা উচিত নয়।
★ নিজেকে বড় না করে তাঁকে বড় কর, নিজে কর্তা না সেজে তাঁকে কর্তা জ্ঞান করার চেষ্টা কর, তাহলেই ত্যাগ আসবে।
★ যে কারনে মোহ আসে, তা যদি জানা থাকে, আসতে না দিলেই হয়।
★ বাক্যবাণ ,বন্ধু -বিচ্ছেদবাণ এবং বিত্ত-বিচ্ছেদবাণ এই তিনটি বাণ সহ্য করতে পারলে মৃত্যুকে জয় করা যায়।
★ আমার দান ছড়ানো পড়ে আছে,কুড়িয়ে নিতে পারলেই হলো।
★ অন্ধ সমাজ চোখ থাকতে ও অন্ধের মতো চলছে।
★ যা মনে আসে তাই করবি, কিন্তুু বিচার করবি।
এবং ত্রোধ ভাল, কিন্তুু ত্রোধান্ধ হওয়া ভাল নয়।
ভালা লাগলে শেয়ার করবেন।
দেখবেন বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী কখনো না কখনো আপনার মঙ্গল করবেই।।
জয় গুরু দেব
দেব ঈশ্বর মহাদেব
জয় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জয়।

সবাইকে জানার এবং পড়ার জন্য শেয়ার করবেন এবং লিখুন জয় বাবা লোকনাথ ।



(C) Songita Pal Supti
Share:

বিষ্ণু পুরানে সৃষ্টিতত্ত্ব

প্রথমে এ বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির পুর্বে এই মহাবিশ্বে কিছুই ছিল না সম্পূর্ন শূন্য ছিল। সেই শূন্যতার সৃষ্টি মহাজ্যোতি পূঞ্জ থেকে। সেই জ্যোতি ধীরে ধীরে মানুষ রূপ ধারনকরে। সেই আদি পূরুষ হচ্ছে ভগবান নারায়ন।




তারপর নারায়ন যোগ নিদ্রায় মগ্ন হয়। সেই যোগ নিদ্রা থেকে ব্রহ্মজল নির্গত হয় ও ক্ষীর সাগরের তৈরী হয়। এরপর শ্রী নারায়নের নাভী থেকে একটি পদ্মফুলের কলি সৃষ্টি হয় এবং নারায়নের একটি প্রতিরুপ গিয়ে ঐ পদ্মফুলকে প্রস্ফুটিত করে।




ঐ পদ্মথেকে ব্রহ্মার সৃষ্টি হয়। এরপর নারায়নের ভ্র থেকে একটি রুদ্রাক্ষের সৃষ্টি হয়। পরে নারায়নের একটি প্রতিরূপ গিয়ে তার বিষ্ফোরন ঘটিয়ে শিবের সৃষ্টি করে। এরপর ব্রহ্মা ও শিব নারায়নের স্তুতি করে ও তাঁদের পরিচয় জানতে চান, তাঁরা বলেন হে জগদীশ জন্ম যখন দিয়েছেন পরিচয়ও দিন। তখন শ্রী নারায়ন মধুর হাসি হেসে বলেন আমিও যা আপনারাও তা। আমার প্রতিরূপ আপনারা। হে পঞ্চমুখী আপনি ব্রহ্মা (ব্রহ্মা প্রথমে পাঁচ মুখ বিশিষ্ট ছিল এরপর শিব ত্রিশূল দিয়ে একবার ব্রহ্মার একটি মস্তক কাটেন ও ব্রহ্মার পূজা নিষিদ্ধ করেন) আর হে জটাধারী হে ত্রিনেত্রেশ্বর আপনি শিব। আমরা.তিনজন ত্রিদেব।


শ্রী নারায়নের এই উত্তরের পর ব্রহ্মা ও শিব তাঁদের জন্মের উদ্দেশ্য জানতে চাইলেন। তখন শ্রী নারায়ন বললেন, হে ব্রহ্মা, হে মহেশ্বর এই সংসারে জন্ম নিলে তাকে কর্মও করতে হয়। আপনাদেরও কর্ম করতে হবে। হে ব্রহ্মা আপনি সৃষ্টিকর্তা আপনি সৃষ্টি করবেন। আর হে মহেশ্বর আপনি সংহার কর্তা আপনি সংহার করবেন।
আর আমি নারায়ন যখন নিরাকার রূপ থেকে সাকার রূপ ধারন করেছি তখন আমাকেও কর্মকরতে হবে। আমি বিষ্ণু রুপে জগতের পালন করব। হে ব্রহ্মা আপনি গিয়ে সৃষ্টি রচনার প্রারম্ভ করুন।🎁🎁

এরপর ব্রহ্মা ও শিব প্রস্হান করলেন। এরপর শ্রীবিষ্ণু শীষ নাগের শয্যা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে প্রনব মন্ত্র 'ওঁ' এর উচ্চরন করলেন। তখন তাঁর বাম হাত থেকে মা মহালক্ষী আবির্ভূত হলেন। তখন মা মহালক্ষী শ্রী নারানকে বললেন হে পরমশ্রেষ্ঠ আপনি নিজেই তো সম্পূর্ন ছিলেন, তবে আমায় কেন সৃষ্টি করলেন?

তখন শ্রীবিষ্ণু মধুর হাসি হেসে.বললেন আমি জানি আমি সমূর্ন আমি সেই প্রদীপের মত পূর্ণ যার থেকে অন্য প্রদীপ জ্বালালেও তার পূর্ণ আলো পূর্ণই থাকে। তবু হে প্রিয়া, চাঁদ যেমন চাঁদনী ছাড়া, ফুল যেমন সুগন্ধ ছাড়া, সূর্য যেমন তেজ ছাড়া অপূর্ণ তেমনি আমিও তোমাকে ছাড়া অপূর্ণ। আর আজ থেকে আমি ঘোষনা করছি যে কোন পুরুষ নারীকে ছাড়া সম্পূর্ণ হবে না, আর এই সম্পূর্নতাই নতুন প্রজন্মকে জন্ম দিবে। আর তোমাকেও একটি বর দিচ্ছি আমার নাম
আজ থেকে লক্ষীপতি এবং আমার নারায়ন নামের পূর্বে তোমার নাম যুক্ত হবে। আমার নাম আজ থেক লক্ষীনারায়ন। তখন মা লক্ষী বললেন,.তোমায় কোটি কোটি প্রনাম শ্রীহরি। এবার আমার কাজ বলে দাও। শ্রীবিষ্ণু বললেন তুমি আমার প্রেরণা। আমি তোমার কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই সৃষ্টি পালন করব। আর তুমি ব্রহ্মা
সৃষ্ট প্রানীদের উপর ধনের বর্ষা করবে।



এরপর শ্রীনারায়ন ব্রহ্মার কাজে সহায়তার জন্য যোগ নিদ্রায় মগ্ন হলেন এবং যোগের মাধ্যমে ব্রহ্মাকে শক্তি প্রদান করতে থাকলেন। ভগবান শ্রী বিষ্ণুর এবং ব্রহ্মার শক্তি একত্রিত হয়েও সৃষ্টি রচনার কাজ অগ্রসর হচ্ছিল না। এটাও প্রকৃত পক্ষে শ্রীবিষ্ণুর লীলারই অংশ ছিল। এদিকে সৃষ্টি রচনার কাজ এগোচ্ছে না দেখে ব্রহ্মা বিষ্ণুর শরনাপন্ন হলেন। তখন বিষ্ণু যোগ নিদ্রা মগ্ন ছিলেন। ব্রহ্মা গিয়ে বিষ্ণুর স্তব করতে লাগলেন। বিষ্ণু স্তবে খুশি হয়ে চোখ
খুললেন। ব্রহ্মা বিষ্ণুকে বললেন হে ক্ষীরসাগর বাসী কমল নয়ন রক্ষা কর। বিষ্ণু তাঁর সুমধুর হাসি হেসে বললেন, শান্ত হোন আদি প্রজাপতি, শান্ত হন। অধীরতা ত্রিদেবের মাঝে শোভা পায় না। ব্রহ্মা বললেন কিভাবে শান্ত হব জগদীশ বলুন। আমি সৃষ্টি করার জন্য জন্ম নিয়েছি। কিন্তু আমার এবং আপনার শক্তি মিলেও তো এই
মহান কার্যকে রূপ দিতে পারছে না।



এভাবে চলতে থাকলে তো আমার জন্ম বৃথা হয়ে যাবে। আমাকে এই সংকট থেকে বাঁচান প্রভু। নারায়ন হাসলেন, বললেন, আপনি সৃষ্টি কর্তা, আমি পালন কর্তা কিন্তু আমরা ছাড়াও আর একজন আছে যাঁর কাছে একটা মহান কাজের দায়িত্ব আছে মহাদেব। আপনি তাঁর কাছে যান। তিনি আপনাকে সহায়তা করবে। আর তখনি সৃষ্টি রচনার কাজ সার্থক হবে। কারন সৃষ্টির অর্থই জন্ম পালন এবং ধ্বংস। তিনি সংহার কর্তা। তাঁর শক্তিই সৃষ্টি রচনাতে সাহায্য করবে। শ্রীবিষ্ণুর আদেশে ব্রহ্মা শিবের কাছে গেলেন এবং তাঁকে শ্রীবিষ্ণুর কথা ও অনুরোধ জানালেন। শিব তখন যোগের মাধ্যমে শিব এবং শিবা এই দুই খন্ডে ভাগ হয়ে গেলেন। এই শিবাই আদি শক্তি। এরপর ত্রিদেবের একত্রিত.শক্তি দিয়ে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্লহ, জীব ও.জড় তৈরী করলেন। এদিকে বিষ্ণু যখন যোগনিদ্রা মগ্ন থেকে ব্রহ্মাকে শক্তি দিচ্ছিলেন তখন তাঁর কান থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুটো অসুর জন্ম নিল। তারা প্রচন্ড শক্তিশালী ছিল। তারা সামনে ব্রহ্মাকে পেয়ে আক্রমন করল। ব্রহ্মা তাদের কাছ থেকে পালিয়ে বিষ্ণুর শ্মরণে এলেন এবং বিষ্ণু তাদের গদাপ্রহারে হত্যা করলেন। গদার আঘাতে এই বিশালদেহী অসুরদের মেদ ছড়িয়ে পরল। তখন বিষ্ণুর আদেশে ব্রহ্মা এই মেদ বা চর্বি দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। এজন্য পৃথিবীর অপর নাম মেদিনী।

সমগ্র জড় জগৎ সৃষ্টির পর ব্রহ্মা তাঁর চার হাত থেকে চারজন ছোট ছেলেকে তৈরী
করলেন। তাদের নাম সনদ, সনাতন,সনন্দন ও সনদকুমার। ব্রহ্মা তাদের সৃষ্টি পরিচালনা ও
বংশবিস্তার করতে আদেশ দিলেন। কিন্তু তাদের ইচ্ছার অভাব ছিল তাই তারা এতে অপারগতা প্রকাশ করে। যার ফলে ব্রহ্মা ক্রুদ্ধ হয় এবং তাদের দূর করে দেন ব্রহ্মলোক থেকে। এবার ব্রহ্মা ভাবলেন সৃষ্টি রচনার আগে প্রয়োজন ভাল শিক্ষকের তাই তিনি সপ্তর্ষিকে তৈরী করলেন। এরপর তৈরী করলেন ব্রহ্মার মানসপুত্র দক্ষ
এবং নারদকে। তিনি দক্ষকে প্রজাপতি নিযুক্ত করলেন এবং দেবর্ষি নারদকে ভগবত
ভক্তি প্রচারের নির্দেশ দিলেন। এবার তৈরী করলেন মনু ও শতরূপাকে। এই মনু ও শতরূপাই আমাদের আদি পিতামাতা।



এরপর ব্রহ্মার মনে হলো যে তিনি এই মহান সৃষ্টি রচনা করেছেন। তাঁর মনে অহংকার তৈরী হল। তখন শিব দেখলেন এই অহংকার ঠিক না এতে করে সৃষ্টিতেও অরাজকতা তৈরী হবে তাই তিনি ব্রহ্মার নিকটে গেলেন। কিন্তু ব্রহ্মার অহংকার এতটা চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল যে শিব শত চেষ্টা করেও বোঝাতে পারলেন না ব্রহ্মাকে। ব্রহ্মা একসময় শিবের অপমান করতে শুরু করলেন। তখন শিব ক্রুদ্ধ হয়ে মহারূদ্র রূপ ধারন করে তাঁর ত্রিশুল ব্রহ্মার দিকে নিক্ষেপ করলেন যা ব্রহ্মার একটি মস্তক কেটে ফেলল। ব্রহ্মাকে শিব সব ধরনের পূজা অর্চনা থেকে
বহিস্কার করলেন। ব্রহ্মা মস্তক কাটার পরে ভগবান সদা শিবের স্বরূপ চিনলেন।
তিনি শিবের স্তব করতে লাগলেন। শিব খুশি হলেন। তিনি বললেন ব্রহ্মাকে, হে আদি
প্রজাপতি অহংকার পতনের মুল। আপনার পন্ঞ্চম মাথাটি ছিল অহংকারের স্বরূপ
যা আমি কেটে ফেলেছি। আপনার অহংকার সমূলে নাশ হয়েছে। এটা বলে শিব অন্তর্ধান হয়ে গেলেন। ব্রহ্মার পুত্রদের মধ্যে সপ্তর্ষি এবং নারদ বুঝেছিলেন যে শিব ব্রহ্মার মঙ্গলেই তাঁর মাথা কেটেছান। এই মাথাটা না কাটলে অহংকারের
কারনে ব্রহ্মা ত্রিদেব হওয়ার মর্যাদা হারাতেন। কিন্তু ব্রহ্মাপুত্র দক্ষ এটা বুঝলেন না। তিনি শিবকে শত্রু ভাবতে লাগলেন।



পরমকরুনাময় সচ্চিদানন্দ গোলোকপতি ভগবান শ্রীহরি ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী
শক্তি শ্রীরাধার চরণকমলে সবার মঙ্গলময়, কল্যাণময়, সুন্দরময় আর শান্তিময়
জীবনের প্রার্থনা আমাদের।




🇯🇦🇾 🇸🇷🇮 🇰🇷🇮🇸🇭🇳🇦

(C)  প্রসেনজিৎ মোহন দাশ
Share:

শ্রীকৃষ্ণের পরম চমৎকারিত্ব

দীর্ঘকাল পূর্বে সরস্বতী নদীর তীরে মহান ঋষিগনের এক সভা বসেছিল যারা সত্ৰ নামে এক যজ্ঞ করেছিলেন। এধরণের সভায় উপস্থিত মহান ঋষিগন সাধারণত বৈদিক বিষয় আর দার্শনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, আর এই বিশেষ সভায় নিম্নোক্ত প্রশ্ন গুলো উঠলো: এই জড় জগতের ত্রিদেব, ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিব, যাঁরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত ব্যাপার পরিচালনা করছেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কে? এই প্রশ্নের ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর ব্রহ্মার পুত্র মহর্ষি ভৃগুকে ত্রিদেব কে পরীক্ষা করে তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কে তা এই সভাকে জানানোর দায়িত্বে নিযুক্ত করা হলো।


এভাবে নিযুক্ত হয়ে মহর্ষি ভৃগু প্রথমে তাঁর পিতার নিবাস ব্রহ্মলোকে গেলেন। ত্রিদেব তিন পার্থিব গুণ যাদের নাম সত্ব, রজ আর তম গুণের নিয়ন্ত্রা।ঋষিগনের মহর্ষি ভৃগুকে পরীক্ষা করতে নিযুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল জানা এই যে কে সাত্বিক গুনে পরিপূর্ণ। সুতরাং ভৃগু মুনি তাঁর পিতা ব্রহ্মার কাছে যখন পৌঁছলেন, যেহেতু পরীক্ষা করতে ইচ্ছুক ছিলেন, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই প্রণাম বা প্রার্থনা করে সম্মান জ্ঞাপন করলেন না। পুত্র বা শিষ্যের কর্তব্য পিতা বা গুরুর কাছে গেলে সম্মান জ্ঞাপন করা ও যথাযথ প্রার্থনা করা। কিন্তু ভৃগু মুনি ব্রহ্মাকে অবহেলার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ইচ্ছা করেই এমন করলেন না। ব্রহ্মা তাঁর পুত্রের ধৃষ্টতায় খুব ক্রোধান্বিত হলেন, এবং তাঁর ভাব ভঙ্গিমায় এটা বোঝা গেল। তিনি এমনকি অভিশাপ দিয়ে দণ্ডাদেশ দেওয়ার জন্যও উদ্যত হলেন, কিন্তু যেহেতু ভৃগু তাঁর পুত্র ছিল, তিনি তাঁর মহৎ বুদ্ধিমত্তার দ্বারা নিজের রাগ সম্বরন করলেন। এর অর্থ যদিও রাজসিক গুন তাঁর মধ্যে সর্বাত্মক ছিল, কিন্তু তাঁর এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিলো। ব্রহ্মার ক্রোধ আর তাঁর ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা আগুন আর জলের সাথে সম্পর্কিত। সৃষ্টির শুরুতে আগুন থেকে জল তৈরি হয়, কিন্তু জল দিয়েই আগুন নেভানো যায়। অনুরূপ ভাবে রাজসিক গুণের কারণে ব্রহ্মা যদিও রেগে গিয়েছিলেন, তবুও তিনি তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন কারণ ভৃগু ছিলেন তাঁর পুত্র।

ব্রহ্মদেব কে পরীক্ষা করার পর, ভৃগু মুনি সরাসরি কৈলাশ পর্বতে গেলেন, যেখানে শিব বাস করেন। ঘটনাচক্রে ভৃগু মুনি ছিলেন শিবের ভাই। তাই ভৃগু মুনি যেতেই শিব খুব খুশি হয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করতে নিজেই উঠে দাঁড়ালেন। কিন্তু যখন শিব এগিয়ে এলেন, ভৃগু মুনি তাঁকে আলিঙ্গন করতে অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন "আমার প্রিয় ভ্রাতা, তুমি সব সময় খুব অপবিত্র থাকো। যেহেতু তুমি অঙ্গে ভস্ম লেপন করে থাকো, তুমি খুব পরিষ্কার নও। তাই দয়া করে আমায় স্পর্শ কোরো না।" শিব অপবিত্র একথা বলে যখন ভৃগুমুনি তার ভ্রাতাকে আলিঙ্গন করতে অস্বীকার করলেন, শিব খুব রেগে গেলেন। বলা হয় যে শরীর, মন বা বাক্য দ্বারা অপরাধ করা হয়। ভৃগুমুনির প্ৰথম অপরাধ যা তিনি ব্রহ্মদেবের কাছে করেছিলেন, তা ছিলো মনের দ্বারা কৃত অপরাধ। তাঁর দ্বিতীয় অপরাধ যা তিনি শিবের কাছে করেছিলেন তাঁকে অপমান করে, তা ছিলো বাক্যের দ্বারা কৃত অপরাধ। যেহেতু তামস গুন শিব এর মধ্যে প্রধাণ, ভৃগুর অপমানসূচক বাক্য শুনে তৎক্ষণাৎ ক্রোধে তাঁর চক্ষু লাল হয়ে গেলো। অনিয়ন্ত্রিত উষ্মায় তিনি ত্রিশূল নিয়ে ভৃগুমুনিকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন। সেই সময় শিবপত্নী পার্বতী উপস্থিত ছিলেন। শিবের মতোই তাঁর ব্যক্তিত্বও তিন গুণের সংমিশ্রণ, তাই তাঁকে ত্রিগুনময়ী বলা হয়। এক্ষেত্রে তিনি শিবের সাত্বিক গুন জাগিয়ে তুলে পরিস্থিতি সামলালেন। তিনি তাঁর স্বামীর চরণে পড়লেন আর তাঁর মধুর বচনের দ্বারা ভৃগু মুনির হত্যার বিবেচনা মুক্ত করালেন।
----জয় শ্রীJরাধে গৌবিন্দ---

(C)  Bishojit Das
Share:

০৫ মে ২০১৮

‘শ্রীকান্ত্ জিচকার’ - ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি ।

 পয়সার গরম তো জীবনে অনেক দেখলেন। আরবপতি থেকে আম্বানি। বিল গেটস থেকে সারদা। দেখে দেখে চোখ একেবারে টাটিয়ে গেল। কিন্তু বিদ্যার এমন গরম দেখেছেন না শুনেছেন কখনও? সবটা শুনলে মাথা ঝিমঝিম করবে, হাত-পা’ও অবশ হয়ে যেতে পারে বৈকি। এক জীবনে এত পড়াশোনা কোন রক্ত মাংসের মানুষ করতে পারে, না পড়লে বিশ্বাস হবে না। তাও আবার সেই ভদ্রলোক যদি "মেইড ইন ইন্ডিয়া" হয়?! . মারাঠি এই ভদ্রলোকের নাম ‘শ্রীকান্ত্ জিচকার’। . পড়াশোনার কেরিয়ারটা একবার হাল্কা করে চোখ বুলিয়ে নিন শুধু , তাহলেই মালুম পড়বে ভদ্রলোক কি কাণ্ডটাই না করেছেন।

  ১. জীবন শুরু MBBS, M.D দিয়ে। ২. এরপর L.L.B করলেন। সাথে করলেন ইন্টারন্যাশনাল ল-এর ওপর স্নাতকোত্তর। ৩. এরপর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর ওপর ডিপ্লোমা, সাথে M.B.A । 4. এরপর জার্নালিজম নিয়ে স্নাতক।

 এতদূর পড়ার পর আপনার যখন মনে হচ্ছে লোকটা পাগল নাকি, তখন আপনাকে বলতেই হচ্ছে এ তো সবে কলির সন্ধ্যেবেলা। এখনো গোটা রাত বাকি। . এই ভদ্রলোকের শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রীই আছে দশটা বিষয়ের ওপর!

স্নাতকোত্তরের বিষয়ের তালিকাটা একবার দেখুন খালি- . ১. পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন . ২. সোশিওলজি . ৩. ইকোনমিক্স . ৪. সংস্কৃত(ডি.লিট) . ৫. হিস্ট্রী . ৬. ইংলিশ . ৭. ফিলোসফি . ৮. পলিটিক্যাল সায়েন্স . ৯. এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান হিস্ট্রী, কালচার,এন্ড আর্কেওলজি . ১০. সাইকোলজি . ওপরের যতগুলো বিষয় দেখছেন সব ক’টিতেই প্রথম শ্রেণীর সঙ্গে স্নাতকোত্তর, এবং ২৮টি স্বর্ণপদক বিজয়ী।

সব মিলিয়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রীষ্মে ও প্রতি শীতেই উনি কোনো না কোন স্নাতকোত্তরের বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। মাথা ঝিমঝিম করছে তো! তা মাথার আর দোষ কি বলুন! তবে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার আগে একবারটি শুধু শুনে যান। এতসব পড়তে পড়তে ওনার যখন একঘেয়েমি লাগছিল,ঠিক করলেন এবার একটু স্বাদ বদলানো যাক! তো স্বাদ বদলাতে আমি আপনি বেড়াতে যাই,আর উনি “আই.পি.এস(IPS)” পরীক্ষায় বসলেন আর পাশ করলেন। সেটা ১৯৭৮ সাল। কিন্তু পোষালো না চাকরীটা। চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে বসলেন “আই.এ.এস(IAS)” পরীক্ষায়। ১৯৮০ তে “আই.এ.এস(IAS)” হলেন। নটে গাছটা তাহলে মুড়োলো শেষ অবধি। আজ্ঞে না মুড়োয় নি এখনো। চারমাসের মধ্যে “আই.এ.এস(IAS)” এর চাকরীটাও ছেড়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের বিধান সভা ভোটে লড়বেন বলে। ১৯৮০ তে উনি যখন বিধায়ক নির্বাচিত হলেন তখন ওনার বয়স সবে ২৫। উনি হলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক। সবই হল যখন তখন মন্ত্রী হওয়াটাই বা আর বাকী থাকে কেন! সেটাও হলেন এবং একটা দুটো দপ্তরের নয়, একেবারে ১৪ টা দপ্তরের। ১৯৯২ সাল নাগাদ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হলেন।

ওনার এই ‘সামান্য’ কয়েকটি গুণ ছাড়াও তিনি . অসাধারণ চিত্রশিল্পী,  পেশাদার ফটোগ্রাফার,  মঞ্চাভিনেতা,  সখের বেতার চালক  ও জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ও ইউনেস্কোতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। . ভারতের অন্যতম বিখ্যাত পুরোহিত ছিলেন। অগ্নিহোত্রী গোত্রের ব্রাহ্মণ হিসেবে তিনি তিন ধরণের পবিত্র বৈদিক যজ্ঞ পালন করতেন এবং নিজে হাতে অত্যন্ত কঠিন ‘অগ্নিষ্টোম’ ও ‘বাজপেয় সোমযজ্ঞ’ এর আয়োজন করেন ও ‘দীক্ষিত’ উপাধিতে ভূষিত হন। . ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৫২০০০ বই রয়েছে ওনার। ‘লিমকা বুক অফ রেকর্ডস’ ওনাকে “ভারতবর্ষের সবথেকে শিক্ষিত ব্যক্তি”র শিরোপা দিয়েছে। ১৯৮৩ তে উনি ‘বিশ্বের অসামান্য দশজন তরুণ’ হিসেবে নির্বাচিত হন। . ২০০৪ এ পথ দুর্ঘটনায় ওনার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। . এতো বড় লিখার মূল কারন " অাজ পরীক্ষার জন্যে পড়তে বোরিং লাগছে? এ লোকটার কথা ভাবুন একবার।  এখনই পড়তে বসুন।
collected
Share:

০৪ মে ২০১৮

সনাতন ধর্ম সম্পর্কে কিছু নাস্তিক, কুধর্মী ও বিধর্মীদের অপপ্রচারের প্রশ্নের দাঁতভাঙ্গা জবাব

বর্তমানে অনলাইনে কিছু জ্ঞানপাপীর আগমন হয়েছে তারা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপপ্রচার করে। তাদের অন্যতম নিকৃষ্ট একটি লেখা যেখানে তারা শুরুতেই বলে দেই "হিন্দু ভাইয়েরা মন খারাপ করবেননা আমি শুধু জানতে চাই" এই লেখাটা হলো একধরনের ভাঙ্গা ক্যাসেট এর মতো, আর ঐ সমস্ত জ্ঞানপাপীরা হলো রেডিও এর মতো, শুধু বলেই যাবে কারো কথা শুনতে চায় না। তাই তাদের সেই লেখাটার বিরুদ্ধে লেখা অতীব জরুরী বলে মনে করি।
কেননা সবাই তো অার সত্যটাকে বের করতে চায় না।

আসুন তাদের অপপ্রচারের জবাবটা দিয়ে দিই----
----------------------------------------
★তাদের দাবি---
রিগবেদ অধ্যায়-৩, খন্ড-৩১, শ্লোক: ১-২ ‘‘পিতা
তার মেয়ের সাথে অশ্লীলকর্মে
লিপ্ত’’- =>এছাড়া মা- ছেলে দূষ্কর্ম,
এমন বিশ্রি বর্ণনা যেই গ্রন্থে তা কি
করে সৃষ্টিকর্তার বাণী হতে পারে?
.
★আমার জবাবঃ- তাদের এই দাবিটা পড়েই এদের দৌড় সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে গেছে, কেননা ঋকবেদে অধ্যায় : খন্ড : শ্লোক -দিয়ে কোন মন্ত্র নেই,ঋগবেদে মন্ত্রগুলো সুক্ত ও মন্ডলে বিভক্ত। তবুও তাদের সেই রেফারেন্স অনুসারে ঋগ্বেদে পেলাম---
→ শাসদ্বহির্দুর্হিতুর্নপ্তাং গাদ্ধিদ্ধাঁ ঋতস্য দীধিতিং সপর্য্যন।
→পিতা যত্র দুহিতুঃ সেকমৃঞ্জন্ সং শগ্ম্যেন মনসা দধম্বে।।
( ঋগ্বেদ-- ৩/৩১/১)
.
★ অনুবাদ - “ঐ আত্মহীন পিতা, যে পরিবারের ধারক(পোষক), নির্দেশ করে তার নাতি(পুত্র তুল্যা)যে তার কন্যার সন্তান এবং যজ্ঞ করার দক্ষতার উপর আস্থা রাখে, সন্মানক(তার জামাই কে)নানাবিধি উপহারের সঙ্গে, সেই পিতা বিশ্বাস করে কন্যার গর্ভধারণের উপর, নিজেকে সমর্পণ করে শান্তিপূর্ণ ও খুশি মনে”।।
.
★ভাবার্থ- “হে মানব! যেমন একটি কন্যা পিতা হতে জন্মলাভ করে, সুতরাং এই উষা(ভোর) জন্ম নেয় সূর্য হতে, যেমন স্বামী গর্ভধারণ করাই তার স্ত্রীর, সুতরাং এই সূর্য স্থাপন করে তার বীর্য(তেজঃ) ভোরের আলোকে রশ্মি আকারে। এই উষা হল সূর্যের কন্যা তুল্য যেখান থেকে জন্ম নেই একটি পুত্র উষা লগ্নে সকালের আকারে”
.
★এটি ভোরের অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য বর্ণনাকারী একটি বেদ মন্ত্র। ভোরে উদিত সূর্য রশ্মি হল এখানে “বীর্য” অর্থ্যাৎ “সূর্যের তেজ” ।এখানে সেই মূহর্ত অর্থ্যাৎ উষালগ্ন যা অপূর্ব সুন্দর তাই নারী রূপে কল্পিত সূর্যকন্যা এবং সকাল যা আলোক তেজঃ রূপি ও পুত্ররূপে কল্পিত উষার পুত্র।
(অনুবাদ- পন্ডিত সত্যকাম বিদ্যালংকার)
.
★তাদের দাবি --
শিব ৬০,০০০ বিবাহ করেছিল সে মারা যাবার পর তার লিঙ্গকে পূজা করা হয় । একজন শিষ্টাচার হিন্দু কোন যুক্তিকতায় তার স্ত্রীর দুধ দিয়ে শিবের গোপন অঙ্গ ধৌত করে? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য? এমন কুরুচিপূর্ন
আদেশ সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন কি?
.
★আমার জবাবঃ- এই দাবিটা কোথা থেকে পেয়েছে তার কোন সূত্র নেই, শিব ৬০হাজার বিবাহ করেছিল এটা কোন শাস্ত্রে আছে তা কিন্তু এরা উল্লেখ করেনি, করবেই বা কি করে, মিথ্যাবাদীরা কখনো সত্য লুকাতে পারে?
তবুও একটা কথা বলতেই হয় শিব পার্বতীকে বিবাহ করেছিলেন।
যেই সতী তিনিই আবার পরজন্মে পার্বতী।
.
সৌরপুরাণ ৫৮/১৪ এবং ৫৮/১৫ তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে---
→গৃহীহেতি শিবঃ প্রাহ পার্ব্বতী পর্ব্বতেশ্বরম্।
→তদ্ধস্তে ভগবান্ শম্ভুরঙ্গুলীয়ং প্রবেশয়েৎ।। ১৪
→ইমঞ্চ কলসং হৈমমাদায় ত্বং নগোত্তম।
→যাহি গত্বা ত্বনেনৈব তামুমাং স্নাপায় ত্বরা।। ১৫
.
★বঙ্গানুবাদ- শম্ভু, পর্ব্বতেশ্বরকে কহিলেন, -- আমি পার্বতীকে গ্রহণ করিলাম। পরে দেবীর হস্তে একটি অঙ্গুরীয় প্রদান করিয়া নগোত্তমকে কহিলেন, -- আপনি এই হৈম কলস লইয়া গিয়া সত্ত্বর ইহা দ্বারা সেই উমাকে স্নান করাইয়া দিবেন।
.
★শিবলিঙ্গ→ শিবলিংঙ্গ মানে যৌনাঙ্গ যে এই কথাটি লিখেছেন সে সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না। শিব সংস্কৃতে शिव, Siva যার বাংলা অর্থ শুভ বা মঙ্গল আর লিংঙ্গ অর্থ প্রতিক বা চিন্হ যার সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে সর্বমঙ্গলময় বিশ্ববিধাতার প্রতীক। আবার ব্যাকারনে যেটা পুরুষ বোঝায় তাকে পুঃলিংঙ্গ, যেটা দ্বারা নারী বোঝায় তাকে স্ত্রীলিংঙ্গ,যেটা দ্বারা নারী পুরুষ উভয়ই হতে পারে তাকে উভয় লিংঙ্গ ও যেটা দ্বারা জর বস্তু বোঝায় তাকে ক্লীবলিংঙ্গ বলে, কোন ভাবেই এটা যৌন অঙ্গ’কে বোঝায় না, উধারনস্বরুপ চেয়ার দেখলে বুঝি এটা একটা জর বস্তু তাই এটিকে ক্লীবলিংঙ্গ বলা হয়, তেমনি ভাবে যে কালোপাথরটি (শিবলিংঙ্গ) দ্বারা আমরা শিবকে বুঝি, তাই ওটাকে আমরা শিবলিংঙ্গ বলি, ওটা শিবের প্রতিক, বাংলাদেশের প্রতিকি যেমন বাংলাদেশের পতাকা বহন করে, তেমনি শিবলিংঙ্গ শিবের প্রতিকি বহন করে,পতাকাকে স্যালুট করলে যেমন দেশকে সন্মান করা হয় তেমনি শিব লিংঙ্গের পুজা করলে শিবের পুজা করা হয়।
.
★কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের লিখা একটা কাব্য আছে "দেবতায় মনুষ্যত্ব আরোপ" সেখানে রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন অল্পবিদ্যধারী আধুনিক মানুষরা কিভাবে প্রাচীনা মানুষদের দর্শন ও চিন্তা ভাবনার বিপরীতে, মানুষের বিভিন্ন দোষ ও স্বভাবকে তারা দেবতাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে, দেবতাদের তার তাদের স্বভাবের প্রতিছবি হিসাবে দেখে বা চিন্তা করে।
এরজন্য সংস্কৃত লিঙ্গ শব্দের ৩১ টি ও সংস্কৃত যোনি শব্দের ৩৪টি আলাদা আলাদা অর্থ থাকলেও কুৎসাকারীরা প্রতিক্ষেত্রে লিঙ্গ মানে পুরুষযৌনাঙ্গ ও যোনি মানে স্ত্রীযৌনাঙ্গ ধরে বসে।
যদি শিবলিঙ্গকে অর্থগত দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা "মঙ্গলের(শিব) প্রতিক(লিঙ্গ)" হবে এবং যদি সনাতন দর্শন এর দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা “লিঙ্গশরীরের প্রতিক” হবে এবং যদি এটা আধ্যাত্ম দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে এটা "শিবশক্তির" প্রতিক হবে, তিনটি ক্ষেত্রেই শেষে সেই একই জিনিস -"লিঙ্গশরীরের" দিকে নির্দেশ দেয়।
লিঙ্গশরীর কি?
সাঙ্খ্য, বেদান্ত ও যোগ দর্শন মতে শরীর তিন প্রকার -
১.স্থুল শরীর
২.লিঙ্গ শরীর
৩.করণ শরীর
লিঙ্গশরীর হল এক কথাই সূক্ষ বা ভৌতিক দেহ। জীবদেহের মন ও বুদ্ধির কারক হল এই লিঙ্গশরীর। ইহা কার্যগত ভাবে নাড়ী ও ষটচক্র নিয়ে গঠিত। নাড়ীর মাধ্যমে শক্তি সক্রিয় থাকে এবং ছয় চক্র - মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ ও আজ্ঞা দ্বারা সেই শক্তি নিয়ন্ত্রিত হয়। এই লিঙ্গশরীর জীবের জীবনের আধার, তাই এই লিঙ্গ শরীরটিই জীবনের প্রতিক। সাঙ্খ্য দর্শনের তত্ত্ব অনুসারে এই লিঙ্গশরীরটির সঙ্গে ২৫টি তত্ব অন্তর্ভুক্ত, যথা - পুরুষ, প্রকৃতি, বুদ্ধি, অহংকার, মন, ৫টি ইন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয়, ৫ম তন্মাত্র, ৫ম মহাভূত। পুরাণে গিয়ে এই পুরুষ শিব নামে ও প্রকৃতি মা শক্তি নামে আখ্যায়িত হয়েছে।
.
★তারপর একটা ভুল ধারনা আছে যে এই জ্ঞানপাপীরা বলে কেবল স্ত্রী লোক নাকি শিবলিঙ্গের পূজা করে।
কিন্তু তারা জানেনা নারী পুরুষ সকলেই শিবলিঙ্গের পূজা করে। তারা জানবেই বা কি করে ঐযে প্রথমেই বলেছিনা ওরা হলো
রেডিও শুধু একতরফা বলে থাকে শুনেনা।
.
★তাদের দাবি --
শিব তার নিজের ছেলে গনেশকে
চিনতে পারেনি গর্দান কেটে
ফেলেছিলেন তাহলে তিনি তার
সৃষ্টিকে কি করে চিনবেন? ভুলে
যাওয়া কি সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্য?
.
★আমার জবাবঃ- এই প্রশ্নটা শুনে একটু রাগ হয়েছিল, কেননা একজন পিতা তার সন্তানকে চিনবেনা এটা কোন ধরনের কথা, এইসব জ্ঞানপাপীরা কি সনাতন ধর্মের শাস্ত্র পড়ে পন্ডিতগিরী করে নাকি কপি মেরে মেরে পন্ডিতগিরী করে সেটা কেবল ভগবানই জানেন।
.
★তাদের প্রশ্নের উত্তরটা দিবো কেবল একটা টপিকে, "শিব কি গণেশকে চিনতো নাকি চিনতোনা???
কে কার মস্তক চিন্ন করলো এই প্রসঙ্গে যাবোনা। কেবল প্রমাণ করবো শিব গণেশ কে জন্মের পর থেকে চিনতো যে গণেশ তাঁর পুত্র।
.
★লিঙ্গপুরাণ , পূূর্ব্বভাগ, ১১৫তম অধ্যায়ের ১১-১৪ তম শ্লোকে উল্লেখ আছে---
"সর্বেশ্বর ভগবান ভবপুত্রকে জাতমাত্র অবলোকন করিয়া তদুদ্দেশে কর্তব্য জাত-কর্ম্মানি সংস্কার স্বয়ং করিলেন। তারপর জগদীশ্বর সুকোমল হস্তদ্বারা তনয়কে গ্রহণ করিয়া আলিঙ্গন করত মস্তকে চুম্বন করিলেন"
.
এই থেকে প্রমাণ হয়, গণেশের জন্মের পরই শ্রীশিব তাকে চিনতেন, আহারে জ্ঞানপাপীরা এখানেও তোমাদের ভওতাবাজির ইতি ঘটলো??
.
★তাদের দাবি --
দেবদাসীর ও যোগিনীর মত পতিতা চরিত্রের সাথে ভগবান ও ব্রাহ্মনগণ কি করে অশ্লীলকর্মে লিপ্ত হন? যদি তারা
প্রকৃতার্থে ভগবান হয়ে থাকেন?
.
★আমার জবাবঃ- এই প্রশ্নটা ততোটা গুরুত্ব বলে মনে করি না, কেননা যোগিনী কিন্তু পতিতাবৃত্তি করেছিল এরকম কোন বিখ্যাত নারী সনাতন ধর্মে ছিল না। যদি জ্ঞানপাপীরা কারো নাম নির্দিষ্ট করে বলতো তবে অবশ্যই সেটা বিশ্লেষণ করতাম।
কিন্তু তারা অন্ধকারে ঢিল মারলো।
তারপর আবার বললো ভগবান ও ব্রাহ্মণগণ কোন অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হলো।
কিন্তু বললোনা কে করলো?
কোন ব্রাহ্মণ সেটাই তো জানলাম না, যদিওবা কোন ব্রাহ্মন করে থাকে তবে সেটা সনাতন ধর্মের কি দোষ???
ব্রাহ্মন এর কথায় কি সনাতন ধর্ম চলে???
সনাতন ধর্মতো ঈশ্বর প্রেরিত পবিত্র বেদ এবং শ্রীগীতার আলোকে চলে।
মানুষের মধ্যে যদিও কেউ খারাপ কাজ করে তবে ধর্মের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ সনাতন ধর্ম সর্বদাই মানুষকে সঠিক পথে চলতে বলে।
.
★তাদের দাবি → অশ্লীল ভঙ্গিমায় উলঙ্গ নারী, মুখে ও দাঁতে রক্ত ও হাতে রক্তাক্ত তলোয়ার কি করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে?
উদাহরন- দূর্গা।
.
★আমার জবাবঃ- এরা এতোটাই বিকৃত মস্তিষ্কের হতে পারে তা অকল্পনীয়। এদের মাথাতে সর্বদা অশ্লীলতা ঘুরাপাক খায়, সেইজন্য সবকিছুতেই অশ্লীলতা খুজে পায়।
সনাতন শাস্ত্রে দূর্গা শব্দটিকে বিশ্লেষন করা হয়েছে এভাবে---
★দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ।
★উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।।
★রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
★ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।।
.
★ অর্থাৎ, ""দ" অক্ষরটি দৈত্য বিনাশ করে, উ-কার বিঘ্ন নাশ করে, রেফ রোগ নাশ করে, "গ" অক্ষরটি পাপ নাশ করে এবং অ-কার শত্রু নাশ করে। এর অর্থ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।"
.
★অন্যদিকে শব্দকল্পদ্রুম বলেছে, "দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা" । অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি সব সময় দুর্গা
নামে পরিচিত।
.
★অসুরেরা মা দূর্গাকে দেখে ভয় পায়, কিন্তু এই জ্ঞানপাপীরা যদি মা দূর্গাকে দেখে যদি ভয় পায় তবে আমার কিছু করার নেই।
.
★তাদের দাবি -- কৃষ্ণা যদি সৃষ্টিকর্তা হয় তবে সে কেন তার মামীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখলো? তবে কি
সৃষ্টিকর্তা মানুষের সাথে এমন অবৈধ কর্মে লিপ্ত হয় যা তার নিজেরই আইনের বর্হিভূত?
.
★আমার জবাবঃ-
→এই জ্ঞানপাপীরা কিন্তু রেডিওর মতো সেটা প্রমাণ হয়েই যাচ্ছে।
তা না হলে দেখেন শ্রীকৃষ্ণ নাকি মামির সাথে প্রেম করেছে???
কিন্তু কোনো রেফারেন্স তো দেয়নি উল্টো পরমেশ্বরের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। জাহান্নামে যাবিরে জ্ঞানপাপীরা।
.
★ আমরা সকলেই এই কথাটা ভালো করেই জানি যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেবকী এবং বসুদেবের সন্তান রুপে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন। (শ্রীমদ্ভাগবত → ১০/৩/৮) যিনি দেবকীর ভাই তিনিই শ্রীকৃষ্ণের মামা এটাই স্বাভাবিক।
দেবকী ছিলেন দেবক এর কন্যা (ভাগবত-১০/১/৩১) এবং কংস ছিলেন দেবকীর খুল্লতাত বা কাকাতো ভাই (ভাগবত- ১০/১/৩০) কংসের ছিলেন দুই স্ত্রী অস্তি এবং প্রাপ্তি ।
তাহলে পুরোটা ক্লিয়ার যে কংসের স্ত্রীর সাথে শ্রীকৃষ্ণের কোন সম্পর্ক নেই।
আর বাকী থাকে রাধা, রাধা সঙ্গে কংসের বিবাহ হয়নি সেটা ওপরের ব্যখ্যা থেকেই জেনেছি, কেননা রাধার সঙ্গে কংসের কোন দিন দেখায় হয়নি, যার সাথে দেখা হয়নি তার সাথে বিবাহ হবে এটা যৌক্তিক কতোটুকু সেটা আপনারাই বিবেচনা করবেন।
.
★তাদের দাবি -- কিভাবে রাম সৃষ্টিকর্তা হতে পারে কারণ সে প্রয়োজনে খাবার খেয়েছে, ঘুম গেছে, বিয়ে করেছে
দৈহিক তাড়নায়, রাম নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করেছে এসব কি সৃষ্টিকতার কর্ম?
যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন? তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে?
.
★আমার জবাবঃ-
শ্রী রাম হচ্ছে ঈশ্বরের ৭ম অবতার। তিনি মানুষ রুপে পৃথিবীতে জন্মগ্রহন করেছিলেন। সুতরাং মানুষের মত কাজকর্ম রাম করেছিলেন কারন তিনি মানুষ কিন্তু ঈশ্বরের অবতার। শ্রীমদভগবত গীতার ৯:১১ তে ভগবান বলেছেনঃ আমি যখন মানুষ রুপে অবতীর্ন হই,মুর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে তারা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত হন না, এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।। অর্থাৎ ভগবান মানুষরুপে পৃথিবীতে অবতীর্ন হতে পারেন।
শ্রীরাম মানুষরুপে অবতীর্ণ হয়েছেন তাই মানুষের মতো বেচে ছিলেন এই ধরাধামে, এতে অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই জ্ঞানপাপীগণ।
.
★শ্রীরাম কি মাতা সীতাকে সন্দেহ করেছিল??
.
★জ্ঞানপাপীরা তোমরা নিজেরাই দেখো --- বাল্মীকি রামায়ন কি বলে---
.
★पश्यतस्तां तु रामस्य समीपे हृदयप्रियाम् |
★जनवादभयाद्राज्ञो बभूव हृदयं द्विधा||६-११५-११
Valmiki Ramayana 6.115.11 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "শ্রী রাম লক্ষ্য করলেন সীতা দেবী কে নিয়ে কিছু লোক কুত্সা রটিয়ে বেড়াচ্ছে এর জন্য সীতা দেবী মন দুঃখী"।
.
★पृथक्स्त्रीणां प्रचारेण जातिं त्वं परिशङ्कसे |
★परित्यजेमां शङ्कां तु यदि तेऽहं परीक्षिता
||(६-११६-७)
Valmiki Ramayana 6.116.7 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "শ্রী রাম সীতা দেবী কে বুজাচ্ছেন এক অভদ্র মহিলার আচরণ দ্বারা আপনি দুঃখী হয়েন না"
.
★त्वया तु नरशार्दूल क्रोधमेवानुवर्तता |
★लघुनेव मनुष्येण स्त्रीत्वमेव पुरस्कृतम् ||
६-११६-१४
Valmiki Ramayana 6.116.14 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "সীতা দেবী শ্রী রাম কে বুজাচ্ছেন তিনি দুর্বল ও আবেগে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ও
womanliness অগ্রাধিকার দিয়েছেন"
.
★चितां मे कुरु सौमित्रे व्यसनस्यास्य भेषजम् |
★मिथ्यापवादोपहता नाहं जीवितुमुत्सहे ||
६-११६-१८.
Valmiki Ramayana 6.116.18 পড়লে বুঝতে পারা যাচ্ছে "সীতা দেবী মিথ্যা দোষারোপ থেকে মুক্ত হবার জন্য লক্ষ্মণ কে আদেশ দিচ্ছে আগুনের চিতা তৈরী করার জন্য"
.
জ্ঞানপাপীরা এবার বুঝলে তো তোমাদের জ্ঞানের পরিধি কতোটুকু???
শ্রীরাম মাতা সীতাকে সন্দেহ করেনি।
.
★তাদের দাবি --
রাম হনুমানের দুই ভাইকে কেন অকারনে খুন করলেন যেখানে রামের সাথে তাদের কোন শত্রুতা ছিলনা?
সৃষ্টিকর্তা হয়ে অপরাধ করা কি সম্ভব?
.
★আমার জবাবঃ- রাম হনুমানের ভাইকে হত্যা করেননি। হত্যা করেছেন সুগ্রীবের ভাই বালিকে।কারণ বালি সুগ্রীবের স্ত্রীকে বন্ধি রেখেছিলো, এবং সুগ্রীবকে ধন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল বালি। আর বালি ছিলো একজন দুরাচারী শাসক। অধার্মিকদের দন্ড প্রধানের জন্য এবং সাধুদের রক্ষার জন্য ঈশ্বর অবতার রুপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
.
★তাদের দাবি --
রাবন যদি শয়তান হয়ে একদিনে লঙ্কায় পৌঁছাতে পারে তবে রাম সৃষ্টিকর্তা হয়ে কেন ১২ বছর লাগলো
তাও আবার হনুমানের সাহায্যে? শয়তানের শক্তি সৃষ্টির্কতা হতে কি করে বেশি হওয়া সম্ভব?
.
★আমার জবাবঃ- শ্রীরাম সমুদ্র পার হয়েছেন সমগ্র বানর সেনা নিয়ে। বানর সেনারা শ্রীরামকে সহায়তা করতে চেয়েছিল, অার ভগবান সর্বদা ভক্তদের অভিলাষ পূরণ করেন সেটা অার নতুন কিসের???
অার সমুদ্র পার হতে ১২ বছর লাগেনি। শ্রীরাম ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিল----
★ বাল্মীকি রামায়ণ-- অযোধ্যা কান্ড, ১১তম সর্গের ২৬ তম শ্লোকে কৈকয়ী দশরথকে বলেছেন " "Rama has to take refuge in the forest of Dandaka for fourteen years and let him become an ascetic wearing rags, deer skin and matted hair"
এখানে স্পষ্ট ক্লিয়ার শ্রীরামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনে পাঠানোর জন্য বলতেছে"।
এবং অযোধ্যা কান্ডের,১৯ তম সর্গের, ২নং শ্লোকে শ্রীরাম বলতেছেন---
★ एवम् अस्तु गमिष्यामि वनम् वस्तुम् अहम् तु अतः |
★जटा चीर धरः राज्ञः प्रतिज्ञाम् अनुपालयन् || २-१९-२
.
★Translation --- "Let it be, as you said it. I shall fulfil the king's promise, go to the forest from here to reside there, wearing braided hair and covered with a hide."
.
অর্থাৎ শ্রীরাম বনে যাওয়ার ব্যপারে না বলেননি।
.
এখানে স্পষ্ট ক্লিয়ার রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিল, সমুদ্র পার হতে ১৪ বছর লেগেছিল সেটা মিথ্যা কথা।
.
★তাদের দাবি --
কৃষ্ণা সৃষ্টিকর্তা হয়ে কিভাবে নারীদের স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করেন ও তাদের পোষাক লুকিয়ে রেখে দেন?
.
★আমার জবাবঃ- শ্রীকৃষ্ণ কি নারীদের স্নানরত দৃশ্য উপভোগ করতে ছিলো সেটা এই লেখাটি পড়লে বুঝতে পারবেন।
.
তবুও আপনাদের জন্য কয়েকটা প্রমাণ দিচ্ছি যেটার মাধ্যমে বুঝতে সহজ হবে---
★ ভাগবত:- ১০/২২/৮
"পরীক্ষিত বললেন- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হলেন যোগেশ্বরগণেরও ঈশ্বর, তার অজানা কোন কিছুই ছিলনা। তিনি তাদের(গোপী) মন বাসনা সফল করার জন্য বয়স্য পরিবৃত হয়ে সেই যমুনাপুলিনে আগমন করলেন। "
.
★ভাগবত:- ১০/২২/৯
"তীরে পরিত্যক্ত গোপ কন্যাদের বস্ত্রগুলি সংগ্রহ করে তিনি সহ একটি কদম বৃক্ষের ওপর আরোহন করলেন এবং তার সঙ্গী বালকেরা এই কৌতুক দেখে হাসতে লাগলো এবং তিনিও হাসতে লাগলেন এবং কুমারীদের পরিহাস করতে বলতে লাগলেন।
.
এখানে কিন্তু উপভোগ করার কোন কথায় নেই, কাপড় নিয়ে তৎক্ষনাৎ গোপীদের সেটা বলেও দিয়েছে।
.
আবার কি কারণে কাপড় গুলি নিয়েছে সেটা হলো---
★ ভাগবত:- ১০/২২/১৯
"প্রিয় গোপীকাগণ তোমরা যে ব্রত গ্রহণ করেছিলে তা অত্যন্ত নিষ্টার সঙ্গে পালন করেছো তাতে কোন সন্দেহ নেই, অজ্ঞানতই তোমাদের একটা ক্রুটি ঘটে গিয়েছে, ব্রত পালনকালে জলে বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা ভালো নয়, এতে জলের দেবতার(বরুন) প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, তাঁর কাছে অপরাধ হয়, সুতরাং তোমরা পাপ মোচনের জন্য তার কাছে জোড়হাত মাথায় ঠেকিয়ে তাকে প্রণাম করে নিজেদের কাপড় নিয়ে যাও।"
.
এই শ্লোক অনুসারে সমগ্র মানব সমাজ একটি শিক্ষা পেলো সেটা হলো বিবস্ত্র হয়ে স্নান করা ধর্ম বিরুদ্ধ কাজ।
এখানে কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ একা ছিলেননা, ভাগবত ১০/২২/২২ অনুসারে সেখানে বয়স্যরাও ছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে শ্রীকৃষ্ণ একাই ছিলেন। কিন্তু পুরো ঘটনাটাই বিপরীত।
সেখানে প্রথমত শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন, দ্বিতীয়ত গোপ বালকেরা ছিলেন, তৃতীয়ত জলের দেবতা বরুনদেব ছিলেন এবং চতুর্থত ঘটনার শেষের দিকে বয়স্যরাও ছিলেন।
তাই জ্ঞানপাপীরা সাবধান হও, তা নাহলে মিথ্যাবাদী প্রমাণ হতেই থাকবে।

Sayan Dev Sharma

✌শেয়ার করে নাস্তিক ও বিধর্মীদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিন
Share:

২৯ এপ্রিল ২০১৮

বেদ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ঋষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টারো ন তু বেদস্য কর্তারঃ।
ন কশ্চিদ্বেদ কর্ত্তা চ বেদস্মর্তা চতুর্ভূজঃ।।
যুগান্তেহন্তহিতান্ বেদান্ সেতিহাসান্মহর্ষয়ঃ।
লেভিরে তপসা পূর্বমনুজ্ঞাতাঃ স্বয়ম্ভূবা।।
------- মহাভারত, শান্তি পর্ব ২১০/১৯

অর্থাৎ ঋষিগণ মন্ত্র দ্রষ্টা মাত্র, বেদ রচনাকারী নয়। বেদে রচয়িতা কেউ নয়। ভগবান্ ব্রহ্মা বেদ-স্মরণকারী মাত্র। যুগান্তে অর্থাৎ প্রলয়কালে ইতিহাসাদি সহ বেদ অন্তর্হিত হইলে মহর্ষিগণ, স্বয়ম্ভু ব্রহ্মা কর্তৃক পূর্ব উপদিষ্ট সেই বেদজ্ঞান তপস্যা দ্বারা পুনরায় লাভ করেন।

বেদ শব্দটি "বিদ্" ধাতু থেকে নিষ্পন্ন। "বিদ্" ধাতুর অর্থ - জানা।সেইজন্য বেদ শব্দের ধাতুগত অর্থ - জ্ঞান বা বিদ্যা দুই প্রকার পরা এবং অপরা। অলৌকিক জ্ঞান - পরাবিদ্যা। জাগতিক বিষয় সম্বন্ধীয় যাবতীয় লৌকিক জ্ঞান - অপরা বিদ্যা। পরা ও অপরা এই দুই বিদ্যাই স্থান পেয়েছে সেই জন্য বেদকে সর্ব জ্ঞানের ভান্ডার বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বেদের বেদত্ব ওই পরাবিদ্যা বা ব্রহ্মবিদ্যা প্রকাশের জন্য।পরাবিদ্যাই শ্রেষ্ঠ বিদ্যা ।

"বিদ" ধাতুর চারিপ্রকার অর্থ হয় --
বেত্তি বেদ বিদ জ্ঞানে,
বিন্তে বিদ বিচারণে।
বিদ্যতে বিদ সত্তায়াং,
লাভে বিদন্তি বিন্দতে।।

এই চারিপ্রকার অর্থ হইতেছে - জানা, বিচার করা, অবস্থান করা ও লাভ করা। যাহা পাঠ করলে মানুষ সত্য জানিতে পারে, সত্য এবং অসত্যের বিচার করিতে পারে, প্রকৃত বিদ্বান হইতে পারে, প্রকৃত শান্তি এবং আনন্দ লাভ করিতে পারে, তাহার নাম বেদ। বেদ শব্দের দুই অর্থ - মুখ্য ও গৌণ। ইহার মুখ্য অর্থ হল জ্ঞান রাশি, আর গৌণ অর্থ হল শব্দরাশি। বৈদিক জ্ঞান রাশি আত্মপ্রকাশ করে বৈদিক শব্দরাশির সাহায্যে।
বেদের বিভিন্ন নাম - শ্রুতি, ত্রয়ী, নিগম ইত্যাদি। "শ্রু" ধাতুর অর্থ শ্রবণ করা। সৃষ্টির প্রারম্ভ হইতে আজ পর্যন্ত যাহাতে মানুষ সত্যবিদ্যা শ্রবণ করিতে পারে তাহার নাম শ্রুতি। তাছাড়া বেদ প্রথমে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ না হইয়া গুরু শিষ্য পরম্পরা ক্রমে যুগ যুগ ধরিয়া ঋষি সমাজে প্রচলিত ছিল বলে বেদের অপর নাম "শ্রুতি"।
বেদ মন্ত্র সমূহ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত ঋক,যজুঃ ও সাম অর্থাৎ পদ্য, গদ্য ও গীতি। যেজন্য বেদকে ত্রয়ী বলা হয়। আর "নিগম" শব্দের অর্থ নিশ্চিতরূপে দমন করা যে স্বাস্থ্য পাঠে সাধক নিশ্চিতরূপে শ্রীভগবানের নিকটে গমন করায় বা লইয়া যায় তাহাই "নিগম"।
প্রতি বেদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত- মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ। মন্ত্র ভাগের অপর নাম সংহিতা। ইহাতে প্রধানতঃ যাগ-যজ্ঞাদি ক্রিয়ার বিধিনিষে, মন্ত্র ও অর্থবাদ প্রভৃতি বিষয় সমূহ সন্নিবিষ্ট আছে। আর সংহিতা ভাগে যে সকল গূঢ় রহস্য প্রচ্ছন্নভাবে নিহিত আছে, সেই সকল অপ্রকাশিত অর্থ শ্রুতি নিজেই যে অংশে প্রকাশ করিয়াছেন, সেই অংশের নাম "ব্রাহ্মণ"। ব্রাহ্মন ভাগে প্রধানতঃ স্তোত্র, ইতিবৃত্ত, উপাসনা, ব্রহ্মবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়সমূহ আছে।
ব্রাহ্মণ অংশের অংশবিশেষকে "আরণ্যক" বলে। কারণ বানপ্রস্থাশ্রমে অরণ্যবাসীদের পাঠ্য ছিল। বানপ্রস্থ আশ্রমে অরণ্যবাসীদের পক্ষে যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠান কষ্টসাধ্য হওয়ায় এবং উচ্চতর জ্ঞান লাভের জন্য তাহাদের হৃদয় ব্যাকুল হওয়ায় আত্মোপলব্ধির অভিপ্রায়ে ধ্যান-জপ, প্রার্থনা, উপাসনাদি ছিল তাহাদের মুখ্য কর্ম। যাগযজ্ঞ ছিল গার্হস্থ্যাশ্রমে গৃহীদের প্রধান কর্ম।‌
বেদের সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ হইতেছে- "উপনিষদ"।ব্রক্ষ্মবিদ্যাই বিশেষ ভাবে ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। ব্রক্ষ্মবিদ্যাই বেদের সারবস্তু, সেজন্য উহার নাম "বেদান্ত"। অজ্ঞান নিবৃত্তি ও ব্রক্ষ্মপ্রাপ্তির উপায় বলিয়া বেদান্তের অপর নাম "উপনিষদ"। উপনিষদের অর্থই হল ব্রক্ষ্মবিদ্যা। সংহিতা ও ব্রাক্ষ্মণ- এই উভয় বিভাগেই উপনিষদসমূহ আছে। তদনুযায়ী তাহারা সংহিতোপনিষৎ বা ব্রাহ্মণোপনিষৎ নামে উল্লিখিত হয়ে থাকে।
বেদের এই চারটি ভাগ অর্থাৎ সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ - ইহাদের মধ্যে একটি পারম্পর্য আছে। যেমন প্রথমে সংহিতা, তারপর ব্রাহ্মণ, তারপর আরণ্যক ও সর্বশেষে উপনিষদ্। এইরূপে বেদের অন্তে বা শেষভাগে অবস্থিত হওয়ায় উপনিষদ "বেদান্ত" নামে পরিচিত। অথবা বেদের সার অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ ভাগ বলিয়াই উপনিষদ "বেদান্ত" নামে অভিহিত বস্তুত উপনিষদে ব্রক্ষ্মবিদ্যাই প্রতিপাদিত হইয়াছে।
সমগ্র দেশকে আবার কর্ম কান্ড ও জ্ঞানকাণ্ড এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। তারমধ্যে সংহিতা ও ব্রাহ্মণ সমূহ মুখ্যত কর্মকান্ডের অন্তর্ভুক্ত। কারন তারা সাধারণতঃ যজ্ঞাদি কাজেই প্রযুক্ত হয়। আর আরণ্যক ও উপনিষদ - জ্ঞানকান্ডের অন্তর্গত। কারন তাহাদের বিশেষ উদ্দেশ্য হইল- উপাসনা ও ব্রহ্মবিদ্যার প্রতিপাদন। কর্মকাণ্ড জীবকে অভ্যুদয় অর্থাৎ ঐচ্ছিক ধনরত্নাদি ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ এবং পরলৌকিক স্বর্গাদি ফল প্রদান করে। কিন্তু জ্ঞানকাণ্ড মানুষের চিত্তশুদ্ধিক্রমে নিঃশ্রেয়স অর্থাৎ মুক্তি-মোক্ষ দান করে। কর্মকান্ড মানুষকে প্রবৃত্তি মার্গ আর জ্ঞানকাণ্ড তাহাকে নিবৃত্তি মার্গে চলার প্রেরণা দান করে।
বেদমন্ত্র সমূহ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়- পদ্যাত্মক মন্ত্রের নাম "ঋক",গদ্যাত্মক মন্ত্রের নাম "যজুঃ" এবং গানাত্মক মন্ত্রের নাম "সাম""। সেজন্য আর এক নাম ত্রয়ী।

 courtesy: Shuvankar Mondal
Share:

কাশ্মীর /ত্রিক/অদ্বৈত/শৈব দর্শন

ভারতীয় দার্শনিক তত্ত্ব বিচারের মূল উৎস হল শ্রুতি ও তন্ত্রাগমসমূহ। শ্রুতি অর্থাৎ বেদ উপনিষদ ও আরণ্যক সমূহ হতে প্রাচীনকালে ষড়দর্শনের উদ্ভব হয়েছে।
এই দার্শনিক প্রস্থানের পোষক গ্রন্থগুলির মধ্যে, যুক্তিতর্ক দিয়ে খন্ডন - মন্ডনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। অপরদিকে তন্ত্রাগম সমূহে, তত্ত্ব বিচার অপেক্ষায় সাধকের আধ্যাত্বিক অনুভূতির সমাবেশ পাওয়া যায়।তন্ত্রাগমকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—শৈব ,শাক্ত ও বৈষ্ণব।

উক্ত তিনটি তন্ত্রাগমের মধ্যে, শৈব দর্শন একটি। মূলত উদ্ভূত শৈব দর্শনকেই কাশ্মীর শৈবদর্শন বা অদ্বৈত শৈব দর্শন বলা হয়। অদ্বৈত শৈব দর্শনের সারকথা হলো দৃশ্যমান এই জগতের স্বরুপ হলো শিব। শিব বা চৈতন্য হতে জগতের উৎপত্তি, চৈতন‍্যে এর স্থিতি এবং চৈতন‍্যে এর লয়। পরম তত্ত্ব বা পরমেশ্বর স্বেচ্ছায় নিজেকে জগতরূপে অভিব‍্যক্ত করেছে। কাশ্মীর দর্শনের মূলে বর্তমান শিব—পরমশিব। দর্শনের বিকাশ এই মূল তত্ত্ব কেন্দ্রিক। পরমশিব বর্ণনার অতীত, তার মহত্ত্ব ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তিনি অনাদি, অনন্ত, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। দার্শনিক দার্শনিক শৈব দর্শন এবং শৈব দর্শন এবং শৈব দর্শন এবং অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও এদের বিভিন্নতা অনস্বীকার্য।
কাশ্মীর অদ্বৈত দর্শনে যাবতীয় বস্তুই চৈতন্যের প্রকাশ অবশ্য এই বিস্ময়কর বিশ্ব অনুভববেদ‍্য এখানে জগৎসংসারের মূলে চৈতন‍্য। কাশ্মীর শৈব দর্শনএ সাধনার লক্ষ্য হলো, নিজের মধ্যে অবস্থিত অখন্ড শিব সত্তাকে জাগিয়ে তোলা। অর্থাৎ শিবত্বপ্রাপ্তি।
আর সেটা সম্ভব, পরমেশ্বরের অনুগ্রহ কৃত্যের দ্বারা।

(পরম দুঃখের, এত সুন্দর একটা প্র্যাকটিক্যাল দর্শনকে আমরা অবহেলা করি, এর কারণ এটি নব্য দর্শন বলে।
বেশিরভাগ লোক তন্ত্র মানে বোঝে বশীকরণ,মারণ ইত্যাদি ক্রিয়া, মদ, গাঁজা ইত্যাদি সেবন করা। বাস্তবে তারা তন্ত্র দর্শনের আসল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য জানেনা।
তন্ত্রের মধ্যেও একটি শুদ্ধ অদ্বৈত তত্ত্ব লুকিয়ে রয়েছে তারা বুঝতে পারে না। আর না বুঝেই শাস্ত্রটিকে অগ্ৰাহ‍্য করে। কেবলমাত্র সুযোগ্য গুরু এবং শিষ্যের অভাবে আজ তান্ত্রিক সম্প্রদায় লুপ্ত। তাই আমি সকলকে অনুরোধ করবো তন্ত্রাগমের অন্তর্ভুক্ত এই কাশ্মীর শৈব দর্শন কে তারা যেন একটু প্রাধান্য দেয়, এবং জিনিসটিকে বোঝার চেষ্টা করে)।
____________________________________________
 🔱🔱🔱সশ্চিদানন্দরূপ শিবোহম🔱🔱
Courtesy: Pritam Ghosh
Share:

‘বাহ্যপূজা – মূর্তিপূজা প্রথমাবস্থা; কিঞ্চিৎ উন্নত হইলে মানসিক প্রার্থনা পরবর্তী স্তর; কিন্তু ঈশ্বরসাক্ষাৎকারই উচ্চতম অবস্থা।


প্রথমেই বলিয়া রাখি যে, ভারতবর্ষে বহু-ঈশ্বরবাদ নাই। প্রতি দেবালয়ের পার্শ্বে দাঁড়াইয়া যদি কেহ শ্রবণ করে, তাহা হইলে শুনিতে পাইবে পূজক দেববিগ্রহে ঈশ্বরের সমুদয় গুণ, এমন কি সর্বব্যাপিত্ব পর্যন্ত আরোপ করিতেছে। ইহা বহু-ঈশ্বরবাদ নয়, বা ইহাকে কোন দেব-বিশেষের প্রাধান্যবাদ বলিলেও প্রকৃত ব্যাপার ব্যাখ্যাত হইবে না। গোলাপকে যে-কোন অন্য নামই দাও না কেন, তাহার সুগন্ধ সমানই থাকিবে। সংজ্ঞা বা নাম দিলেই ব্যাখ্যা করা হয় না।… ভাবানুষঙ্গ-নিয়মানুসারে জড়মূর্তি দেখিলে মানসিক ভাববিশেষের উদ্দীপন হয়, বিপরীতক্রমে মনে ভাববিশেষের উদ্দীপন হইলে তদনুরূপ মূর্তিবিশেষও মনে উদিত হয়। এই জন্য হিন্দু উপাসনার সময়ে বাহ্য প্রতীক ব্যবহার করে। সে বলিবে, তাহার উপাস্য দেবতায় মন স্থির করিতে প্রতীক সাহায্য করে। … মন্দির, প্রার্থনাগৃহ, দেববিগ্রহ বা ধর্মশাস্ত্র – সবই মানুষের ধর্মজীবনের প্রাথমিক অবলম্বন ও সহায়ক মাত্র, তাহাকে ক্রমশ অগ্রসর হইতে হইবে।
শাস্ত্র বলিতেছেনঃ ‘বাহ্যপূজা – মূর্তিপূজা প্রথমাবস্থা; কিঞ্চিৎ উন্নত হইলে মানসিক প্রার্থনা পরবর্তী স্তর; কিন্তু ঈশ্বরসাক্ষাৎকারই উচ্চতম অবস্থা।’ (মহানির্বাণতন্ত্র, ৪।১২)
স্বামী বিবেকানন্দ, ‘হিন্দুধর্ম’, শিকাগো বক্তৃতা
=================================
অহিন্দুরা অনেকে বিশ্বাস করেন যে, আমরা হিন্দুরা বহু দেবদেবীর পূজা করি। এই ধারণা সর্বৈব ভুল। আমরা ব্রহ্ম বা এক ঈশ্বরকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে ও ভিন্ন ভিন্ন রূপে আরাধনা করি। আসলে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাঁদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য ঈশ্বরের নাম ও রূপভেদ সম্পর্কে স্বতন্ত্র্য কিছু ধারণা পোষণ করেন। এই কারণেই, আজকের হিন্দুসমাজে ঈশ্বরের এত রূপবৈচিত্র্য আমাদের চোখে পড়ে। ইতিহাসের পথ ধরে হিন্দুসমাজে চারটি প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে–শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব ও স্মার্ত। শৈবরা শিবকে ও বৈষ্ণবরা বিষ্ণুকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর মনে করেন। শাক্তেরা মনে করেন এই মহাবিশ্বে মহাশক্তিই সর্বেসর্বা। স্মার্ত মতটি অনেক উদারপন্থী। তাঁরা মনে করেন, সকল দেবতাই সর্বোচ্চ ঈশ্বর ব্রহ্মের স্বরূপ। তাই তাঁরা দেবতা নির্বাচনের ভারটি ভক্তের উপর ছেড়ে দেন। অবশ্য এও মনে রাখতে হবে যে, স্মার্ত মতটি হিন্দুধর্মে বহুল প্রচলিত হলেও, প্রধান মত নয়। সে যাই হোক, এই মতবৈচিত্র্যের জন্যই হিন্দুরা একে অপরের ধর্মমতের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে থাকেন। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস যেমন বলেছেন, ‘যত মত তত পথ।’ অর্থাৎ, সকল মতই সেই এক ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছানোর এক একটি পথ।

হিন্দুধর্মের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল এই যে, আমরা হিন্দুরা ঈশ্বরকে বহুদূরের স্বর্গে বসবাসকারী দেবতা মনে করি না। আমাদের ঈশ্বর বাস করেন আমাদের অন্তরে, আমাদের হৃদয়ে, আমাদের চেতনায়। শুধু তিনি অপেক্ষা করেন, যতক্ষণ না আমরা আমাদের মধ্যে স্থিত ঈশ্বরকে চিনে নিতে পারি। ঈশ্বর যে আমাদের সঙ্গেই থাকেন, এই কথাটি আমাদের আশা ও শক্তি জোগায়। তাই হিন্দু জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল সেই এক ও অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে জানা।

আমরা হিন্দুরা একাধারে মনোথেইস্টিক (একেশ্বরবাদী) ও হেনোথেইস্টিক। আমরা পলিথেইস্টিক বা বহুঈশ্বরবাদী নই। কারণ আমাদের হিন্দুধর্মে সমক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক দেবতার অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না। হেনোথেইজম্-ই হিন্দু মতবাদটির সঠিক সংজ্ঞা গতে পারে। এই মতবাদের মূল কথাটি হল, অন্যান্য দেবতাদের অস্তিত্ব স্বীকার করেও এক ঈশ্বরের আরাধনা করা। আমরা হিন্দুরা বিশ্বাস করি, এক সর্বব্যাপী ব্রহ্ম এই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের শক্তির উৎস। মানুষ সহ সকল জীবের জীবনের মধ্যেই আমরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করি। সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থান ও ঈশ্বর কর্তৃক সকল জীবের প্রাণধারণের এই মতবাদটিকে বলে প্যানেনথেইজম। প্যানথেইজমের থেকে এটি আলাদা। কারণ, প্যানথেইজম বলে প্রাকৃতিক ব্রহ্মাণ্ডখানিই ঈশ্বর এবং তার বেশি কিছু নয়। অন্যান্য ধর্মের রক্ষণশীল ধর্মতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, ঈশ্বর জগতের উর্ধ্বে, জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং মানুষের অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধির অগম্য। হিন্দুধর্ম তা মনে করে না। প্যানেনথেইজম একটি সর্বময় ধারণা। এটি বলে, ঈশ্বর জগতের ভিতরে ও বাইরে দুই স্থানেই আছেন। তিনি একাধারে মানুষের চেতনার আয়ত্তাধীন, আবার অগম্যও বটে। এই বৃহত্তর ধারণাটিই হিন্দুর ধারণা।

আমাদের হিন্দুদের বিভিন্ন শাখাসম্প্রদায়ে ব্রহ্মের নানান নাম প্রচলিত রয়েছে। এই নামবৈভিন্ন্যের কারণ সম্প্রদায়গুলির স্বতন্ত্র ধর্মীয় প্রথা ও রীতিনীতি। আর এই নামবৈভিন্ন্যই অহিন্দুদের যাবতীয় ভ্রান্ত ধারণার কারণ। হিন্দুরা পরম সত্যকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করে, কিন্তু তাই বলে পরম সত্য স্বয়ং বিভিন্ন হয়ে যান না। এই বিভিন্ন নাম থেকে বিভিন্ন রূপের উৎপত্তি; কিন্তু প্রত্যেক রূপই সেই এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মের রূপান্তর-মাত্র। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর অনেক পথের সন্ধান দেওয়া হয়েছে। আমরা হিন্দুরা প্রতিটি পথকেই অভ্রান্ত মনে করি। তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট পথকে সকলের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা নই। পথ নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা হিন্দুরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করি।

তবে এই বিষয়ে শুধু অহিন্দু নয়, অনেক হিন্দুর মধ্যেও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ঈশ্বর ও দেবতার মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান, তা অনুধাবন করতে পারলেই এই ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়। ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের হিন্দুদের ধারণায় কোনো সংকীর্ণতা নেই। এখানে বলে রাখা ভাল, হিন্দুদের একাংশ নিরাকার ঈশ্বরেরও উপাসনা করেন। অন্যেরা দেবতাদের ব্যক্তিগত দেবতা (ইষ্টদেবতা বা কূলদেবতা) হিসেবে পূজা করেন। স্বামী বিবেকানন্দ এই প্রসঙ্গে একটি প্রণিধানযোগ্য উক্তি করেছেন, “যে একাগ্র সাধক জানু পাতিয়া দেববিগ্রহের সম্মুখে পূজা করেন, লক্ষ্য কর – তিনি তোমাকে কি বলেন, ‘সূর্য তাঁহাকে প্রকাশ করিতে পারে না; চন্দ্র তারা এবং এই বিদ্যুৎও তাঁহাকে প্রকাশ করিতে পারে না; এই অগ্নি তাঁহাকে কিরূপে প্রকাশ করিবে? ইহারা সকলেই তাঁহার আলোকে প্রকাশিত।’ (কঠ উপনিষদ ২।২।১৫; শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ ৬।১৪; মুণ্ডক উপনিষদ ২।২।১০) তিনি কাহারও দেববিগ্রহকে গালি দেন না বা প্রতিমাপূজাকে পাপ বলেন না। তিনি ইহাকে জীবনের এক প্রয়োজনীয় অবস্থা বলিয়া স্বীকার করেন। শিশুর মধ্যেই পূর্ণ মানবের সম্ভাবনা নিহিত রহিয়াছে। বৃদ্ধের পক্ষে শৈশব ও যৌবনকে পাপ বলা কি উচিত হইবে? হিন্দুধর্মে বিগ্রহপূজা যে সকলের অবশ্য কর্তব্য, তাহা নয়। কিন্তু কেহ যদি বিগ্রহের সাহায্যে সহজে নিজের দিব্য ভাব উপলব্ধি করতে পারে, তাহা হইলে কি উহাকে পাপ বলা সঙ্গত?” (‘হিন্দুধর্ম’, শিকাগো বক্তৃতা) বিশ্বের প্রাচীনতম জীবিত এবং সর্বাপেক্ষা ঐশ্বর্যশালী ধর্মমতের এই বৈশিষ্ট্য অনন্য। স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়, ‘বহুত্বের মধ্যে একত্বই প্রকৃতির ব্যবস্থা, হিন্দুগণ এই রহস্য ধরিতে পারিয়াছেন।’ (‘হিন্দুধর্ম’, শিকাগো বক্তৃতা)
সূত্রঃস্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, প্রথম খণ্ড, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা।
হিন্দুইজম টুডে পত্রিকা।

Courtesy:  Amith Pal
Share:

হাতে লাল সুতো বাঁধা হয় কেন?

উত্তরঃ হিন্দুদের মধ্যে হাতে লাল সুতো বাঁধার প্রচলন রয়েছে, রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন অনেক লোকের কবজিতে এক গুছো লাল সুতো বাঁধা থাকে | সাধারণত হিন্দু ধর্মের লোকেরা বিপদতারিনী পূজোর লাল সুতো হাতে বেধে থাকে |
তাদের বিশ্বাস এই অলৌকিক সুতো সমস্ত অমঙ্গল ও বিপদ আপদ থেকে তাদের নিরাপদ রাখবে | বিভিন্ন যজ্ঞ ও পূজো ছাড়াও পুরাণে লাল সুতো ব্যবহারের
আরো কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় |
প্রথমতঃ ভক্ত প্রহ্লাদের পুত্র বলিরাজ ব্রহ্মার আশীর্বাদে সর্গ
মর্ত্য ও পাতালের অধিকারী হয়েছিলেন | দেবরাজ ইন্দ্রের সিংহাসন
রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু বামন রূপে জন্মগ্রহণ করে বলিরাজকে পাতালে
পাঠিয়ে দেন | ভগবান বিষ্ণু বলিরাজকে অমরত্ব দান করেন | আশীর্বাদ স্বরূপ
তিনি তার হাতে বেধে দেন লাল সুতো | তাই ভগবানের আশীর্বাদ
হিসেবে হিন্দুদের মধ্যে হাতে লাল সুতো বাঁধার প্রচলন রয়েছে |
দ্বিতীয়তঃ একসময় দেবতা ও অসুরদের মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়,অসুরদের পরাক্রম দেখে দেবরাজ ইন্দ্র খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন | স্বামীকে চিন্তিত দেখে স্ত্রী ইন্দ্রাণী তার জন্য প্রার্থনা শুরু করেন | ইন্দ্রাণী তার আধ্যাত্বিক শক্তি একত্রিত করে লাল সুতো দিয়ে একটা মালা তৈরি করেন |
তারপর দেবরাজ ইন্দ্রের মঙ্গল কামনা করে সেই লাল সুতোর মালা তার গলায় বেধে দেন যাতে অসুরেরা তাকে আঘাত করতে না পারে | এরপর দেবতা ও অসুরদের মধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধ শুরু হয় | ইন্দ্রের নেতৃত্বে দেবতারা যুদ্ধে জয়
লাভ করেন | তখন থেকেই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে মন্ত্রপূত লাল সুতো বাঁধার
প্রচলন হয় |

Courtesy:  Raj Jony
Share:

সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্

ব্রহ্মার রচনা করা প্রজা যখন বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হল, তখন তিনি পুনরায় মৈথুনী সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। এর আগে ঈশ্বরের থেকে নারীগণ প্রকটিত হয়নি । তাই পিতামহ ততদিন মৈথুনী সৃষ্টি করতে পারেননি । তখন তিনি মনে মনে এমন চিন্তা করলেন, যা নিশ্চিতরূপে তার মনোরথ সিদ্ধির সহায়ক ছিল । তিনি ভাবলেন প্রজাবৃদ্ধির জন্য পরমেশ্বরকেই জিঞ্জাসা করা উচিত; কারণ তাঁর কৃপা ব্যতীত প্রজা-বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এই ভেবে বিশ্বাত্মা
ব্রহ্মা তপস্যা করার উদ্যোগ নিলেন। তখন যিনি আদ্য, অনন্তা, লোকভাবিনী, সূক্ষ্মতরা, শুদ্ধা, ভাবগম্যা, মনোহরা, নির্গুণা, নিষ্প্রপঞ্চা, নিষ্কলা, নিত্যা এবং সর্বদা ঈশ্বরের কাছে থাকা তাঁর পরমা শক্তি, তাঁতে যুক্ত ভগবান ত্রিলোচনকে নিজ হৃদয়ে চিন্তা করে কঠোর তপস্যা করতে লাগলেন। তীব্র তপস্যারত পরমেষ্ঠি ব্রহ্মার প্রতি মহাদেব অল্প-সময়েই সন্তুষ্ট হয়ে উঠলেন । তারপর নিজ অনির্বচনীয় অংশের কোনো এক অদ্ভুত মূর্তিতে আবিষ্ট হয়ে ভগবান অর্ধশরীর নারীর ও অর্ধশরীর ঈশ্বর হয়ে স্বয়ং ব্রহ্মার কাছে উপস্থিত হলেন। সেই সর্বব্যাপী, সব কিছু প্রদানকারী, সদসৎরহিত, সমস্ত উপমাশূন্য, শরনাগত-বৎসল ও সনাতন শিবকে দন্ডবৎ প্রনাম করে ব্রহ্মা দন্ডায়মান হয়ে হাতজোড় করে মহাদেব ও মহাদেবী পার্বতীর স্তুতি করতে লাগলেন।

ব্রহ্মা বললেন -দেব ! মহাদেব ! আপনার জয় হোক। ঈশ্বর ! মহেশ্বর ! আপনার জয় হোক। সর্বগুণ শ্রেষ্ঠ শিব ! আপনার জয় হোক। সমস্ত দেবতাদের প্রভু শংকর ! আপনার জয় হোক। প্রকৃতিরূপিণী কল্যাণীময়ী উমে ! আপনার জয় হোক । প্রকৃতির নায়িকে ! আপনার জয় হোক । প্রকৃতি থেকে দূরে অবস্থিত দেবি ! আপনার জয় হোক । অমোঘ মহামায়া এবং সফল মনোরথযুক্ত দেব ! আপনার জয় হোক , জয় হোক । অমোঘ মহালীলা এবং কখনও ব্যর্থ না হওয়া মহাবলযুক্ত পরমেশ্বর ! আপনার জয় হোক , জয় হোক । বিশ্ব জগন্ময়ে ! আপনার জয় হোক । বিশ্বজগদ্ধাত্রি ! আপনার জয় হোক । সমস্ত সংসারের সখী-সহায়িকে ! আপনার জয় হোক । প্রভো ! আপনার ঐশ্বর্য এবং ধাম উভয়ই সনাতন । আপনার জয় হোক , জয় হোক। আপনার রূপ এবং অনুচরবর্গও আপনার ন্যায সনাতন । আপনার জয় হোক, জয় হোক । আপনি তিনরূপের দ্বারা ত্রিলোকের নির্মাণ, পালন ও সংহারকারী ! আপনার জয় হোক, জয় হোক। ত্রিলোক অথবা আত্মা, অন্তরাত্মা ও পরমাত্মা-তিন আত্মার নায়িকে ! আপনার জয় হোক । প্রভো ! জগতের কারণ তত্ত্বাদির প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার আপনারই কৃপাদৃষ্টির অধীন, আপনার জয় হোক। প্রলয়কালে আপনার উপেক্ষাযুক্ত কটাক্ষপূর্ণ দৃষ্টিতে যে ভয়ানক অগ্নি প্রকটিত হয়, তার দ্বারা সমস্ত ভৌতিক জগৎ ভস্ম হয়ে যায়; আপনার জয় হোক।

দেবি! আপনার স্বরূপের সম্যক্ ঞ্জান দেবতাদির পক্ষেও অসম্ভব। আপনার জয় হোক। আপনি আত্ম-তত্ত্বের সূক্ষ্ম ঞ্জান দ্বারা প্রকাশিত হন, আপনার জয় হোক। ঈশ্বরি! আপনি স্থূল আত্মশক্তির সাহায্যে চরাচর জগৎ ব্যাপ্ত করেছেন। আপনার জয় হোক, জয় হোক। প্রভো! বিশ্বের তত্ত্ব সমুদয় এক ও অনেকরূপে আপনার আধারেই
স্থিত, আপনার জয় হোক। আপনার শ্রেষ্ঠ সেবকগণ বড় বড় অসুরদের মস্তকে চরণ রাখেন। আপনার জয় হোক। শরণাগতদের রক্ষা করতে অত্যন্ত সমর্থ পরমেশ্বরি ! আপনার জয় হোক। সংসাররূপ বিষবৃক্ষের উন্খিত হওয়া অঙ্কুর বিনাশকারী উমে ! আপনার জয় হোক। প্রাদেশিক ঐশ্বর্য, বীর্য ও শৌর্য বিস্তারকারী দেব ! আপনার জয় হোক। বিশ্বের অতীত বিদ্যমান দেব ! আপনি নিজ বৈভব দ্বারা অন্যের বৈভব তিরস্কৃত করেছেন, আপনার জয় হোক। পঞ্চবিধ মোক্ষরূপ পুরুষার্থ প্রয়োগ দ্বারা পরমানন্দময় অমৃত প্রাপ্তিকারী পরমেশ্বর ! আপনার জয় হোক ! পঞ্চবিধ পুরুষার্থের বিঞ্জানরূপ অমৃত পরিপূর্ণ স্তোত্রস্বরূপিণী পরমেশ্বরি ! আপনার জয় হোক। অত্যন্ত ভয়ানক সংসাররূপ মহারোগ দূরাকারী বৈদ্য শিরোমণি ! আপনার জয় হোক। অনাদি কর্মফল এবং অঞ্জানরূপ অন্ধকার-রাশি দূরাকারিণী চন্দ্রিকারূপিণী শিবে ! আপনার জয় হোক । ত্রিপুর বিনাশ করার জন্য কালাগ্নিস্বরূপ মহাদেব ! আপনার জয় হোক। ত্রিপুরভৈরবি ! আপনার জয় হোক ! ত্রিগুণমর্দনকারিণী মহেশ্বরি ! আপনার জয় হোক। আদি সর্বঞ্জ ! আপনার জয় হোক। সকলকে ঞ্জানদানকারী দেবি ! আপনার জয় হোক। প্রচুর দিব্য অঙ্গে সুশোভিত দেবি ! আপনার জয় হোক। মনোবাঞ্চিত বস্তপ্রদানকারী দেবি ! আপনার জয় হোক। ভগবান ! দেব ! কোথায় আপনার উৎকৃষ্ট ধাম, আর কোথায় আমার তুচ্ছ বাণী, তবুও ভক্তিভাবে প্রলাপ করতে থাকা এই সেবককে, আমাকে আপনি ক্ষমা করে দিন।

এইভাবে সুন্দর বচনে ভগবান রুদ্র এবং দেবীকে একসঙ্গে গুনগান করে চতুর্মুখ ব্রহ্মা রুদ্র
এবং রুদ্রাণীকে বারংবার নমস্কার করেন। ব্রহ্মার পাঠ করা এই পবিত্র এবং উত্তম অর্ধনারীশ্বর স্তোত্র শিব ও পার্বতীর হর্ষ-বৃদ্ধিকারী । যিনি ভক্তিপূর্বক যে কোনও গুরুর শিক্ষায় এই স্তোত্র পাঠ করেন, তিনি শিব ও পার্বতীকে প্রসন্ন করায় নিজ অভীষ্ট ফল প্রাপ্ত করেন । যিনি সমস্ত ভুবনের প্রাণীদের উৎপন্নকারী, যাঁর বিগ্রহ জন্ম-মৃত্যু রহিত এবং যিনি শ্রেষ্ঠ নর ও সুন্দরী নারীর রূপে একই শরীর ধারণ করে স্থিত, সেই কল্যাণকারী ভগবান শিব ও শিবাকে আমি প্রনাম করি ।

((( অবশিষ্ট অংশ নিয়ে আবার হাজির হব )))

হর হর মহাদেব

Courtesy :  Sujit Das
Share:

বিভূতি যোগ - পরমব্রহ্মের ঐশ্বর্য বর্ণনা হয়েছে এই অধ্যায়ে।

পাঠকগন গীতার দশম অধ্যায়ে এসেই যেন দিশেহারা হয়ে যায়!
শ্রোতাগন ‘গীতা’ শব্দ শুনলেই আর কোন প্রশ্ন উৎপন্ন করতে পারেন না। এই অধ্যায়টি বিভূতি যোগ। পরমব্রহ্মের ঐশ্বর্য বর্ণনা হয়েছে এই অধ্যায়ে।
যাইহোক, গীতার ১০/২০ শ্লোকটি ভগবান বলছেন... ‘‘অর্জুন! আমিই সর্বভূতের হৃদয়ে অবস্থিত সকলের আত্মা এবং সমস্ত ভূতের আদি, মধ্য, এবং অন্ত আমিই। অর্থাৎ জন্ম, মৃত্যু এবং জীবনও আমি।’’
এবার এই শ্লোকের পরের শ্লোকটি দেখুন,
‘‘অদিতির দ্বাদশ পুত্রমধ্যে আমি বিষ্ণু এবং জ্যোতিসমূহের মধ্য আমি প্রকাশমান সূর্য। বায়ুর মধ্য আমি মরীচি নামক বায়ু এবং আমি নক্ষত্রসমূহের মধ্যে চন্দ্র।’’ (১০/২১)।।

প্রশ্ন হলো, ১০/২০ শ্লোকে ভগবান বলেই দিয়েছেন, আমি সমস্ত ভূতের আদি, মধ্য তথা অন্তু। অর্থাৎ সর্ব কিছুই উনি, সর্বভূতেষু। তাহলে ১০/২১ শ্লোকে এসে পুনরায় কেন আলাদা আলাদা ভাবে বর্ণনা শুরু করলেন ?
শুধু ১০/২১ শ্লোকেই নয়, ১০/২১ থেকে ১০/৩৮ শ্লোক পর্যন্তই ভগবান একই ভাবে বলতে লাগলেন....
বেদের মধ্য আমি সামবেদ,
দেবগনের মধ্য আমি ইন্দ্র,
একদশ রুদ্রের মধ্য আমি শঙ্কর,
যক্ষ ও রাক্ষসের মধ্য আমি কুবের,
অষ্টবসুর মধ্য আমি অগ্নি,
পর্বতের মধ্য আমি সুমেরু,
পুরোহিত গনের মধ্য আমি বৃহস্পতি,
সেনাপতি মধ্য আমি কার্তিকেয়,
বৃক্ষের মধ্য আমি অশ্বত্থ,
অশ্বগনের মধ্য আমি উচ্চৈঃশ্রবাঃ,
হস্তিগনের মধ্য আমি ঐরাবত,
মনুষ্যগণের মধ্য আমি রাজা,
গাভীদের মধ্য আমি কামধেনু.......................... ইত্যদি ইত্যাদি।
এখানে ছোট একটা প্রশ্ন, সবকিছুর মধ্য যদি উনি কেবল ভালো গুলো হয়ে থাকেন তাহলে আমরা কি নদীর জলে ভেসে আসছি ?
যেমন ভগবান বললেন, আমি মনুষ্যগনের মধ্য রাজা।
তাহলে যারা প্রজা তাদের মাঝে কি পরমেশ্বরের অংশ নেই ? কিংবা কামধেনু ছাড়া অন্যসকল গাভীদের মাঝে কি জীবাত্মা নেই ?
তাহলে এই গুলো বলে ভগবান আসলে কি বুঝাতে চেয়েছেন সেটিই মুখ্য। কারণ, আমরা জানি গীতায় ভগবান একই সংলাপ দুইবার বলেননি। যখন উনি প্রথমেই বললেন
‘‘আমি সর্বভূতেষু’’ তখন এই ভাবে খণ্ড খণ্ড করে পুণরায় বর্ণনা করে সকলের মধ্য বিভেদ সৃষ্টি করার কি প্রয়োজনীয়তা ছিল ?

কিছু গীতা অনুধাবন করে আমি যা পাইলাম তা হলো, আপেক্ষিক ভাবে আমরা এখানে যা বুঝি আসলে ভগবান তা বলেন নাই! আর অর্জুনও আমাদের মত উপলব্ধি করেনি। উনি ভগবানের বর্ণনা সঠিক রপ্ত করতে পেরেছিলেন।
চলুন দেখাযাক ভগবান কি বুঝাতে চাইছেন....

একাদশ রুদ্রের মধ্য শঙ্কর। অর্থাৎ, (শঙ্ক অরঃ স শঙ্কর) সমস্ত শঙ্কা থেকে আমি মুক্ত।
পর্বতের মধ্য সুমেরু। অর্থাৎ, সমস্ত শুভের মিলন। এটিই সর্বোপরি শৃঙ্গ। মূলত এই সমস্তই যোগ-সাধনার প্রতীক, যৌগিক শব্দ।
পুরোহিতগনের মধ্য বৃহস্পতি। অর্থাৎ, যার থেকে দৈবী সম্পদের সঞ্চার হয় তিনিই বৃহস্পতি।
সেনাপতি মধ্য আমি কার্তিকেয়। অর্থাৎ, যার আচরণ করলে চরাচরের সংহার, প্রলয় এবং ইষ্ট লাভ হয়।
সিদ্ধপুরুষ মধ্য কপিল। অর্থাৎ, যখন একাগ্র হওয়া সম্ভব হয় সেই সময় তিনিই কপিল।
অশ্বগণের মধ্য উচ্চৈঃশ্রবাঃ। অর্থাৎ, গতীর প্রতীক। আত্মতত্ত্ব গ্রহণ করার জন্য মন যখন গতিময় হয় তখন তিনিই এখানে উচ্চৈঃশ্রবাঃ।
মনুষ্য মধ্য রাজা। অর্থাৎ, মহাপুরুষই রাজা।
গাভী মধ্য কামধেনু। অর্থাৎ, যে দুধের পরিবর্তে মনের মত ব্যঞ্জন পরিবেশন করেন।
নাগ মধ্য শেষনাগ। এখানে এই শেষ নাগ এটি কোন সাপ নয়। ভাগবতে এর রুপের বর্ণনা করা হয়েছে যে, পৃথিবী থেকে ত্রিশ হাজার যোজন দূরে পরমাত্মার শক্তি বিদ্যমান। যার অগ্রভাগে এই পৃথিবী সরষের দানার মত ভারশুণ্য অবস্থাতে রয়েছে। সে যুগে যোজনের মানদণ্ড যাই ছিল, তবুও এই দূরত্ব পর্যাপ্ত। মূলত এটা আকর্ষণ - শক্তির চিত্রণ। বৈজ্ঞানিকগন ইহাকে ইথার বলে স্বিকার করেছেন! গ্রহ উপগ্রহ যাবতীয় জ্যেতিষ্ক এই শক্তির উপর নির্ভর করেই আছে।
দৈত্য মধ্য প্রহ্লাদ। অর্থাৎ, পরের জন্য আহ্লাদ। মূলত প্রেমেই প্রহ্লাদ।
গণনাকারী মধ্য সময়। অর্থাৎ, এক, দুই, তিন বা দিন, পক্ষ, মাস ইত্যাদি সময় নয়। পরমব্রহ্ম চিন্তনে যে সময় ব্যতীত হয়।
নারী মধ্য আমি যশ, শক্তি, বাকপটুতা, স্মৃতি, মেধা। অর্থাৎ বুদ্ধি, ধৈর্য এবং ক্ষমা।
ছন্দ সমূহ মধ্য গায়ত্রী। অর্থাৎ, যা পাঠ করলে মুক্তি লাভ হয়।
(ওঁ ভূর্ভূবঃ স্বঃ তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভার্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ)।
আমি বৃষ্ণিবংশীয় বাসুদেব। অর্থাৎ, সর্বত্র যিনি বাস করেন (পরমাত্মা)।
পাণ্ডব মধ্য আমি ধনঞ্জয়। অর্থাৎ, পুণ্যই পাণ্ডু। পুণ্যদ্বারা প্রেরিত হয়ে আত্মিক সম্পত্তি যিনি সংগ্রহ করেন তিনিই ধনঞ্জয় (এখানে ভগবান অর্জুনকে কিছু বলেন নি)।
‘‘সর্বভূতের উৎপত্তির কারণ আমি’’ (১০/৩৯)।
অর্থাৎ, সকল কিছুই পরমাত্মার অংশ।
এখানে ‘খারাপের মধ্য আমি ভালো’ এই রুপ কিছু বলা হয়নি।

প্রণিপাত। জয় গীতা।।
বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ স্বামী অড়গড়ানন্দ।

Courtesy :  Tusar Sarker
Share:

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।