সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

একাদশীর দিনে কি খাওয়া যায়

অনেকেই আমার একাদশী পোষ্টে মন্তব্য করেন, সবই তো খাওয়া মানা, তাহলে খাব টা কি। আসলে অনেক কিছুই খাওয়া যাবে, আমরা বানাতে জানিনা বলেই এরকমটি মনে হয়। আসুন জেনে নেই কি কি খাবার মানা আর কি কি খেতে পারব, সাথে একাদশীর মজার কিছু রেসিপি।

একাদশীর দিন বারণ-

• পঞ্চশস্য; ১। ধান জাতীয় খাদ্য- ভাত,খিচুড়ি,মুড়ি, চিঁড়া, খই, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের পিঠা, পায়েস।
• ২। গম জাতীয় খাদ্য- আটা, ময়দা,সুজি,রুটি, বিস্কুট।
• ৩। যব বা ভুট্টা জাতীয় খাদ্য- ছাতু, খই, রুটি।
• ৪। ডাল জাতীয় খাদ্য- মুগ, মশুর, মটর, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, বরবটি, শিম, বুট।
• ৫। সরিসা তেল, তিলের তেল ( সয়াবিন এর কথা বিতর্কিত)
মাছ, মাংস, ডিম, পিঁয়াজ, হিং পাউডার, দোকানের গুঁড়া মসলা, দোকানের গুঁড়া মরিচ, হলুদ, চা, বিড়ি, সিগারেট,পান, যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য

একাদশীর দিন খাওয়া যাবে:-

আস্ত হলুদ/বাসায় ভাঙ্গান গুঁড়া হলুদ, মরিচ,লবন, ঘী, মাখন, পালং শাক, জলপাই তেল, আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়া,কাচা কলা, চালকুমড়া, বাদাম তেল/সুর্‍্যমুখি তেল, চিনি, দুধ, মধু, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, আদা, দারুচিনি, টমেটো, গাজর, ঢ্যাঁড়শ,বাদাম, লেটুস পাতা, বাধাকপি, ফুলকপি, কারি পাতা, ঘরে বানানো ছানা, পনির, দই, ফ্রেস ক্রিম,সব রকমের ফল.।
সবার সুবিধার্থে এখানে দেয়া হল ১৪টি রেসিপি যা একাদশীর দিন খেতে পারবেনঃ
) টমেটো চাটনি বানিয়ে তাতে শুকনো লঙ্কা ফোঁড়ন দিয়ে ধনে পাতা, ফ্রেস ক্রিম ও পনির/ছানার টুকরো দিতে পারেন
) বেগুন পাতলা করে কেটে ডুবো তেলে ভেজে আলাদা করে রাখুন, সেদ্ধ আলু ভর্তা করে আলাদা করে রাখুন, এবার কড়াই / ওভেন প্রুফ পাত্রে প্রথমে ভাজা বেগুন এর লেয়ার , তারপর আলু ভরতার লেয়ার দিন, এরপর ছানা/পনিরের টুকরো ছরিয়ে দিন, এভাবে ২/৩তা লেয়ার বানান, তারপর চুলা/ অভেনে ৫/১০ মিনিট বেক করুন।
) টমেটো ও সব্জির স্যুপ( সামান্য লবন, কারি পাতা, গোলমরিচের গুঁড়া দিন)
) পাঁচমিশালি সবজি- ফুলকপি, আলু, গাজর, পেঁপে, বেগুন। সবজি সেদ্ধ করে ঘী/জল্পাই তেলে আদা বাতা কসিয়ে কাচা লঙ্কা দিয়ে ফোঁড়ন দিন, এরপর সেদ্ধ সবজি মিসিয়ে শেষে ধনে পাতা ও ফ্রেশ ক্রিম যোগ করুন।
) ছানা আলুর দম- ঘরে বানানো ছানা কিউব করে কেটে গরম তেলে ভেজে আলাদা করে রাখুন, ঐ তেলে আদা বাটা, হলুদ বাটা, কাচা লঙ্কা কসিয়ে আলুর দম রান্না করুন, এরপর নামানোর ১০ মিন আগে ছানা যোগ করুন।
) বাদাম ভাজা- চিনা বাদাম/কাজুবাদাম জলে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, আলু ছোট টুকরো কাটুন, তেলে বাদাম ভাজুন,আদা বাটা, মসলা কসিয়ে একটু জল ও আলু মিশান, এরপর কোরানো নারকেল দিন।জল দিয়ে ঢেকে ১৫ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে ধনে পাতা দিন।
) বৈকুণ্ঠ কারি- গাজর, কাচালঙ্কা লম্বা লম্বা করে কেটে নিন, বাধাকপি কুচি, তেলে মসলা কসিয়ে সবজি রান্না করুন, সবশেষে ভাজা ছানা/পনিরের টুকরো, ধনে পাতা, কারি পাতা যোগ করুন।
) গোল আলু গোল গোল করে পাতলা স্লাইস করুন, এরপর ডুবো তেলে ভাজুন, এরপর বেকিং ট্রেতে বিছিয়ে দিন, তারুপর পনিরের গ্রেট করে ১০মিনিত ওভেনে বেক করুন, যতখন না পনির গলে যায়।
) বাধাকপি, আলু, গাজর দিয়ে ভাজি
) কাচাকলা পাতলা করে কেটে ডুবো তেলে ভাজতে পারেন
) সবজি ও ফলের সালাদ বানাতে পারেন
) সাগুদানার খিচুড়ি(ডাল ছাড়া)- সাধারন পদ্ধতি
) দুধ সাগু কলার পায়েস
) একটি পাত্রে ঘন দুধ, দই, চিনি, ফ্রেস ক্রিম মিসিয়ে ভাল করে ফেটুন। এরপর পাকা আম/পেপে/স্ত্রবেরি টুকরো করে মিশান। ফ্রিজে রেখে দিন ২/৩ ঘণ্টা। ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন

Written by: sulaksana susmita
Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger