সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতিতে আপনাদের স্বাগতম। সনাতন ধর্মের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের কিছুটা আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । আশাকরি ভগবানের কৃপায় আপনাদের ভালো লাগবে । আমাদের ফেসবুক পেজটিকে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীজগন্নাথ পুরী (পর্ব ০১)


স্কন্দপুরানে (উৎকলখন্ড) উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ জগন্নাথ পুরীর পরিধি ১০ যোজন (৮০ মাইল বা ১২৮ কিঃমিঃ) অবধি বিস্তৃত এবং বালুকাময় ভূভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত । এ স্থান উড়্রদেশ বা উড়িষ্যা নামেও খ্যাত । শাস্ত্রে উৎকল দেশকে এ গ্রহের পবিত্রতম স্থান বলে বর্ণনা করা হয়েছে ।
ব্রহ্মান্ড পুরাণে বলা হয়েছেঃ
বর্ষাণাং ভারতশ্রেষ্ঠঃ দেশানাং উৎকলঃ স্মৃতঃ ।
উৎকলস্য সমদেশো দেশো নাস্তি মহীতলে ।।
অর্থাৎ “সমস্ত বর্ষসমূহের মধ্যে ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ । সমস্ত দেশের মধ্যে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যা শ্রেষ্ঠ । এই গ্রহে উৎকল দেশ বা উড়িষ্যার মতো অন্য কোনো দেশ নেই ।”
তাই আজ থেকে চেষ্টা করব আপনাদের এই পবিত্র ভূমি উড়িষ্যার সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে কিছু জানানোর জন্য যেখানে স্বয়ং ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব অবস্থান করছেন । তার মহিমা, লীলা ও যতগুলো মন্দির আছে, বা এই পবিত্র ধাম সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে ।
আজ আলোচনা করব অষ্ট মহাবীর সম্পর্কে যা নিম্নে তুলে ধরা হল====
অষ্ট মহাবীর
অষ্ট শম্ভুর (শিব) সাথে সাথে অষ্ট মহাবীর (হনুমান) পুরী ধাম রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন । এই মহাবীরগণ হচ্ছেন সিদ্ধ মহাবীর, দরিয়া মহাবীর, কানপাতা মহাবীর, বর্গী হনুমান, মসনী মহাবীর, পঞ্চমুখী মহাবীর, ফতে মহাবীর এবং শিরুলী মহাবীর ।
শ্রীমন্দিরের সুরক্ষার জন্য হনুমান মন্দিরের চার পার্শ্বেও পাহারা দিচ্ছেন । সিংহদ্বারে (জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথ ও পূর্ব দ্বার) রয়েছেন ফতে হনুমান; পশ্চিম দ্বারে রয়েছেন বীর বিক্রম হনুমান; উত্তর দ্বারে রয়েছেন তপস্বী হনুমান এবং দক্ষিন দ্বারে রয়েছেন কানপাতা হনুমান ও বড়ভাই হনুমান ।
আজকে কানপাতা হনুমান সম্পর্কে জানব
কানপাতা হনুমান
এই হনুমানের একটি সুন্দর কাহিনী রয়েছে । মহাসাগরের তীরে জগন্নাথ মন্দির অবস্থিত । সমুদ্র মন্থনের সময় লক্ষ্মীদেবী আবির্ভূতা হন এবং ভগবান তাঁকে বিবাহ করেন । সাগর-কন্যাকে বিবাহ করার ফলে ভগবান সাগরের জামাতা হলেন, এবং মহাসাগর হলেন শ্রীজগন্নাথদেবের শ্বশুর ।
রাত্রিতে মহাসাগরের তরঙ্গমালা একটি জোরালো শব্দ করে যা সারা পুরীতে শোনা যায় । একসময় এই তরঙ্গ-শব্দ শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করে এবং জগন্নাথের নিদ্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে । শ্রীজগন্নাথদেব সমুদ্রকে আদেশ করেন এমন কোনো শব্দ না করতে যা তাঁর নিদ্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে । কিন্তু সমুদ্র তা শুনলো না বরং তাঁর শব্দতরঙ্গ আরো বাড়িয়ে দিল । তখন জগন্নাথ হনুমানকে খবর দিল এবং বলল যাতে সমুদ্রের শব্দ মন্দিরে না আসে সেই ব্যবস্থা করতে । তখন হনুমান তার ডান কান পাতালেন এবং সমস্ত শব্দ তরঙ্গ নিজের কানে ঢুকালেন । সেই থেকে তটভূমিতে সমুদ্রের তরঙ্গ-ভঙ্গের শব্দ আর কখনো জগন্নাথের মন্দিরে প্রবেশ করেনি । শ্রীজগন্নাথ তাঁর ভক্ত হনুমানকে দক্ষিন দ্বারে পাহারায় নিয়োজিত করে বলেন যে, সে যেন সবসময় সতর্কভাবে সমুদ্রের ধ্বনির দিকে মনোযোগ রাখে এবং কোনো শব্দ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করতে পারে তা নিশ্চিত করে । “কানপাতা” শব্দের অর্থ কানকে শব্দ শ্রবণে নিরত থাকা । সেজন্য এই দ্বারে পাহারারত হনুমানকে বলা হয় কানপাতা হনুমান ।
(চলবে......।।)

লিখেছেণঃ সংকীর্ন মাধব

Share this article :
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. সনাতন ভাবনা ও সংস্কৃতি - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger