০১ ডিসেম্বর ২০১৭

ত্রিনাথ ঠাকুর হলেন একত্রে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের সম্মিলিত রূপ

ত্রিনাথ ঠাকুরের নাম সবাই শুনেছেন । ত্রিদেব বলতে আমরা বুঝি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের তিন স্তম্ভ । যথা প্রজাপতি ব্রহ্মা, ভগবান বিষ্ণু ও ভগবান মহেশ্বর । আর ত্রিনাথ ঠাকুর হলেন একত্রে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের সম্মিলিত রূপ। এক দেহেই তিন জনের বিরাজমান রূপ। এঁনাকে “দত্তাগুরু” বা “ভগবান দত্তাত্রেয়” নামে ডাকা হয়। কিভাবে ত্রিনাথ ঠাকুরের উদ্ভব হল ?

বহু পূর্বের কথা । মহর্ষি অত্রি মুনির পত্নী দেবী অনুসূয়া ছিলেন পরম সাধ্বী সতী নারী। তাঁর পাতিব্রতের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিলো। পরম সাধ্বী সতী অনুসূয়া ভারতীয় নারীজাতির ও ভারতীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। কোনো এক সময়ের কথা- তাঁর সতীত্বের পরীক্ষা নিতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর আসেন । দেবী অনুসুয়া সতীত্ব বলে এই তিন সৃষ্টির স্তম্ভকে সদ্যজাত শিশুতে পরিণত করে মাতৃত্ব প্রদান করেন । অপরদিকে শিশু রূপে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর মাতা অনুসুয়ার বাৎসল্যে আনন্দেই ছিলেন। কিন্তু সৃষ্টির তিন স্তম্ভ এভাবে শিশু রূপে থাকার দরুন সৃষ্টিকাজ ব্যহত হতে থাকে ।

দেবী সরস্বতী, দেবী লক্ষ্মী ও দেবী পার্বতী বিচলিত হন । নারদ মুনির কাছে সব ঘটনা জানতে চাইলে দেবর্ষি ব্যক্ত করেন । এরপর তিন দেবী, অনুসুয়া দেবীর আশ্রমে এসে নিজ স্বামীদের এই রকম শিশু অবস্থা দেখে আশ্চর্য ও হতচকিত হলেন। দেবী অনুসূয়ার সতীত্বের প্রশংসা করে স্বামীদের ভিক্ষা চান । তখন দেবী অনুসুয়ার কৃপায় ত্রিদেব নিজেদের পূর্বাবস্থা প্রাপ্তি করলেন। কিন্তু মায়ের মন কিভাবে সন্তান দের বিদায় দেবেন। কিছুকালের জন্য হলেও ত্রিদেবের জননী হয়েছিলেন, আর ত্রিদেব হয়েছিলেন সন্তান । তখন ত্রিদেব একত্রে “দত্তাগুরু” বা “ত্রিনাথ” নামে প্রকটিত হলেন। মূলে এঁনাকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার গণ্য করলেও সাথে ভগবান শিব ও প্রজাপতি ব্রহ্মাও যুক্ত হন । পূর্ববঙ্গে এঁনার পূজা প্রচলিত । গরুর নতুন বাছুর জন্ম নিলে ক্ষীরের নাড়ু দিয়ে ত্রিনাথের পূজা করতে দেখা যায় । ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে মাতা অনুসুয়ার নাম আজোও স্মরণীয় ।
Share:

2 Comments:

শুভ বলেছেন...

ত্রিনাথের এই কাহিনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে কি? এই তথ্য কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি
ধন্যবাদ

শুভ বলেছেন...
এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

Total Pageviews

বিভাগ সমুহ

অন্যান্য (91) অবতারবাদ (7) অর্জুন (4) আদ্যশক্তি (68) আর্য (1) ইতিহাস (30) উপনিষদ (5) ঋগ্বেদ সংহিতা (10) একাদশী (10) একেশ্বরবাদ (1) কল্কি অবতার (3) কৃষ্ণভক্তগণ (11) ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু (21) ক্ষুদিরাম (1) গায়ত্রী মন্ত্র (2) গীতার বানী (14) গুরু তত্ত্ব (6) গোমাতা (1) গোহত্যা (1) চাণক্য নীতি (3) জগন্নাথ (23) জয় শ্রী রাম (7) জানা-অজানা (7) জীবন দর্শন (68) জীবনাচরন (56) জ্ঞ (1) জ্যোতিষ শ্রাস্ত্র (4) তন্ত্রসাধনা (2) তীর্থস্থান (18) দেব দেবী (60) নারী (8) নিজেকে জানার জন্য সনাতন ধর্ম চর্চাক্ষেত্র (9) নীতিশিক্ষা (14) পরমেশ্বর ভগবান (25) পূজা পার্বন (43) পৌরানিক কাহিনী (8) প্রশ্নোত্তর (39) প্রাচীন শহর (19) বর্ন ভেদ (14) বাবা লোকনাথ (1) বিজ্ঞান ও সনাতন ধর্ম (39) বিভিন্ন দেশে সনাতন ধর্ম (11) বেদ (35) বেদের বানী (14) বৈদিক দর্শন (3) ভক্ত (4) ভক্তিবাদ (43) ভাগবত (14) ভোলানাথ (6) মনুসংহিতা (1) মন্দির (38) মহাদেব (7) মহাভারত (39) মূর্তি পুজা (5) যোগসাধনা (3) যোগাসন (3) যৌক্তিক ব্যাখ্যা (26) রহস্য ও সনাতন (1) রাধা রানি (8) রামকৃষ্ণ দেবের বানী (7) রামায়ন (14) রামায়ন কথা (211) লাভ জিহাদ (2) শঙ্করাচার্য (3) শিব (36) শিব লিঙ্গ (15) শ্রীকৃষ্ণ (67) শ্রীকৃষ্ণ চরিত (42) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (9) শ্রীমদ্ভগবদগীতা (40) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (4) শ্রীমদ্ভাগব‌ত (1) সংস্কৃত ভাষা (4) সনাতন ধর্ম (13) সনাতন ধর্মের হাজারো প্রশ্নের উত্তর (3) সফটওয়্যার (1) সাধু - মনীষীবৃন্দ (2) সামবেদ সংহিতা (9) সাম্প্রতিক খবর (21) সৃষ্টি তত্ত্ব (15) স্বামী বিবেকানন্দ (37) স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (14) স্মরনীয় যারা (67) হরিরাম কীর্ত্তন (6) হিন্দু নির্যাতনের চিত্র (23) হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র ও অন্যান্য অর্থের পরিচিতি (8) হিন্দুত্ববাদ. (83) shiv (4) shiv lingo (4)

আর্টিকেল সমুহ

অনুসরণকারী

" সনাতন সন্দেশ " ফেসবুক পেজ সম্পর্কে কিছু কথা

  • “সনাতন সন্দেশ-sanatan swandesh" এমন একটি পেজ যা সনাতন ধর্মের বিভিন্ন শাখা ও সনাতন সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজের ধর্মকে সঠিক ভাবে জানা, পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও সম্মান দেওয়া। আমাদের লক্ষ্য সনাতন ধর্মের বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সনাতনের চেতনা ও নেতৃত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কুসংষ্কারমুক্ত একটি বৈদিক সনাতন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এ পথচলায় আপনাদের সকলের সহযোগিতা কাম্য । এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সনাতন ধর্মের যে কেউ লাইক দিয়ে এর সদস্য হতে পারে।